ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হরমুজ নিয়ে ফাঁকা বুলি বন্ধ করুন, নইলে খাবারের ট্রাকে লুকাতে হবে: ট্রাম্পকে ইরানের কটাক্ষ


হরমুজ নিয়ে ফাঁকা বুলি বন্ধ করুন, নইলে খাবারের ট্রাকে লুকাতে হবে: ট্রাম্পকে ইরানের কটাক্ষ

হরমুজ প্রণালি নিয়ে যদি ফাঁকা বুলি বন্ধ না করা হয়, তাহলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে খাবারের ট্রাকে লুকিয়ে পালাতে হতে পারে বলে ইরানের পার্লামেন্টের এক জ্যেষ্ঠ সদস্য হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি নিয়ে অবিরাম ফাঁকা বুলি করার পরিবর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করা উচিত। নইলে শেষ পর্যন্ত তাকে আবারও একটি খাবারের ট্রাকে লুকিয়ে থাকতে হতে পারে।’

এর আগে খবর প্রকাশিত হয়েছিল যে, গত জুলাইয়ে তুরস্কের আঙ্কারা থেকে ট্রাম্পকে সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টার হুমকির কারণে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নামিয়ে একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে অন্য বিমানে নেয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

মঙ্গলবার ট্রাম্প নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সিক্রেট সার্ভিস ও মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা তাকে বিমান পরিবর্তনের পরামর্শ দেয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

শুক্রবার ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ‘শিগগিরই’ হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন। ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদিও। তার দাবি, সামাজিক মাধ্যমে দেয়া পোস্ট, বিমানবাহী রণতরী কিংবা কোনো আদেশ দিয়ে হরমুজ প্রণালি দখল করা সম্ভব নয়। ইরানের নিয়ন্ত্রণেই এ জলপথ খোলা ও বন্ধ হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন।

হরমুজ প্রণালির বর্তমান অস্থিরতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, ইরানে হামলা শুরুর আগ পর্যন্ত এই জলপথে কোনো সমস্যা ছিল না।

একইসাথে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, মার্কিন অবরোধে ইরানের বন্দর ও তেল রফতানি কার্যত আটকে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। আর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। পাকিস্তান ও কাতার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বার্তা আদান-প্রদান করলেও, তাও সরাসরি আলোচনা নয়।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজনীতিতে আসাই ভুল হয়েছে-এক অভিমানী রাজনীতিকের ‘সুইসাইড নোট’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩০ এম


রাজনীতিতে আসাই ভুল হয়েছে-এক অভিমানী রাজনীতিকের ‘সুইসাইড নোট’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রামপুরহাটের সাবেক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার নির্দেশিতভাবে জানিয়েছে যে, তার মরদেহের সঙ্গে একটি ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া গেছে।

আশিসের লেখিত নোটে তিনি উল্লেখ করেছেন, তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। রাজনীতিতে আসার জন্য তার আক্ষেপ প্রকাশ পাওয়ার পাশাপাশি তিনি পরিবারের সদস্যদের ভবিষ্যতে রাজনীতিতে না জড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

এর আগে রবিবার সকালে রামপুরহাটের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়ায় নিজের বাড়ির পাশের দলীয় কার্যালয় থেকে আশিসের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

নোটে বিন্যাসের কারণে চিঠিটি সত্যিই আশিসের লেখা কিনা, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী তা অর্থাৎ কীভাবে তার মৃত্যু ঘটেছে—এসব বিষয় তদন্ত করছে পুলিশ।

চিঠিতে আশিস জানায়, তিনি কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সংযুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদে সাধারণ সম্পাদক থাকার সময়েও তিনি কোনো দুর্নীতি করেননি। রাজনৈতিক মতবিরোধকে তিনি কখনো শত্রুতায় রূপান্তরিত করেননি বলেও দাবি করেছেন।

চিঠির মধ্যে আশিসের বক্তব্য তাঁর দলের বিভিন্ন অন্যায় মেনে নিতে পারেননি, তবে কখনো প্রতিবাদ করার সুযোগও পাননি। তিনি জানান, সারাজীবনে কোনো কাজের বিনিময়ে এক পয়সাও নেননি।

তাঁরাপীঠ রামপুরহাট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা টিআরডিএ নিয়েও চিঠিতে তাঁর অবস্থান প্ৰকাশ করেছেন আশিস। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সেখানে সাধারণ সভায় ছাড়া তার কোনো দায়িত্ব ছিল না। তিনি টেন্ডার কমিটির সদস্য ছিলেন না এবং চেক অনুমোদনের ক্ষমতাও তার ছিল না।

প্ল্যান পাস বা ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ দেওয়ার ক্ষেত্রেও তার কোনো ভূমিকা ছিল না বলেও অন্যথায় দাবি করেছেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেছেন যে, তিনি যেন অপমান বা হেয় করার উদ্দেশ্যে নানা কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে। এ কারণেই মনে হয়েছে তার রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। তাই তিনি রাজনীতি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে, যাতে তারা নিজেদের পেশা এবং কাজের মধ্যেই বেশি মনোযোগী হন।

আশিস চিঠিতে শিক্ষকের কাজের কথাও সংশ্লিষ্ট করেছেন। তিনি জানান, জীবনের প্রায় পুরো সময় শিক্ষকতা করেছেন এবং কখনো ক্লাস ফাঁকি দেননি। বিশেষ ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থীকে বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়েছেন এবং তাদের কাছ থেকে প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

চিঠির শেষ প্রান্তে পরিবারের সদস্যদের নাম উল্লেখ করে তাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আশিস। তবে রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা নাম উল্লেখ করেননি। কাউকে সরাসরি দায়ী করেননি তিনি। চিঠিতে প্রশাসনকে তিনি বলেন, তার মৃত্যুতে কেউ দায়ী নয়।

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ২০০১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা রামপুরহাটের বিধায়ক ছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায়ও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তিনি রাজ্যের সাবেক স্কুলশিক্ষামন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রী ছিলেন। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিজিবির ধাওয়ায় বস্তা ফেলে পালাল চোরাকারবারিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩১ এম


বিজিবির ধাওয়ায় বস্তা ফেলে পালাল চোরাকারবারিরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৯৫৮ বোতল ইস্কফ সিরাপ জব্দ করেছে সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি)।

এ সময় দেখা যায়, মাদক বহনকারী ৮-৯ জন চোরাকারবারি বস্তা ফেলে পালিয়ে যায়।

রোববার (১৬ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বিজয়নগর উপজেলার নোয়াবাদী এলাকায় এ অভিযানটি পরিচালিত হয়।

সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি) জানায় যে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিংগারবিল বিওপির একটি বিশেষ টহলদল সীমান্ত পিলার ২০১৬/এমপি থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নোয়াবাদী এলাকায় ফাঁদ পেতে অবস্থান নেয়।

এই সময় ৮-৯ জন ব্যক্তিকে মাথায় বস্তা নিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাদের ধাওয়া করেন।

তখন তারা বস্তাগুলো ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

পরে ঘটনাস্থল থেকে ৮টি চটের বস্তা উদ্ধার করা হয়।

বস্তাগুলোর ভেতরে কার্টনের মধ্যে অভিনব কায়দায় কসটেপ দিয়ে লুকানো অবস্থায় ৯৫৮ বোতল ইস্কফ সিরাপ পাওয়া যায়।

বিজিবি জানায়, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যগুলো মালিকবিহীন অবস্থায় আটক করা হয়েছে।

বিষয়টি ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে ধ্বংসের জন্য সেগুলো ব্যাটালিয়ন সদরে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানান যে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর ও আখাউড়া এবং হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সীগঞ্জে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেফতার ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩৩ এম


মুন্সীগঞ্জে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেফতার ২

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পৃথক অভিযানের মাধ্যমে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ১০ কেজি গাঁজা এবং ২ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে গজারিয়া উপজেলার লস্করদী মধ্যপাড়া ও পোড়াচক বাউশিয়া এলাকায় অভিযান দুটি পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএমের কঠোর তদারকিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান চলছিল। এরই অংশ হিসেবে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ ইশতিয়াক আশফাক রাসেলের তত্ত্বাবধানে এসআই (নি.) পলাশ কান্তি রায় সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে গজারিয়ার লস্করদী মধ্যপাড়ায় অভিযান চালান।

এই অভিযান চলাকালীন পুলিশ আক্তার হোসেনের জায়গায় ভাড়াটিয়া মো. সাকিবুল হাসানের ভাড়া গ্যারেজের সামনের ফাঁকা জায়গা থেকে সাকিবুল হাসানকে (২৭) গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে ১০ কেজি গাঁজা ও ৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার সাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পোড়াচক বাউশিয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনের পশ্চিম পাশে সালমানের দোকানের সামনে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। সেখান থেকে মো. মতিন (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে ১ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। মতিনের বিরুদ্ধে এর আগে তিনটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

গ্রেফতার সাকিবুল হাসান গজারিয়ার লস্করদী মধ্যপাড়ার মো. মনির হোসেনের ছেলে। অপর আসামি মতিন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দক্ষিণ সতান্দী এলাকার মৃত ধনু মিয়া বেপারীর ছেলে।

ডিবি পুলিশ জানায়, অভিযানে মোট ২ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ও ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান যুদ্ধে পিছু হটছে ট্রাম্প প্রশাসন? ভ্যান্সের বক্তব্যে নতুন ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩৪ এম


ইরান যুদ্ধে পিছু হটছে ট্রাম্প প্রশাসন? ভ্যান্সের বক্তব্যে নতুন ইঙ্গিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে গিয়ে একের পর এক নিজেদের ঘোষিত লক্ষ্য শিথিল করছে। যুদ্ধের শুরুতে ইরানের ‘পূর্ণ আত্মসমর্পণ’, সরকার পরিবর্তন, দেশটির পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস এবং হিজবুল্লাহর মতো মধ্যপ্রাচ্যের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থন বন্ধ করার মতো কঠোর লক্ষ্য সামনে রেখেছিল ওয়াশিংটন। কিন্তু যুদ্ধ গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই তালিকা ক্রমেই ছোট ও নমনীয় হয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক বক্তব্যে এই পরিবর্তনের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুদ্ধ কীভাবে শেষ হতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি মাত্র দুটি লক্ষ্য তুলে ধরেন। ভ্যান্স বলেন, প্রথম লক্ষ্য হলো উপসাগরীয় দেশগুলো যেন বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখতে পারে এবং এর মাধ্যমে জ্বালানির দামে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। তার ভাষায়, "লক্ষ্য নম্বর এক- আমেরিকার সর্বত্র তেল ও গ্যাসের দাম কম রাখা।" এরপর দ্বিতীয় লক্ষ্য হিসেবে তিনি বলেন, "নিশ্চিত করা যে, ইরান যেন কখনওই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।" ভ্যান্সের এই বক্তব্যে বিশেষ করে দুটি বিষয় তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথমত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার বিষয়টি এখন আর একমাত্র বা প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে না। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মূল্যকে যুদ্ধের লক্ষ্য হিসেবে প্রকাশ্যে সামনে আনা হয়েছে- যা যুদ্ধের শুরুতে প্রশাসনের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ছিল না। শুক্রবার ভ্যান্সের বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে দুটি লক্ষ্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়টি এত দিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এমনকি যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মূল্যের বিষয়টি ট্রাম্প নিজেই গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। মে মাসে যুদ্ধের সমাধানের ক্ষেত্রে আমেরিকানদের আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, "একটুও না।" সে সময় ট্রাম্পের অবস্থান ছিল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকানো এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, এর সঙ্গে অন্য কোনও অর্থনৈতিক বিষয়কে সমীকরণে আনা হবে না। শুক্রবারও তিনি বলেন, ইরান ইস্যুতে ঝুঁকি এত বেশি যে, আমেরিকানদের জ্বালানির জন্য কিছুটা বেশি অর্থ দিতে হলেও তিনি এর জন্য ‘কখনও ক্ষমা চাইবেন না।’ যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে শুরু থেকেই অস্পষ্টতা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানে অবশ্য শুরু থেকেই কিছুটা অসামঞ্জস্য ছিল। মার্চে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার বক্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছিল, যুদ্ধের জন্য প্রায়ই চারটি প্রধান লক্ষ্য তুলে ধরা হচ্ছে। কিন্তু কে বক্তব্য দিচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে সেই চারটি লক্ষ্যও বদলে যাচ্ছিল। কোনও কোনও তালিকায় ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন বন্ধ করার বিষয়টি ছিল। আবার অন্য তালিকায় তা অনুপস্থিত ছিল। কোথাও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ধ্বংসের কথা বলা হয়েছে, কোথাও তা উল্লেখ করা হয়নি। কোনও কোনও কর্মকর্তা ইরানের বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী ধ্বংসের কথা বলেছেন; আবার কেউ কেউ শুধু নৌবাহিনীর কথা বলেছেন। অর্থাৎ যুদ্ধ চলার সময়ই যেন প্রশাসন নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণ ও পুনর্নির্ধারণ করে যাচ্ছিল। তবে একটি বিষয় ছিল প্রায় সব ক্ষেত্রেই অভিন্ন- যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে তেল ও গ্যাসের দাম কম রাখা কখনওই যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল না। ‘পুরোনো অবস্থায়’ ফিরলেই কি যুদ্ধের সাফল্য? ভ্যান্সের বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি তেল ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিকে যুদ্ধের ‘প্রথম লক্ষ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অথচ যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। ফলে যুদ্ধের লক্ষ্য যদি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা হয়, তাহলে সেটি মূলত যুদ্ধ-পূর্ব পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়ার লক্ষ্য। এর বিপরীতে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা হবে এমন একটি লক্ষ্য, যা যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থার তুলনায় নতুন কোনও অর্জন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ কারণে প্রশাসনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বক্তব্যে জ্বালানির দামকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা যুদ্ধের লক্ষ্য শিথিল করার সর্বশেষ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি এমন এক সমাপ্তির প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিতে পারে, যেখানে ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের শুরুতে যে উচ্চাভিলাষী ও কঠোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, তার তুলনায় অনেক কম অর্জন নিয়েই সংঘাত শেষ করতে চাইছে। পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও কি অবস্থান নরম হচ্ছে? গত কয়েক মাসে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও ট্রাম্পের বক্তব্যে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। প্রশাসন আগে ইরানকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে বাধ্য করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বলেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প এমন বক্তব্য দিয়েছেন, যাতে মনে হয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে এবং দেশটির পারমাণবিক উপাদান এত গভীরে পুঁতে রাখা হয়েছে যে, সেগুলো সহজে উদ্ধার করা সম্ভব নয়। তিনি এমন সম্ভাবনার কথাও বলেছেন যে, ইরান মাটির নিচে থাকা ওই উপাদান উদ্ধারের চেষ্টা করছে কি না, তা যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশ থেকে নজরদারি করে দেখতে পারে। এমনকি এক পর্যায়ে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ইতোমধ্যে ‘পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত’ হয়ে গেছে। এসব বক্তব্য থেকে such ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন হয়তো বুঝতে পারছে- ইরানকে এমন একটি কঠোর ও ব্যাপক পরমাণু চুক্তি মেনে নিতে বাধ্য করা সম্ভব নাও হতে পারে, যা যুদ্ধের শুরুতে ওয়াশিংটন চেয়েছিল। যুদ্ধের ছয় মাসে লক্ষ্য কতটা বদলেছে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এখন ষষ্ঠ মাসে গড়িয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত লক্ষ্যগুলো ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়েছে। মে মাসের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়, মার্কিন প্রশাসন আগের কিছু লক্ষ্যকে আর আগের মতো গুরুত্ব দিচ্ছে না। জুনে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে পৌঁছায়, যেখানে যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত অনেক লক্ষ্যই প্রায় অনুপস্থিত ছিল। এরপর গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে ট্রাম্পের বক্তব্যেও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এখন ভ্যান্সের বক্তব্যে তেল ও গ্যাসের দামকে ‘এক নম্বর লক্ষ্য’ হিসেবে তুলে ধরা সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি ধাপ বলে মনে হচ্ছে। অর্থাৎ যুদ্ধের শুরুতে যে লক্ষ্য ছিল ইরানকে কঠোরভাবে চাপে ফেলে তার সামরিক, পারমাণবিক ও আঞ্চলিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে সীমিত করা, এখন সেই অবস্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে এমন একটি সমাপ্তির দিকে এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে, যেখানে যুদ্ধ-পূর্ব পরিস্থিতির কাছাকাছি ফিরে যাওয়াকেও সাফল্য হিসেবে দেখানো হতে পারে। আর যদি সত্যিই যুদ্ধের প্রধান লক্ষ্য এখন যুদ্ধ-পূর্ব তেল ও গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা হয়ে থাকে, তাহলে তা ইরান যুদ্ধ থেকে ট্রাম্প প্রশাসন আসলে কতটা অর্জন করতে পেরেছে- সে প্রশ্নই আরও জোরালো করে তোলে। সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%