বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৩১ পি.এম
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের জন্য উপকারভোগীদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসারের রুমে মধ্যনগর উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নে ধারাবাহিক ভাবে তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার তৌফিক আহমেদ, উপজেলা বি এন পির যুগ্ন আহবায়ক আবুল বাশার তালুকদার, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিছবাহ, সোহেল আহমদ, ইউনিয়ন সমাজ কর্মী,সুজানুর রহমান ইউনিয়ন সমাজ কর্মী মাহমুদুল হাসান ইউনিয়ন সমাজ কর্মীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, তথ্য সংগ্রহকারী কর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা যায় মধ্যনগর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের জন্য ৩০ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৩জন সুপার ভাইজারের দায়িত্ব পালন করবেন। সার্বিক তত্ত্বাবধানে উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও সমাজসেবা অফিসারসহ কমিটির সদস্যরা তাকবেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, তথ্য সংগ্রহকারীরা স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা বজায় রাখার পাশাপাশি কোনো ধরনের অনিয়ম যাতে না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নির্ধারিত তথ্য সংগ্রহ করবেন। স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবি ইউক্রেনের পক্ষে হামলা ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে এক সুইডিশ নাগরিককে আটক করেছে। বৃহস্পতিবার সংস্থাটি জানায়, রাশিয়ায় প্রবেশ করা ওই ব্যক্তি রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের হয়ে হামলা ও নাশকতার পরিকল্পনা করার অভিযোগ রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আটক ব্যক্তির বয়স ৩৫ বছর। তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এফএসবি জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত আরও অভিযোগ আনা হতে পারে। সংস্থাটি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে ওই ব্যক্তিকে স্বীকারোক্তি দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি নিজের নাম স্টকহোমের ফ্রেডি লিন্ডহোম বলে পরিচয় দেন। তিনি জানান, প্রথম ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে নিয়ন্ত্রিত ড্রোন ব্যবহার করে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ ও নাশকতা চালানোর উদ্দেশ্যে তিনি রাশিয়ায় এসেছেন।
সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ওই ব্যক্তিকে আটকের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত। তবে তারা এ ঘটনার সঙ্গে বর্তমানে যুক্ত নয়। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিওতে ইংরেজিতে কথা বলতে গিয়ে ওই ব্যক্তি দাবি করেন, ইউক্রেনের তেরনোপিল শহরে তিনি দেশটির সেনাবাহিনীর আইদার ব্যাটালিয়নের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিলেন। পরে নজরদারির কাজে নিয়ন্ত্রিত ড্রোন ব্যবহারের প্রশিক্ষণ নেন।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তার স্বাক্ষরিত বলে দাবি করা একটি চুক্তির অনুলিপি দেখানো হয়েছে। এফএসবি জানায়, রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় পসকভ এলাকায় ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়, যা লাতভিয়া ও বেলারুশের কাছাকাছি অবস্থিত।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ‘রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেওয়ার অজুহাতে তিনি সামরিক স্থাপনাগুলোতে নাশকতা ও সন্ত্রাসী হামলা চালাতে রাশিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন।’ বিবৃতিতে আরো অভিযোগ করা হয়, ওই ব্যক্তি ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত চুক্তির ভিত্তিতে ইউক্রেনের একটি বাহিনীতে ড্রোন কমান্ডার হিসেবে কাজ করেছেন। এফএসবি ওই বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিদেশি গুপ্তচর ও নাশকতাকারীদের বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর দায়িত্ব পেয়েছে এফএসবি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সংস্থাটিকে এ বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে মঙ্গলবার রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য অঞ্চলে গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে এক জাপানি সাংবাদিককে আটকের কথা জানায় এফএসবি। বৃহস্পতিবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি অস্বীকার করেন যে, টোকিও রাশিয়ায় গুপ্তচরবৃত্তি চালাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান মন্তব্য করেছেন যে, "বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কোনো সমাজকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যায় না।" সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, এই তথ্যটি ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, "কিন্তু আমরা যদি বিভক্ত হয়ে পড়ি এবং দেশের ভেতরেই বিভাজন তৈরি হয়, তাহলে শত্রু তার লক্ষ্য অর্জন করবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "জাতীয় সংহতি ও ঐক্য জোরদার করার পথ আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। সামনে যেসব কঠিন পরিস্থিতি আসবে, সেগুলোর মোকাবেলায় আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিয়ে না করার সঙ্গে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির সম্পর্ক নিয়ে একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কখনো বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার বিবাহিত ব্যক্তিদের তুলনায় বেশি। তবে এই তথ্যের অর্থ এই নয় যে বিয়ে না করলেই ক্যানসার হবে অথবা বিয়ে করলেই এই রোগের ঝুঁকি কমে যাবে। বরং জীবনযাপনের ধরন, ধূমপান, সংক্রমণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রজনন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এই পার্থক্যের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষকদের মতে, এসব বিষয় সম্পর্কে সচেতন হলে ক্যানসার প্রতিরোধ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করার উদ্যোগ আরও কার্যকর করা সম্ভব হতে পারে।
অবিবাহিতদের মধ্যে ক্যানসারের হার কত বেশি?
‘ক্যানসার রিসার্চ কমিউনিকেশনস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের আট বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, যেসব পুরুষ কখনো বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে ক্যানসারের হার বিবাহিত পুরুষদের তুলনায় ৬৮ শতাংশ বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য ৮৩ শতাংশ।
তামাকের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্যানসার এবং সংক্রমণ ও প্রজনন-ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য বেশি দেখা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফুসফুস, খাদ্যনালি ও জরায়ুমুখের ক্যানসার।
তবে গবেষণায় ক্যানসারের হার বেশি পাওয়ার অর্থ এই নয় যে অবিবাহিত হওয়াই রোগটির সরাসরি কারণ। বরং বৈবাহিক অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত জীবনযাপনের বিভিন্ন বিষয় এই পার্থক্যের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিয়ে নয়, ঝুঁকি বাড়াতে পারে যেসব অভ্যাস
গবেষণাটির প্রধান লেখক এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলার স্কুল অব মেডিসিনের সিলভেস্টার সমন্বিত ক্যানসার কেন্দ্রের ক্যানসার-সংক্রান্ত জনস্বাস্থ্য গবেষণার অধ্যাপক পাওলো এস. পিনেইরোর মতে, যারা কখনো বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে ধূমপান, সংক্রমণ, ক্যানসার শনাক্তকরণের পরীক্ষা এবং প্রজনন-সংক্রান্ত অভ্যাসের ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকতে পারে।
এসব বিষয় ক্যানসারের ঝুঁকিকে প্রভাবিত করে বলে জানা গেছে। ফলে বৈবাহিক অবস্থা এখানে সরাসরি কারণ না হয়ে কিছু অন্তর্নিহিত ঝুঁকি বোঝার একটি নির্দেশক হিসেবে কাজ করতে পারে।
অর্থাৎ, ক্যানসারের ঝুঁকি বুঝতে শুধু কেউ বিবাহিত কি না, তা দেখলেই হবে না। তার জীবনযাপন, স্বাস্থ্যচর্চা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগও বিবেচনা করতে হবে।
নারীদের ক্ষেত্রে প্রজনন-ইতিহাস কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নারীদের ক্ষেত্রে ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে প্রজনন-ইতিহাসের সম্পর্ক থাকতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারীর পূর্ণ মেয়াদে গর্ভধারণের সংখ্যা কম, তাদের ডিম্বাশয়, জরায়ুর অভ্যন্তরীণ আস্তরণ এবং স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন। আলোচ্য গবেষণায় প্রজনন-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাই গর্ভধারণের ইতিহাস এই গবেষণায় দেখা পার্থক্যের পেছনে কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা স্পষ্ট নয়।
বিয়ের চেয়ে সামাজিক সমর্থন কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
গবেষণার ফলাফল থেকে বিয়ে করাকে ক্যানসার প্রতিরোধের উপায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং মানুষের পাশে সহায়তাকারী কেউ আছেন কি না, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে তার সম্পর্ক কেমন এবং প্রয়োজনে তিনি চিকিৎসা নিতে পারছেন কি না—এসব বিষয়ের গুরুত্ব সামনে আসে।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, শক্তিশালী সামাজিক সমর্থন ক্যানসারের ঝুঁকি ও রোগের পরিণতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। অন্যদিকে সামাজিক সমর্থনের অভাব ক্যানসারজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি ১১ শতাংশ বেশি হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
একাকিত্বের সঙ্গে তামাক ও মদ্যপানের মতো অভ্যাসের সম্পর্কও থাকতে পারে। এসব অভ্যাস আবার নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে কেউ বিবাহিত কি না, তা দিয়ে তার সামাজিক যোগাযোগ বা সহায়তা পাওয়ার মাত্রা সব সময় বোঝা যায় না।
ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে কী করবেন?
গবেষণাটির মূল শিক্ষা হলো, বৈবাহিক অবস্থার চেয়ে ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ধূমপান এড়িয়ে চলা, ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকা, প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
পাশাপাশি পরিবার, বন্ধু ও কাছের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং অসুস্থ হলে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে মনে রাখতে হবে, এটি একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা। তাই এর ফলাফল দিয়ে প্রমাণ করা যায় না যে বিয়ে না করার কারণে ক্যানসার হয়। বরং বৈবাহিক অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক পার্থক্যগুলো বুঝে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য আরও কার্যকর প্রতিরোধ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা গড়ে তোলাই গবেষণাটির গুরুত্বপূর্ণ দিক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুরের পীরগঞ্জে শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খেজুর গাছ পরিষ্কার করে রস সংগ্রহের উপযোগী করা হচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলার পাঁচগাছি, শানেরহাট ও মিঠিপুর এলাকায় খেজুর গাছের আধিক্য থাকায় শীত মৌসুমে জমে ওঠে গুড় তৈরির কর্মযজ্ঞ। এ ছাড়া পানবাজার এলাকায় কয়েকটি স্থানে খেজুরের রস থেকে তৈরি করা হয় পাটালি গুড়।
স্থানীয় লোকজন রাস্তার পাশে, ফসলি জমির আইলে, বসতবাড়ির আঙিনায় ও পরিত্যক্ত জায়গায় বাণিজ্যিকভাবে খেজুর গাছ রোপণ করেছেন। এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরি করে গাছের মালিকেরা বাড়তি আয় করে থাকেন। বিশেষ করে পানবাজার এলাকায় কয়েক হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। প্রতিবছর এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হয়। গাছিদের কাছে গাছ বর্গা দিয়ে আয় করেন অধিকাংশ মালিকেরা।
শীত মৌসুমে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা থেকে প্রায় শতাধিক গাছি ও শ্রমিক পীরগঞ্জে আসেন। তাঁরা স্থানীয় জমির মালিকদের কাছ থেকে খেজুর গাছ বর্গা নিয়ে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির কাজ করেন। ভোর ৪টা থেকে গাছে উঠে হাঁড়িতে জমা রস সংগ্রহ করেন। পরে বড় কড়াইয়ে সেই রস জ্বাল দিয়ে তৈরি করেন সুস্বাদু খেজুরের গুড়।
মঙ্গলবার বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় গাছি মুক্তার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, “আমার বাবাও এই এলাকায় এসে খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরি করতেন। তিনি এখন আর নেই। বাপ-দাদার সেই পুরোনো ব্যবসা আমরা ধরে রেখেছি। এবার প্রথমে আটজন শ্রমিক মিলে প্রায় ৪০০টি খেজুর গাছ পরিষ্কার করে রস সংগ্রহের উপযোগী করেছি। ইতিমধ্যে সাড়ে তিনশ গাছ ফিনিশিং চাষ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী রোববার থেকে রস সংগ্রহ এবং গুড় তৈরির কাজ শুরু হবে। কয়েকদিনের মধ্যে এ এলাকায় শতাধিক শ্রমিক কাজে যোগ দেবেন।”
কাশিমপুর গ্রামের খেজুর গাছের মালিক মজিবুর রহমান জানান, তাঁদের রোপণ করা খেজুর গাছগুলো রাজশাহীর গাছিদের কাছে বর্গা দেওয়া হয়েছে। মৌসুম শেষে গাছপ্রতি দুই কেজি করে গুড় পান তাঁরা। আর প্রতিটি গাছ থেকে রস মৌসুমে প্রায় ২০ কেজি মতো গুড় পাওয়া যায়। তবে রস সংগ্রহ থেকে গুড় তৈরি পর্যন্ত গাছিদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। ভোরে গাছে উঠে রস সংগ্রহের পর তা জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করতে হয়।
স্থানীয়রা জানান, রাজশাহীর বাঘা উপজেলা থেকে আসা গাছিরা শীত মৌসুমে পীরগঞ্জে অস্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তাঁরা জমি ভাড়া নিয়ে খেজুরের ডালপালা দিয়ে অস্থায়ী ঘর তৈরি করেন। ঘরের উঠানে নির্মাণ করেন গুড় তৈরির চুল্লি। সেখানেই চলে রস জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরির কাজ। পরে পাইকারেরা এসব গুড় কিনে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে বিক্রি করেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জের তিনটি ইউনিয়নে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক খেজুর গাছ রয়েছে। কৃষকেরা বসতবাড়ির আঙিনা, ফসলি জমির আইল, রাস্তার পাশ ও পরিত্যক্ত স্থানে খেজুর গাছ রোপণ করছেন। এসব গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি শীত মৌসুমে রস ও গুড় উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি খেজুরের রস ও গুড় বিক্রি করে কৃষকেরা বাড়তি আয় করতে পারেন। পরিকল্পিতভাবে খেজুর গাছ রোপণ ও পরিচর্যা করা হলে এ খাতের সম্ভাবনা আরও বাড়বে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার পাশাপাশি গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গুড় উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ