ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আগস্টে লোকালয় থেকে উদ্ধার ২০ বন্যপ্রাণী, ১৭টিই বিভিন্ন প্রজাতির সাপ


আগস্টে লোকালয় থেকে উদ্ধার ২০ বন্যপ্রাণী, ১৭টিই বিভিন্ন প্রজাতির সাপ

আগস্ট মাসে লোকালয় থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২০টি বন্যপ্রাণী, যার মধ্যে ১৭টি বিভিন্ন প্রজাতির সাপ রয়েছে।

 

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, যেখানে চা-বাগান, বন, টিলা এবং জলাভূমি রয়েছে, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ আধার হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুন: কাউখালীতে বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ আহত ৪, পুলিশের জিম্মায় গাড়ি

 

তবে, এই প্রকৃতির বাসিন্দারা বারবার মানুষের বসতবাড়ি, আবাসিক এলাকা, কৃষিজমি এবং খামারে ঢুকে পড়ছে। কখনো দেখা যাচ্ছে ঘরের সিলিংয়ে অজগর, কখনো মাছ ধরার জালে দাঁড়াশ, আবার কখনো বসতঘরে বিষধর শঙ্খিনী—এভাবে লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি বাড়ছে।

শুধুমাত্র আগস্ট মাসে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন ২০টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে। ১ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া প্রাণীদের মধ্যে ১৭টি বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, একটি শঙ্খচিল এবং দুটি বানর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

আরও পড়ুন: পাঁচ শিক্ষকেই ৫ শত ৫০ শিক্ষার্থীর পাঠদান, শিক্ষক সংকটে ভুগছে ভাণ্ডারিয়ার একমাত্র সরকারি বালিকা বিদ্যালয়

উদ্ধার হওয়া সাপের মধ্যে অজগরের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা ৯টি, যার মধ্যে একটি মৃত অবস্থায় ছিল।

বন্যপ্রাণীর লোকালয়ে প্রবেশের ঘটনা পরিবেশকর্মী এবং বন্যপ্রাণী সংশ্লিষ্টদের কাছে নিছক বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তাদের মতে, বনভূমির সংকোচন, প্রাকৃতিক আবাসস্থলে মানুষের অনুপ্রবেশ, খাদ্য এবং নিরাপদ আশ্রয়ের পরিবর্তন, এবং বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে সড়ক ও রেলপথ নির্মাণের মতো বিষয়গুলো বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণকে প্রভাবিত করছে। তবে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, বর্ষা এবং গরমের মৌসুমে বন্যপ্রাণীর চলাচল বৃদ্ধি পাওয়াও লোকালয়ে আসার একটি কারণ হতে পারে।

 

আগস্টের প্রথম দিকে হাইল হাওরের ধানখেত থেকে অজগর উদ্ধারের মাধ্যমে মাসব্যাপী এই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ২ আগস্ট হাইল হাওর থেকে একটি অজগর, ৩ আগস্ট আরামবাগ থেকে একটি বেত আঁচড়া এবং উত্তর ভাড়াউড়া থেকে আরেকটি অজগর উদ্ধার করা হয়। ৪ আগস্ট পূর্বাশা আবাসিক এলাকা থেকে উদ্ধার হয় আরো একটি বেত আঁচড়া। ৬ আগস্ট হাইল হাওর থেকে উদ্ধার করা হয় একটি মৃত অজগর।

আরও পড়ুন: জিয়ানগরে অগ্নিকান্ডে ২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ২টি বসতঘর পুড়ে ছাই, ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন এমপি মাসুদ সাঈদী

এরপর ১২ আগস্ট শাহীবাগ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি শঙ্খচিল।

 

পরদিন ৫ নম্বর পুল এলাকা থেকে একটি অজগর এবং ১৪ আগস্ট হাইল হাওর থেকে আরো একটি অজগর উদ্ধার করা হয়। ১৩ আগস্ট উদ্ধার হওয়া অজগরটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১২ ফুট এবং ওজন ছিল প্রায় ১৬ কেজি। পরে সেটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

১৫ আগস্ট ছিল উদ্ধার অভিযানের একটি ব্যস্ত দিন। ওই দিন রূপশপুর থেকে একটি তক্ষক, নোয়াগাঁও থেকে দাঁড়াশ সাপ, উত্তর ভাড়াউড়া ৫ নম্বর বস্তি থেকে একটি লজ্জাবতী বানর এবং বারিধারা আবাসিক এলাকা থেকে একটি বিরল প্রজাতির সাপ উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: ফেনীর সীমান্তে বিজিবি’র পৃথক অভিযানে ৩৬ কেজি গাঁ-জা, ৪৭ বোতল ফেন্সিডিল এবং ০৫ বোতল ভারতীয় ম-দ জব্দ

নোয়াগাঁওয়ে মাছ ধরার জালে আটকে পড়া দাঁড়াশ সাপটিকে স্থানীয়রা না মেরে ফাউন্ডেশনে খবর দেন। পরে উদ্ধারকারী দল গিয়ে সাপটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। স্থানীয়দের এই সচেতনতা বন্যপ্রাণী রক্ষায় ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এরপর ১৯ আগস্ট মাঝেরগাঁও থেকে একটি শঙ্খিনী সাপ এবং ২১ আগস্ট শ্যামলী আবাসিক এলাকা থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট একটি উল্টোলেজি বানর উদ্ধার করা হয়। ২৫ আগস্ট পূর্বাশা আবাসিক এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় আরেকটি শঙ্খিনী সাপ। অত্যন্ত বিষধর এই সাপটিকেও নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

মাসের শেষ সপ্তাহেও উদ্ধার কার্যক্রম থেমে থাকেনি। ২৬ আগস্ট ভাড়াউড়া বাগান রোড থেকে একটি অজগর এবং সিন্দুরখান ইউনিয়নের কুঞ্জবন এলাকা থেকে বিরল সাইবোল্ডস ওয়াটার স্নেক উদ্ধার করা হয়। পরে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সাপটির প্রজাতি শনাক্ত করা হয়। ২৮ আগস্ট ভাড়াউড়া ৫ নম্বর বস্তি কোয়ার্টার, ২৯ আগস্ট সাতগাঁও-খিলগাঁও এবং ৩০ আগস্ট ইছবপুর থেকে আরো তিনটি অজগর উদ্ধার করা হয়।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, ‘বনের ভেতরে খাবারের সংকট এবং বসবাসের অনুপযোগী পরিবেশের কারণে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে।’

আরও পড়ুন: ছুরি-সুইস গিয়ার ও কস্টেপ নিয়ে বাসায় হানা: কাউনিয়ায় আটক মুখোশধারী দস্যু

তিনি জানান, ‘উদ্ধার করা প্রাণীগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও পরিচর্যা দিয়ে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।’

বন উজাড়ের বিষয়টি উল্লেখ করে সজল বলেন, ‘বন উজাড় হচ্ছে, খাবার না থাকলে প্রাণী কীভাবে থাকবে? এ বিষয়ে বন বিভাগের আরো গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।’

হাইল হাওর থেকে অজগর উদ্ধারের একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্বপন দেব সজল বলেন, ‘কৃষকেরা প্রথমে সাপটিকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরে স্থানীয় একজন ব্যক্তি বাধা দিয়ে ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল গিয়ে অজগরটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে।’

পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ বলেন, ‘বন্যপ্রাণী দেখলেই আতঙ্কিত হয়ে অনেক সময় মানুষ সেটিকে হত্যা করেন। অথচ এসব প্রাণী প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

আরও পড়ুন: মুখোশ পরে দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে গুলি

তিনি বলেন, ‘বাড়ি বা লোকালয়ে সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল বা বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।’

তার মতে, সাপসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই লোকালয়ে চলে আসা প্রাণীকে হত্যা না করে নিরাপদে উদ্ধার করে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে।

বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক বলেন, ‘উদ্ধার করা বন্যপ্রাণীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিরাপদ প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আগস্টের শুরুতে উদ্ধার করা অজগরটির ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে বনে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।’

এক মাসে এত বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসার কারণ জানতে চাইলে নাজমুল হক বলেন, ‘এখন গরম ও বর্ষার সময়। এ কারণে হয়তো প্রাণীগুলো লোকালয়ে চলে আসছে। তা ছাড়া খাবার ও অন্যান্য কোনো সংকট নেই।’

তবে বনাঞ্চলের ভেতর দিয়ে সড়ক ও রেলপথ চলে যাওয়ায় বন্যপ্রাণীর চলাচলে সমস্যা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। এতে অনেক প্রাণী আহত বা মারা যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, সড়কপথের বিন্যাস বা ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা গেলে প্রাণীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

রেঞ্জ কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘দিন দিন বনে প্রাণী বাড়ছে, কমছে না। আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি প্রাণী দেখা যাচ্ছে।’

বন বিভাগের এই বক্তব্যের সঙ্গে পরিবেশকর্মীদের পর্যবেক্ষণের জায়গায় রয়েছে ভিন্নতা। সংশ্লিষ্টদের একাংশ মনে করছেন, লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি শুধু মৌসুমি চলাচলের ফল নয়; এর সঙ্গে তাদের আবাসস্থল, খাদ্য ও নিরাপদ বিচরণক্ষেত্রের বিষয়টিও জড়িত।

শ্রীমঙ্গলের বন, চা-বাগান, টিলা ও জলাভূমি ঘিরে মানুষের বসতি ও অবকাঠামো ক্রমেই বাড়ছে। এসব এলাকায় বন্যপ্রাণীর চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হলে তারা বিকল্প পথ হিসেবে মানুষের বসতি, কৃষিজমি কিংবা আবাসিক এলাকায় চলে আসতে পারে। বিশেষ করে সাপের উপস্থিতি বাড়ার অর্থ অনেক সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার ইঁদুর, ব্যাঙ, মাছসহ খাদ্যশৃঙ্খলের বিভিন্ন উপাদানের অবস্থার সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষায় বরাদ্দ ৫ শতাংশে নিতে চান প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৫ পি.এম


শিক্ষায় বরাদ্দ ৫ শতাংশে নিতে চান প্রধানমন্ত্রী

বর্তমানে শিক্ষায় বাজেটের বরাদ্দ ৩ দশমিক ৪ শতাংশ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই বরাদ্দকে ৫ শতাংশে উন্নীত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে উৎসাহিত করার জন্য একটি করে ট্যাব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) হিসেবে রূপান্তরের ২৩তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

এসময় এহসানুল হক মিলন বলেন, ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে একসঙ্গে চারটি বিআইটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়েছিল। তিনি তখন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন। তার মতে, শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কারণেই ওই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের উৎসাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে এক হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহিত করার জন্য তাদের সাইকেল দেওয়ার উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে।

শিক্ষক নিয়োগে বিলম্বের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি জটিলতায় আটকে আছে। দ্রুত এসব জটিলতা দূর করে নিয়োগ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলোর কাঠামো নিয়েও শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট, আর্কিটেকচারের পাশাপাশি আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিংসহ একাধিক বিভাগ খোলার যৌক্তিকতা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। লেদার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিভাগের জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব সুবিধা ও দেশে বিদ্যমান বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বৈদ্যুতিক যানবাহনের যুগে মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে ইভি-সংশ্লিষ্ট কোর্স থাকা জরুরি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে এআই ও রোবোটিক্সের মতো আধুনিক বিষয় চালু করা প্রয়োজন। এআই কোর্স চালুর আবেদন ইউজিসিতে দুই বছর ধরে আটকে থাকার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, একজন শিক্ষার্থীর পেছনে সরকারের ব্যয় প্রায় ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তাই শুধুমাত্র সুন্দর অবকাঠামো তৈরি করলেই হবে না; এ বিনিয়োগের যথাযথ ফলও নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা কোথায় চাকরি করছেন, তাদের কর্মজীবনের অবস্থান কী- অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে এসব তথ্য সংরক্ষণ করা জরুরি।

আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, দেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তৈরি হয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে সফল হওয়া শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বের অংশ বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও প্রাপ্য।

তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামো নয়, মেধা, গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন করতে হবে।

কুয়েট অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি। বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান আলী ও সাধারণ সম্পাদক রায়হান আহমেদ।

এর আগে ক্যাম্পাসে অডিটোরিয়ামের সামনে প্রীতি সমাবেশের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর আনন্দ র্যালি, স্টল পরিদর্শন, কুয়েটের অর্জন ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ বিষয়ক উপস্থাপনা, আলোচনা সভা, প্রজেক্ট প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে কেন্দ্র করে কুয়েটের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। বিভিন্ন আয়োজন ও কর্মসূচি ঘিরে মুখরিত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ‘ক্লিন ও গ্রিন ক্যাম্পাস’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৫ পি.এম


বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ‘ক্লিন ও গ্রিন ক্যাম্পাস’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের

ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব ‘ক্লিন ও গ্রিন ক্যাম্পাস’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইউজিসির পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

আজ রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ২৩তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত উন্নয়ন বলতে কেবল নতুন ভবন বা অবকাঠামো নির্মাণকে বোঝায় না। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করাও সামগ্রিক অগ্রগতির একটি অপরিহার্য অংশ।’

রুয়েটের বিদ্যমান শান্ত ও সবুজ পরিবেশের প্রশংসা করে তিনি ক্যাম্পাসের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে সেটিকে আরো সুপরিকল্পিত ও সবুজ হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দেন।

শিক্ষার গুণগত মান ও সুশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, উচ্চশিক্ষার মূল লক্ষ্য কেবল ডিগ্রি প্রদান হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের আধুনিক জ্ঞানের পাশাপাশি উচ্চ নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতায় সমৃদ্ধ দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এই লক্ষ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সহনশীলতার পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি।

অনুষ্ঠানে রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন। বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলাপাড়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৭ পি.এম


কলাপাড়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১০টায় কলাপাড়া পৌরসভা মাঠ থেকে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সুসংগঠিত উপস্থিতিতে জাতীয়তাবাদী কর্মীদের একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে কলাপাড়া পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কলাপাড়া পৌর অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়। 
 
কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে (ভার্চুয়াল) প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন ১১৪ পটুয়াখালী ৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালি) আসনের সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার অবদান নিয়ে আলোচনা করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু, কলাপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি গাজী মো.ফারুক, সাধারণ সম্পাদক মুসা তাওহীদ নান্নু মুন্সী, কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার,সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস শফিকুর রহমান টুলু,গাজী গোলাম সরোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক এড, খন্দকার নাসির উদ্দীন, কলাপাড়া পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কাজল তালুকদার, সহ সভাপতি গাজী মো.সুলতান, উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা নার্গিস আক্তার, কলাপাড়া পৌর মহিলা দলের সভানেত্রী ফারজানা সাম্মি ফ্লোরা, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি সালাম তালুকদার, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক হারুনর রশীদ, পৌর যুবদলের  সদস্য সচিব নাসির উদ্দীন রতন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রুহুল আমিন অভি, উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নসু, কলাপাড়া পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক বিশ্বাস রাশেদ মোশাররফ কল্লোল,,উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক কাজী ইয়াদুল ইসলাম তুষার প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম সিকদার এবং পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক আমান সুমন। 
 
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান টুটু বিশ্বাস, কামরুজ্জামান শহীদ মাতুব্বর, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি ইমরান বিশ্বাসসহ কলাপাড়া উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি, সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গনমাধ্যম কর্মীরা এবং সুধীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও মহিপুর থানা, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির আয়োজনে ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত হলো জব ফেয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৭ পি.এম


টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত হলো জব ফেয়ার

টাঙ্গাইল, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মতো জব ফেয়ার আয়োজন করা হয়েছে জেলায়।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে জনসেবা চত্বরে দিনব্যাপী জব ফেয়ার-২০২৬ এর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক।

জব ফেয়ার অনুষ্ঠানে জেলার শীর্ষস্থানীয় এনজিও, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় মোট ৫১ টি প্রতিষ্ঠান তাদের চাহিদা অনুযায়ী আগ্রহী প্রার্থীদের নির্বাচনের জন্য রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে সিভি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে মেলায় চাকরিপ্রত্যাশী প্রার্থীদের তাৎক্ষণিক ইন্টারভিউ নিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান, চাকরি করতে আগ্রহী অনেক শিক্ষিত মানুষ বিভিন্ন সময়ে এসে তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই আজকের জব ফেয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এ জব ফেয়ার এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের চাহিদা অনুযায়ী আগ্রহী প্রার্থী নির্বাচন করতে সক্ষম হবে এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে উৎসাহ সৃষ্টি হবে। তিনি আরও জানান, পরবর্তীতেও এ ধরনের জব ফেয়ার আয়োজন করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মাহবুব হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুমাইয়া মমিন, টাঙ্গাইল সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%