১১:৩৭ এম
হাবিপ্রবির সহকারী প্রক্টরের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে এবং সেই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের একটি মৌন মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। মিছিলটি মঙ্গলবার সকালে ১১টা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। এরপর শিক্ষকেরা সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এর আগে ২১ মে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটির পূর্বদিন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) দুটি হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির একটি ঘটনা ঘটেছিল, যার সময় সংঘর্ষ থামাতে যেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর মো. মবিনুল ইসলামের ওপর এই হামলার ঘটনার সূত্রপাত ঘটে।
মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে যান, হাবিপ্রবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. হাসানুজ্জামান রতন, কীটতত্ত¡ বিভাগের অধ্যাপক ও আইআরটি পরিচালক অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন, অধ্যাপক ড. শরীফ মাহমুদ, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মামুনুর রশীদ, অ্যাগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইফুল হুদা, ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ফারুক হাসানসহ আরও অনেক শিক্ষক।
আরও পড়ুন: গ্রামপুলিশ মোক্তার আলীকে ফুলে সাজানো রিকশায় রাজকীয় বিদায়
এই সময়ে বক্তারা বলেন, "একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার ওপর হামলা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা।" তাঁরা আরো উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হলে শিক্ষকদের নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হবে। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হবে নিরাপদ শিক্ষার স্থান। শিক্ষকদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। তাঁরা দ্রুতসময়বোধে দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ জানান।
এই ঘটনার পর হামলার শিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর মো. মবিনুল ইসলাম জানান, গত ২১ মে বিশ্ববিদ্যালয় ছুটির পূর্বদিন সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে দুটি হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলতে থাকা সংঘর্ষ থামাতে গেলে কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থীর হামলায় আমি গুরুতর আহত হই। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনার বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং বর্তমানে তদন্ত চলছে।
এখন উল্লেখ্য যে, গত ২১ মে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নূর হোসেন হল এবং আবরার ফাহাদ হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছিল। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের এক পক্ষের হামলার শিকার হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মবিনুল ইসলাম। এতে গুরুতর জখম হয় তাঁর নাক ও চোখ। এ সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৩১ জনকে বহিষ্কার করেছে এবং ৭ জন একজন আসামীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে এনজিওর মামলায় গৃহবধূ ফাতেমা জামিনে মুক্ত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন