বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫২ পি.এম
সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপন করার পাশাপাশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদক সূত্র থেকে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।
দুদক জানায়, তাদের প্রাথমিক যাচাইয়ে দেখা গেছে, সেলিম আলতাফ জর্জের দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬৪ লাখ ৪৮ হাজার ৪৭৮ টাকার সম্পদের তথ্য কম দেখানো হয়েছে এবং গোপন করার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। একইসঙ্গে, ১ কোটি ১ লাখ ৬৪ হাজার ৩ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে তা ভোগদখলে রাখার অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।
এই ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলা রুজুর অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসার জন্য শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, মানুষের বিবেক ও মন-মানসিকতার পরিবর্তনও জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিএমএ ভবনের শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন সভাকক্ষে ‘স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন ২০২৬’ প্রণয়ন বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠক ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।
ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, চিকিৎসক ও রোগী উভয় পক্ষের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা আবশ্যক। একইসঙ্গে চিকিৎসকদের নামে চিকিৎসা দেওয়া অযোগ্য ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা, চিকিৎসকদের পেশাগত অনিয়মের বিচার নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসেবায় কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা চালু করার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকদের কিছু ভুল বা কর্তব্যে অবহেলার জন্য যেমন জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন, তেমনি যারা চিকিৎসক নন অথচ চিকিৎসকের নামে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করছেন, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
ড্যাবের এই প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, অনেকেই অল্প সময়ের প্রশিক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করছেন। সাধারণ মানুষ অনেক সময় জানেন না যে, তিনি প্রকৃত চিকিৎসক নন। ফলে এ ধরনের ব্যক্তির কাছ থেকে ভুল চিকিৎসা পাওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি আইনের মধ্যে আনা প্রয়োজন।
চিকিৎসকদের পেশাগত অনিয়মের বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন ডা. ডোনার। তিনি চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগের বিচার নিশ্চিত করতে আইন পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্বাস্থ্যসেবায় রেফারেল ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশে কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা না থাকায় একজন চিকিৎসককে বিপুলসংখ্যক রোগী দেখতে হচ্ছে। অনেক চিকিৎসক প্রতিদিন ১০০ জন পর্যন্ত রোগী দেখতে বাধ্য হন। ফলে রোগীকে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া এবং যথাযথ কাউন্সেলিং করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ডা. ডোনার বলেন, কোনো রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে কিংবা সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলে চিকিৎসার পাশাপাশি রোগী ও তার স্বজনদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলা প্রয়োজন। এ জন্য হাসপাতালে কাউন্সেলর রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি বলেন, একজন রোগীর চিকিৎসা, ওষুধ এবং তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে রোগী বা স্বজন কোনো প্রশ্ন করলে তার উত্তর দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
বিদেশে রোগী ওষুধ সম্পর্কে জানতে চাইলে তাকে এর ব্যাখ্যা দেওয়া হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থা আমাদের দেশেও থাকা প্রয়োজন।
ডা. ডোনার বলেন, রেফারেল ব্যবস্থা চালু হলে চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত রোগীর চাপ কমবে।
সমাজের পরিবর্তিত মূল্যবোধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, আগে সমাজে কেউ অন্যায় করলে আশপাশের মানুষও তার প্রতিবাদ করতেন। এখন অনেক ক্ষেত্রে অন্যায়কারীর পক্ষ নেওয়া হয়। রিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আচরণেও এই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এ পরিবর্তন শুধু চিকিৎসকদের মধ্যে নয়, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। মুদি দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় মানুষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। গত ১৭-১৮ বছরে এ ধরনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে এবং তা আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
ডা. ডোনার বলেন, ‘আইন করে লাভ নাই’ যদি মানুষের মধ্যে বিবেক জাগ্রত না হয়, তবে কোনো আইনই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে না। আইন সম্পর্কে মানুষ জানলেও অন্তর থেকে দায়িত্ববোধ ও বিবেকের পরিবর্তন না হলে অন্যায় বন্ধ করা কঠিন।
করোনা ভাইরাস মহামারির সময় চিকিৎসকদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সারা বিশ্বে যখন করোনায় মানুষ মারা যাচ্ছিল, তখন বাংলাদেশের চিকিৎসকরা চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন এবং দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময় চিকিৎসকরা প্রশংসিতও হয়েছেন।
তিনি বলেন, চিকিৎসকদের প্রতি মানুষের সম্মান ও আস্থা ফিরিয়ে আনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি চিকিৎসকদেরও নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু এমপি, ডা. ইকরামুল বারী টিপু এমপি, ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন এমপি, অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক এমপি, ডা. মাহমুদা মিতু এমপি ও ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা এমপি বক্তব্য রাখেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম কাগজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ইংল্যান্ড শ্রীলংকার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করেছে উইল জ্যাকসের অলরাউন্ড নৈপুণ্যের মাধ্যমে।
গত রাতে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ইংল্যান্ড ৮৯ রানে শ্রীলংকাকে পরাজিত করেছে। ব্যাটিংয়ে ৪৬ রান করার পাশাপাশি, বল হাতে ২২ রানে ৫ উইকেট দখল করেন জ্যাকস।
চেষ্টার লি স্ট্রিটে টস জিতে ইংল্যান্ড প্রথমে ব্যাটিং শুরু করে। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের হাফ-সেঞ্চুরির সাহায্যে ৩৫ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৬ রান সংগ্রহের দিকে এগোচ্ছিলো ইংল্যান্ড। এই সময় ব্রুক ৭টি চারের সাহায্যে ৬৭ রান করেন, এছাড়া জো রুট ৪৪, বেন ডাকেট ৩২ এবং জশ বাটলার ৩১ রান করেন।
পরবর্তীতে, জ্যাকসের সাথে আর কোন ব্যাটার সঙ্গ দিতে না পারায় ইংল্যান্ড ৪৮.১ ওভারে ২৬৫ রানে অলআউট হয়ে যায়। জ্যাকস ৪৭ বলে ৪৬ রান করে অপরাজিত থাকেন, যেখানে ৫টি চার ছিল।
শ্রীলংকার আসিথা ফার্নান্দো এবং অভিষিক্ত স্পিনার সাচিন্দু কলোম্বাগে ৩টি করে উইকেট নেন।
শ্রীলংকা যখন জবাব দিতে নামে, তখন তাদের স্বীকৃত ব্যাটাররা বড় কোন জুটি গড়তে ব্যর্থ হয়। ১০০ রান তুলতেই তারা ৫ উইকেট হারায়। অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস ৪২, পাথুম নিশাঙ্কা ২৭ এবং কামিন্দু মেন্ডিস ১৪ রান করেন।
এরপর ১৩৩ রানে সপ্তম উইকেট পতনের পর শ্রীলংকা দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে। তবে অষ্টম উইকেটে দুশমান্থ চামিরা ও দুনিথ ওয়েলালাগে ৩৬ বলে ৪৩ রানের জুটি গড়ে লংকানদের ১৭৬ রানে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
৩৭তম ওভারে জ্যাকস তিন উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলংকাকে ১৭৬ রানে আটকে দেন। ওয়েলালাগে ৩৬ বলে ৪৫ রান করেন। জ্যাকস ৭ ওভার বল করে ২২ রানে ৫ উইকেট নেন এবং ২৭ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সেরা বোলিং পারফরমেন্সের জন্য ম্যাচ সেরা হন এই ইংলিশ ক্রিকেটার।
আগামীকাল লিডসে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামবে দুই দল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সন্তান জন্মের পর মায়ের শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন আসা একটি স্বাভাবিক বিষয়। তবে, এই পরিবর্তনগুলো নিয়ে অনেক নারীকে নানা ধরনের মন্তব্য, কটূক্তি ও তুলনার সম্মুখীন হতে হয়। কত দ্রুত আগের ওজনে ফিরলেন, শরীর আগের মতো হলো কি না—এসব প্রশ্ন নতুন মায়ের মানসিক চাপকে অনেক সময় বাড়িয়ে দেয়। সম্প্রতি বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মন্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে।
সম্প্রতি আম্বানি পরিবারের গণেশ চতুর্থীর অনুষ্ঠানে ক্যাটরিনা কাইফের শরীর ও ওজন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। তবে, এই অভিজ্ঞতা শুধুমাত্র তারকাদের নয়। সন্তান জন্মের পর শরীর নিয়ে অস্বস্তি, অন্যদের সঙ্গে তুলনা এবং দ্রুত আগের চেহারায় ফেরার চাপ—এসবের মুখোমুখি হন অসংখ্য সাধারণ নারীও।
ইন্ডিয়া টুডের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। এর আগে, সন্তান জন্মের পর শরীর নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন একাধিক বলিউড তারকা। ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন মা হওয়ার পর তাঁর ওজন নিয়ে প্রকাশ্যে নানা মন্তব্য হয়েছিল। অভিনেত্রী স্বরা ভাস্করও সন্তান জন্মের পর দ্রুত আগের শরীরে ফিরে যাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলেছেন। রিচা চাড্ডা ও বিপাশা বসুকেও সন্তান জন্মের পর শরীর নিয়ে মন্তব্যের মুখে পড়তে হয়েছে।
কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের ছবি বা খবরের বাইরে সাধারণ মায়েদের অভিজ্ঞতাও কম কঠিন নয়।
আরো পড়ুন
সিঙ্গেল থাকা মানেই একা নয়, আজ তাদের বিশেষ দিন।
ভারতের সাংবাদিক করিশমা কালিতা ২০১৬ সালে তাঁর ওজন ৯০ কেজিতে পৌঁছানোর কথা জানিয়েছেন। পরে শরীরচর্চা ও কঠোর খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে তিনি ৫৬ কেজিতে নেমেছিলেন। ২০২৫ সালে গর্ভবতী হওয়ার পর আবার তাঁর জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। সন্তান জন্মের পর নবজাতকের যত্ন, ঘুমের অভাব ও দৈনন্দিন ব্যস্ততার মধ্যে নিজের শরীরচর্চার জন্য আগের মতো সময় বা মানসিক শক্তি ছিল না।
প্রায় ১৮ মাস পর আবার ব্যায়াম শুরু করলেও নিজের পুরোনো চেহারার সঙ্গে বর্তমান শরীরের তুলনা করা থেকে বের হতে পারেননি তিনি। এমনকি পুরোনো ২৪ ইঞ্চি জিন্সের দিকে তাকিয়ে আবেগাপ্লুত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন করিশমা। স্বামী তাকে সমর্থন করলেও নিজের কাছে আকর্ষণীয় না লাগার অনুভূতি তাঁকে ভাবিয়েছে।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন এক বছর বয়সী সন্তানের মা সুশ্মিতা মারিক। তিনি জানান, কেউ সরাসরি চাপ না দিলেও অন্য নারীদের সঙ্গে নিজের শরীরের তুলনা করতে শুরু করেছিলেন। ‘অনেকটা ওজন বেড়েছে, এবার নিয়ন্ত্রণ করুন’ কিংবা ‘জিম করছেন, কিন্তু তেমন কোনো পরিবর্তন তো দেখা যাচ্ছে না’—এ ধরনের মন্তব্যও তাকে শুনতে হয়েছে।
আরো পড়ুন
চাকরি পাওয়ার আনন্দ মুহূর্তেই ম্লান, ডেলিভারি রাইডারের গল্পে আবেগাপ্লুত তরুণ।
ফলে সন্তানের প্রথম বছরে নিজের ছবি তুলতেও অনেকটা এড়িয়ে চলেছেন তিনি। কারণ আয়নায় নিজের চেহারা দেখে যে অস্বস্তি তৈরি হতো, তা সামাজিক অনুষ্ঠানে বা ছবিতে আরও বেশি অনুভূত হতো।
বিশেষজ্ঞদের আলোচনায়ও উঠে এসেছে, সন্তান জন্মের পর শরীর বদলে যাওয়ার বিষয়টি শুধু ওজনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। গর্ভাবস্থা ও প্রসবের পর শরীরের গঠন, পেটের আকৃতি, ত্বক ও পেশিতে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই ওজন কমে গেলেও অনেক নারীর শরীর আগের মতো দেখতে নাও হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তারকাদের দ্রুত ওজন কমানোর ছবি দেখে মনে হতে পারে, সন্তান জন্মের পর অল্প সময়েই আগের শরীরে ফিরে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এসব পরিবর্তনের পেছনে ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক, পুষ্টিবিদ, ব্যায়ামের সময়, সহায়তা ও অন্যান্য সুবিধা থাকে—যা সাধারণত ছবিতে দেখা যায় না।
২০২৫ সালে ১১৪ জন প্রসবোত্তর নারীকে নিয়ে করা একটি গবেষণাতেও বিষয়টির প্রভাব উঠে আসে। গবেষণায় অংশ নেওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ নারী সন্তান জন্মের পর নিজেদের ওজন নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। পরিবার, সমাজ, গণমাধ্যম এবং নিজের শরীর নিয়ে অসন্তুষ্টি—সবকিছুই এই উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
‘ফিটস্পিরেশন’ ধরনের শরীরচর্চার ভিডিও বা ছবি দেখাও অনেক সময় পরিস্থিতি আরও কঠিন করে। এসব কনটেন্ট দেখে নারীরা নিজেদের শরীরকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করতে পারেন। এতে উদ্বেগ বাড়তে পারে এবং নিজের শরীর নিয়ে সন্তুষ্টি কমে যেতে পারে।
তাহলে সন্তান জন্মের পর একজন মাকে ‘কবে আগের ওজনে ফিরবেন’ বা ‘কতটা ওজন বেড়েছে’—এমন প্রশ্ন করার বদলে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাওয়াই বেশি প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, পরিবারের সহযোগিতা এবং নিজের জন্য কিছুটা সময়—নতুন মায়ের জন্য এগুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ সন্তান জন্মের পর একজন নারীর শরীর শুধু বদলায় না, তাঁর জীবনযাপনও বদলে যায়। সেই পরিবর্তনের সময় তাঁকে শরীরের মাপ দিয়ে বিচার না করে মানুষ হিসেবে পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে জরুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক শরৎকাল শুরু হলো শরৎকালীন বিষুব-এর মধ্য দিয়ে।
রয়্যাল মিউজিয়াম গ্রিনউইচের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাজ্যের সময় রাত ১টা ৬ মিনিটে এই বিষুব সংঘটিত হয়। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী এটি সকাল ৬টা ৬ মিনিট।
বিষুব হলো এমন একটি মুহূর্ত, যখন সূর্য পৃথিবীর মাঝ বরাবর বা বিষুবরেখার ওপর অবস্থান করে। এই সময় পৃথিবীর কোনো অংশই সূর্যের দিকে বা বিপরীতে ঝুঁকে থাকে না, ফলে বিশ্বজুড়ে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান হয়ে যায়। এই ঘটনাকে ‘শরৎ বিষুব’ বলা হয়।
বিশেষ এই দিনটিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের স্টোনহেঞ্জের মতো ঐতিহাসিক স্থানে মানুষ জড়ো হয়ে সূর্যোদয় উপভোগ করেন।
তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে নতুন করে শরৎকাল শুরু হচ্ছে না। বাংলা ঋতুচক্র অনুযায়ী বাংলাদেশে শরৎকাল এরই মধ্যে চলছে।
‘শরৎ বিষুব’ নামটি মূলত উত্তর গোলার্ধের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঋতুচক্রের সাথে সম্পর্কিত। ইউরোপসহ উত্তর গোলার্ধের অনেক দেশে এই দিনটিকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে শরতের শুরু হিসেবে ধরা হয়।
উল্লেখ্য, লাতিন শব্দ ‘ইকুইনক্স’ বা বিষুব-এর অর্থ সমান রাত। নিয়ম অনুযায়ী এই দিনে দিন ও রাত উভয়ই ১২ ঘণ্টা করে হওয়ার কথা। তবে বায়ুমণ্ডলে আলোর প্রতিসরণের কারণে সূর্য ডোবার পরও কিছুক্ষণ আলো থেকে যায়। এর ফলে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য পুরোপুরি সমান হওয়ার ঘটনাটি বিষুবের ঠিক কিছুদিন পরে ঘটে, যাকে বলা হয় ‘ইক্যুল্যাক্স’ বা ‘সমান আলো’।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ