ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মুক্তাগাছায় গণশুনানিতে দুর্নীতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের প্রতিশ্রুতি


মুক্তাগাছায় গণশুনানিতে দুর্নীতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের প্রতিশ্রুতি

মুক্তাগাছায় অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে অভিযোগকারীরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের পক্ষ থেকে সমাধানের প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে সরকারি দপ্তরগুলোর তরফ থেকে। সোমবার উপজেলা প্রশাসন, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক) মুক্তাগাছার যৌথ উদ্যোগে স্থানীয় জেলা পরিষদ ডাক বাংলো মাঠে এই গণশুনানির আয়োজন করে।

গণশুনানির সভাপতিত্ব করেন সনাক মুক্তাগাছার সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সবুর। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কৃষ্ণ চন্দ্র এবং দুর্নীতি দমন কমিশন ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয় উপ-পরিচালক রনজিৎ কুমার কর্মকার।

শুনানিতে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, উপজেলা সমাজসেবা অফিস, উপজেলা সাব-রেজিস্টার অফিস, উপজেলা ভূমি অফিস, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস প্রধানরা অংশগ্রহণ করেন এবং সুবিধাভোগীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। প্রায় ৪ শতাধিক সাধারণ নাগরিক এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এতে ১৭ জন অংশগ্রহণকারী উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের সেবা খাত বিষয়ে মোট ২৩টি অভিযোগ ও পরামর্শ উত্থাপন করেন।

আরও পড়ুন: বরিশালে বালু ব্যবসায়ীকে ৪ লাখ জরিমানা, মা ইলিশ অভিযানে ৮ জন দণ্ডিত

সরকারি সেবা প্রদানকারী অফিসারদের মধ্যে গণশুনানিতে অংশ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) লুবনা আহমেদ লুনা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমন কান্তি সাহা, মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল ইসলাম, উপজেলা শিক্ষা অফিসার কবিতা নন্দী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাকিয়া আক্তার, সাব রেজিস্ট্রার এস এম শফিউল বারী এবং উপজেলা সমাজ সেবা অফিসারের প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান।

টিআইবির এরিয়া কোঅর্ডিনেটর মো: দেলোয়ারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো: আখতারুজ্জামান এবং সনাক সদস্য এম ইদ্রিছ আলী। এতে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন আকন্দসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গণশুনানিতে অভিযোগকারীগণ কর্তৃক উত্থাপিত বিষয়ের মধ্যে ছিল, উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানসমূহ থেকে সেবা পেতে হয়রানি, স্বজনপ্রীতি, দালালদের দৌরাত্ম, সেবা পেতে বিলম্ব, ঘুষ লেনদেনের জন্য বাধ্য করা, নামজারি বা খারিজ করতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, রশিদ ব্যতীত অর্থ লেনদেন, কর্মকর্তার অনুপস্থিতি, অফিসের সময়সূচি অনুসরণ না করা, দায়িত্বে অবহেলা, অভিযোগ ও পরামর্শ বক্সের অভাব, ভয়ভীতি প্রদর্শন, সেবাগ্রহীতাদের প্রতি মনযোগের ঘাটতি, তথ্য প্রকাশে অনীহা, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি ইত্যাদি। এছাড়া, মাদক নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, অবৈধভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত করা, প্রশাসনিক বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসনের জন্য অনুরোধ করেন অংশগ্রহণকারীগণ।

দুদকের উপ-পরিচালক রনজিৎ কুমার কর্মকার গণশুনানিতে উত্থাপিত ইস্যুসমূহের সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ ও সুপারিশ করেন। উত্থাপিত অভিযোগসমূহ সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। এসময় তিনি অংশগ্রহণকারীদের দুর্নীতি হ্রাস, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিকারে নানাবিধ আইন ও পদ্ধতি বা টুলস ব্যবহারের পরামর্শ দেন। যেকোনো অভিযোগের সমাধান পেতে তার দপ্তরে দ্রুত জানানোর জন্যও তিনি উৎসাহিত করেন। উল্লেখ্য, উক্ত গণশুনানির পূর্বে আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস উপলক্ষে ওয়েব পোর্টাল স্টাডির প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়। এছাড়া এ দিবসকে কেন্দ্র করে তথ্য অধিকার বিষয়ক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়।

আরও পড়ুন: ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ দুই জেলে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেলান্দহে ইসলামি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা (নাশিদ) অনুষ্ঠিত, প্রধান অতিথি সচিব এহছানুল হক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২৬ এম


মেলান্দহে ইসলামি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা (নাশিদ) অনুষ্ঠিত, প্রধান অতিথি সচিব এহছানুল হক

জামালপুরের মেলান্দহে ইসলামি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা (নাশিদ) ২৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানটি ইসলামি ছাত্র আন্দোলনের ৩৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে মেলান্দহ শাখা দ্বারা আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব একেএম এহছানুল হক।

ইসলামি ছাত্র আন্দোলন মেলান্দহ শাখার সভাপতি ইলিয়াস আহমাদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক কবি আল আমিন রুহানী।

অনুষ্ঠানে জামালপুর-৩ আসনে ইসলামি আন্দোলনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি জাহিদুল ইসলাম, জামালপুর ইসলামি আন্দোলনের সেক্রেটারি মাও. সুলতান মাহমুদ সিরাজী, সংগঠনের মেলান্দহ শাখার সভাপতি মাও. আনোয়ার হোসাইন, সম্পাদক মাও. মোখলেসুর রহমান এবং স্বরকলার সম্পাদক একেএম জাকিরুল হক মিন্টু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহে বস্তাবন্দি মরদেহের রহস্য উদ্ঘাটন, প্রধান আসামী শামীম মিয়া গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২৬ এম


ময়মনসিংহে বস্তাবন্দি মরদেহের রহস্য উদ্ঘাটন, প্রধান আসামী শামীম মিয়া গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বেগুনবাড়ী স্লুইসগেট এলাকায় পানিতে ভাসমান একটি ড্রাম থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। এই ঘটনার চার দিন পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) রহস্য উদ্ঘাটন করেছে। প্রধান আসামী শামীম মিয়াকে (৩৮) গাজীপুরের বোর্ড বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত শামীম মিয়া নেত্রকোনার কমলাকান্দা উপজেলার কৃষ্টপুর গ্রামের জালাল মিয়ার ছেলে, এবং তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গলগন্ডা এলাকায় বসবাস করতেন। নিহত নিরঞ্জন ধর (৫৪) ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানাধীন রমেন্দ্র চন্দ্র সুত্রধরের ছেলে। তিনি ময়মনসিংহ নগরীর আউটার স্টেডিয়ামে এলাকায় একটি বাড়িতে বসবাস করতেন। পিবিআই ময়মনসিংহ কার্যালয়ে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এই তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার জানান, শামীম হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামী। নিহত ব্যক্তি ময়মনসিংহের স্বর্ণকার ও অটোরিকশার মালিক নিরঞ্জন ধর। গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে বেগুনবাড়ী স্লুইসগেট এলাকায় পানির নিচে একটি ড্রামের ভেতর থেকে বস্তাবন্দী মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরদেহের ছবি ছড়িয়ে পড়লে নিখোঁজ নিরঞ্জন ধরের পরিবারের সদস্যরা ছবি দেখে তাঁকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সবিতা রানী ধর বাদী হয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআই স্ব-উদ্যোগে তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে।

পিবিআই জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই ময়মনসিংহ জেলা পিবিআইয়ের একটি বিশেষ দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। পিবিআই সদর দপ্তরের সহযোগিতা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে গতকাল ২৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুরের গাছা থানার বোর্ডবাজারের বটতলার সর্দার মার্কেট এলাকা থেকে শামীম মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সেখানে তাঁর শ্যালক মাসুদ রানার ভাড়া বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন।

পিবিআইয়ের দাবি, নিরঞ্জন ধরের চারটি অটোরিকশা ছিল, যা ময়মনসিংহের খাগডহর এলাকার সততা গ্যারেজে রাখা হতো। শামীম ওই গ্যারেজের ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন। এই সূত্রে নিরঞ্জনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। নিরঞ্জন নিয়মিত শামীমের বাসায় যাতায়াত করত। শামীমের বাবা-মা বাসায় না থাকার সুযোগে শামীম তাঁর ভাড়া বাসায় মেয়ে নিয়ে এসে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতেন। একদিন শামীমের অসতর্কতার সুযোগে নিরঞ্জন ধর একটি আপত্তিকর ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। এরপর থেকে শামীমকে ক্রমাগত ব্ল্যাকমেইল ও টাকা দাবি করতে থাকেন।

পিবিআই বলছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে শামীমের ভাড়া বাসায় গিয়ে নিরঞ্জন আবারও টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শামীম ঘরে থাকা শিল দিয়ে নিরঞ্জনের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাঁর মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া হয়। পরে বটি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়, যা তাঁর মৃত্যু ঘটায়। হত্যার পর মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন শামীম। প্রথমে একটি চটের বস্তায় মরদেহটি ভরে একটি প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে রাখা হয়। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর রাত আটটার দিকে একটি মিশুক (ইজিবাইক) এনে ড্রামটি বেগুনবাড়ী স্লুইসগেট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ড্রামটি পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।

গতকাল ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে শামীমের দেখানো মতে তাঁর ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত শিল ও বটি জব্দ করেছে পিবিআই।

পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়েছিল। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পিবিআইয়ের কর্মকর্তা ও সদস্যদের প্রচেষ্টায় দ্রুততম সময়ে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নকলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন চালুর উদ্যোগ গ্রহণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২৭ এম


নকলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন চালুর উদ্যোগ গ্রহণ

শেরপুরের নকলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণের জটিলতা প্রায় দুই দশক পর শেষ হয়েছে। জমি নিয়ে চলমান মামলার কারণে ২০১২ সালে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের ফলে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে চলতি বছরের ১৬ আগস্ট সরকারের পক্ষে আদালতের রায় আসার পর নকলাবাসী নতুন করে আশার আলো দেখছেন। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে স্টেশনটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নকলা উপজেলা ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এখানে প্রায় তিন লাখ মানুষের বসবাস রয়েছে। জনবহুল এই এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন নয়, কিন্তু এখানে নিজস্ব কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় আগুন লাগলে পাশের উপজেলা কিংবা জেলা সদর থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির আসার জন্য অপেক্ষা করতে হয়।

এদিকে, আগুন ছড়িয়ে পড়লে বসতঘর, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ে। নকলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ প্রায় ২০ বছর আগে নেওয়া হয়েছিল। ভবনের বড় একটি অংশ নির্মাণও হয়েছিল, কিন্তু জমির মালিকানা নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে পুরো প্রকল্প থেমে যায়।

জানা গেছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা সদরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপনের প্রকল্পের আওতায় ২০০৬ সালে নকলায় স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর জন্য নকলা পৌর এলাকায় ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কের পাশে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। তৎকালীন হিসাবে প্রকল্পটির ব্যয় ছিল ৩৫ লাখ ৭৪ হাজার ৭২৪ টাকা। তবে, অধিগ্রহণ করা জমিটি নিজেদের নামে রেকর্ডভুক্ত দাবি করে নির্মাণকাজে বাধা দেন নকলার দুই ভাই কেশব প্রসাদ ও দুধনাথ প্রসাদ। পরে স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতায় নির্মাণকাজ ফের শুরু হলেও ২০০৬ সালেই তারা আদালতে মামলা করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০১২ সালে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ আসে, যার ফলে প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর নির্মাণকাজ থেমে যায়।

নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় নকলা উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভবনটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। ভবনের বিভিন্ন অংশে জমেছে ধুলা-ময়লা, এবং কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে জরাজীর্ণতার ছাপ। ভবনের চারপাশে গজিয়েছে আগাছা-লতাপাতা। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না হওয়ায় পুরো স্থাপনাটি অনেকটা পরিত্যক্ত ভবনের মতোই দেখাচ্ছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে প্রথমে খবর দেওয়া হয় পাশের উপজেলা কিংবা জেলা সদরের ফায়ার সার্ভিসকে। কিন্তু দূরত্বের কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। এই সময়ের মধ্যে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই পুড়ে যায় ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ফলে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা একটি নিজস্ব ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দাবি জানিয়ে আসছেন।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মো. জানে আলম জানান, নকলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে বন্ধ ছিল। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আদালতে মামলা চলেছে। ফলে নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, গত ১৬ আগস্ট সরকারের পক্ষে আদালতের রায় হওয়ায় দীর্ঘদিনের সেই আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কাজ শেষ হলে পরে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একনেকে মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণে ৭৫১ টাকার প্রকল্প অনুমোদন, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীকে অভিনন্দন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:২৭ এম


একনেকে মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণে ৭৫১ টাকার প্রকল্প অনুমোদন, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীকে অভিনন্দন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদীর অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এ প্রকল্প অনুমোদনের খবরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলামকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদীর অববাহিকায় বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে এ প্রকল্প অনুমোদন নোয়াখালীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের নদী ভাঙন, বন্যা, জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশনসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানিয়ে নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মো. গোলাম মোমিত ফয়সাল বলেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু ও যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে নদীভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট প্রবল বর্ষণ ও উজানের ঢলে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুরে অবস্থিত ২৩ ভেন্টের রেগুলেটরটি ভেঙে যায়। এতে ছোট ফেনী নদী ও আশপাশের এলাকায় নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। পরে রেগুলেটরটি পুনর্র্নিমাণ এবং নদী ব্যবস্থাপনা ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%