রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:২৬ এম
ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত গোপন সামরিক তথ্য ফাঁসের তদন্তের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের পলিগ্রাফ বা লাই ডিটেক্টর পরীক্ষার মুখোমুখি করা হয়েছে। সিবিএস নিউজ এবং দ্য নিউইয়র্ক টাইমস মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
গত আগস্ট মাসে, মার্কিন জয়েন্ট স্টাফের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কিছু কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কমব্যাট্যান্ট কমান্ডের কর্মকর্তারাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ও সীমিত মজুতের অস্ত্র, বিশেষ করে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের দ্রুত ব্যবহারের বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনগুলো। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে যে, এসব তথ্য শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়নি, বরং এর পেছনে কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতাও থাকতে পারে।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পলিগ্রাফ পরীক্ষায় জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন করা হয়েছে। তবে তথ্য ফাঁসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নির্ধারণের প্রশ্নে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কেউ ব্যর্থ হয়েছেন- এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল মন্তব্য করেছেন, ‘বিভাগটি অভ্যন্তরীণ কর্মী বা তদন্তসংক্রান্ত বিষয়ে মন্তব্য করে না। তবে জাতীয় নিরাপত্তার গোপন তথ্য ফাঁসের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয় এবং সে অনুযায়ী তদন্ত করা হয়।’
তবে, সব জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা এই পরীক্ষার আওতায় ছিলেন না। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনকে পলিগ্রাফ পরীক্ষা করা হয়নি বলে এক জ্যেষ্ঠ পেন্টাগন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
তথ্য ফাঁস ঠেকাতে কঠোর অবস্থান
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার বিষয়ে একাধিক সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত জুলাইয়ে পেন্টাগন ও বিচার বিভাগের সমন্বয়ে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দেন।
এই টাস্কফোর্সের উদ্দেশ্য ছিল সংবাদমাধ্যমে সংবেদনশীল সরকারি তথ্য ফাঁসের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এ কাজে পেন্টাগনের জেনারেল কাউন্সেলের কার্যালয়কে তথ্য, নথি ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চাওয়ার ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়।
হেগসেথ তখন বলেছিলেন, ‘কোনো তথ্য ফাঁস হলে দ্রুত বিচার বিভাগ ও এফবিআইসহ ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে কার্যকর তথ্য দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।’ তাঁর ভাষায়, ‘ফাঁস হওয়া তথ্য মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে।’
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার খবর নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গত বৃহস্পতিবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি এসব প্রতিবেদনকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল পরিমাণ মাঝারি ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গোলাবারুদ রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে এমন মাত্রায় গোলাবারুদ উৎপাদন করছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। ভবিষ্যতের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র মজুত করছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এর আগে, পেন্টাগনে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন না করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। গত মাসে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশের পর সামরিক সংবাদপত্র ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’-এর কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকেও বরখাস্ত করা হয়।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস,
,
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনো শহরে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুই শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এই ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সিয়েরা স্কাই পার্ক বিমানবন্দরের নিকটে ব্লাইথ এভিনিউ এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ফ্রেসনো কাউন্টি শেরিফ অফিসের জনসংযোগ কর্মকর্তা টনি বোটি এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফ্রেসনো ফায়ার বিভাগ জানায়, আহত দুজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার খবর শোনার পর ফ্রেসনো পুলিশ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এবং নর্থ সেন্ট্রাল ফায়ার বিভাগসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
দুর্ঘটনার ফলে আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক গ্যাস অ্যান্ড ইলেকট্রিক কম্পানি (পিজিই) ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যুৎবিভ্রাটের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকলেও পরে তা পুনরুদ্ধার করা হয়।
তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ এখনও হতাহতদের পরিচয় প্রকাশ করেনি। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ সম্পর্কেও কোনো তথ্য জানা যায়নি।
সূত্র :
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা নেপালে বন্যার্তদের জন্য জরুরি সহায়তা তহবিল হিসেবে ৫ কোটি ডলার চেয়েছে।
এই অর্থ ৮৪ হাজার মানুষের জন্য প্রয়োজন। গত ২৬ অগাস্ট, নেপাল ও চীনের স্বায়ত্তশাসিত তিব্বত অঞ্চলের সীমান্তে একটি হিমবাহ ধসে পড়ার ঘটনা ঘটে। জাতিসংঘের নেপাল কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই বন্যায় প্রায় ১৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় এক হাজার। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ১৯ হাজার ২৮৪। ইউনিসেফ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় একটি উড়োজাহাজ ৮৪ মেট্রিক টন মানবিক সহায়তা নিয়ে নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে অবতরণ করেছে।
ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ডায়রিয়ার চিকিৎসা সরঞ্জাম, পানির ট্যাংক, পানি বিশুদ্ধ করার উপকরণ, শীতের পোশাক এবং শিক্ষাসামগ্রী। ইউনিসেফের প্রতিনিধি অ্যালিস আকুঙ্গা জানিয়েছেন, "এসব ত্রাণ শিশুসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে।"
তথ্য সূত্র-
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) শপথ গ্রহণ করবেন।
শপথ বাক্য পাঠের অনুষ্ঠানটি আজ বিকাল তিনটায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী শপথ করাবেন।
এর আগে, ২ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এই বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়াকে জনস্বার্থে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ প্রদান করেছেন।
সংবিধানের ১৩৯(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর অথবা তার ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত, যা আগে ঘটে, সে পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান পদে বহাল থাকবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান সরকার বিদেশি বা পশ্চিমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি তথ্য এবং খবর প্রচারের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি দেশটির সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদনের পর নেওয়া হয়েছে, যা ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফের দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আব্বাস পাজুকি জানিয়েছেন।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) আলজাজিরার একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
পাজুকি ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ইসনাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, কয়েক বছর আগে একটি নির্দেশিকার মাধ্যমে সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশি মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। তিনি মনে করেন, এই নীতির কারণে সরকার গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে কার্যত অনুপস্থিত ছিল।
তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর আগে একটি অদ্ভুত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল, যেখানে বলা হয় কোনো সরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বিদেশি মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে তথ্য দিতে পারবে না।’
পাজুকি প্রশ্ন তোলেন, ‘এর ফল কী হয়েছিল? দেশের জনগণ, যুবসমাজ ও গণমাধ্যম আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে গুজব ও খবর পড়ছিল, কিন্তু যেখানে আসল মানুষ উপস্থিত ছিল, সরকার সেখানে অনুপস্থিত থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে উত্তর দিচ্ছিল।’
তিনি আরও বলেন, এই নীতির কারণে প্রতিপক্ষের গণমাধ্যম ও মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণার জন্য ‘ফাঁকা মাঠ’ তৈরি হয়েছিল।
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এক্স (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রাম এবং টেলিগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্ম সরকারি প্রচারে ব্যবহারের সুযোগ পাবে ইরানের সরকারি সংস্থাগুলো। তবে সাধারণ ইরানিদের জন্য এসব প্ল্যাটফর্মের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়নি।
দেশটির সাধারণ নাগরিকদের ইন্টারনেট ব্যবহারে বড় কোনো শিথিলতা আনা হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশের ক্ষেত্রে অনেক ইরানি এখনো ভিপিএনের ওপর নির্ভর করেন।
এই নীতিগত পরিবর্তনকে ইরানের তথ্য প্রচারের কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও তথ্যযুদ্ধের পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য সরাসরি ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই তেহরান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা,
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ