১১:৪৯ পি.এম
রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে বন্যাকবলিত দেড় শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে গৃহনির্মাণ সামগ্রী, চাল, ধানবীজ, সার ও কীটনাশকসহ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। ছবিটি বাসস দ্বারা তোলা।
বাঁশখালী, চট্টগ্রাম, ২ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন মন্তব্য করেছেন যে, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা দেশের মালিক নন। বরং, তারা হলেন দেশের ১৮ কোটি জনগণের প্রকৃত সেবক।
তিনি বলেন, যদি কেউ চেয়ারে বসে নিজেকে দেশের মালিক ভাবতে চায়, তাহলে তাকে ভুল ধারণা থেকে বের হয়ে আসা উচিত এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসা উচিত। এইভাবে কাজ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি
রোববার বিকেলে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে বন্যাকবলিত দেড় শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে গৃহনির্মাণ সামগ্রী, চাল, ধানবীজ, সার ও কীটনাশকসহ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, বিগত ১৯ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে থাকা অবস্থায় বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা চরম হামলা, মামলা, নির্যাতন, গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন। তবে, তার পরেও তারা সর্বদা মানবসেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন।
তিনি আরও বলেন, নিজেদের স্ব-উদ্যোগ এবং সামর্থ্যকে মানুষের সেবায় লাগিয়ে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার কাজ করা হলে, তার চেয়ে বড় সওয়াবের কাজ আর কিছু হতে পারে না।
বন্যার্তদের সহায়তায় সরকারের ভূমিকা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ বন্যায় প্রথম থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, ভারী বর্ষণের পর নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা, জরুরি ত্রাণ বিতরণ এবং পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার শিকার প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায়, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল নিজে এবং দলীয় নেতাকর্মী, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সেবকরা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এবং চট্টগ্রাম জেলায় সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থেকে সরকারি ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে তাৎক্ষণিক নগদ অর্থ ও খাদ্যশস্য সহায়তার ব্যবস্থা করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আরও জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরলস সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় সাইক্লোন সেন্টার ও আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার ফলে মানুষের প্রাণহানি ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাথে দেশে সকল সেবকদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ব্যক্তিগত এবং সামাজিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, যদি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের মতো দেশে আরও স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ তৈরি হয়, তবে সরকারী সাহায্যের ওপর নির্ভরতা বহুলাংশে কমে আসবে। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা অপ্রয়োজনে যে বিপুল অর্থ ব্যয় করি, তার দশ ভাগের একভাগও যদি দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পেছনে ব্যয় করা হতো, তবে দারিদ্র্যের হার অনেক আগেই হ্রাস পেত।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যতক্ষণ না দেশের সুবিধাবঞ্চিত এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের সামগ্রিক পরিবর্তন আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে ইয়াবা কারবারিদের ধরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ, থানার ক্যাশিয়ার নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন
তিনি সরকারকের সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রজাতন্ত্রের সকল সেবকদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান, যেন তারা সেবাদান নিশ্চিত করেন এভাবে যে জনগণ মনে করে এবং বাস্তবে অনুভব করে যে, তারা এ দেশের প্রকৃত মালিক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন