১১:৪৯ পি.এম
রাজবাড়ীতে চাঞ্চল্যকর চৌধুরী ফুয়াদ হাসান (রোহান) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এই ঘটনায়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, গামছা, কালো টি-শার্ট ও নিহতের স্যান্ডেল উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যা গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংগৃহীত হয়েছে।
এদিকে, শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নিহত রোহানের গ্রামের বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতকদের বাড়ী ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জনতাকে শাস্তি দেয়।
শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি বিশেষ দল দাদসী ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
আরও পড়ুন: বরিশালে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সমাবেশ ও র্যালির মাধ্যমে উদযাপন
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- দাদসী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকার ফিরোজ সরদার বাবু (৩৪), মো. রিয়াজ সরদার (২৩) এবং একই ইউনিয়নের সমেসপুর এলাকার মো. শরীফ (২৭)।
পুলিশের প্রেস ব্রিফিং সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে চৌধুরী ফুয়াদ হাসান (রোহান) নিজ বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। এ ঘটনায় পরদিন ৬ অক্টোবর তার পরিবার রাজবাড়ী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পরবর্তীতে, ৮ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদসী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের দিলীপ সেনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় রোহানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের পেট কাটা ছিল।
নিহতের বাবা মো. ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি ৯ অক্টোবর রাজবাড়ী সদর থানায় ১৭ নম্বর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এতে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, রোহানের নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর থেকেই সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: আমতলীতে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের বরাতে জানা গেছে, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতা ও পরিকল্পনার জেরে রোহানকে ডেকে নিয়ে গামছা ও টি-শার্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ পানিতে ভেসে ওঠা ঠেকাতে ধারালো ছুরি দিয়ে পেট কেটে দেওয়া হয়। এরপর আলামত নষ্ট করা ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে বস্তাবন্দি করে বালুভর্তি বস্তা বেঁধে পরিত্যক্ত ডোবায় ফেলে দেওয়া হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেখানো মতে, ফিরোজ সরদার বাবুর শয়নকক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও গামছা উদ্ধার করা হয়। মো. রিয়াজ সরদারের শয়নকক্ষ থেকে শ্বাসরোধের কাজে ব্যবহৃত কালো টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া দাদসী ইউনিয়নের বক্তারপুর এলাকায় বিনয় কুমার দাসের পুকুরের কচুরিপানার মধ্যে থেকে নিহতের পরিহিত স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে এসব আলামত বিধি অনুযায়ী জব্দ করা হয়।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: ভৈরব থানার ওসি মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ, ৬ সদস্যের সিন্ডিকেট ঘিরে প্রশ্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন