প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একটি কলেজ রয়েছে। সেই কলেজের অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সভাপতির পদে বসার জন্য ছয়জন প্রার্থী লড়াই করছেন। বগুড়ার গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা ডিগ্রি কলেজে পদ নিয়ে টানাটানির ফলে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
এই ছয়জনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি, আদালতের আদেশের ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রমে।
এদিকে, গত ৯ অক্টোবর একটি স্থানীয় দৈনিকে দুর্গাহাটা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। অপর দুই পক্ষ এই বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
কলেজের সূত্র জানাচ্ছে, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মোজাফফর হোসেন অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি পদত্যাগ করার পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হন ময়নুল আহসান। কিছুদিন পর তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে সংসদ সদস্য ও শিক্ষকদের সুপারিশে জিয়াউল ইসলাম জুয়েলকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দাবিদার ময়নুল আহসান জানিয়েছেন, কমিটি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে তিনি প্রায় ছয় মাস ধরে কলেজে যেতে পারছেন না। ফলে কলেজের দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা এবং পাসওয়ার্ডের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সভাপতি পদে বহুমুখী দ্বন্দ্ব ও ‘ডিও লেটার’
অধ্যক্ষের পদ ছাড়াও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির পদ নিয়ে তীব্র বিরোধ চলছে। সাখাওয়াত হোসেন লিটনকে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর আকিল আহম্মেদ মমিনকে সভাপতি এবং রবিউল আলম অশ্রুকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য করা হয়।
পরবর্তীতে সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন ডিও লেটার (আধাসরকারি পত্র) দিয়ে সংসদ সদস্য রবিউল আলম অশ্রুকে সভাপতি এবং আকিল আহম্মেদ মমিনকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সুপারিশ করেন।
অন্যদিকে, শাহজালাল মানিক নামের একজন ব্যক্তি নিজেকে কলেজের সভাপতি দাবি করছেন।
আদালতের আদেশ নিয়ে পাল্টাপাল্টি যুক্তি
কমিটির বৈধতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে পক্ষগুলোর বিরোধ আদালত পর্যন্ত পৌঁছেছে। একটি পক্ষের দাবি, শাহজালাল মানিকের নেতৃত্বাধীন কমিটির পরিচালনা ও নিয়োগ কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সভাপতি পদের দাবিদার আকিল আহম্মেদ মমিন বলেন, বর্তমানে তিনটি পৃথক কমিটি নিজেদের বৈধ দাবি করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গঠিত কমিটির বিরুদ্ধে তারা হাইকোর্টে রিট করেছিলেন এবং আদালতের রায়ের মাধ্যমে সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছি।
এদিকে, শাহজালাল মানিককে সভাপতি করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন আকিল আহম্মেদ মমিন।
এ বিষয়ে জানতে শাহজালাল মানিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কলেজের প্রশাসনিক বিষয়টি এড়িয়ে যান।
কমিটি ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কলেজের জমিদাতা মো. আশরাফ আলী। বারবার কমিটি পরিবর্তনের কারণে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে দাবি করে দ্রুত শান্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আকুতি জানান তিনি।
প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে জানিয়ে কলেজের শিক্ষক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ঘন ঘন সভাপতি পরিবর্তন ও রিট দায়েরের ঘটনায় কলেজের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, দুর্গাহাটা ডিগ্রি কলেজে নিয়োগ প্রচেষ্টা এবং অপর পক্ষের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। সভাপতি ও কমিটি চূড়ান্ত করার সম্পূর্ণ এখতিয়ার শিক্ষা বোর্ডের।
তিনি বলেন, প্রয়োজনে শিক্ষা বোর্ডে যোগাযোগ করে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন