বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৩৩ পি.এম
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান মন্তব্য করেছেন যে, "বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কোনো সমাজকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যায় না।" সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, এই তথ্যটি ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
পেজেশকিয়ান বলেন, "কিন্তু আমরা যদি বিভক্ত হয়ে পড়ি এবং দেশের ভেতরেই বিভাজন তৈরি হয়, তাহলে শত্রু তার লক্ষ্য অর্জন করবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "জাতীয় সংহতি ও ঐক্য জোরদার করার পথ আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। সামনে যেসব কঠিন পরিস্থিতি আসবে, সেগুলোর মোকাবেলায় আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিয়ে না করার সঙ্গে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির সম্পর্ক নিয়ে একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কখনো বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার বিবাহিত ব্যক্তিদের তুলনায় বেশি। তবে এই তথ্যের অর্থ এই নয় যে বিয়ে না করলেই ক্যানসার হবে অথবা বিয়ে করলেই এই রোগের ঝুঁকি কমে যাবে। বরং জীবনযাপনের ধরন, ধূমপান, সংক্রমণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রজনন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এই পার্থক্যের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষকদের মতে, এসব বিষয় সম্পর্কে সচেতন হলে ক্যানসার প্রতিরোধ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করার উদ্যোগ আরও কার্যকর করা সম্ভব হতে পারে।
অবিবাহিতদের মধ্যে ক্যানসারের হার কত বেশি?
‘ক্যানসার রিসার্চ কমিউনিকেশনস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের আট বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, যেসব পুরুষ কখনো বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে ক্যানসারের হার বিবাহিত পুরুষদের তুলনায় ৬৮ শতাংশ বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য ৮৩ শতাংশ।
তামাকের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্যানসার এবং সংক্রমণ ও প্রজনন-ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য বেশি দেখা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফুসফুস, খাদ্যনালি ও জরায়ুমুখের ক্যানসার।
তবে গবেষণায় ক্যানসারের হার বেশি পাওয়ার অর্থ এই নয় যে অবিবাহিত হওয়াই রোগটির সরাসরি কারণ। বরং বৈবাহিক অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত জীবনযাপনের বিভিন্ন বিষয় এই পার্থক্যের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিয়ে নয়, ঝুঁকি বাড়াতে পারে যেসব অভ্যাস
গবেষণাটির প্রধান লেখক এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলার স্কুল অব মেডিসিনের সিলভেস্টার সমন্বিত ক্যানসার কেন্দ্রের ক্যানসার-সংক্রান্ত জনস্বাস্থ্য গবেষণার অধ্যাপক পাওলো এস. পিনেইরোর মতে, যারা কখনো বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে ধূমপান, সংক্রমণ, ক্যানসার শনাক্তকরণের পরীক্ষা এবং প্রজনন-সংক্রান্ত অভ্যাসের ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকতে পারে।
এসব বিষয় ক্যানসারের ঝুঁকিকে প্রভাবিত করে বলে জানা গেছে। ফলে বৈবাহিক অবস্থা এখানে সরাসরি কারণ না হয়ে কিছু অন্তর্নিহিত ঝুঁকি বোঝার একটি নির্দেশক হিসেবে কাজ করতে পারে।
অর্থাৎ, ক্যানসারের ঝুঁকি বুঝতে শুধু কেউ বিবাহিত কি না, তা দেখলেই হবে না। তার জীবনযাপন, স্বাস্থ্যচর্চা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগও বিবেচনা করতে হবে।
নারীদের ক্ষেত্রে প্রজনন-ইতিহাস কেন গুরুত্বপূর্ণ?
নারীদের ক্ষেত্রে ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে প্রজনন-ইতিহাসের সম্পর্ক থাকতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারীর পূর্ণ মেয়াদে গর্ভধারণের সংখ্যা কম, তাদের ডিম্বাশয়, জরায়ুর অভ্যন্তরীণ আস্তরণ এবং স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন। আলোচ্য গবেষণায় প্রজনন-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাই গর্ভধারণের ইতিহাস এই গবেষণায় দেখা পার্থক্যের পেছনে কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা স্পষ্ট নয়।
বিয়ের চেয়ে সামাজিক সমর্থন কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
গবেষণার ফলাফল থেকে বিয়ে করাকে ক্যানসার প্রতিরোধের উপায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং মানুষের পাশে সহায়তাকারী কেউ আছেন কি না, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে তার সম্পর্ক কেমন এবং প্রয়োজনে তিনি চিকিৎসা নিতে পারছেন কি না—এসব বিষয়ের গুরুত্ব সামনে আসে।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, শক্তিশালী সামাজিক সমর্থন ক্যানসারের ঝুঁকি ও রোগের পরিণতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। অন্যদিকে সামাজিক সমর্থনের অভাব ক্যানসারজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি ১১ শতাংশ বেশি হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
একাকিত্বের সঙ্গে তামাক ও মদ্যপানের মতো অভ্যাসের সম্পর্কও থাকতে পারে। এসব অভ্যাস আবার নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে কেউ বিবাহিত কি না, তা দিয়ে তার সামাজিক যোগাযোগ বা সহায়তা পাওয়ার মাত্রা সব সময় বোঝা যায় না।
ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে কী করবেন?
গবেষণাটির মূল শিক্ষা হলো, বৈবাহিক অবস্থার চেয়ে ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ধূমপান এড়িয়ে চলা, ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকা, প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
পাশাপাশি পরিবার, বন্ধু ও কাছের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং অসুস্থ হলে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
সবশেষে মনে রাখতে হবে, এটি একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা। তাই এর ফলাফল দিয়ে প্রমাণ করা যায় না যে বিয়ে না করার কারণে ক্যানসার হয়। বরং বৈবাহিক অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক পার্থক্যগুলো বুঝে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য আরও কার্যকর প্রতিরোধ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা গড়ে তোলাই গবেষণাটির গুরুত্বপূর্ণ দিক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুরের পীরগঞ্জে শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খেজুর গাছ পরিষ্কার করে রস সংগ্রহের উপযোগী করা হচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলার পাঁচগাছি, শানেরহাট ও মিঠিপুর এলাকায় খেজুর গাছের আধিক্য থাকায় শীত মৌসুমে জমে ওঠে গুড় তৈরির কর্মযজ্ঞ। এ ছাড়া পানবাজার এলাকায় কয়েকটি স্থানে খেজুরের রস থেকে তৈরি করা হয় পাটালি গুড়।
স্থানীয় লোকজন রাস্তার পাশে, ফসলি জমির আইলে, বসতবাড়ির আঙিনায় ও পরিত্যক্ত জায়গায় বাণিজ্যিকভাবে খেজুর গাছ রোপণ করেছেন। এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরি করে গাছের মালিকেরা বাড়তি আয় করে থাকেন। বিশেষ করে পানবাজার এলাকায় কয়েক হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। প্রতিবছর এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হয়। গাছিদের কাছে গাছ বর্গা দিয়ে আয় করেন অধিকাংশ মালিকেরা।
শীত মৌসুমে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা থেকে প্রায় শতাধিক গাছি ও শ্রমিক পীরগঞ্জে আসেন। তাঁরা স্থানীয় জমির মালিকদের কাছ থেকে খেজুর গাছ বর্গা নিয়ে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির কাজ করেন। ভোর ৪টা থেকে গাছে উঠে হাঁড়িতে জমা রস সংগ্রহ করেন। পরে বড় কড়াইয়ে সেই রস জ্বাল দিয়ে তৈরি করেন সুস্বাদু খেজুরের গুড়।
মঙ্গলবার বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় গাছি মুক্তার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, “আমার বাবাও এই এলাকায় এসে খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরি করতেন। তিনি এখন আর নেই। বাপ-দাদার সেই পুরোনো ব্যবসা আমরা ধরে রেখেছি। এবার প্রথমে আটজন শ্রমিক মিলে প্রায় ৪০০টি খেজুর গাছ পরিষ্কার করে রস সংগ্রহের উপযোগী করেছি। ইতিমধ্যে সাড়ে তিনশ গাছ ফিনিশিং চাষ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী রোববার থেকে রস সংগ্রহ এবং গুড় তৈরির কাজ শুরু হবে। কয়েকদিনের মধ্যে এ এলাকায় শতাধিক শ্রমিক কাজে যোগ দেবেন।”
কাশিমপুর গ্রামের খেজুর গাছের মালিক মজিবুর রহমান জানান, তাঁদের রোপণ করা খেজুর গাছগুলো রাজশাহীর গাছিদের কাছে বর্গা দেওয়া হয়েছে। মৌসুম শেষে গাছপ্রতি দুই কেজি করে গুড় পান তাঁরা। আর প্রতিটি গাছ থেকে রস মৌসুমে প্রায় ২০ কেজি মতো গুড় পাওয়া যায়। তবে রস সংগ্রহ থেকে গুড় তৈরি পর্যন্ত গাছিদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। ভোরে গাছে উঠে রস সংগ্রহের পর তা জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করতে হয়।
স্থানীয়রা জানান, রাজশাহীর বাঘা উপজেলা থেকে আসা গাছিরা শীত মৌসুমে পীরগঞ্জে অস্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তাঁরা জমি ভাড়া নিয়ে খেজুরের ডালপালা দিয়ে অস্থায়ী ঘর তৈরি করেন। ঘরের উঠানে নির্মাণ করেন গুড় তৈরির চুল্লি। সেখানেই চলে রস জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরির কাজ। পরে পাইকারেরা এসব গুড় কিনে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে বিক্রি করেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জের তিনটি ইউনিয়নে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক খেজুর গাছ রয়েছে। কৃষকেরা বসতবাড়ির আঙিনা, ফসলি জমির আইল, রাস্তার পাশ ও পরিত্যক্ত স্থানে খেজুর গাছ রোপণ করছেন। এসব গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি শীত মৌসুমে রস ও গুড় উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি খেজুরের রস ও গুড় বিক্রি করে কৃষকেরা বাড়তি আয় করতে পারেন। পরিকল্পিতভাবে খেজুর গাছ রোপণ ও পরিচর্যা করা হলে এ খাতের সম্ভাবনা আরও বাড়বে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার পাশাপাশি গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গুড় উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৯ দিনের জন্য ছুটিতে যাচ্ছে। ১৬ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ছুটি শেষে ২৫ অক্টোবর থেকে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর আগে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটি, পরে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা ৯ দিন বন্ধ থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।
এদিকে, ছুটির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোও বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রভোস্ট কমিটির আহ্বায়ক ও কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক মো. হারুন।
তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি চলাকালীন সব হল বন্ধ থাকবে। এই সময়ে কোনো শিক্ষার্থী হলে অবস্থান করতে পারবে না। তবে বিশেষ কারণে কেউ হলে অবস্থান করলে হল অফিসে সংরক্ষিত রেজিস্টারে উপযুক্ত কারণ উল্লেখ করে নিজের পরিচয় লিপিবদ্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাকে নিজ দায়িত্বে থাকতে হবে। তবে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা চাইব, ছুটিতে হলে কেউ না থাকুক।
রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ নূরুল করিম চৌধুরী বলেন, একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৫ দিন সকল একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ৯ দিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। ছুটির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একটি কলেজ রয়েছে। সেই কলেজের অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সভাপতির পদে বসার জন্য ছয়জন প্রার্থী লড়াই করছেন। বগুড়ার গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা ডিগ্রি কলেজে পদ নিয়ে টানাটানির ফলে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
এই ছয়জনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি, আদালতের আদেশের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রমে।
এদিকে, গত ৯ অক্টোবর একটি স্থানীয় দৈনিকে দুর্গাহাটা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। অপর দুই পক্ষ এই বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
কলেজের সূত্র জানাচ্ছে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মোজাফফর হোসেন অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি পদত্যাগ করার পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হন ময়নুল আহসান। কিছুদিন পর তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে সংসদ সদস্য ও শিক্ষকদের সুপারিশে জিয়াউল ইসলাম জুয়েলকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দাবিদার ময়নুল আহসান জানিয়েছেন, কমিটি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে তিনি প্রায় ছয় মাস ধরে কলেজে যেতে পারছেন না। ফলে কলেজের দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা এবং পাসওয়ার্ডের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সভাপতি পদে বহুমুখী দ্বন্দ্ব ও ‘ডিও লেটার’
অধ্যক্ষের পদ ছাড়াও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির পদ নিয়ে তীব্র বিরোধ চলছে। সাখাওয়াত হোসেন লিটনকে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর আকিল আহম্মেদ মমিনকে সভাপতি এবং রবিউল আলম অশ্রুকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য করা হয়।
পরবর্তীতে সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন ডিও লেটার (আধাসরকারি পত্র) দিয়ে সংসদ সদস্য রবিউল আলম অশ্রুকে সভাপতি এবং আকিল আহম্মেদ মমিনকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সুপারিশ করেন।
অন্যদিকে, শাহজালাল মানিক নামের একজন ব্যক্তি নিজেকে কলেজের সভাপতি দাবি করছেন।
আদালতের আদেশ নিয়ে পাল্টাপাল্টি যুক্তি
কমিটির বৈধতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে পক্ষগুলোর বিরোধ আদালত পর্যন্ত পৌঁছেছে। একটি পক্ষের দাবি, শাহজালাল মানিকের নেতৃত্বাধীন কমিটির পরিচালনা ও নিয়োগ কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সভাপতি পদের দাবিদার আকিল আহম্মেদ মমিন বলেন, বর্তমানে তিনটি পৃথক কমিটি নিজেদের বৈধ দাবি করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গঠিত কমিটির বিরুদ্ধে তারা হাইকোর্টে রিট করেছিলেন এবং আদালতের রায়ের মাধ্যমে সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছি।
এদিকে, শাহজালাল মানিককে সভাপতি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন আকিল আহম্মেদ মমিন।
এ বিষয়ে জানতে শাহজালাল মানিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কলেজের প্রশাসনিক বিষয়টি এড়িয়ে যান।
কমিটি ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কলেজের জমিদাতা মো. আশরাফ আলী। বারবার কমিটি পরিবর্তনের কারণে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে দাবি করে দ্রুত শান্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আকুতি জানান তিনি।
প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে জানিয়ে কলেজের শিক্ষক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ঘন ঘন সভাপতি পরিবর্তন ও রিট দায়েরের ঘটনায় কলেজের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, দুর্গাহাটা ডিগ্রি কলেজে নিয়োগ প্রচেষ্টা এবং অপর পক্ষের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সভাপতি ও কমিটি চূড়ান্ত করার সম্পূর্ণ এখতিয়ার শিক্ষা বোর্ডের।
তিনি বলেন, প্রয়োজনে শিক্ষা বোর্ডে যোগাযোগ করে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ