০৭:৩১ পি.এম
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর রাস্তায় ক্ষুব্ধ তরুণসমাজ আবারও নেমেছে। দেশের ‘জেন-জি’ বা নতুন প্রজন্ম, যাদের ভোটে মাত্র কয়েক মাস আগে একটি সরকার নির্বাচিত হয়েছিল, আজ তারা সেই সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র জনরোষে রয়েছে। কাঠমান্ডুর সিংদরবার সচিবালয়ের বাইরেও শত শত মানুষ ‘গরিবের ওপর অত্যাচার বন্ধ করো’ এবং ‘মানবাধিকার রক্ষা করো’ স্লোগান দিয়ে রাজপথকে উত্তাল করে তুলেছে।
সাম্প্রতিক এই গণবিক্ষোভের মূলে রয়েছে ২৫ বছর বয়সী রাইড-শেয়ারিং চালক গণেশ নেপালি নামের এক যুবকের মর্মান্তিক আত্মাহুতি। তিনি গত সপ্তাহে কাঠমান্ডুর রাস্তায় এক মক্কেলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সেই সময় পৌর পুলিশ আকস্মিকভাবে তার মোটরসাইকেলের চাকায় লক লাগিয়ে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই হয়রানির প্রতিবাদে ও হতাশায় গণেশ নিজের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরও পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনার কারণে মেয়রের প্রশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প: ইউক্রেনকে বিপুল সহায়তা দিয়েও কিছু পায়নি যুক্তরাষ্ট্র
আন্দোলনকারীরা শুধু এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাননি, বরং দরিদ্র ও বস্তিবাসীদের ওপর চলমান রাষ্ট্রীয় জুলум বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন। তারা বিশেষ করে নদীতীরের সুকুমবাসী বা ভূমিহীনদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং ফুটপাতের হকারদের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
২০১৯ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে বালেন্দ্র (বালেন) শাহ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নগর পুলিশের অত্যাচারী মনোভাব লক্ষ্য করা যায়। ফুটপাত পরিষ্কার ও অনানুষ্ঠানিক বাজার উচ্ছেদের জন্য মেয়রের কঠোর নীতি প্রায়ই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহিংস সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, শহরের দরিদ্রতম মানুষদের প্রতি প্রশাসনের কোনো সহানুভূতি অবশিষ্ট নেই।
আইনি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসন বেআইনিভাবে তাদের সাংবিধানিক সীমার বাইরে গিয়ে কাজ করছে। জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মতে, আইন অনুযায়ী পৌর পুলিশ শারীরিক বলপ্রয়োগ বা দাঙ্গা দমনের ক্ষমতা রাখে না। তাদের কাজ নাগরিক সহযোগিতা, পরিচ্ছন্নতা তদারকি এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা। ট্রাফিক বা রাস্তা অবরোধের মতো বিষয়গুলো সরাসরি ট্রাফিক পুলিশের কাছে পাঠানোর নিয়ম রয়েছে, কিন্তু পৌর পুলিশ নিজেরা গিয়ে হকারদের ধাওয়া করছে, ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করছে এবং সাধারণ মানুষকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করছে।
অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারাও বলার চেষ্টা করেছেন যে, যদি পরিস্থিতি জনশৃঙ্খলার পরিপন্থী হয়, তবে পৌর পুলিশ আইনগতভাবে নেপাল পুলিশের সাহায্য নিতে বাধ্য, তারা নিজেরা বলপ্রয়োগ করতে পারে না। তবুও, দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল মানুষের ওপর জুলুম চালানো হচ্ছে, যার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে কয়েক মাসের মাথায়, যারা বুক ভরা আশা নিয়ে এই সরকারকে ক্ষমতায় এনেছিল, তারা এখন জবাবদিহিতা ও অধিকার আদায়ের দাবি নিয়ে আবারও রাজপথে নেমে এসেছে।
আরও পড়ুন: ভারতীয় পর্যটকেরা বলছেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে পূজার পরিবেশ ভালো: রিজভী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন