ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গৃহকর্মীদের শ্রমের স্বীকৃতি, তবে বৈষম্য ও নিরাপত্তা সংকট রয়ে গেছে


গৃহকর্মীদের শ্রমের স্বীকৃতি, তবে বৈষম্য ও নিরাপত্তা সংকট রয়ে গেছে

গৃহকর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় আইন ও নীতিগত অগ্রগতি ঘটলেও, সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি এখনও একটি বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। ন্যায্য মজুরি, কর্মঘণ্টা, কর্মক্ষেত্রে নির্যাতন ও হয়রানি, সীমিত সামাজিক সুরক্ষা এবং শ্রমিক হিসেবে মর্যাদার অভাব এখনো বহু গৃহকর্মীর প্রতিদিনের বাস্তবতা। তাই আইন পরিবর্তন করলেই হবে না; পরিবার, নিয়োগকর্তা এবং সমাজের মানসিকতায় পরিবর্তন না এলে গৃহকর্মীদের অধিকার বাস্তবে প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব বিষয় তুলে ধরেন। কানাডা সরকারের সহায়তায় ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়িত ‘সুনীতি’ প্রকল্পের সাত বছরের অর্জন, শিক্ষা, নীতিগত অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ করণীয় আলোচনা করার জন্য এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবির বলেন, গৃহকর্মীসহ কোনো খাতের শ্রমিকদের অধিকার সরকারের একার পক্ষে শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রতিটি ঘরে গিয়ে শিশু শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে কি না, তা সরকারের একার পক্ষে মনিটর করাও সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

তিনি আরও বলেন, কম মজুরি, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, সামাজিক সুরক্ষার অভাব, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি এবং অধিকার সম্পর্কে সীমিত সচেতনতা এখনো গৃহকর্মীদের বড় চ্যালেঞ্জ। শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে। সংশোধিত শ্রম আইনের আলোকে শ্রম বিধিমালা হালনাগাদের কাজও অনেক দূর এগিয়েছে, যা চলতি বছরের মধ্যেই একটি রূপ পাবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, সবকিছু পরিবর্তন করলাম, কিন্তু মানসিকতা পরিবর্তন না করলে হবে না। তিনি প্রশ্ন করেন, "আমার গৃহকর্মীকে আমি কেন আমার সহকর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারি না?" কর্মজীবী মায়েদের জন্য কর্মস্থল ও আবাসিক ভবনে দিবাযত্ন কেন্দ্র নিশ্চিত করার পাশাপাশি গৃহকর্মীদের সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থার আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, ২০২৬ সালের সংশোধিত শ্রম আইনে গৃহকর্মীদের স্বীকৃতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও তা এখনো আংশিক। তিনি উল্লেখ করেন, ‘সুনীতি’ প্রকল্পের বড় অর্জন হলো গৃহকর্মীদের সংগঠিত করা এবং তাদের নিজস্ব নেতৃত্বকে শক্তিশালী করা।

তিনি বলেন, নারী গৃহকর্মীদের কোনো কিছুই পূর্ণভাবে আমরা পাইনি। ২০২৬ সালে আমরা যে আইনটি পেয়েছি, সেটিও আংশিক স্বীকৃতি। দীর্ঘ একটি যাত্রা আমরা অতিক্রম করে এসেছি, সামনেও একটি দীর্ঘযাত্রা রয়ে গেছে।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

কানাডা সরকারের অ্যাক্টিং হেড অব করপোরেশন জেন পালমার বলেন, ‘সুনীতি’ প্রকল্প গৃহকর্মীদের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং সমষ্টিগতভাবে সংগঠিত হওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এই প্রকল্পের কাজ বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করবে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বাংলাদেশ কার্যালয়ের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক নিরান রামজুথান বলেন, গৃহকর্মীদের অদৃশ্য ও অনানুষ্ঠানিক অবস্থান থেকে আইনি সুরক্ষার কাঠামোয় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, গৃহকর্মীদের নিয়ে সমাজের প্রচলিত মানসিকতায় এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। একইসঙ্গে শিশুরা যেন ভবিষ্যতে গৃহকর্মে না আসে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের ইন্টেরিম কান্ট্রি ডিরেক্টর অনিল পান্ত বলেন, আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি গৃহকর্মীদের অধিকার ও মর্যাদার প্রতি সামাজিক সম্মান নিশ্চিত করা জরুরি।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অধিবেশনে গৃহকর্মীদের জাতীয় ফোরামের সভাপতি জাকিয়া সুলতানা বক্তব্য দেন। প্রকল্পের যাত্রা, অর্জন, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন বাংলাদেশে অক্সফ্যামের কর্মসূচি পরিচালক মাহমুদা সুলতানা।

অনুষ্ঠানে ‘সুনীতি’ প্রকল্পের সাত বছরের অভিজ্ঞতা, তথ্য-প্রমাণ, নীতিগত বিশ্লেষণ এবং গৃহকর্মীদের জীবনের ১০টি গল্প নিয়ে প্রস্তুত প্রধান প্রকাশনার আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়। পরবর্তী অধিবেশনে প্রকল্পের চূড়ান্ত মূল্যায়নের ফলাফল ও শিক্ষা উপস্থাপন করেন অক্সফ্যাম কানাডার পুষ্পিতা সাহা। অধিবেশন সঞ্চালনা করেন অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের তারেক আজিজ।

মূল্যায়ন প্রতিবেদনে জানানো হয়, গৃহকর্মীদের অধিকার বিষয়ে সচেতনতা ২০১৯ সালে ১২ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে বেড়ে ৭৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মজুরি নিয়ে দর-কষাকষির সক্ষমতা ২৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬১ শতাংশ এবং লিখিত চুক্তির হার ৮ শতাংশ থেকে ২৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৪১ শতাংশ গৃহকর্মী জানিয়েছেন, তারা আগের তুলনায় বেশি মজুরি পাচ্ছেন। তাদের মাসিক আয় গড়ে ৮৫০ টাকা বেড়েছে বলেও মূল্যায়নে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বংশাল থেকে নিখোঁজের এক বছর পর কিশোরী উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ পি.এম


বংশাল থেকে নিখোঁজের এক বছর পর কিশোরী উদ্ধার

রাজধানীর বংশাল এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক বছর পর, পুলিশ একটি কিশোরীকে (১৫) উদ্ধার করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বংশাল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঢাকার শাহ আলী থানার একটি বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

আজ বুধবার, ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আকতার হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লালবাগের/বংশালের বাসা থেকে বের হয় ওই কিশোরী। এরপর থেকে সে আর বাড়িতে ফেরেনি।

 

ঘটনার পরদিন কিশোরীর বাবা বংশাল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) দায়ের করেন। পরবর্তীতে, ডিএমপির বংশাল থানা পুলিশ দীর্ঘ সময় ধরে জিডিটি তদন্তের আওতায় রাখে।

বংশাল থানা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা দীর্ঘ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে জানতে পারেন, কিশোরীটি রাজধানীর শাহ আলী থানার এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শাহ আলী এলাকার ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।

আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর, উদ্ধার করা কিশোরীকে তার পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

 

কিশোরীর প্রায় এক বছর নিখোঁজ থাকার এবং আত্মগোপনে থাকার বিষয়ে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল স্পষ্টতা প্রদান করেছেন।

তিনি জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে—কেউ কিশোরীকে অপহরণ করেনি, বরং সে নিজেই স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়েছিল। এতদিন সে মিরপুরে তার এক বন্ধুর সঙ্গে অবস্থান করছিল। নিখোঁজ থাকার সময় মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার না করায় পুলিশ এতদিন তার অবস্থান ট্র্যাক বা শনাক্ত করতে পারেনি। ডিভাইস চালু করার পরপরই প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান চিহ্নিত করে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাংবাদিকদের ঐক্য ও মর্যাদা রক্ষার আহ্বান কাদের গনি চৌধুরীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ পি.এম


সাংবাদিকদের ঐক্য ও মর্যাদা রক্ষার আহ্বান কাদের গনি চৌধুরীর

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, সাংবাদিকতার কাজ হচ্ছে সত্য খুঁজে বের করা এবং সেই সত্যকে রক্ষা করা। তিনি উল্লেখ করেন, "সত্য না থাকলে আস্থা থাকে না, আর আস্থার অভাব হলে গণতন্ত্র থাকে না।"

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাতে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এই বক্তব্য দেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে নিউইয়র্কে আসা সাংবাদিকদের সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, "সাংবাদিকতা সত্যের আরাধনা। এখানে মিথ্যা বা অর্ধসত্যের কোনো স্থান নেই।" তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে আপসের সুযোগ নেই এবং সংবাদমাধ্যম দেশের জনগণ ছাড়া কারও কাছে দায়বদ্ধ নয়। তিনি বলেন, "কালোকে কালো আর সাদাকে সাদা বলাই সাংবাদিকতার মূলমন্ত্র।"

কাদের গনি চৌধুরী মন্তব্য করেন, "দাসত্বের সাংবাদিকতা" মানুষ ঘৃণা করে। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে অনেক সাংবাদিককে দাসত্বের সাংবাদিকতা করতে দেখা গেছে। এর ফলে ফ্যাসিবাদী শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে এবং সাংবাদিকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে।

৫ আগস্ট ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যারা দীর্ঘদিন দলীয় ব্যানারের আড়ালে সাংবাদিকতা করেছেন এবং ক্ষমতার সঙ্গে আঁতাত করে জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছেন, তারা শেষ পর্যন্ত জনগণের রোষানল থেকে বাঁচতে পারেননি। কেউ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, কেউ হত্যা মামলার আসামি হয়ে কারাগারে গেছেন, এবং অনেকে এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

তিনি বলেন, এই বাস্তবতা দেখিয়েছে যে, সাংবাদিকতা দলীয় ব্যানারের ভিত্তিতে টিকে থাকতে পারে না। জনগণের আস্থা হারানো মানে সাংবাদিকতার মৃত্যু। সাংবাদিকতা কোনো মুনাফাভিত্তিক ব্যবসা নয়, এটি একটি সম্মানের পেশা।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতার পথ কখনো সহজ বা মসৃণ ছিল না। বর্তমানে গণমাধ্যমে যে অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে, তা অব্যাহত থাকলে সাংবাদিকেরা আরো বেশি সত্য তুলে ধরতে পারবেন। তবে তিনি সতর্ক করেন যে, যা ইচ্ছা তা লিখলেই সাংবাদিকতা হয় না। "যা মুখে আসে, তা বলাই বাক্‌স্বাধীনতা নয়।" স্বাধীনতার পাশাপাশি সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও মনে রাখতে হবে।

গণমাধ্যমের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার প্রসঙ্গে বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, অধিকাংশ গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিকতা নেই। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবর্তে ব্যবসায়ীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। মোবাইল ফোন হাতে নিয়েই অনেকে সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছেন। এর ভয়াবহতা থেকে কেউই নিরাপদ নয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করেও সামাজিকভাবে মানুষকে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কাদের গনি চৌধুরী বলেন, এসব বন্ধে আইনের সঠিক প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। অপসাংবাদিকতা ও হয়রানি রোধে আইনের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। তবে আইন যেন অপব্যবহার না হয়, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি ‘নো ওয়েজবোর্ড, নো মিডিয়া’ নীতিমালা কার্যকর করার দাবি জানান। কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন দিতে হয় না বলেই অসংখ্য ভুঁইফোড় গণমাধ্যম গড়ে উঠছে। এসব গণমাধ্যমের ক্ষেত্রেও ওয়েজবোর্ড বাধ্যতামূলক করা হলে অপসাংবাদিকতা অনেকাংশে কমে আসবে।

তিনি মন্তব্য করেন, এসব গণমাধ্যমের তথাকথিত সাংবাদিকদের একটি অংশ চাঁদাবাজি করছে এবং সাংবাদিকতার পরিচয়কে অপব্যবহার করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে সাংবাদিকতার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

কাদের গনি চৌধুরী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবি জানান। তিনি বলেন, তারা সাংবাদিক সুরক্ষা আইনের দাবি জানাচ্ছেন। সরকারি কর্মকর্তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও ছুটি পেলেও সাংবাদিকদের কর্মপরিবেশ ও ছুটির বিষয়টি এখনো যথাযথভাবে নিশ্চিত হয়নি।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে সাগর-রুনিসহ অনেক সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন। কথায় কথায় সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করা হয়। সাংবাদিকেরা জনগণের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে কথা বললেও কর্মক্ষেত্রসহ কোথাও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। একই সঙ্গে চাকরির নিশ্চয়তাও নেই।

বিএফইউজের মহাসচিব সাংবাদিক সমাজের বিভাজন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজনের কারণে তারা দুর্বল হচ্ছেন। সরকার ও মালিকেরা এর সুযোগ নেন।

কাদের গনি চৌধুরী সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হলে গণমাধ্যমের অনেক সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সাংবাদিকেরা আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।

নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— নুরুল আলম রোকন, সাঈদ তারেক, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, আবু রুশদ, ফরিদ আলম, গাউছুল আজম বিপু, কেরামত উল্লাহ বিপ্লব, আরিফুল ইসলাম মামুন, মঈনুদ্দীন নাসের, মমিনুল ইসলাম মজুমদার, ওয়াহেদ খান, এবিএম সালেহ উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম ও ডা. সারোয়ার ইসলাম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অধিভুক্ত কলেজগুলোকে বড় পরিসরে সবুজায়নের আওতায় আনা হবে: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০৬ পি.এম


অধিভুক্ত কলেজগুলোকে বড় পরিসরে সবুজায়নের আওতায় আনা হবে: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি

ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ জানিয়েছেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষায় অধিভুক্ত সব কলেজকে বড় পরিসরে সবুজায়নের কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

আজ বুধবার সকালে কক্সবাজার সিটি কলেজ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ড. আমানুল্লাহ উল্লেখ করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অধিভুক্ত কলেজগুলোতে বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমকে জোরদার করা হবে।

এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের বহুমুখী দক্ষতা অর্জনের জন্য কলেজে ল্যাংগুয়েজ ক্লাব প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দেন এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ১২ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানান।

প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশাসনিক সংস্কারের প্রসঙ্গে ভিসি জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত ডিজিটাল, ক্যাশলেস ও পেপারলেস ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক সেবা আরো দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ করা হচ্ছে।

সেশনজট কমানোর সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে মাত্র ২৭ কর্মদিবসের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে, যা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি বড় অর্জন। প্রায় ৬৫ লাখ শিক্ষার্থীর বিশাল পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশের এই কর্মযজ্ঞের পেছনে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়।’

যুগের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে উচ্চশিক্ষাকে কর্মমুখী করার বিষয়ে ড. আমানুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের কর্মজীবন ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কারিকুলাম পরিমার্জন ও সংশোধন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের জন্য দক্ষতাভিত্তিক বিভিন্ন আধুনিক কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ এস এম আখতার উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিমসহ কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেহেরপুরে গ্রাম আদালত নিয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:০৬ পি.এম


মেহেরপুরে গ্রাম আদালত নিয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

মেহেরপুর, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : আজ জেলায় ‘গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায়’ প্রকল্পের আওতায় গ্রাম আদালত কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে প্রচার-প্রচারণা পরিচালনার উদ্দেশ্যে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বুধবার বেলা ১১ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়।

সভাটির সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) তরিকুল ইসলাম। সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাবলু সূত্রধর, মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপায়ণ দেব, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাসিমা খাতুন, জেলা তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, এবং গাংনী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন প্রমুখ।

জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় সভায় বলেন, "যারা গ্রাম আদালতের কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিদর্শনের সঙ্গে যুক্ত, তাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। গ্রাম আদালতকে কার্যকর ও সক্রিয় করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। গ্রাম আদালতের কার্যক্রম যত বেশি সক্রিয় হবে, সাধারণ মানুষের মধ্যে এর প্রতি আস্থা তত বেশি বাড়বে।"

সভায় গ্রাম আদালত কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্থানীয় অংশীজনদের সম্পৃক্ততা এবং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%