ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুদ্ধের ধাক্কায় অর্ধেকে নেমেছে কর্মী রপ্তানি


যুদ্ধের ধাক্কায় অর্ধেকে নেমেছে কর্মী রপ্তানি

বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধের প্রভাব দেশের জনশক্তি রপ্তানি খাতে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে গত কয়েক মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। দেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবে গত ছয় মাসে কর্মী রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকের বেশি কমেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য শ্রমবাজারগুলোর পরিস্থিতিও একই রকম। এর ফলে বৈদেশিক আয়ে সরাসরি প্রভাব পড়ছে। খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধাক্কা আসতে পারে। সংকটের সমাধানে বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজে বের করার পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে জোর দেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিকে চরম মন্দার দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে গাজা ও লোহিত সাগরের নিরাপত্তা সংকট আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল, জ্বালানি তেল ও জাহাজ চলাচলের খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে যেসব দেশ নতুন নতুন অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করছিল, তারা অনেক কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত বা সংকুচিত করেছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে।

আরও পড়ুন: শুধু ৯ দেশ-ই নয়, বিশ্ব এক হলেও হারবে? কারণ- ইয়েমেনের জন্য নবী (সা.) দোয়া করেছিলেন!

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ছয় মাসে বিদেশে কর্মী রপ্তানি বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ২০২৫ সালের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৫৭৯ জন কর্মী বাংলাদেশ থেকে বিদেশে গিয়েছিলেন। চলতি বছরে এই সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৯৫৪ জনে। কর্মী রপ্তানি কমায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশের বৃহৎ শ্রমবাজার সৌদি আরব। একই অবস্থা কুয়েত, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোতেও। আঞ্চলিক যুদ্ধের কারণে দেশগুলোর নির্মাণ খাত ও ভারী শিল্পে নতুন কাজের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

গত ছয় মাসে সৌদি আরবে গেছেন মাত্র ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮৫ জন। ২০২৫ সালের একই সময়ে দেশটিতে পাঠানো হয়েছিল ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪০০ জন কর্মী। ফলে এক বছরে দেশটিতে কর্মী পাঠানো কমেছে প্রায় ৫৭ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোতেও একই অবস্থা বিরাজমান। কাতারে গত বছর ৫৬ হাজার ৯৬ জন কর্মী গেলেও এ বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৪০৩ জনে। কুয়েতে ২৭ হাজার ৮৬ জন থেকে কমে ১৩ হাজার ৭৪৫ জনে পৌঁছেছে। তবে বিপরীত চিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাজারে। গত বছর দেশটিতে যেখানে মাত্র ৬ হাজার ৭৮৯ জন কর্মী গিয়েছিলেন, সেখানে চলতি বছরে গেছেন ১৪ হাজার ৮৭৫ জন।

এদিকে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে এ সংকটের পেছনে তিনটি বিষয়কে দায়ী করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে রিয়েল এস্টেট ও নির্মাণ খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় নতুন কর্মীর চাহিদা কমেছে। পাশাপাশি বিমান ভাড়া এবং অন-অ্যারাইভাল প্রশাসনিক খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় রিক্রুটিং এজেন্সির খরচ অনেক বেড়ে গেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোতে কর্মী পাঠানোর যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, স্থানীয় সীমান্ত নিরাপত্তাজনিত কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সেখানেও সংকট দেখা দিয়েছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজে বের করার তাগিদ দিচ্ছেন। তারা বলছেন, কর্মী রপ্তানির এই ধস সামাল দিতে বাংলাদেশকে এখন একক বাজারকেন্দ্রিক নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পূর্ব ইউরোপ ও আফ্রিকার উদীয়মান বাজারগুলোতে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে শুধু অদক্ষ শ্রমিকের ওপর নির্ভর না করে কারিগরি ও আইটিতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে। যাতে বৈশ্বিক যেকোনো সংকটেও শ্রমবাজার তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত থাকে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ২৯৯

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, "বাংলাদেশের শ্রমবাজার মূলত দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক এবং সবচেয়ে বড় নির্ভরতা সৌদি আরবের ওপর। নীতিনির্ধারণী জায়গায় শ্রমবাজারকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্প্রসারণ, ঝুঁকি কমানো বা বিকল্প বাজার তৈরির মতো কাঠামোগত উদ্যোগ যথেষ্ট দৃশ্যমান হয়নি। ফলে বড় কোনো সংকট এলে বাংলাদেশকে সরাসরি ধাক্কা খেতে হচ্ছে। বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অঞ্চলটিতে থাকা শ্রমিকদের কাজের নিরাপত্তা ও বেতন নিয়মিত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যা দীর্ঘ মেয়াদে আমাদের রেমিট্যান্স প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করবে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় চুক্তি কাঠামো ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।"

তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও অস্থিরতার পর পশ্চিম এশিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ শুরু হলে শ্রমিকের চাহিদা বাড়তে পারে বলে মনে করে সরকার।

বৃহস্পতিবার সংসদে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর জানান, নতুন শ্রমবাজার খোঁজা এবং বাংলাদেশি কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার সুযোগ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর করেছেন। এরপর গত জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও মন্ত্রী দেশটি সফর করেন। এর ফলে শিগগিরই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ আরও সহজ হবে বলে আশা করছে সরকার।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, "যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান চাহিদাপত্র ইস্যু করেও শেষ মুহূর্তে স্থগিত করছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে চলতি অর্থবছর শেষে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের আঘাত আসতে পারে।"

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার দেশে ফেরার মাইকিং, পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসলামী যুব মজলিস ফতুল্লা থানা শাখার সীরাত কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পারভিন আক্তার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি,

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০৯ এম


ইসলামী যুব মজলিস ফতুল্লা থানা শাখার সীরাত কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

ইসলামী যুব মজলিস ফতুল্লা থানা শাখার উদ্যোগে সীরাত কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং, শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের আলী আহমদ চুনকা নগর পাঠাগার মিলনায়তনে উক্ত কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।

ইসলামী যুব মজলিস ফতুল্লা থানা সভাপতি আয়ান আরিজ শিপনের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুন।

প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হাফেজ মহিউদ্দিন জামীল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক মুফতী শেখ শাব্বীর আহমাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক মাইদুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান সাকি, খেলাফত মজলিসের মহানগর সহ-সভাপতি অধ্যাপক শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আহমদ, জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক মুফতী আব্দুল গনী, মুহাম্মদ শরীফ মিয়াজী, ফতুল্লা থানা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শরীফ মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুল আলম, ইসলামী যুব মজলিসের মহানগর সভাপতি ডাঃ মোতাহার হুসাইন, সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান, জেলা সভাপতি রিফাত আহমদ সাজিদ, সহ-সভাপতি যোবায়ের তানভীর, সহ-সাধারণ সম্পাদক হাফেজ শরীফ হোসাইন, সদর থানা শামীম আহমদ, ইসলামী ছাত্র মজলিসের জেলা সেক্রেটারি কামরুল হাসান মিরাজ, ফতুল্লা থানা সেক্রেটারি আবু হুরাইরা, প্রমুখ৷

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বিতাড়নে ইসরায়েলি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২১ এম


গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের বিতাড়নে ইসরায়েলি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গাজার অধিবাসীদের তাড়ানোর জন্য ইসরায়েলি প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

 

গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক অপসারণের ইসরায়েলি দাবির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গাজার বাসিন্দাদের স্থায়ীভাবে স্থানান্তরের বিষয়ে ইসরায়েলি শীর্ষ কর্মকর্তাদের মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর এই বিষয়টি পরিষ্কার করেছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর উল্লেখ করেছে, "গাজার কোনো নাগরিককে জোরপূর্বক তাড়ানো, অপসারণ বা স্থানান্তরের যেকোনো পরিকল্পনা বা প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন।"

সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছেন যে, গাজা সংকটের একমাত্র "প্রকৃত সমাধান" হলো ফিলিস্তিনিদের সেখান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া। তিনি আরও জানান, জল ও আকাশপথসহ সকল মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে বের করে দেওয়ার পরিকল্পনা ইসরায়েল সরকারের আলোচনার টেবিলে রয়েছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রক্রিয়াটি বাতিল করেননি, বরং সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছেন।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই চরমপন্থী বক্তব্যের বিরুদ্ধে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার ১২ নম্বর ধারার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে: “কাউকেই গাজা ছাড়তে বাধ্য করা হবে না। যারা নিজস্ব ইচ্ছায় যেতে চান তারা যেতে পারবেন এবং পুনরায় ফিরে আসার অধিকারও রাখবেন।”

মানবাধিকার সংস্থা ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইসরায়েলের এই 'স্থানান্তর নীতিকে' জাতিগত নিধন (Ethnic Cleansing) হিসেবে অভিহিত করেছে। একইসঙ্গে আরব বিশ্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু মিত্র দেশও ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদের যেকোনো চেষ্টা বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশ পরিদর্শক মফিজুল ইসলামের মৃত্যুতে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের শোক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৩১ এম


পুলিশ পরিদর্শক মফিজুল ইসলামের মৃত্যুতে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের শোক

পুলিশ পরিদর্শক মফিজুল ইসলামের মৃত্যুতে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের শোক

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক মো. মফিজুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।**

নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুরী থানাধীন লেপসিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) **মো. মফিজুল ইসলাম গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন।

তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির এক শোকবার্তায় বলা হয়, পুলিশ পরিদর্শক মো. মফিজুল ইসলামের অকাল ও আকস্মিক মৃত্যু বাংলাদেশ পুলিশ পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

শোকবার্তায় আরও বলা হয়, মো. মফিজুল ইসলাম ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে একজন সহজ-সরল, সজ্জন, আন্তরিক ও মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ হিসেবে সহকর্মীদের কাছে পরিচিত ছিলেন। তাঁর কর্মনিষ্ঠা, সততা ও মানবিক গুণাবলি সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।

শোকবার্তায় মহান আল্লাহ তাআলার কাছে মরহুমের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে *জান্নাতুল ফেরদৌস* নসিব করার এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দানের জন্য দোয়া করা হয়।

শোকবার্তায় স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক খান মো. মাসকোয়াত হোসেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১১ দলের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪১ এম


১১ দলের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ শুরু

১১ দলের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ

ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ করবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য, যা গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবিতে অনুষ্ঠিত হবে। এই লংমার্চের সূচনা হবে রাজধানীর শাপলা চত্বরে সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত জনসভা শেষে, যেখানে প্রায় দেড় হাজার গাড়ির বহর নিয়ে যাত্রা শুরু হবে। পরবর্তীতে চারটি পথসভা অনুষ্ঠিত হবে এবং সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে জনসভার মাধ্যমে এই কর্মসূচি শেষ হবে। লংমার্চের নেতৃত্ব দেবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষনেতারা

 

এই কর্মসূচি সফল করার জন্য ১১ দলের কেন্দ্রীয় বাস্তবায়ন কমিটি এবং রুট সংশ্লিষ্ট ৯টি শাখা প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। গত কয়েকদিন ধরে জামায়াতসহ ১১ দলের নেতাকর্মীরা রাজধানীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে গণসংযোগ ও প্রচার মিছিল পরিচালনা করেছেন।

এদিকে, বর্তমান সংসদের বিরোধী দলের সর্ববৃহৎ এই কর্মসূচির সফলতার জন্য সরকার, সরকারি দল ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জোটটি, যাতে তারা জনগণের আস্থায় থাকতে পারে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, যদি সরকারে থাকা কোনো দল বা কেউ লংমার্চে কোনো প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করে, তাহলে তারা জনগণের আস্থা হারানোর পাশাপাশি জনরোষের মুখোমুখি হবে।

শুক্রবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লংমার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এই হুঁশিয়ারি দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মিয়া গোলাম পরওয়ার। সেখানে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষনেতাদের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে আলোচনা হয় গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শান্তিপূর্ণ লংমার্চ সফল করার প্রস্তুতি নিয়ে।

বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর বিরোধী দল জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সংসদের ভেতরে ও বাইরে এখনো নিয়মতান্ত্রিক, গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। তিনি সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান, বিরোধী দলের সর্ববৃহৎ শান্তিপূর্ণ এই রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সফল করতে প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করে জনগণের আস্থায় থাকতে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি সরকারের কোনো দল বা কেউ লংমার্চে কোনো প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি করে, তাহলে তারা জনগণের আস্থা হারাবে এবং আরো হারাবে, ফলে জনরোষের মুখোমুখি হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও সরকারি দলের কেউ এ ধরনের অপরিণামদর্শী পথে পা বাড়াবে না।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে তারা কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বরং গণরায় বাস্তবায়ন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, গণভোটের গণরায়ে কোনো নোট অব ডিসেন্ট নেই। গণভোটে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট খারিজ হয়েছে। তারা জুলাই বিপ্লবের রক্তের বিনিময়ে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা সরকার উৎখাতের কোনো আন্দোলন করছি না, জনগণের ও আমাদের দাবি হলো, গণভোটের গণরায়কে আপনারা মেনে নেন। বিরোধীদলের রাজনীতি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। আমাদের ছয় দফা আপনারা মেনে নিন।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার তাদের কর্মসূচিকে সম্মান দেখিয়ে জনগণের আস্থায় থাকবে।

তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে প্রমাণিত হোক বিরোধী দল ও সরকারি দলের পরমত সহিষ্ণুতা রয়েছে এবং তারা রাজনৈতিক সহিংসতার নেতিবাচক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসেছেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, পুলিশ প্রশাসনের মহাপরিদর্শককে ১১ দল লিখিতভাবে কর্মসূচির বিষয়ে অবহিত করেছে। সংশ্লিষ্ট ডিসি-এসপিকেও লিখিতভাবে অবগত করা হয়েছে। রাস্তার দুই ধারে হাজার হাজার জনগণ লংমার্চকে অভিবাদন জানাবে।

তিনি জানান, লংমার্চের সামগ্রিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। লংমার্চের বহরে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি যুক্ত হবে বলে জানা গেছে। উদ্বোধনী সমাবেশ সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে। লংমার্চের রুটে পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা হবে। প্রথমটি নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ব্রিজের কাছে ট্রাকস্ট্যান্ডে, পরবর্তীতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও চট্টগ্রামের মিরসরাই এবং সবশেষে রাতে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে জনতার ঢল নামবে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল জানান, লংমার্চে অংশগ্রহণকারী ডেলিগেটরা গাড়ি থেকে নেমে পথসভায় যোগ দেবেন না। পথসভা স্থানীয় শাখা বাস্তবায়ন করবে। বহরে থাকা গাড়িতে স্টিকার থাকবে এবং চলমান অবস্থায় কোনো গাড়ি বহরে যুক্ত হলে শেষ দিকে হবে। এতে গণমাধ্যম, আইটি, শীর্ষ নেতা, অ্যাম্বুলেন্স, সাংস্কৃতিক, মেডিকেল ও সিকিউরিটি টিমের গাড়ি সিরিয়ালি থাকবে। গাড়িতে নিজ দায়িত্বে খাবার ব্যবস্থা করতে হবে।

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের ছয় মাসে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ অনেক কিছু করার সময় ছিল। কিন্তু তা না করায় নৃশংসতা-বর্বরতা বেড়েছে, অপরাধীরা জামিন পাচ্ছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাস্তায় গাড়ি তো চলছেই, গাড়ি বন্ধ করে তো তেল সংকটের সমাধান হবে না।

প্রশ্নের জবাবে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, লংমার্চে তারা কোনো নাশকতার আশঙ্কা করছেন না। তারা ঐক্যবদ্ধ আছেন, আর ঐক্যবদ্ধ থাকলে শয়তান ভয় পায়। তবে কেউ কোনো কিছু করলে তার দায় সরকারকে নিতে হবে। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকায় আসা মানুষের কাছে যাওয়ার সুযোগ হওয়ায় এই লংমার্চকে তারা আনন্দ হিসেবে নিচ্ছেন। তিনি দুর্নীতিবাজ ও বিতর্কিত মন্ত্রীদের থামাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংস্কার করতেই হবে।

বৈঠকে ও প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ফখরুল ইসলাম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন ও মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি ও উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন প্রমুখ।

সূত্রমতে, গত ৬ আগস্ট বিভিন্ন দাবিতে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে ১১ দলের অবস্থান কর্মসূচি থেকে ঢাকায় মহাসমাবেশসহ চার বিভাগে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার প্রথম লংমার্চ হবে ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখে। পরবর্তীতে ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ৩১ অক্টোবর খুলনা-কুষ্টিয়া, এবং ২১ নভেম্বর ট্রেনযোগে সিলেট মহানগর অভিমুখে লংমার্চ পালিত হবে। সবশেষে ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে ঢাকায় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

ছয় দফা দাবির মধ্যে আরো রয়েছেÑজুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।

শাপলা চত্বরে এনসিপি নেতারা

এদিকে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ এনসিপির শীর্ষ নেতারা শুক্রবার রাত ১০টায় রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে লংমার্চের সূচনা সভাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি কামনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%