০২:৫৩ পি.এম
ইথিওপিয়া এবং মিসরের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপড়েন বৃদ্ধি পেয়েছে। এক মিসরীয় কর্মকর্তাকে আদ্দিস আবাবায় বহিষ্কারের পর, মিসর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কায়রোতে নিযুক্ত এক ইথিওপীয় কূটনীতিককে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। আল অ্যারাবিয়ার প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
কায়রোতে নিযুক্ত ওই ইথিওপীয় কূটনীতিককে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করেছে মিসর। শুক্রবার (২ আক্টোবর) মিসরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেনাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি ইথিওপিয়ার এই পদক্ষেপকে ‘অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদ মেনে ইথিওপিয়া বা অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মিসর কোনো মন্তব্যও করে না। ইথিওপিয়ার ওই পদক্ষেপের জবাব হিসেবে কায়রোতে নিযুক্ত এক ইথিওপীয় কূটনীতিককে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মিসর ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেনা ওই কূটনীতিকের নাম এগাজি এমেলো বোরুগি উল্লেখ করেছে। মিসরের ওই কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, ‘নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও একের পর এক সংকটের জন্য ইথিওপিয়া প্রায়ই বিদেশি হস্তক্ষেপকে দায়ী করে।’ তিনি আরও দাবি করেন যে, এর মাধ্যমে তারা দেশের চলমান সমস্যাগুলো আড়াল করার চেষ্টা করছেন।
আরও পড়ুন: ইরানে হামলার প্রস্তুতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটি থেকে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
এর আগে ইথিওপিয়া ইরিত্রিয়ার রাজধানী আসমারায় তাদের দূতাবাস বন্ধের নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে আদ্দিস আবাবায় কর্মরত ১০ ইরিত্রিয়ান কূটনীতিককে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর আদ্দিস আবাবায় অবস্থিত মিসরীয় দূতাবাসের এক কূটনীতিককেও ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করে ইথিওপিয়া, এবং তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৯৬১ সালের কূটনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই আইনের অধীনে কোনো দেশ কারণ বিস্তারিতভাবে না জানিয়েও কোনো বিদেশি কূটনীতিককে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করতে পারে।
কায়রো ও আদ্দিস আবাবার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক বিরোধ বিদ্যমান। এর মধ্যে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কূটনীতিক বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে।
সম্প্রতি ইথিওপিয়ার সামরিক প্রধান অভিযোগ করেছেন যে, মিসর দেশটির সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করা কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন করছে। মিসর এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফিল্ড মার্শাল বিরহানু জুলা অভিযোগ করেছেন যে, মিসর, সুদান ও ইরিত্রিয়া উত্তর ইথিওপিয়ায় সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা করছে। জুলা আরও বলেন, ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনী এমন কয়েকটি সংগঠিত ও সহযোগী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে, যারা ইথিওপিয়ার ক্ষতি করতে চাওয়া বিদেশি শক্তিগুলোর স্বার্থ রক্ষা করছে।
আরও পড়ুন: ভারতের একক বৃহত্তম তেল শোধনাগার পরিদর্শনে রুবিও, কিন্তু কেন?
উল্লেখ্য, ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের সেনাবাহিনী এবং উত্তরাঞ্চলীয় তাইগ্রে অঞ্চলের স্থানীয় বিদ্রোহীদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ বেড়েছে। শহর ও আশপাশে তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ৫২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। এতে ২০২২ সালে করা শান্তিচুক্তি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওই চুক্তির মাধ্যমে দুই বছর ধরে চলা ভয়াবহ যুদ্ধের অবসান ঘটেছিল।
এর কয়েক দিন আগে ইথিওপিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের সাতটি সশস্ত্র গোষ্ঠী মিলে একটি নতুন জোট গঠন করে। তারা প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য ঘোষণা করে। এরপরই দেশটির পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নতুন করে সহিংসতা শুরুর জন্য সরকার ও বিদ্রোহী, দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ি করছে। দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রায় চার বছর ধরে চলা আগের যুদ্ধের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলেন তারা। সেই সংঘাতে আবার ফিরে যেতে হতে পারে, এটাই এখন তাদের বড় উদ্বেগ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন