০৭:২২ পি.এম
টানা বর্ষণ ও অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের কারণে পাবনা পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক, অলিগলি ও বাসাবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
আরও পড়ুন: রাবিতে ডেঙ্গু সচেতনতায় হাল্ট প্রাইজের নতুন কর্মসূচি
জানা গেছে, জলাবদ্ধতার কারণে শহরের বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। অনেক শিক্ষার্থীকে পানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে দেখা গেছে। এছাড়া স্থির পানি জমে থাকায় মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে।
এতে ডেঙ্গু এবং অন্যান্য পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে সরেজমিনে পৌরসভার শালগাড়িয়া, রাধানগর, দিলালপুর, নারায়ণপুর, আরিফপুর, মুজাহিদ ক্লাব আতাইকুলা রোড, গোবিন্দা, কালাচাঁদপাড়া, নূরপুর, মনসুরাবাদ আবাসিক এলাকা, ছাতিয়ানী, বাজিতপুর রোড বাইলেন বাবলাতলা, নয়নামতি, যুগিপাড়া পাড়া, হাসপাতাল রোড, মহিষের ডিপো, অনন্ত পাড়ার কলোনি, রূপকথা সিনেমা হল রোড, বিনা বানী সিনেমা হল রোড, খাদিজাতুল কোবরা মহিলা মাদরাসা রোড, অনন্ত এলাকার আবুল কাশেম মহিলা মাদরাসা পাড়াসহ বিভিন্ন সড়ক বর্ষা মৌসুমজুড়ে পানির নিচে ডুবে রয়েছে। এর পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি জমে থাকায় অনেক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ছে, ফলে বাসিন্দাদের আসবাব ও প্রয়োজনীয় মালামাল উঁচু স্থানে সরিয়ে রাখতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর থাকায় সেই পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে একই দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। পৌরবাসীর অভিযোগ, তারা ভ্যাট ট্যাক্স দিয়ে বসবাস করছে তাও ন্যূনতম নাগরিক সেবা পাওয়া যাচ্ছে না।
আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে সাজসজ্জায় দেবালয়ের পরেই কৈলাশ পূজামণ্ডপ
শালগাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, 'সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকায় পানি জমে যায়। এবারের টানা বৃষ্টিতে ঘরের ভেতর পর্যন্ত পানি ঢুকে পড়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে আমরা চরম কষ্টে আছি।' রাধানগরের ব্যবসায়ী সবুজ হোসেন জানান, 'দোকানের সামনে পানি জমে থাকায় ক্রেতা আসছে না। ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।'
আরিফপুর এলাকার বাসিন্দা খোকন হোসেন বলেন, 'সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পরিমাণ পানি জমে। বাড়ির মধ্যে পানি ডুকে গেছে। জরুরি কাজে বাহিরে বের হতে পারছি না। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। দীর্ঘদিন পৌরসভার মেয়র না থাকায় ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।'
কালাচাঁদপাড়া মহল্লার বাসিন্দা কল্পনা আক্তার বলেন, 'আজ ৫ দিন হয়ে গেছে ঘরের খাটের নিচে পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে বাড়ির কাজ পর্যন্ত করতে পারছি না। ছেলেমেয়েদের পরীক্ষা চলছে, ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। পানিতে চরম ময়লা-আবর্জনা হওয়ায় ব্যাপক দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। বিকেল বয়ে মশার উপদ্রব বাড়ছে। পানিবাহিত রোগ ও ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার আতঙ্কে দিন যাচ্ছে।'
মুজাহিদ ক্লাব এলাকার বাসিন্দা মো. রমজান আলী বলেন, 'মুজাহিদ ক্লাব এলাকা থেকে বুলবুল কলেজ পর্যন্ত সড়কে বর্তমানে নৌকা ছাড়া যাওয়ার উপায় নেই। অর্ধ মানুষ পরিমাণ পানি জমা হয়েছে। অটোরিকশা ও অটোভ্যানের যাওয়ার সুযোগ নেই। ছোটবেলা থেকেই এই রোডের এমন বেহাল দশা দেখছি।'
আরও পড়ুন: পানির মধ্যেই ঢালাই, বের হয়ে গেছে রড: কাঠালিয়ায় বিএডিসির স্লুইসগেট নির্মাণে অনিয়ম
মুজাহিদ ক্লাব এলাকার কেমিক্যাল ব্যবসায়ী রাসেল হোসেন বলেন, 'পানি নিয়ে আমার সব সমস্যা। পাবনায় বৃষ্টি হলে কোথাও পানি না উঠলে এই মুজাহিদ ক্লাব আতাইকুলার সড়কে পানি উঠবেই। পানির মধ্যে কাস্টমার আসে না, কিন্তু তবু দোকানে আসি। দোকানে জমে থাকা পানি ফেলে দিতে। তবে আশা করছি চলমান ড্রেনের কাজ সম্পন্ন হলে এ থেকে রেহাই পাব।'
পাবনার লতিফ গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার অচিন্ত কুমার ঘোষ বলেন, 'পাবনা পৌর এলাকার সব পানি নিষ্কাশন হয় মূলত দোহারপাড়া ও আরিফপুর সংলগ্ন বুড়িদাহ কালভার্টের নিচের খাল দিয়ে। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের ওই খালটি দখল ও দূষণে সরু হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত গতিতে বের হতে পারছে না। তাই দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল দখলমুক্ত ও খনন করে প্রসার করতে হবে। এজন্য পৌরসভা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।'
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষক নাজমুল হক জানিয়েছেন, গত ৪ জুলাই থেকে ১২ জুলাই (রবিবার) পর্যন্ত পাবনা জেলায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৬৬ মিলিমিটার। সামনের দিনগুলোতে বৃষ্টিপাত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয়ে পাবনা পৌর প্রশাসক খাইরুল ইসলাম বলেন, 'আমরা জলাবদ্ধ এলাকাগুলো সরেজমিনে গিয়ে দেখছি। কোথায় কি ব্যবস্থা নিতে হবে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা সব সময় পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করি। তারপরও কিছু ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার ও কিছু নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।'
আরও পড়ুন: মীরসরাইয়ে স্বজনদের তিন দিনব্যাপী বইপড়া উৎসব শেষ
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, 'সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ইছামতি নদী ও সংযোগ খাল খনন প্রকল্পের কাজ চলমান। নদী ও সংযোগ খালগুলো খনন হলে পাবনা পৌরসভা সহ জেলায় আর জলাবদ্ধতা থাকবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন