সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২৮ পি.এম
এশিয়ান গেমসের শুরুতে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের জন্য একটি বড় পরাজয়ের ঘটনা ঘটেছে। উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ ব্যবধানের পরাজয়টি তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ পরাজয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কোচ পিটার বাটলারের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এই পরাজয়ের পর।
বাটলার কেন অভিজ্ঞ ফুটবলারদের বেঞ্চে বসিয়ে তরুণদের নিয়ে একাদশ সাজিয়েছেন, সেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। ইংলিশ কোচ হারের ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং এই পরাজয়ের দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দলে অনেক তরুণ খেলোয়াড় রয়েছে। আমাদের এমন একজন মেয়ে রয়েছে, যার বয়স ১৫ বছর। তরুণদের বিকাশের নীতি বাস্তবায়ন করা সঠিক নাকি ভুল—হয়তো অনেকেই আমাদের কাজের এই উন্নয়নমূলক দিকটি পছন্দ করছেন না। তবে আপনাকে বুঝতে হবে আমাদের নিজস্ব কোনো স্বীকৃত লিগ নেই। আমি কোনো অজুহাত দিচ্ছি না, কারণ আজকের এই ফলাফলের পুরো দায় আমি নিচ্ছি; যেহেতু তারা আমার খেলোয়াড়।’
এমনকি হারের দায় নিজের কাঁধে নিলেও বাটলার জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের মেয়েরা উত্তর কোরিয়ার মতো দলের সঙ্গে গতি ও মানে অভ্যস্ত নয়। তিনি বলেছেন, ‘তাদের গতির সঙ্গে আমাদের মেয়েরা অভ্যস্ত নয়। এই মানের দলের বিপক্ষে খেলার মতো আমরা এখনো প্রস্তুত নই।’
বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া। তবে শক্তি ও সামর্থ্যে অনেক এগিয়ে থাকা দলটির বিরুদ্ধে না ভেবে, নিজেদের শক্তি বিবেচনায় মিয়ানমারকে মূল প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন বাটলার। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের মূল প্রতিপক্ষ মিয়ানমার। এই ম্যাচে এক গোলে হারাও যা, দশ গোলে হারাও তাই। এমনকি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গেও এমন হতে পারে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ এবং রাশিয়া একমত হয়েছে যে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ ত্বরান্বিত করে দ্রুত জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৭০তম সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকীর মাহবুব আনাম এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ।
বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। উভয় পক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রকল্পের নির্মাণকাজ ত্বরান্বিত করে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়ার বিষয়ে তারা একমত।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য আন্তর্জাতিক পারমাণবিক মানদণ্ড এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রোসাটমের মহাপরিচালকও প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
বৈঠক শেষে, বাংলাদেশ-রাশিয়া বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকীর মাহবুব আনাম এবং রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভের মধ্যে শুভেচ্ছা স্মারক বিনিময় হয়।
দুই দেশের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সফল বাস্তবায়ন দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় পুলিশ মো. মিল্লাদ হোসেন (৩৬) নামের এক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে দর্শনা থানার দক্ষিণচাঁদপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া মিল্লাদ হোসেন, মো. জিয়াউল হকের পুত্র। তিনি দর্শনা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি হিসেবে পরিচিত।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর দর্শনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যেখানে মিল্লাদ হোসেনকে আসামি করা হয়। সোমবার ভোরে অভিযানের মাধ্যমে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরের ভবানীপুর এলাকায় সুটকেস থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর খণ্ডিত লাশের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিহত নারীর নাম ডলি আক্তার (৩০)। তিনি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার কন্যা।
এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট হিসেবে পুলিশ প্রেমিক মিশন ইসলাম (২২), তার মা বানু আক্তার (৪৩) এবং বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে।
এছাড়া, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি, লাশ প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, ভুক্তভোগীর এনআইডি কার্ড, মোবাইল ফোন ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত ডলি আক্তার জয়দেবপুর থানার বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ি এলাকার দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন এবং গোল্ডেন রিফট গার্মেন্টেসে সুইং অপারেটর পদে কাজ করতেন। চাকরির সূত্রে ৫ বছর আগে মিশনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে মিশনের সাথে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠায় তার স্বামীর সাথে চরম বিরোধ সৃষ্টি হয়। দুই মাস আগে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে এবং তার ৫ বছরের একটি সন্তান রয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রফিকুল আক্তার এসব তথ্য জানান।
মিশনের দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী কালের কণ্ঠকে বলেন, গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মিশনের গাজীপুর মহানগরীর সদর থানার বাহাদুরপুর তুলসীভিটা এলাকার ভাড়া বাসায় যান ডলি। রাত ৯টার দিকে তারা একসঙ্গে খাবার খান। ডলির খাবারে আগেই ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে রেখেছিল মিশন।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘুমিয়ে পড়লে গলায় নিজের লুঙ্গি পেঁচিয়ে ও মুখে বালিশ চাপা দিয়ে ডলিকে হত্যা করেন মিশন। হত্যার আগে প্রেমিকার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন তিনি। লাশ চৌকির নীচে রেখে পরদিন বুধবার সকালে গার্মেন্টে কাজে যান মিশন। বিকেলে কারখানা ছুটির পর ফেরার পথে লাশ সরানোর জন্য বাংলাবাজারের একটি দোকান থেকে এক হাজার ৫৫০ টাকা দিয়ে একটি সুটকেস, বস্তা, স্কচটেপ ও বডিস্প্রে কিনে ভাড়া বাসায় ফেরেন মিশন। মধ্য রাতে ঘরে ধাকা বটি দিয়ে লাশ দুই টুকরো করেন। কোমরের নিচের অংশ সুটকেসে এবং অপর অংশ বস্তায় ভরে স্কচটেপ দিয়ে মুড়িয়ে প্যাকেট করে রাখেন। বাসা পাল্টানোর কথা বলে বৃহস্পতিবার রাতে বন্ধু মিল্টনের ব্যাটারির রিকশায় তুলে সুটকেস কালভার্টের নিচে এবং বস্তাটি পাশের ঝোপের ভেতর ফেলে দেন। বস্তা থেকে রক্ত ঝরতে থাকলে মিল্টন কারণ জানতে চাইলে সব ঘটনা খুলে বলে মিশন।
পুলিশ পরিদর্শক আরো বলেন, মিশন তার চেয়ে ১১ বছরের বড় ডলিকে পাগলের মতো ভালোবাসতেন। তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও ছিল। স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্সের পর মিশন ডলিকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু ডলি সময় নিচ্ছিল। অপর দিকে বয়সে বড়, ডিভোর্সি এবং সন্তান থাকায় বিয়েতে মত ছিল না মিশনের মা বানু আক্তারের। কিন্তু ছেলের জিদে এক পর্যায়ে মা-হার মানেন। একদিকে ডলির সময়ক্ষেপণ, অন্যদিকে মায়ের আপত্তি-এই দুই বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হলে ডলিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মিশন। ঘটনার রাতে খাওয়ার পর মা বানু পাশের ঘরে ঘুমাতে যায়। পরদিন সকালে ঘর ঝাড়ু দিতে এসে চৌকির নিচে লাশ দেখতে পেয়ে জ্ঞান হারান। জ্ঞান ফিরলে ঘটনা কাউকে না জানিয়ে রাতে ছেলে বাসায় ফিরলে লাশ সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দেন। এমনকি পরদিন মা ছেলে মিলে মিল্টনকে ডেকে আনেন।
পুলিশ সুপার মো. রফিকুল আক্তার বলেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে ভবানীপুর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশের একটি কালভার্টের নিচে সুটকেস ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ সুটকেস খুলে নারীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে। পরে পাশের ঝোপ থেকে বস্তার ভেতর থেকে উদ্ধার হয়ে লাশের উপরের অংশ। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে ডলির পরিচয় শনাক্ত করে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও হত্যারহস্য উদঘাটন করে পিবিআই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ