ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সংবাদ প্রকাশের জেরে নওগাঁয় নারীকে মারধরের অভিযোগ


সংবাদ প্রকাশের জেরে নওগাঁয় নারীকে মারধরের অভিযোগ

নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর এলাকায় সংবাদ সম্মেলনের ফলে শেফালী বেগম নামক এক নারীকে মারধর করার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সামনের এসেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের মুন্দিখৈর এলকায় এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, শেফালী বেগমের সঙ্গে স্থানীয় আনিসুর রহমানের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। সম্প্রতি আনিসুর রহমানের ভাতিজা কামাল হোসেন তাঁর নিজ বাড়িতে অটোচার্জার গাড়িতে চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে, পূর্বের বিরোধের কারণে আনিসুর রহমান শেফালীর বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এই বিষয়টি মাথায় রেখে, ১১ আগস্ট 'নিয়ামতপুরে ভূমিদস্যু ও মামলা বাণিজ্য আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন' শিরোনামে উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন শেফালী। পরে শেফালীর সংবাদ সম্মেলনের বিষয় বাংলাদেশে বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়।

আরও পড়ুন: দিরাই বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক আব্দুর শহিদ চৌধুরীর নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

অভিযোগে জানানো হয়, ওই সংবাদ প্রকাশের পরবর্তী সময়ে, শুক্রবার সকালে শেফালী বেগম মাঠের দিকে ছাগল নিয়ে যাওয়ার সময় মুন্দিখৈর এলাকায় আনিসুর রহমানের দোকানের সামনে পৌঁছালে, দেলোয়ার হোসেন, জিল্লুর রহমান, তানজিলা, শাহাদাত, মাহাবা, বেবি ও আনিসুর রহমান তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে, তাঁর পথরোধ করে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

শেফালী বেগম বলেছেন, 'আজ সকালে রাস্তা অবরোধ করে আমাকে মারধর করেছে। আমার চিৎকার শুনে স্বামী এগিয়ে এলে তাঁকেও এবং আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। আমরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় আছি। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আমাদের জন্য বিচার দাবি করছি।'

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের বক্তব্য জানা যায়নি। নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান এই ঘটনার ব্যাপারে জানিয়েছেন, 'অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।'

আরও পড়ুন: কাঠালিয়ায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও পরামর্শে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন কৃষকরা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহিবুল্লাহ সিফাতের নিরলস প্রচেষ্টা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘায়েল করছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:০৪ পি.এম


ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘায়েল করছে ইরান

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার প্রয়োগ করা সামরিক কৌশল এবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছে ইরান।

আকাশ প্রতিরক্ষাকে বিভ্রান্ত করতে কোনো একক অস্ত্রের ওপর নির্ভর না করে একসঙ্গে ড্রোন, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে সমন্বিত আক্রমণ চালাচ্ছে তেহরান।

মূলত মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ানো এবং ব্যয়বহুল ‘প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর’ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত শেষ করে দেওয়াই এই কৌশলের মূল লক্ষ্য। জর্ডানের তিনটি মার্কিন ঘাঁটিতে টানা পাঁচ দিন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ঢেউ পাঠায় ইরান।

এর মধ্যে এমন কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, যা আকাশে হঠাৎ দিক পরিবর্তন করতে পারে। প্রথম চার দিন যুক্তরাষ্ট্র বেশিরভাগ হামলা ঠেকালেও ১৭ জুলাই একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ভেদ করে মার্কিন ঘাঁটির অস্থায়ী আবাসে আঘাত হানে।

এই হামলায় ৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক আহত হন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, প্রায় সব ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা গেলেও একটি ভেতরে ঢুকে পড়ে।

জানা গেছে, চলমান এই যুদ্ধে পেন্টাগন ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যবহার করে ফেলেছে এবং তাদের কাছে এখন ১ হাজার ৭০০টিরও কম মিসাইল অবশিষ্ট রয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক সেথ জি জোন্স জানান, ইউক্রেনে ব্যবহৃত রুশ কৌশল দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নিরাপত্তাকে কঠিন করে তুলছে ইরান।

যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রগুলো মেরামত করে তারা আবারও আক্রমণ শুরু করেছে। এমনকি মাটির ৩০০ ফুটেরও বেশি গভীরে ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এর মতো অতি সুরক্ষিত স্থানে নিজেদের পরমাণু সরঞ্জাম ও শীর্ষ নেতৃত্বকে নিরাপদ রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়ার গভীরে ইউক্রেনের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে জানতে চাইল মস্কো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:০৬ পি.এম


রাশিয়ার গভীরে ইউক্রেনের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে জানতে চাইল মস্কো

রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের গভীরে বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন।

আর এই হামলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গভীর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে মস্কোর ধারণা।

ইউক্রেনকে দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যের পাশাপাশি এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কী ধরনের সহায়তা করছে, সে সম্পর্কে ওয়াশিংটনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জবাব চেয়েছে রাশিয়া।

শুক্রবার সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে লিখিতভাবে এসব প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হয়েছে।

তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর প্রাপ্ত হয়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মূলত মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার চেষ্টা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

ফলস্বরূপ, ইউক্রেন নিয়ে কোনো শান্তি আলোচনা আর এগোয়নি।

লাভরভ এক বছরের আগে এক শীর্ষ সম্মেলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

তিনি জানান, ওই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া শান্তি প্রস্তাব রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মেনে নিয়েছিলেন।

পুতিন তখন বলেছিলেন, কিছু বিষয়ে আপসের চাহিদা থাকলেও ট্রাম্পের প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করছেন।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এমন চুক্তির অস্তিত্ব অস্বীকার করে জানান, চুক্তি হলে যুদ্ধ এতদিনে শেষ হয়ে যেত।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ রিপোর্ট করেছেন, ট্রাম্পের দূতেরা নতুন কী প্রস্তাব নিয়ে আসেন, তা দেখতে পুতিন তাদের আবারও স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।

বর্তমানে পঞ্চম বছরে গড়ানো এই যুদ্ধে ইউক্রেন এখনও পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে সামরিক সহায়তা পাচ্ছে, যদিও রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে তাদের ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি রয়েছে।

তবে লাভরভ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কিয়েভকে দেওয়া পশ্চিমা সামরিক সরবরাহ ধ্বংস করতে মস্কো তাদের হামলা আরও জোরদার করতে প্রস্তুত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেপটিক ট্যাংকে শ্রমিকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:০৯ পি.এম


সেপটিক ট্যাংকে শ্রমিকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগে মামলা

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে নবনির্মিত সেপটিক ট্যাংকে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে বাবুরাম দেবসিংহ (৩১) নামের এক রাজমিস্ত্রি শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের চাচা বুদ্ধ চরণ দেবসিংহ। এদিকে, অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা মামলা তদন্তের পাশাপাশি মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে ঘটনার এবং মামলার বিষয়টি সময় সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসা মিয়া। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের অমরখানা জামুড়ীতলী গ্রামে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়।

মৃত বাবুরাম দেবসিংহ উপজেলা চিলাহাটি ইউনিয়নের বলরামপুর নিজধাম গ্রামের মৃত আর্যমোহন দেবসিংহের ছেলে ছিলেন। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রি শ্রমিক। এই ঘটনার ফলে গৌতম চন্দ্র রায় নামের এক শ্রমিক দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপর শ্রমিক ভাগ্য রায় সুস্থ বোধ করায় বাড়িতে ফিরে গেছেন।

মামলার এজাহারে অভিযুক্তরা হচ্ছেন, অমরখানা জামুড়ীতলী এলাকার বাসিন্দা ও শালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য রাব্বি হোসেন (৩৮), বাবুল হোসেন (৪৪), জুয়েল ইসলাম (৩৩), বলরামপুর প্রগতিপাড়া এলাকার উত্তম রায় (২৮), অমরখানা জামুড়ীতলীর এলাকার লাভলী বেগম (৪২), রানা সরকার (২৬), সাইফুল ইসলাম (২৭), মজিবুল ইসলাম (৫৪)।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার সময় অভিযুক্ত রাব্বি ও উত্তম রায় বাবুরাম দেবসিংহকে নবনির্মিত সেপটিক ট্যাংক সংস্কারের কাজের জন্য ডেকে নিয়ে যান। সেপটিক ট্যাংকটি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকনা দিয়ে বন্ধ থাকায় সেখানে বিষাক্ত গ্যাসের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ থেকে জানা যায়, যথাযথ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার অভাব এবং কোনো সতর্কতা না নিয়ে অবহেলা ও দায়সারাভাবে বাবুরামকে সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে নামিয়ে দেওয়া হয়।

ট্যাংকে নামার পরপরই বাবুরাম বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই সময় অভিযুক্তরা বাবুরামকে উদ্ধার করতে কোনো ব্যবস্থা না করায় সময়ক্ষেপণ করেন। এর ফলে বাবুরাম সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের কারণে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান। পরে অভিযুক্তরা বাবুরামের মৃতদেহ সেপটিক ট্যাংক থেকে বের করে একটি অটোভ্যানযোগে নিহতের গ্রামের বাড়ি বলরামপুর নিজধামে বাড়ির উঠানে রেখে পালিয়ে যান।

ঘটনার পরপরই দেবীগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য দেবীগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার রাতেই, নিহতের চাচা ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অবহেলার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেন।

নিহতের চাচা বুদ্ধ চরণ দেবসিংহ অভিযোগ করে জানান, বাড়ির মালিক ও সংশ্লিষ্টদের চরম অবহেলা এবং যথাসময়ে উদ্ধার না করার কারণেই রাজমিস্ত্রি বাবুরামের এই অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

এদিকে, মামলার প্রধান আসামি ও শালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য রাব্বি হোসেন দাবি করছেন যে, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি বলেছেন যে, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে। একই সাথে বাড়ির মালিক নবির হোসেন বলেন, তিনি ঢাকায় ছিলেন। ঘটনার দিন শ্রমিকরা মূলত জানালার কাজ করতে এসেছিলেন। সেফটি ট্যাংকটি প্রায় দেড় মাস আগে নির্মাণ করা হয়। জানালার কাজ শেষে হেড মিস্ত্রী উত্তম রায়ের নির্দেশে শ্রমিকরা ট্যাংকের ভেতরে ঢোকেন। তিনি দাবি করেন, তাদের ট্যাংকের ভেতরে ঢুকতে বাধ্য করা হয়নি। তার মা তখন বাড়িতে একা ছিলেন। শ্রমিকদের ডাকাডাকি শুনে তিনি এগিয়ে গিয়ে তাদের অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন।

এদিকে, আরেক শ্রমিক ভাগ্য রায়ের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, হেড মিস্ত্রি বাবুরাম ও গৌতমকে সেফটি ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে বলেছিলেন। প্রথমে বাবুরাম, পরে গৌতম ভেতরে ঢোকেন। তাদের বের করতে তিনি ভেতরে ঢুকে পড়েন কিন্তু নিঃশ্বাস নিতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে যান। পরে জ্ঞান ফিরলে তিনি দেখতে পান, তাকে অটোতে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বাবুরাম বা তারা এর আগে কখনো সেফটি ট্যাংকের ভেতরে সেন্টারিংয়ের কাজ করেনি।

দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসা মিয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সময় সংবাদকে বলেন, মূলত অবহেলার অভিযোগ তুলে ঘটনাপ্রবাহের দিন গভীর রাতে মামলাটি দায়ের করেন নিহতের চাচা। এদিকে, এজাহারটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সাথে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে চালু হচ্ছে বিশেষ অজু ব্যবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১১ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে চালু হচ্ছে বিশেষ অজু ব্যবস্থা

মুসলিম যাত্রীদের নামাজের আগে অজু করার সুবিধা দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের টার্মিনাল ডি-এর পুরুষ ও নারীদের রেস্টরুমে আলাদা অজু স্টেশন স্থাপন করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৩ লাখ ডলার এবং এটি চলতি বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হবে।

টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব লাইসেন্সিং অ্যান্ড রেগুলেশনের নথি অনুসারে, প্রকল্পটি গত ৩১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়েছে। টার্মিনাল ডি-এর কনকোর্স লেভেলে একটি পুরুষদের রেস্টরুমের জন্য একটি অজু স্টেশন এবং একটি নারীদের রেস্টরুমের জন্য আরেকটি অজু স্টেশন স্থাপন করা হবে।

বেসরকারি তহবিলের মাধ্যমে প্রকল্পের সমস্ত অর্থ আসছে। নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৩ লাখ ডলার। পরিকল্পনার অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ নতুন অজু স্টেশনগুলোর কাজ সম্পন্ন হবে।

ইসলামে নামাজের আগে অজু করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় বিধান। অজু করার সময় মুখ, হাত ও শরীরের নির্দিষ্ট অংশ পানি দিয়ে ধোয়া হয়। সাধারণ রেস্টরুমের উঁচু সিঙ্কে পা ধোয়া অনেক যাত্রীর জন্য অসুবিধাজনক। সেজন্য নিচু উচ্চতায় বিশেষভাবে তৈরি অজু স্টেশন ব্যবহার করা হয়।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মীয় প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও রেস্টরুমের অবকাঠামো রক্ষার বিষয়টিও নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার পেছনে রয়েছে। সাধারণ সিঙ্কে পা ধোয়ার সময় মেঝেতে পানি পড়ে সেটি পিচ্ছিল হয়ে যেতে পারে। এর পাশাপাশি সিঙ্কের কাউন্টারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়লে ক্ষতির ঝুঁকির সম্ভাবনাও থাকে। আলাদা অজু স্টেশন স্থাপন করলে এসব সমস্যা কমানো সম্ভব হবে।

ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের জন্য অজুর ব্যবস্থা একেবারেই নতুন নয়। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, টার্মিনাল ডি-এর গেট ডি৪০-এর কাছে থাকা ইন্টারফেইথ চ্যাপেল ২০১৯ সালে নতুনভাবে চালুর সময় দুটি অজু স্টেশন স্থাপন করা হয়েছিল। নতুন প্রকল্পে এবার সরাসরি টার্মিনাল ডি-এর সাধারণ পুরুষ ও নারীদের রেস্টরুমে আলাদা অজু স্টেশন যুক্ত হচ্ছে।

টার্মিনাল ডি মূলত ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনের ফ্লাইট ওঠানামা করে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মুসলিম যাত্রীদের প্রতিদিন এই টার্মিনাল ব্যবহার করার সুযোগ থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে এ ধরনের সুবিধা ডালাসে প্রথম নয়। শিকাগো ও'হেয়ারসহ কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের জন্য অজু করার বিশেষ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ধর্মের মানুষের জন্য ইন্টারফেইথ প্রেয়ার স্পেস রয়েছে।

ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দরেও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মের যাত্রী ও কর্মীদের জন্য ইন্টারফেইথ চ্যাপেল পরিচালিত হচ্ছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জানান, টার্মিনাল ডি-এর চ্যাপেলে মুসলিমদের জুমার নামাজের ব্যবস্থাও রয়েছে।

নতুন অজু স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ ধর্মীয় সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তবে অনেকেই এটিকে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখছেন।

সরকারি নথিতে প্রকল্পের পরিধি স্পষ্ট। টার্মিনাল ডি-এর বিদ্যমান রেস্টরুমে পুরুষ ও নারী যাত্রীদের জন্য দুটি আলাদা অজু স্টেশন যোগ করাই মূল কাজ। এর ফলে মুসলিম যাত্রীরা নামাজের আগে অজু করার জন্য সাধারণ সিঙ্ক ব্যবহারের পরিবর্তে নির্ধারিত জায়গা ব্যবহার করতে পারবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%