ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের গাড়ি দুর্ঘটনার খবর মিথ্যা ও বানোয়াট


প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের গাড়ি দুর্ঘটনার খবর মিথ্যা ও বানোয়াট

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির গাড়ি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আজ শুক্রবার নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পর সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তার গাড়ি কোনো ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়নি।

কোনো মহল কী উদ্দেশ্যে এ ধরনের গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

সম্মানিত সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো গুজব বা অসত্য তথ্য প্রচার না করার অনুরোধ রইল।

এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে যে, বগুড়ার শিবগঞ্জে মীর শাহে আলমের গাড়িতে সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের ধাক্কা লেগেছে। এতে প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির একটি দরজা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে ছিলেন না প্রতিমন্ত্রী। শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে উপজেলা হাসপাতালের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে ট্রাকের চালকের সহকারী (হেলপার) শাকিলকে আটক করে পুলিশ। ট্রাকটিও হেফাজতে নেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রেমিকার পেছনে ৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা খরচ, আদালতে প্রেমিকের দাবি নাকচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৫ পি.এম


প্রেমিকার পেছনে ৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা খরচ, আদালতে প্রেমিকের দাবি নাকচ

সিঙ্গাপুরের একজন ব্যবসায়ী প্রেমিকার পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছিলেন। দামি উপহার, বিদেশ ভ্রমণ, ফেংশুই বিশেষজ্ঞের পারিশ্রমিক এবং জীবনবিমার প্রিমিয়ামসহ মোট খরচ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৬৮ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৫৫ লাখ ৯৯ হাজার ৫৯৭ টাকা (১ সিঙ্গাপুর ডলার ৯৭.৪৪ টাকা) হিসেবে গণনা করা হয়েছে।

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ওই ব্যক্তি আদালতের শরণাপন্ন হন এবং তিনি সেই অর্থ ফেরত চাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তার এই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। সিঙ্গাপুরের হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, তিনি স্বেচ্ছায় ওই অর্থ খরচ করেছেন এবং ঋণ হিসেবে দেখানোর জন্য যথেষ্ট প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলার বাদী চন্দর আগরওয়াল একটি লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ২০১৯ সালে একটি ফ্লাইটে সাবেক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ফেলিসিয়া লির সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। পরে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

সম্পর্কের সময় আগরওয়াল নিয়মিতভাবে লিকে দামি উপহার দিতেন। আদালতে তিনি দাবি করেন, লি বিভিন্ন সময় তার কাছে সুদমুক্ত ঋণ চেয়েছিলেন। এসব অর্থের মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের খরচ বাবদ ২ লাখ ৬ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার, বিদেশ ভ্রমণে ১ লাখ ২৯ হাজার ডলার, ফেংশুই বিশেষজ্ঞ নিয়োগে ১৭ হাজার ডলার এবং জীবনবিমার প্রিমিয়াম বাবদ ২০ হাজার ডলার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তবে লি আদালতে বলেন, এসব অর্থ তিনি ঋণ হিসেবে নেননি। এগুলো ছিল সম্পর্কের কারণে দেওয়া উপহার। ২০২৪ সালের মার্চে আগরওয়াল মামলাটি দায়ের করেন। তার দাবি ছিল, সম্পর্ক চলাকালে দেওয়া অর্থ তাকে ফেরত দিতে হবে।

সিঙ্গাপুরের হাইকোর্টের প্রধান বিচারক লি সিউ কিন আগরওয়ালের দাবি নাকচ করে দেন। বিচারক বলেন, কথিত ঋণের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা প্রমাণ আগরওয়াল উপস্থাপন করতে পারেননি। এমনকি লি যে তার কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন, তার স্বীকৃতিও তিনি দেখাতে পারেননি।

বিচারকের পর্যবেক্ষণ ছিল, সম্পর্কের সময় আগরওয়াল লিকে দামি উপহার দেওয়ার একটি ধারাবাহিক প্রবণতা দেখিয়েছেন। এমনকি তাদের প্রেমের সম্পর্ক শুরুর আগেও তিনি তাকে উপহার দিতেন এবং এসব অর্থ ফেরত চান না বলে আশ্বস্ত করেছিলেন।

বিচারক আরও বলেন, প্রমাণে স্পষ্ট যে- আগরওয়াল লির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সম্পর্কের সময় তাকে দামি উপহার দিয়েছেন। কিন্তু সম্পর্কটি তিক্তভাবে শেষ হওয়ার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং তার কাছ থেকে এর মূল্য আদায় করতে চেয়েছিলেন।

রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, আগরওয়াল আর্থিকভাবে স্বচ্ছল এবং তার জীবনযাপনে ব্যয়ের প্রবণতা ছিল। অন্যদিকে লি তার মতো আর্থিক সামর্থ্যের অবস্থানে ছিলেন না। আদালত আরও উল্লেখ করে যে, বিভিন্ন খুদে বার্তায় লি আগরওয়ালের দামি উপহারের প্রস্তাবে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। কখনো কখনো তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসব উপহার নিতে অনীহাও দেখিয়েছিলেন।

রায়ের শেষাংশে বিচারক ইংরেজ নাট্যকার উইলিয়াম কংগ্রিভের একটি বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি উদ্ধৃত করেন। ‘প্রেম ঘৃণায় পরিণত হলে স্বর্গেও তার মতো তীব্র কোনো রোষ নেই; আর অবহেলিত নারীর ক্ষোভের মতো ভয়ংকর কোনো ক্রোধ নরকেও নেই।’ ওই পঙ্‌ক্তির পর বিচারক মন্তব্য করেন, এমন আবেগ শুধু কোনো একটি লিঙ্গের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

সিঙ্গাপুরে প্রেম ও প্রত্যাখ্যানকে কেন্দ্র করে আদালতে এমন মামলা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালের শুরুর দিকে আরেক সিঙ্গাপুরের নাগরিক এক নারীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছিলেন। তার দাবির পরিমাণ ছিল ৩০ লাখ সিঙ্গাপুর ডলারের বেশি। ওই নারী তার প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

কে কাওশিগান নামের ওই ব্যক্তি দাবি করেছিলেন, ওই নারীর প্রত্যাখ্যানের কারণে তিনি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার সুনামও ক্ষুণ্ন হয়েছে। তবে সিঙ্গাপুরের আদালত তার মামলা খারিজ করে দেন। পরে ওই নারীও কাওশিগানের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন। নিজেকে কথিত হয়রানি থেকে রক্ষায় আইনি লড়াই চালাতে যে অর্থ খরচ হয়েছে, তা ফেরত চেয়েছিলেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাইবার ক্রাইমের জিজ্ঞাসাবাদে ইমাম ও রিজওয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৬ পি.এম


সাইবার ক্রাইমের জিজ্ঞাসাবাদে ইমাম ও রিজওয়ান

ইংল্যান্ড সফরের সময় পাকিস্তান দলের অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁস এবং খেলোয়াড়দের যোগাযোগ সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম উল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দেশটির ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ)। পাকিস্তানের এই দুই ক্রিকেটার বিস্তারিত জবাব দেওয়ার জন্য সময় চেয়েছেন।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার লাহোরের জোহর টাউনে এনসিসিআইএর কার্যালয়ে পৌঁছান রিজওয়ান ও ইমাম। বিকেল ৩টার দিকে সেখানে পৌঁছানোর পর প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ইংল্যান্ড সফরের সময় পাকিস্তান দলের নিরাপত্তা কর্মকর্তা কয়েক ঘণ্টার জন্য রিজওয়ান ও ইমামের মোবাইল ফোন নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিলেন। পরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) খেলোয়াড়দের ফোন ও বিভিন্ন যোগাযোগ খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় দেশে ফেরার পর দুই ক্রিকেটারকে সাইবার ক্রাইম সংস্থার কাছে তলব করা হয়।

জিও নিউজ জানিয়েছে, তদন্তের মূল উদ্দেশ্য হল ড্রেসিংরুমের তথ্য বাইরে চলে যাচ্ছে কি না, ইংল্যান্ডে অনুশীলন ও ম্যাচের সময় খেলোয়াড়দের যোগাযোগ এবং বিভিন্ন বৈঠক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে হারের পর পাকিস্তান দল থেকে সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। রিজওয়ান ও ইমামের সঙ্গে সেই তালিকায় ছিলেন অধিনায়ক সালমান আলী আঘাও। সফরের সময় দলের কর্মকাণ্ড এবং কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে খেলোয়াড়দের কথিত যোগাযোগ নিয়েও তদন্ত চলছে বলে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এনসিসিআইএর কার্যালয়ে যাওয়ার আগে পিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন রিজওয়ান ও ইমাম। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিলেও বিস্তারিত জবাব দেওয়ার জন্য আরও সময় চেয়েছেন।

এদিকে, তৃতীয় একজন ক্রিকেটারকেও এনসিসিআইএ তলব করেছে বলে জানা গেছে, তবে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবনার দাশপাড়া গ্রামে জমিতে জমে থাকা পানিতে গোসলে নেমে ভাইবোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৬ পি.এম


পাবনার দাশপাড়া গ্রামে জমিতে জমে থাকা পানিতে গোসলে নেমে ভাইবোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু

পাবনার সদর উপজেলার চর তারাপুর ইউনিয়নের নবীন বাজার দাশপাড়া গ্রামে জমিতে জমে থাকা পানিতে গোসল করতে গিয়ে ভাইবোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। শুক্রবার দুপুর ২ টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। তিনটি শিশুর একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনায় গ্রামটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত শিশুদের মধ্যে রয়েছে দাশপাড়া গ্রামের শিমুল মল্লিকের মেয়ে সুমি খাতুন (৭), মো. আশরাফুল ইসলামের ছেলে খালিদ হোসেন (৮) এবং আফিয়া খাতুন (৬), যারা একই গ্রামের বাসিন্দা। তারা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয়দের মতে, শুক্রবার দুপুরে শিশুরা বাড়ির পাশের জমিতে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে নেমেছিল। একপর্যায়ে একজন শিশু পানিতে তলিয়ে গেলে, তাকে উদ্ধারের জন্য অন্য দুজনও পানিতে ঝাঁপ দেয়। এ সময় তারা তিনজনই পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তিন শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর পথে তাদের মৃত্যু হয়।

এদিকে, তিন শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দাশপাড়া গ্রামে শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। শিশুদের মরদেহ বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরিবেশ-প্রতিবেশ: নদী যদি মরে যায়, আমরাও বাঁচব কতদিন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৭ পি.এম


পরিবেশ-প্রতিবেশ: নদী যদি মরে যায়, আমরাও বাঁচব কতদিন?

ঢাকার চারপাশে একসময় চারটি নদী ছিল, যেগুলো মালার মতো জড়িয়ে ছিল– বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু এবং শীতলক্ষ্যা। নৌকা চলাফেরা করত, মাছ ধরা হত, এবং শিশুরা সাঁতার কাটত। কিন্তু আজ সেই নদীগুলোর পাশ দিয়ে হাঁটলে নাক চেপে ধরতে হয়। পানির রং কালচে হয়ে গেছে, প্লাস্টিক এবং রাসায়নিক ফেনা ভাসছে। সাভার-আমিনবাজার-হেমায়েতপুর, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী কিংবা হবিগঞ্জ– শিল্পকারখানা গড়ে উঠার ফলে নদীগুলোর ভাগ্য প্রায় একই রকম। এই লেখার উদ্দেশ্য ভয় দেখানো নয়; বরং প্রতিষ্ঠিত গবেষণা এবং সরকারি-আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের আলোকে বোঝা, নদীকে অবহেলা করলে আমরা ঠিক কী কী হারাচ্ছি।

দূষণের চিত্র

বুড়িগঙ্গা নিয়ে সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, নদীর দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা লিটারপ্রতি ১.৭০ থেকে ২.৬৮ মিলিগ্রামে নেমে এসেছে, অথচ সুস্থ নদীর জন্য প্রয়োজন অন্তত ৫ মিলিগ্রাম। ওই জরিপে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ মিলিয়ে ২২৪টি দূষণ-উৎস চিহ্নিত হয়েছে; যার প্রধান উৎস ট্যানারি বর্জ্য, পয়ঃবর্জ্য এবং কলকারখানার রাসায়নিক নির্গমন। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, দেশের টেক্সটাইল শিল্প বছরে প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ টন বর্জ্য এবং ৫ লাখ টন স্লাজ উৎপন্ন করে; যার বড় অংশ সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ে।

সাভার-আমিনবাজার-হেমায়েতপুরের চিত্রও ভিন্ন নয়। হাজারীবাগ থেকে পরিবেশদূষণ কমাতে ট্যানারিগুলো হেমায়েতপুরে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল, কিন্তু সেখানকার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) এখনও পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে না। দৈনিক শোধন ক্ষমতা মাত্র ২৫ হাজার ঘনমিটার, অথচ ট্যানারিগুলো উৎপন্ন করে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনমিটার আধা-শোধিত বা অশোধিত বর্জ্য ধলেশ্বরী নদীতে গিয়ে পড়ছে; যে নদী একসময় স্বচ্ছ ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান।

গাজীপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত প্রবাহিত শীতলক্ষ্যার অবস্থাও উদ্বেগজনক। পরিবেশবাদীদের হিসাব অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জে প্রায় সাড়ে ৪০০ ডাইং কারখানা রয়েছে, যাদের বেশির ভাগের বর্জ্য শোধনাগার থাকলেও তা নিয়মিতভাবে চালানো হয় না; রাতের অন্ধকারে সরাসরি রাসায়নিক বর্জ্য নদীতে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই নদী গাজীপুর ও নরসিংদী জেলা হয়ে প্রবাহিত হয়ে নারায়ণগঞ্জে ধলেশ্বরীর সঙ্গে মিশেছে। ফলে একটি জেলার দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো অববাহিকায়।

হবিগঞ্জে চিত্র আরও করুণ। সম্প্রতি জলকেলি ও পরিবেশবাদী সংগঠনের পরিদর্শনে দেখা গেছে, শিল্পকারখানার বর্জ্যে রাজখাল এতটাই দূষিত হয়েছে যে চারটি গ্রামে গবাদিপশু মারা গেছে এবং ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। খোয়াই ও সুতাং নদীও একই সংকটে রয়েছে– কারখানার রাসায়নিক বর্জ্যে পানি বিষাক্ত হয়ে পড়ায় স্থানীয় কৃষক ও জেলেরা জীবিকা হারাচ্ছেন।

প্রতিবেশগত গুরুত্ব: শুধু পানি নয়, একটি জীবন্ত ব্যবস্থা

নদী শুধুমাত্র জলধারা নয়, এটি একটি সম্পূর্ণ প্রতিবেশতন্ত্র। বাংলাদেশের মিঠাপানিতে একসময় প্রায় ২৬০-এর বেশি প্রজাতির দেশি মাছ ছিল। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএনের লাল তালিকা অনুযায়ী, এর মধ্যে ৬৪টি প্রজাতি বিপন্ন থেকে মহাবিপন্ন পর্যায়ে চলে গেছে। গত তিন-চার দশকে বেশ কিছু প্রজাতি বন্য পরিবেশ থেকে একেবারে হারিয়ে গেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের অন্তর্দেশীয় ধরা– মাছের উৎপাদন ১৯৮৩-৮৪ সালের মোট মাছ উৎপাদনের প্রায় ৬৩ শতাংশ থেকে নেমে ২০২২-২৩ সালে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৮ শতাংশে। আরও উদ্বেগের বিষয়, ওই গবেষণায় ঢাকার নদীর জীববৈচিত্র্য-সূচক (শ্যানন-ওয়াইনার ইনডেক্স) পাওয়া গেছে প্রায় শূন্য অর্থাৎ কার্যত জীববৈচিত্র্য বলতে কিছু অবশিষ্ট নেই।

বুড়িগঙ্গার মতো নদীতে একসময় দেখা মিলত বিপন্ন গাঙ্গেয় ডলফিনের। পানি দূষণ এবং জলযান চলাচলের চাপে এই স্তন্যপায়ী প্রাণীর সংখ্যা ক্রমেই কমছে। মাছ, জলজ উদ্ভিদ এবং অণুজীবের এই জটিল শৃঙ্খল ভেঙে পড়লে তার প্রভাব শুধুমাত্র জেলে পরিবারে সীমাবদ্ধ থাকে না– খাদ্যশৃঙ্খলের ওপরের স্তরে থাকা মানুষও এর মূল্য দেয়, দূষিত মাছ খেয়ে বা মাছের আকাল দেখে।

নদী কীভাবে শহরকে শীতল রাখে

আমরা প্রায়ই ভুলে যাই, নদী শুধুমাত্র পরিবহন বা মাছের উৎস নয়– এটি শহরের প্রাকৃতিক শীতাতপ ব্যবস্থাও। বিশ্বজুড়ে পরিচালিত একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, শহুরে নদী আশপাশের বাতাসের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে এবং আর্দ্রতা বাড়ায়। জাপানের হিরোশিমার ওতা নদীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, নদীর ঠিক ওপরে তাপমাত্রা প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যায় এবং এই শীতলকরণ প্রভাব নদীর তীর থেকে শত মিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। চীনের বিভিন্ন শহরে চালানো গবেষণাতেও একই প্রবণতা দেখা গেছে– জলাশয়ের আশপাশের এলাকা কয়েকশ মিটার পর্যন্ত তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে।

ঢাকার মতো ক্রমবর্ধমান তাপ-দ্বীপে পরিণত হওয়া শহরের জন্য এই প্রাকৃতিক শীতলকরণ ব্যবস্থা অমূল্য। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, তীব্র তাপের কারণে ২০২৪ সালে বাংলাদেশে প্রায় ২৫ কোটি কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে, যার অর্থনৈতিক ক্ষতি ১৩০ থেকে ১৮০ কোটি মার্কিন ডলার। নদী যখন সরু হয়ে যায়, দখল-ভরাটে হারিয়ে যায় অথবা কালচে বিষাক্ত জলে পরিণত হয়, তখন এই স্বাভাবিক শীতলকরণ ক্ষমতাও কমে যায় এবং শহরের তাপ আরও অসহনীয় হয়ে ওঠে।

পর্যটন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, যা আমরা হারাচ্ছি

একটি জীবন্ত নদী মানে সম্ভাবনাময় পর্যটন-নদীতীরের রেস্তোরাঁ, নৌ-ভ্রমণ, স্থানীয় হস্তশিল্প এবং মৎস্যভিত্তিক অর্থনীতি। বিশ্বের অনেক নদীতীরবর্তী শহর যেমন ব্যাংকক, আমস্টারডাম, সিউলের চংগেচন খাল– নদী পুনরুদ্ধার করে পর্যটন এবং নাগরিক জীবনযাত্রার মান বাড়িয়েছে। কিন্তু বুড়িগঙ্গা বা শীতলক্ষ্যার দুর্গন্ধ ও কালো পানি দেখে কোনো পর্যটক নৌ-ভ্রমণে আগ্রহী হবেন না, স্থানীয় বাসিন্দারাও নদীমুখী হতে চান না।

অর্থনৈতিক হিসাবটাও ভয়াবহ। বিশ্বব্যাংকের ২০২৩ সালের বাংলাদেশ কান্ট্রি এনভায়রনমেন্টাল অ্যানালাইসিস অনুযায়ী, ২০১৯ সালে পরিবেশগত অবক্ষয়ের কারণে বাংলাদেশের প্রায় ৬ হাজার ২০০ কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে; যা মোট জিডিপির ১৭ দশমিক ৬ শতাংশের সমান। এর আগে ২০১৮ সালের এক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছিল, শুধুমাত্র নগর এলাকার দূষণজনিত ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ৬৫০ কোটি ডলার। সম্প্রতি অনুমোদিত মেট্রো ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স কর্মসূচির আওতায় বিশ্বব্যাংক ৩৭ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে শুধু গ্রেটার ঢাকার পানিদূষণ কমাতে এবং নদী-খাল পুনরুদ্ধারে। কারণ এই অঞ্চল দেশের মোট আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের প্রায় অর্ধেক এবং জিডিপির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জোগান দেয়। নদী বাঁচিয়ে রাখা তাই নিছক পরিবেশবাদী আবেগ নয়, এটি সরাসরি অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্ন।

জীবিকা ও মানুষের গল্প

পরিসংখ্যানের আড়ালে মানুষের গল্প রয়েছে। শীতলক্ষ্যা পারের এক জেলে পরিবার তিন প্রজন্ম ধরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত; এখন মাছের আকালে তাদের পেশা বদলাতে হয়েছে। হবিগঞ্জের রাজখাল-তীরবর্তী কৃষকরা দূষিত পানিতে গবাদিপশু হারিয়ে মানবিক সংকটে পড়েছেন। এক সাম্প্রতিক গবেষণায় বুড়িগঙ্গার শ্যামপুর অংশে সত্তরের বেশি বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি মিলেছে; যা শুধু নদীর নয়, আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে।

শীতলক্ষ্যার পাড়ে এক পড়ন্ত বিকেলে দেখা হয়েছিল ষাটোর্ধ্ব মতিন মাঝির সঙ্গে। জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘চাচা, এখনও মাছ ধরেন এই নদীতে?’ তিনি একটু হাসলেন, তারপর নদীর দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘বাবা, এই নদী আমার মায়ের মতো। ছোটবেলায় এই পানিতে গোসল করে বড় হয়েছি, এই পানি খেয়েছি, এই নদীর মাছ বিক্রি করেই ছেলেমেয়ে মানুষ করেছি। এখন এই পানি গায়ে লাগলে চুলকানি হয়, ঘা হয়ে যায়। মা অসুস্থ হলে সন্তান কি তাঁকে ফেলে দেয়? আমিও পারি না। তাই রোজ সকালে আসি, নদীটাকে একবার দেখি, তারপর খালি হাতে ফিরে যাই।’

মতিন মাঝির কথাগুলো বলার পর তিনি চুপ হয়ে গেলেন। তাঁর সামনে দিয়ে ধীরে ধীরে ভেসে যাচ্ছিল কালচে পানি, আর দূরে একটি কারখানার চিমনি থেকে ধোঁয়া উঠছিল আকাশের দিকে। সেদিন মনে হয়েছিল– নদীর দূষণ আসলে শুধু পরিবেশের সংকট নয়, এটি যেন এক ধরনের নীরব সন্তানহীনতা, মা হারানোর বেদনার মতোই কিছু, যা আমরা প্রতিদিন চোখের সামনে দেখেও সয়ে যাচ্ছি। মতিন মাঝির মতো লাখো মানুষের এই নীরব কষ্টটাই বোধহয় আমাদের সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা।

এখন করণীয়

সমাধান জটিল নয়, প্রয়োজন কেবল বাস্তবায়নের সদিচ্ছা। প্রথমত, বিদ্যমান বর্জ্য শোধনাগারগুলো (ইটিপি-সিইটিপি) পূর্ণ সক্ষমতায় নিয়মিত চালানো নিশ্চিত করতে হবে, কেবল কাগজে-কলমে নয়। দ্বিতীয়ত, পরিবেশ অধিদপ্তরের তদারকি এবং জরিমানা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর এবং নিয়মিত করতে হবে। তৃতীয়ত, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) মতো স্থানীয় নাগরিক উদ্যোগগুলোকে আরও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন দিতে হবে। চতুর্থত, বিশ্বব্যাংকের মতো উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে করতে হবে।

নদী আমাদের কাছে ঋণী নয়, বরং আমরাই নদীর কাছে ঋণী-পানীয় জল, মাছ, পরিবহন, শীতল বাতাস এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের জন্য। বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ কিংবা খোয়াই-সুতাং-এই নদীগুলো যদি আজ আমরা বাঁচাতে না পারি, আগামী প্রজন্মের কাছে রেখে যাব শুধু মানচিত্রে আঁকা কিছু রেখা, যেখানে একদিন প্রাণ ছিল। সিদ্ধান্ত এখনই নিতে হবে। কারণ নদী মরে গেলে তার সঙ্গে মরে যায় একটি জনপদের ভবিষ্যৎও।

ড. জিয়া আহমেদ: শিক্ষক ও গবেষক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট

[email protected]

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%