ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অবিরাম বৃষ্টিতে জলমগ্ন পাবনা, চরম দুর্ভোগে নগরবাসী


অবিরাম বৃষ্টিতে জলমগ্ন পাবনা, চরম দুর্ভোগে নগরবাসী

 

টানা বর্ষণ ও অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের কারণে পাবনা পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক, অলিগলি ও বাসাবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

আরও পড়ুন: রাবিতে ডেঙ্গু সচেতনতায় হাল্ট প্রাইজের নতুন কর্মসূচি

জানা গেছে, জলাবদ্ধতার কারণে শহরের বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। অনেক শিক্ষার্থীকে পানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে দেখা গেছে। এছাড়া স্থির পানি জমে থাকায় মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে।

এতে ডেঙ্গু এবং অন্যান্য পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে সরেজমিনে পৌরসভার শালগাড়িয়া, রাধানগর, দিলালপুর, নারায়ণপুর, আরিফপুর, মুজাহিদ ক্লাব আতাইকুলা রোড, গোবিন্দা, কালাচাঁদপাড়া, নূরপুর, মনসুরাবাদ আবাসিক এলাকা, ছাতিয়ানী, বাজিতপুর রোড বাইলেন বাবলাতলা, নয়নামতি, যুগিপাড়া পাড়া, হাসপাতাল রোড, মহিষের ডিপো, অনন্ত পাড়ার কলোনি, রূপকথা সিনেমা হল রোড, বিনা বানী সিনেমা হল রোড, খাদিজাতুল কোবরা মহিলা মাদরাসা রোড, অনন্ত এলাকার আবুল কাশেম মহিলা মাদরাসা পাড়াসহ বিভিন্ন সড়ক বর্ষা মৌসুমজুড়ে পানির নিচে ডুবে রয়েছে। এর পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন নিচু এলাকায় পানি জমে থাকায় অনেক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ছে, ফলে বাসিন্দাদের আসবাব ও প্রয়োজনীয় মালামাল উঁচু স্থানে সরিয়ে রাখতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর থাকায় সেই পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে একই দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। পৌরবাসীর অভিযোগ, তারা ভ্যাট ট্যাক্স দিয়ে বসবাস করছে তাও ন্যূনতম নাগরিক সেবা পাওয়া যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: বাকেরগঞ্জে সাজসজ্জায় দেবালয়ের পরেই কৈলাশ পূজামণ্ডপ

শালগাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, 'সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকায় পানি জমে যায়। এবারের টানা বৃষ্টিতে ঘরের ভেতর পর্যন্ত পানি ঢুকে পড়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে আমরা চরম কষ্টে আছি।' রাধানগরের ব্যবসায়ী সবুজ হোসেন জানান, 'দোকানের সামনে পানি জমে থাকায় ক্রেতা আসছে না। ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।'

আরিফপুর এলাকার বাসিন্দা খোকন হোসেন বলেন, 'সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পরিমাণ পানি জমে। বাড়ির মধ্যে পানি ডুকে গেছে। জরুরি কাজে বাহিরে বের হতে পারছি না। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। দীর্ঘদিন পৌরসভার মেয়র না থাকায় ভোগান্তি দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।'

কালাচাঁদপাড়া মহল্লার বাসিন্দা কল্পনা আক্তার বলেন, 'আজ ৫ দিন হয়ে গেছে ঘরের খাটের নিচে পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে বাড়ির কাজ পর্যন্ত করতে পারছি না। ছেলেমেয়েদের পরীক্ষা চলছে, ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। পানিতে চরম ময়লা-আবর্জনা হওয়ায় ব্যাপক দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। বিকেল বয়ে মশার উপদ্রব বাড়ছে। পানিবাহিত রোগ ও ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার আতঙ্কে দিন যাচ্ছে।'

মুজাহিদ ক্লাব এলাকার বাসিন্দা মো. রমজান আলী বলেন, 'মুজাহিদ ক্লাব এলাকা থেকে বুলবুল কলেজ পর্যন্ত সড়কে বর্তমানে নৌকা ছাড়া যাওয়ার উপায় নেই। অর্ধ মানুষ পরিমাণ পানি জমা হয়েছে। অটোরিকশা ও অটোভ্যানের যাওয়ার সুযোগ নেই। ছোটবেলা থেকেই এই রোডের এমন বেহাল দশা দেখছি।'

আরও পড়ুন: পানির মধ্যেই ঢালাই, বের হয়ে গেছে রড: কাঠালিয়ায় বিএডিসির স্লুইসগেট নির্মাণে অনিয়ম

মুজাহিদ ক্লাব এলাকার কেমিক্যাল ব্যবসায়ী রাসেল হোসেন বলেন, 'পানি নিয়ে আমার সব সমস্যা। পাবনায় বৃষ্টি হলে কোথাও পানি না উঠলে এই মুজাহিদ ক্লাব আতাইকুলার সড়কে পানি উঠবেই। পানির মধ্যে কাস্টমার আসে না, কিন্তু তবু দোকানে আসি। দোকানে জমে থাকা পানি ফেলে দিতে। তবে আশা করছি চলমান ড্রেনের কাজ সম্পন্ন হলে এ থেকে রেহাই পাব।'

পাবনার লতিফ গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার অচিন্ত কুমার ঘোষ বলেন, 'পাবনা পৌর এলাকার সব পানি নিষ্কাশন হয় মূলত দোহারপাড়া ও আরিফপুর সংলগ্ন বুড়িদাহ কালভার্টের নিচের খাল দিয়ে। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের ওই খালটি দখল ও দূষণে সরু হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত গতিতে বের হতে পারছে না। তাই দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল দখলমুক্ত ও খনন করে প্রসার করতে হবে। এজন্য পৌরসভা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।'

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষক নাজমুল হক জানিয়েছেন, গত ৪ জুলাই থেকে ১২ জুলাই (রবিবার) পর্যন্ত পাবনা জেলায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৬৬ মিলিমিটার। সামনের দিনগুলোতে বৃষ্টিপাত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে পাবনা পৌর প্রশাসক খাইরুল ইসলাম বলেন, 'আমরা জলাবদ্ধ এলাকাগুলো সরেজমিনে গিয়ে দেখছি। কোথায় কি ব্যবস্থা নিতে হবে সেগুলো পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা সব সময় পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করি। তারপরও কিছু ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার ও কিছু নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।'

আরও পড়ুন: মীরসরাইয়ে স্বজনদের তিন দিনব্যাপী বইপড়া উৎসব শেষ

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, 'সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ইছামতি নদী ও সংযোগ খাল খনন প্রকল্পের কাজ চলমান। নদী ও সংযোগ খালগুলো খনন হলে পাবনা পৌরসভা সহ জেলায় আর জলাবদ্ধতা থাকবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীমান্ত অঞ্চলের হতদরিদ্র কিশোরীদের স্বাবলম্বী করতে ‘মা ছাগল বিতরণ’ কর্মসূচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো : সুমন হাসান বাপ্পি, স্টাফ রিপোর্টার

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২৬ পি.এম


সীমান্ত অঞ্চলের হতদরিদ্র কিশোরীদের স্বাবলম্বী করতে ‘মা ছাগল বিতরণ’ কর্মসূচি

সীমান্ত অঞ্চলের হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত কিশোরীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে ‘মা ছাগল বিতরণ’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বর্ডার ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (BVDO)।

সংস্থাটির উদ্যোগে নির্বাচিত উপকারভোগী কিশোরীদের মধ্যে মা ছাগল বিতরণ করা হবে। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো কিশোরীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা, পারিবারিক আয় বৃদ্ধি করা এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা।

সংস্থাটি জানিয়েছে, যেসব এলাকায় এমন হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত কিশোরী রয়েছে, সেসব এলাকার ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে উপযুক্ত তথ্য দিয়ে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের পর যোগ্য উপকারভোগীদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

যারা আগ্রহী, তারা সরাসরি সাংবাদিক আহমেদ এসমাম এর সাথে যোগাযোগ করবেন অথবা ১ নম্বর ধর্মগড় কাউন্সিল বাজার, রানীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও-এ অবস্থিত সংস্থার কার্যালয়ে ০১৭৯৪৮৫৯১৯৩ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন।

বর্ডার ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের এই মানবিক উদ্যোগ সীমান্ত অঞ্চলের কিশোরীদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের নতুন মহাপরিচালক ড. লতিফুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাকৃবি প্রতিনিধি

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২৬ পি.এম


বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের নতুন মহাপরিচালক ড. লতিফুল ইসলাম

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) নতুন মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে ড. মো. লতিফুল ইসলাম নিয়োগ পেয়েছেন। এর আগে, তিনি একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) হিসেবে চলতি দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য-৫ শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব নাসরিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ আদেশে বদলি ও পদায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, ময়মনসিংহের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ড. মো. লতিফুল ইসলামকে মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।

প্রেরিত আদেশে আরও বলা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে জারিকৃত আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও কর্মকর্তাদের কাছে আদেশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালিয়াকৈরের পৌর প্রশাসক পানিবন্দিদের পাশে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩০ পি.এম


কালিয়াকৈরের পৌর প্রশাসক পানিবন্দিদের পাশে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে

গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভায়, গত কয়েকদিন ধরে টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়া বহু মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন পৌর প্রশাসক এ.এইচ.এম ফখরুল হোসাইন।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে, পৌরসভার বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজনের মাঝে খাদ্যসামগ্রীসহ জরুরি ত্রাণ বিতরণ করেন তিনি।

পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কালিয়াকৈর পৌরসভাটি ২০০১ সালে গঠিত হয়েছে। পৌরসভাটিতে প্রায় দুই শতাধিক শিল্প কলকারখানা রয়েছে। এই এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে গেছে, যার কারণে অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সোমবার বিকেলে পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বিশ্বাসপাড়া, আল্লাহ দান কলোনি, এজিজ রোড, ভাঙ্গা মসজিদ, অ্যাকাডেমির তিন নাম্বার গেট, চান্দরাসহ জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও বিভিন্ন এলাকার পানিবন্দি ৫০০ পরিবারের মাঝে পৌর প্রশাসনের উদ্যোগে চিড়া, গুড়, মুড়ি, চানাচুর, বিশুদ্ধ খাবার পানি, সাবানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদুল আলম তালুকদার, তোফাজ্জল হোসাইনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

পৌর প্রশাসক এ.এইচ.এম ফখরুল হোসাইন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসেই নেপালের নতুন সরকারের বিরুদ্ধে ‘জেন-জি’ বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩১ পি.এম


ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসেই নেপালের নতুন সরকারের বিরুদ্ধে ‘জেন-জি’ বিক্ষোভ

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর রাস্তায় ক্ষুব্ধ তরুণসমাজ আবারও নেমেছে। দেশের ‘জেন-জি’ বা নতুন প্রজন্ম, যাদের ভোটে মাত্র কয়েক মাস আগে একটি সরকার নির্বাচিত হয়েছিল, আজ তারা সেই সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র জনরোষে রয়েছে। কাঠমান্ডুর সিংদরবার সচিবালয়ের বাইরেও শত শত মানুষ ‘গরিবের ওপর অত্যাচার বন্ধ করো’ এবং ‘মানবাধিকার রক্ষা করো’ স্লোগান দিয়ে রাজপথকে উত্তাল করে তুলেছে।

সাম্প্রতিক এই গণবিক্ষোভের মূলে রয়েছে ২৫ বছর বয়সী রাইড-শেয়ারিং চালক গণেশ নেপালি নামের এক যুবকের মর্মান্তিক আত্মাহুতি। তিনি গত সপ্তাহে কাঠমান্ডুর রাস্তায় এক মক্কেলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সেই সময় পৌর পুলিশ আকস্মিকভাবে তার মোটরসাইকেলের চাকায় লক লাগিয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই হয়রানির প্রতিবাদে ও হতাশায় গণেশ নিজের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরও পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনার কারণে মেয়রের প্রশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা শুধু এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাননি, বরং দরিদ্র ও বস্তিবাসীদের ওপর চলমান রাষ্ট্রীয় জুলум বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন। তারা বিশেষ করে নদীতীরের সুকুমবাসী বা ভূমিহীনদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং ফুটপাতের হকারদের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

২০১৯ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে বালেন্দ্র (বালেন) শাহ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নগর পুলিশের অত্যাচারী মনোভাব লক্ষ্য করা যায়। ফুটপাত পরিষ্কার ও অনানুষ্ঠানিক বাজার উচ্ছেদের জন্য মেয়রের কঠোর নীতি প্রায়ই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহিংস সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, শহরের দরিদ্রতম মানুষদের প্রতি প্রশাসনের কোনো সহানুভূতি অবশিষ্ট নেই।

আইনি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসন বেআইনিভাবে তাদের সাংবিধানিক সীমার বাইরে গিয়ে কাজ করছে। জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মতে, আইন অনুযায়ী পৌর পুলিশ শারীরিক বলপ্রয়োগ বা দাঙ্গা দমনের ক্ষমতা রাখে না। তাদের কাজ নাগরিক সহযোগিতা, পরিচ্ছন্নতা তদারকি এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা। ট্রাফিক বা রাস্তা অবরোধের মতো বিষয়গুলো সরাসরি ট্রাফিক পুলিশের কাছে পাঠানোর নিয়ম রয়েছে, কিন্তু পৌর পুলিশ নিজেরা গিয়ে হকারদের ধাওয়া করছে, ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করছে এবং সাধারণ মানুষকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করছে।

অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারাও বলার চেষ্টা করেছেন যে, যদি পরিস্থিতি জনশৃঙ্খলার পরিপন্থী হয়, তবে পৌর পুলিশ আইনগতভাবে নেপাল পুলিশের সাহায্য নিতে বাধ্য, তারা নিজেরা বলপ্রয়োগ করতে পারে না। তবুও, দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল মানুষের ওপর জুলুম চালানো হচ্ছে, যার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে কয়েক মাসের মাথায়, যারা বুক ভরা আশা নিয়ে এই সরকারকে ক্ষমতায় এনেছিল, তারা এখন জবাবদিহিতা ও অধিকার আদায়ের দাবি নিয়ে আবারও রাজপথে নেমে এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%