মোঃ শাহিন ,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
১১:২০ পি.এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে এনসিপির নেতাকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট থেকে ৭টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. জামিউল হক সোহেলের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মিছিলটি নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ এলাকা থেকে শুরু হয় এবং সাতু মার্কেট, হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা প্রদক্ষিণ করে সেন্টু মার্কেট ট্রাফিক মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব বাবর আলী রুমন, সদস্য মো. সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান শিমুল, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুর রহিম, গোমস্তাপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক অকিলুর রহমান অকিল, দপ্তর সম্পাদক বদিউজ্জামান, সহ-দপ্তর সম্পাদক ইয়াকুব আরাফাত, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মেজর ডালিম, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আজিজুল হক, গোমস্তাপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান রিপন, সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম, সদস্য সচিব মামুন, রহনপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রতন আলী, সদস্য সচিব শামীম রেজা, এবং শিবগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বারিকুল ইসলাম বাবু, রানাউল ইসলাম, তহিদুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আয়োজকদের দাবি, কর্মসূচিতে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ জন নেতাকর্মী অংশ নেন। বিক্ষোভ মিছিল শেষে নেতারা তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মস্কোর একটি রেস্তোরাঁয় প্রাণঘাতী বোমা ছিল উপহারের বাক্সে লুকিয়ে। আর সেই বোমার বিস্ফোরণে শনিবার রাতে কেঁপে উঠেছিল রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর একটি রেস্তোরাঁ। এ ঘটনায় নিহত হন অন্তত তিনজন, আহত হন ২১ জন। এ ঘটনাকে একটি ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে উল্লেখ করেছেন মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন।
শনিবার রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে কুদরিনস্কায়া স্কয়ারের ‘বালজি রসি’ রেস্তোরাঁর বাইরে ভয়াবহ বিস্ফোরণটির ঘটনা ঘটে। রুশ সংবাদমাধ্যম কোমারসান্ট জানাচ্ছে, সেখানে তখন কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান চলছিল। বিষয়টি নিয়ে এক নারী কুরিয়ার হিসেবে একটি উপহারের বাক্স নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করতে গেলে, নিরাপত্তারক্ষী সন্দেহ হওয়ায় তল্লাশি করতে গেলে বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই নারী, নিরাপত্তারক্ষী এবং একজন গ্রাহক নিহত হন। যদিও হাসপাতালে আরও দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়নি।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, বোমাটি দূরনিয়ন্ত্রিত রিমোটের মাধ্যমে বিস্ফোরিত করা হয়েছে। গোটা ঘটনায় সম্ভাব্যভাবে ওই নারী জানতেন না যে, বাক্সে আসলে কী ছিল। বোমাটিতে এক কেজির টিএনটির সমান বিস্ফোরক ছিল এবং প্রচুর ধাতব বল ছিল, যা অধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটানোর জন্য তৈরি করা হয়েছিল। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে।
হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি। তবে মেয়র সোবিয়ানিন সতর্ক করে বলেছেন, অপরাধীদের কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে। রাশিয়া এখনও ইউক্রেনকে এই হামলার দায়ী করেনি। উল্লেখ্য, গত বছর ঠিক এভাবে এক রুশ ব্লগারকে হত্যা করা হয়েছিল, যেখানে ভাস্কর্যের ভেতরে বোমা লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করার জন্য উদযাপন কমিটির তৃতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ (রোববার) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং উদযাপন কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে। সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে তাঁর সভাকক্ষে।
এ সময় উপাচার্য জবি বক্তৃতার মাধ্যমে জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, চেতনা ও আত্মত্যাগের গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন আছে। আমাদের সকলকে জুলাইকে অন্তর দিয়ে ধারণ করতে হবে এবং কথার বদলে ক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, দিবসটির তাৎপর্য, ইতিহাস এবং গণতান্ত্রিক চেতনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় আলোচনার সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। ইতোমধ্যে অনেক বিভাগ ও ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন সময়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক সেমিনার আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে এবং একই সঙ্গে দিবসটি উদযাপনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিতের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ইকরামুল হক সাজিদ ভবনের নীচতলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন স্মৃতিচিত্র ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত নিয়ে একটি ফটোগ্রাফি ও চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। সেই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি ডকুমেন্টরীও প্রস্তুতের কাজ চলছে।
সভায় উপস্থিত সদস্যরা আবারও উল্লেখ করেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও আত্মত্যাগের গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য গৃহীত কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
আগামী ৪ আগস্ট দিনব্যাপি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
এই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ университет মানজুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
আজকের সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক, কর্মকর্তা সমিতি, কর্মচারী সমিতি, সহায়ক কর্মচারী কল্যান সমিতি, জবি ছাত্রদল এবং ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতা, সাংবাদিক এবং কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই টাইগার ক্রিকেটাররা এই ধরনের সিরিজ রাঙানোর স্বপ্ন দেখছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজের আগে বাংলাদেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ পেসার শরিফুল ইসলাম এবং নাহিদ রানা ছিটকে যাওয়ায় খানিকটা দুশ্চিন্তায় পড়েছে। বিশেষ করে, ফর্মের চূড়ায় থাকা নাহিদ রানাকে হারিয়ে বাংলাদেশকে পরিকল্পনাতে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি উইকেটে নাহিদের মতো পেস ব্যাটারিকে না পাওয়া নিঃসন্দেহে দলের জন্য একটি বড় দুঃসংবাদ। এই বিষয়টি কোচ সালাউদ্দিনও মানছেন। তবে তিনি বিশ্বাস করেন যে, এই দল নিয়েও ‘বুদ্ধি খাটিয়ে বোলিং’ করলে ভালো ফলাফল করা সম্ভব।
রোববার (২ আগস্ট) মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে যখন সালাউদ্দিন গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন, তখন তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, আমিও খুব রোমাঞ্চিত ছিলাম যে কবে আমি নাহিদকে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারদের বিরুদ্ধে বাউন্সার মারতে দেখবো। আমি রোমাঞ্চিত ছিলাম যে নাহিদ রানা খেলবে। যেহেতু এটা হয়নি, এখানে হা-হুতাশ করে লাভ নেই। আমি মনে করি, অন্য বোলার যাদের আছে, তারা যদি একটু বুদ্ধি করে বল করতে পারে, তাহলে তারা অনেক ভালো করবে।’
সালাউদ্দিন দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি ইমার্জিং দলের জন্য কাজ করছেন। তবুও, বাংলাদেশের বর্তমান দলটাকে তিনি খুব ভালোভাবে চেনেন। সেই আত্মবিশ্বাসের কারণেই তিনি অস্ট্রেলিয়া সিরিজে নাজমুল শান্তদের ওপর ভরসা রাখছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় টেস্ট দল নিয়ে আশাবাদী। আমি মনে করি, টেস্ট দলে যারা খেলে তারা নিজেদের সম্পর্কে অনেক ভালো সচেতন এবং নিজেদের লক্ষ্যটি তারা ভালো জানে। তারা অন্যদের চেয়ে গোছানো। এর ফলে আমার কাছে মনে হয় এখানে ভালো না হওয়ার কোনো যুক্তি দেখি না। তাদের ইচ্ছে কিংবা লক্ষ্য… বাস্তবিক অর্থে তারা অনেক ভালো কিছু চিন্তা করেই আগায়।’
সাম্প্রতিক সময়ে বিসিবির মেডিকেল বিভাগের একটি রিপোর্টে জানানো হয়েছে, লিটন দাস অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম ম্যাচের জন্য ফিট নন। আগামী ১৩ আগস্ট তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে দেখা হবে তিনি দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারবেন কিনা।
তবে গতকাল আকস্মিকভাবে লিটনকে প্রথম টেস্টের দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ভালোভাবে সম্পন্ন করার কারণে লিটনকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে সাবলীলভাবে অনুশীলনও করেছেন লিটন। তবে চোট নিয়ে শঙ্কা থাকা সত্ত্বেও তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার কারণে কিছু প্রশ্ন ওঠেছে। কিন্তু কোচ সালাউদ্দিন মনে করেন, যদি লিটন খেলানোর মতো ফিট থাকেন, তাহলে তাকে খেলানো উচিত। তার মত অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের অস্ট্রেলিয়া সিরিজে দলকে খুব প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন।
এ বিষয়ে সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমি মনে করি, টেস্ট ম্যাচে হাই ইন্টেন্স নিয়ে খেলা হয় না। টেস্টে সে তিন বা চার রানের জন্য দৌড়াবে না। উইকেটরক্ষক হিসেবে তাকে ৮০-৯০ ওভারও টানতে হবে না। তবে যদি সে ব্যাটিং করতে পারে এবং উইকেটের মধ্যে রানিংয়ে ভালো থাকে এবং খেলার মতো অবস্থায় থাকে, তাহলে তার মতো একজনকে খেলানো অবশ্যই যুক্তিযুক্ত।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে বন্যাকবলিত দেড় শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে গৃহনির্মাণ সামগ্রী, চাল, ধানবীজ, সার ও কীটনাশকসহ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। ছবিটি বাসস দ্বারা তোলা।
বাঁশখালী, চট্টগ্রাম, ২ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন মন্তব্য করেছেন যে, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা দেশের মালিক নন। বরং, তারা হলেন দেশের ১৮ কোটি জনগণের প্রকৃত সেবক।
তিনি বলেন, যদি কেউ চেয়ারে বসে নিজেকে দেশের মালিক ভাবতে চায়, তাহলে তাকে ভুল ধারণা থেকে বের হয়ে আসা উচিত এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসা উচিত। এইভাবে কাজ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে বন্যাকবলিত দেড় শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে গৃহনির্মাণ সামগ্রী, চাল, ধানবীজ, সার ও কীটনাশকসহ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, বিগত ১৯ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে থাকা অবস্থায় বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা চরম হামলা, মামলা, নির্যাতন, গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন। তবে, তার পরেও তারা সর্বদা মানবসেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন।
তিনি আরও বলেন, নিজেদের স্ব-উদ্যোগ এবং সামর্থ্যকে মানুষের সেবায় লাগিয়ে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার কাজ করা হলে, তার চেয়ে বড় সওয়াবের কাজ আর কিছু হতে পারে না।
বন্যার্তদের সহায়তায় সরকারের ভূমিকা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ বন্যায় প্রথম থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, ভারী বর্ষণের পর নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা, জরুরি ত্রাণ বিতরণ এবং পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায়, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল নিজে এবং দলীয় নেতাকর্মী, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সেবকরা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এবং চট্টগ্রাম জেলায় সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থেকে সরকারি ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে তাৎক্ষণিক নগদ অর্থ ও খাদ্যশস্য সহায়তার ব্যবস্থা করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আরও জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরলস সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় সাইক্লোন সেন্টার ও আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার ফলে মানুষের প্রাণহানি ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাথে দেশে সকল সেবকদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ব্যক্তিগত এবং সামাজিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, যদি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের মতো দেশে আরও স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ তৈরি হয়, তবে সরকারী সাহায্যের ওপর নির্ভরতা বহুলাংশে কমে আসবে। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা অপ্রয়োজনে যে বিপুল অর্থ ব্যয় করি, তার দশ ভাগের একভাগও যদি দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পেছনে ব্যয় করা হতো, তবে দারিদ্র্যের হার অনেক আগেই হ্রাস পেত।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যতক্ষণ না দেশের সুবিধাবঞ্চিত এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের সামগ্রিক পরিবর্তন আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি সরকারকের সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রজাতন্ত্রের সকল সেবকদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান, যেন তারা সেবাদান নিশ্চিত করেন এভাবে যে জনগণ মনে করে এবং বাস্তবে অনুভব করে যে, তারা এ দেশের প্রকৃত মালিক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ