০৮:৩৮ পি.এম
গাছের ডালে চাক বাঁধে মৌমাছি। কখনো কখনো মানুষের বসত ঘরেও বাসা বাঁধতে দেখা যায়। তবে এমনভাবেও বলা যায়, কোনও মানুষের পশ্চাৎদেশে মৌমাছির ঝাঁক এসে বসার ঘটনা কেবল অদ্ভুতই নয়, বরং বিপজ্জনকও। অবিশ্বাস্য হলেও, এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন এক তরুণ। বহু মৌমাছির একটি ঝাঁক এসে তাঁর প্যান্টের পেছনে বসায় এবং তাকে ৩০ মিনিট নিশ্চল দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
সমাজমাধ্যমে ওই ঘটনার ভিডিওটি পোস্ট করার পর তা ভাইরাল হয়ে যায়। যদিও পোস্টটির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি সময় সংবাদ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গ্যারেজে যাওয়ার সময় ওই যুবক এই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। একটি রানি মৌমাছি উড়ে এসে তার প্যান্টের উপর বসে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি মারাত্মক হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
ঘটনাটি তবে বেশ পুরনো। ২০২৫ সালের আগস্টে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্যা সান তাদের ফেসবুক পেজে ভিডিওটির পোস্ট করে। তারা ক্যাপশনে লেখে, 'মৌমাছির রাজা হলেন এক ব্যক্তি'। ওই পোস্টের দাবি অনুযায়ী, রানি মৌমাছিটি যখন তার পোশাকে বসে, তখনই হাজার হাজার কর্মী মৌমাছি তাকে ঘিরে ধরে। এক মুহূর্তে যুবকের পশ্চাৎদেশে মৌমাছির 'চাক' তৈরি হয়ে যেতে থাকে। হাজার হাজার মৌমাছির আক্রমণের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও, ভয় এবং অস্বস্তির মধ্যেও তরুণটি সম্পূর্ণ নিশ্চল থেকেছিলেন। কারণ, যদি তিনি একচুলও নড়তেন, তাহলে তার শরীরে শয়ে শয়ে মৌমাছির হুল ফুটে যেতে পারতো। তিনি প্রায় ৩০ মিনিট ধরে স্থির দাঁড়িয়ে থাকেন। ফলে মৌমাছিগুলি একটিও হুল ফুটাতে পারেনি।
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে আরও বলা হচ্ছে যে, অন্য একজন যুবক রানি মৌমাছিটিকে এক অন্য পাত্রে ঢোকানোর পর এই দুর্ভোগের অবসান ঘটে। রানি মৌমাছিটিকে আলাদা করার পর মৌমাছির ঝাঁকটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। ফলে ওই যুবক হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন।
সোমবার (১ জুন) ‘মিডিসারাসু’ নামের একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে ঘটনাটি নতুন করে পোস্ট করা হয়, যা আবারও ভাইরাল হয়ে যায়। পোস্টের শিরোনাম হলো- ভয়ংকর ৩০ মিনিট।
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের ২৫ বছর বয়সী ভেরেলের এই অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। হাঁটার সময় একটি রানী মৌমাছি এসে তার প্যান্টে বসে যায়। পরবর্তী মুহূর্তেই হাজার হাজার মধুমক্ষিকা ঝাঁক বেঁধে তার চারপাশে ভিড় করে। তারা পশ্চাৎদেশকেই তাদের নতুন “বাসা” হিসেবে বেছে নেয়।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
এ অবস্থায় তরুণটি যদি নাড়াচাড়া করতেন, তবে তার শরীরে মৌমাছির হুল ফুটে যেতে পারতো, এমনকি প্রাণহানির ঝুঁকিও ছিল। ভয় ও বিব্রতকর পরিস্থিতিকে তিনি জয় করে ৩০ মিনিটেরও বেশি সময় স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
চারপাশে যখন হইচই এবং বিশৃঙ্খলা চলছিল, তখন তিনি শুধু সময় পার হওয়ার অপেক্ষা করছিলেন।
শেষ পর্যন্ত সুযোগ বুঝে তিনি রানী মৌমাছিটিকে একটি পাত্রে ঢুকিয়ে ফেলতে সক্ষম হন। এর ফলে মৌমাছির ঝাঁকও আলাদা হয়ে যায়।
এ ঘটনার পর নেটমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একজন নেটাগরিক তরুণের উদ্দেশে লিখেছেন, “আপনার নিতম্বে একটি রানি মৌমাছি এসে বসার পর যদি ওই পরিস্থিতিতে ৩০ মিনিট স্থির থাকার মানসিক দৃঢ়তা থাকে, তবে সেটা অনেক বেশি।”
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
অন্য এক এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন, 'একটু নড়লেই সব শেষ।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন