ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খুলেছে বন্ধ লেন, কমতে শুরু করেছে ৪০ কিলোমিটারের যানজট


খুলেছে বন্ধ লেন, কমতে শুরু করেছে ৪০ কিলোমিটারের যানজট

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের আষারিয়ার চর ব্রিজ এলাকায় সংস্কারকাজের জন্য বন্ধ থাকা লেন খুলে দেওয়ার ফলে যানজট পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে শুরু করেছে। শনিবার সকাল থেকে ব্রিজের দুই লেনেই যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকা গাড়িগুলো ধীরে ধীরে এগোতে শুরু করেছে।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আলম।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, মহাসড়কের আষারিয়ার চর ব্রিজ এলাকায় সংস্কারকাজের জন্য শুক্রবার ভোর থেকে একটি লেন যান চলাচলের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর ফলে অপর লেন দিয়ে উভয়মুখী যানবাহন চলাচল করায় সৃষ্টি হয়েছিল তীব্র চাপ। একপর্যায়ে সেই যানজট মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি দাবিতে কর্মবিরতি, সচিবালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

এর আগে, শুক্রবার দিনভর নারায়ণগঞ্জের আষারিয়ার চর থেকে কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকায় থেমে থেমে যানজট ছিল। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। রাতে যানজট তীব্র আকার ধারণ করলে অনেক যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে আটকে থাকে। এতে চালক ও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘ সময় যানবাহন আটকে থাকার কারণে বিভিন্ন স্থানে অনেক চালক ক্লান্ত হয়ে গাড়ির ভেতর ঘুমিয়ে পড়েন। পরে সড়কে যান চলাচল শুরু হলেও কিছু চালক ঘুমিয়ে থাকায় গাড়ির সারি দ্রুত সরানো সম্ভব হয়নি। ফলে যানজট স্বাভাবিক হতে বাড়তি সময় লাগছে।

ওসি শফিউল আলম বলেন, “সকালে আষারিয়ার চর ব্রিজের বন্ধ থাকা লেনটি খুলে দেওয়া হয়েছে। এখন দুই লেন দিয়েই যানবাহন চলাচল করছে। ধীরে ধীরে যানজট পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় যানবাহন আটকে থাকার কারণে অনেক চালক ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন স্থানে গাড়ির চালকেরা ঘুমিয়ে পড়ায় সব জায়গায় একসঙ্গে যান চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে।

আরও পড়ুন: নলছিটি ফেরিঘাটের রাস্তা মেরামত, যাত্রীদের স্বস্তি ফিরেছে

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী আল রাজী জানান, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। আষারিয়ার চর এলাকায় ঢাকামুখী লেনে বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করা হয়।

তিনি জানান, ওই এলাকায় মহাসড়কের প্রায় পাঁচ মিটার অংশের গর্ত মাইক্রো কংক্রিট দিয়ে সংস্কার করা হয়েছে। ঢালাই শক্ত হয়ে যান চলাচলের উপযোগী হতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন হওয়ায় শুক্রবার ভোর থেকে একটি লেন বন্ধ রাখা হয়েছিল। কাজ শেষ হওয়ার পর শনিবার সকালে লেনটি যানচলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

সংস্কারকাজের সময় একটি লেন বন্ধ থাকা এবং একই সময়ে মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে যে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছিল, সেটিই পরবর্তীতে আষারিয়ার চর থেকে কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

দুই লেন চালু হওয়ায় নতুন করে যানজটের চাপ কমার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় আটকে থাকা গাড়িগুলোও ধীরে ধীরে চলাচল শুরু করেছে। তবে পুরো মহাসড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

যানজট পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চালক ও যাত্রীদের ধৈর্য ধরার পাশাপাশি মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অপরিকল্পিত পর্যটনে টাঙ্গুয়ার হাওরে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০১ পি.এম


অপরিকল্পিত পর্যটনে টাঙ্গুয়ার হাওরে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আকর্ষণ করে প্রতি বছর হাজারো পর্যটক টাঙ্গুয়ার হাওরে আসেন। বর্ষাকালে বিস্তীর্ণ জলরাশি, মেঘালয়ের পাহাড়ের ছায়া, নীল আকাশ এবং হিজল-করচের সৌন্দর্য দর্শকদের মুগ্ধ করে তোলে।

 

কিন্তু এই আনন্দময় ভ্রমণ কখনও কখনও পরিণত হচ্ছে স্বজন হারানোর বেদনায়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকদের পানিতে ডুবে মৃত্যু, নৌযান থেকে পড়ে নিখোঁজ হওয়া এবং নৌযান-সংক্রান্ত দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। চলতি আগস্ট মাসে মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে দুই পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। ৭ আগস্ট ওয়াচ টাওয়ার এলাকায় গোসল করতে নেমে মারা যান ৭২ বছর বয়সী আলী আকবর খান।

 

আর ২৭ আগস্ট লামাগাঁও বাজারের পাশে মানাই নদীতে পর্যটকবাহী নৌকা থেকে পানিতে নেমে মারা যান ২৪ বছর বয়সী আব্দুল মাজেদ পিকলু।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব দুর্ঘটনার পেছনে শুধুমাত্র পর্যটকদের অসাবধানতাই দায়ী নয়; অপরিকল্পিত পর্যটন ব্যবস্থা, নৌযানের নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি, পর্যটকদের যথাযথ নিরাপত্তা নির্দেশনা না দেওয়া এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

একই ধরনের দুর্ঘটনা বারবার–

রাজশাহী নগরের নওদাপাড়ার বাসিন্দা শিক্ষার্থী আবদুল মাজেদ (২৪) বৃহস্পতিবার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে টাঙ্গুয়ার হাওরে বেড়াতে আসেন। তারা সকালে তাহিরপুর ঘাট থেকে হাউসবোটে হাওরের উদ্দেশে রওনা দেন।

 

পথে লামাগাঁও এলাকার একটি স্থানীয় বাজারের ঘাটে বোটটি থামে। এ সময় কয়েকজন বন্ধু কেনাকাটার জন্য বোট থেকে নামেন। এর মধ্যে মাজেদ গোসল করতে বোট থেকে পানিতে ঝাঁপ দেন। কিন্তু এরপর তিনি আর পানির ওপরে ভেসে ওঠেননি। পরে স্থানীয় লোকজন প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

 

এর আগে ৬ জুন পরিবারের সঙ্গে টাঙ্গুয়ার হাওরে বেড়াতে এসে নৌকার ইঞ্জিনে পড়ে মারা যায় ধর্মপাশা উপজেলার কামলাবাজ গ্রামের শিশু মৌমাতা সরকার (৮)। গত ৩০ মে হাওরে বেড়াতে এসে নৌকার ছাদে উচ্চ শব্দে গান বাজানোর সঙ্গে দলবেঁধে নাচছিল তামিম ইসলাম (১৭)। একপর্যায়ে হঠাৎ পানিতে পড়ে ডুবে যায় সে। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া গত বছরের ১৫ আগস্ট মা-বাবার সঙ্গে সিলেট থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে বেড়াতে এসে নৌকার জানালা দিয়ে পানিতে পড়ে যায় পাঁচ বছর বয়সী শিশু মাসুম আহমদ।

লাইফ জ্যাকেট থাকলেও ব্যবহার নিশ্চিত নয়–

টাঙ্গুয়ার হাওরের মতো বিশাল জলাভূমিতে পর্যটকদের নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও উদ্ধার সরঞ্জাম নিশ্চিত করা। অথচ ২০২৪ সালের একটি দুর্ঘটনায় নিহত পর্যটক লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই পানিতে নেমেছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, নৌযানে লাইফ জ্যাকেট রাখা এবং পর্যটককে তা পরানো কি একই বিষয়?

প্রশাসনের নতুন নির্দেশনায় পর্যটকবাহী নৌযানে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভ্রমণের আগে পর্যটকদের আচরণবিধি জানানো এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব নির্দেশনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

নিয়ন্ত্রণহীন নৌযান, নেই অভিন্ন ব্যবস্থাপনা–

টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের সংখ্যা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এসব নৌযানের নিবন্ধন, নিরাপত্তা, ধারণক্ষমতা, চালকের দক্ষতা ও জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমের ওপর কার্যকর নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে চলতি আগস্টে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সীমার মধ্যে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের প্রবেশ ও চলাচল নিষিদ্ধ করে। একই সঙ্গে নৌযান নিবন্ধনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রশাসনের নির্দেশনায় নৌযানের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১০০ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা, পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও লাইফবয় রাখা, জরুরি যোগাযোগের নম্বর প্রদর্শন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নৌযান নিবন্ধনের জন্য ১০৭টি আবেদন করেছে। নিবন্ধনের পর নৌযানগুলোকে নিরাপত্তা কার্যক্রম নিশ্চিত করা, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী না নেওয়া এবং বিরূপ আবহাওয়ায় ভ্রমণ বন্ধ রাখাসহ বিভিন্ন শর্ত মানতে হবে।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারেই বড় পরীক্ষা–

টাঙ্গুয়ার হাওর বিশাল জলরাশি। এখানে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো, নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করা এবং প্রশিক্ষিত ডুবুরি দিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

গত ২৭ আগস্ট আব্দুল মাজেদ পিকলু পানিতে ডুবে যাওয়ার পর স্থানীয়রা প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

পর্যটন মৌসুমে হাওরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে স্থায়ী অথবা দ্রুত মোতায়েনযোগ্য উদ্ধার দল, নৌ অ্যাম্বুলেন্স, প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড এবং পর্যাপ্ত উদ্ধার সরঞ্জাম রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুর্ঘটনা ঠেকানোর বদলে ঘটনার পর ব্যবস্থা?

টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে সাধারণত উদ্ধার অভিযান, মরদেহ হস্তান্তর ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়েই আলোচনা হয়। কিন্তু দুর্ঘটনার আগে ঝুঁকি চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে কতটা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, এই প্রশ্নটি তুলনামূলকভাবে আড়ালেই থেকে যায়।

ওয়াচ টাওয়ার, হাউসবোট নোঙর করার স্থান ও জনপ্রিয় গোসলের জায়গাগুলোতে পানির গভীরতা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, সাঁতার নিষেধাজ্ঞা ও লাইফগার্ডের উপস্থিতি সম্পর্কে দৃশ্যমান নির্দেশনা থাকা জরুরি। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং সাঁতার না জানা পর্যটকদের পানিতে নামা নিয়ন্ত্রণে নৌযান কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব নির্ধারণ করা প্রয়োজন। শুধু ‘সাবধানে চলুন’ ধরনের সতর্কবার্তা দিয়ে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয়।

পর্যটন, নাকি ঝুঁকির বাণিজ্য?

টাঙ্গুয়ার হাওর আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি। পরিকল্পিত ও নিরাপদ পর্যটন স্থানীয় অর্থনীতির বড় চালিকাশক্তি হতে পারে। কিন্তু পর্যটন যদি পরিকল্পনাহীনভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে একদিকে হাওরের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে পর্যটকদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

প্রশাসনের সাম্প্রতিক ১৩ দফা নির্দেশনায় উচ্চস্বরে গান-বাজনা ও পার্টি নিষিদ্ধ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, সেপটিক ট্যাংক, লাইফ জ্যাকেট, লাইফবুয় ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনাই ইঙ্গিত দেয়, টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটন পরিচালনায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবস্থাপনাগত ঘাটতি ছিল।

দরকার সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা–

স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিক আহাম্মদ কবির বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওরের পর্যটনকে নিরাপদ করতে হলে শুধু নৌযান নিবন্ধন করলেই হবে না। প্রয়োজন পর্যটন মৌসুমের আগে প্রতিটি নৌযানের ফিটনেস যাচাই, চালক ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ, ধারণক্ষমতা নির্ধারণ, বাধ্যতামূলক লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গোসল নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বক্ষণিক উদ্ধারব্যবস্থা।’

তিনি আরো বলেন, ‘হাওরের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলোতে প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড নিয়োগ, দ্রুতগামী উদ্ধার নৌযান ও ডুবুরি দল প্রস্তুত রাখা এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা দরকার। প্রতিটি দুর্ঘটনার পর নতুন করে নির্দেশনা জারি করার চেয়ে দুর্ঘটনার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া বেশি জরুরি।’

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণকে কেন্দ্র করে অকাল মৃত্যু রোধে হাওরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের টহল জোরদার এবং লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার কঠোর নিয়ম প্রণয়ন করা জরুরি। হাউসবোটের ছাদ ও জানালায় রেলিং স্থাপনের পাশাপাশি পর্যটক ও হাউসবোট মালিক—উভয়ের জন্যই সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রকৃত মৃত্যুর হিসাব নেই–

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত শুধু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে টাঙ্গুয়ার হাওরে অন্তত ছয়জন পর্যটকের পানিতে ডুবে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে এর বাইরে হাউসবোটের ইঞ্জিনে পড়ে এক শিশুর মৃত্যুসহ আরো কয়েকটি দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে।

টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটন সংশ্লিষ্ট বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা করা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতের স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। ফলে পর্যটন সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর প্রকৃত ও নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান পুলিশের কাছে নেই। এতে প্রতিবছর টাঙ্গুয়ার হাওরে বেড়াতে এসে কতজন পর্যটকের মৃত্যু হচ্ছে, তার সঠিক হিসাবও অজানা থেকে যাচ্ছে।

মধ্যনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম শাহাবুদ্দিন শাহীন বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওরে যারা ঘুরতে আসেন, তাদের অনেকেই সাঁতার জানেন না। ফলে অসাবধানতাবশত পানিতে নেমে পড়েন। এতে পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এসব মৃত্যু রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেসবুকের ‘বদলে যাওয়া’ পরিবেশে বিরক্ত আসিফ, সরিয়ে নিলেন নিজেকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০২ পি.এম


ফেসবুকের ‘বদলে যাওয়া’ পরিবেশে বিরক্ত আসিফ, সরিয়ে নিলেন নিজেকে

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিলেন। তিনি নিজের গান, কাজের খবর, ব্যক্তিগত ভাবনা এবং সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে নিয়মিত ফেসবুকে নিজের মতামত প্রকাশ করতেন।

 

তবে হঠাৎ করেই তিনি সেই প্ল্যাটফর্ম থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। আসিফ আকবর ইতোমধ্যে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাক্টিভেট করে দিয়েছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) একটি সিনেমার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে তিনি বিষয়টি নিজেই জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ফেসবুক থেকে সরে যাওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন এই সংগীতশিল্পী।

 

ফেসবুকের বর্তমান পরিবেশ নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করে আসিফ আকবর বলেন, ‘ফেসবুক ছিল একটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। কিন্তু ফেসবুকে এখন ধর্ম প্রচার হচ্ছে, অনলাইন অর্ডার করা হচ্ছে। ফেসবুক এখন আর ফেসবুকের জায়গায় নেই।’

তার মতে, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটিতে সত্য ও গুজবের পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

যাচাই-বাছাই ছাড়াই নানা ধরনের তথ্য ও খবর ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষ প্রায়ই বিভ্রান্তিতে পড়ছেন। এমনকি তারকাদেরও এর কারণে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আসিফ জানান, বিভিন্ন সময় তার নামে এমন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে, যা তিনি কখনোই বলেননি। পরে সেসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

 

আসিফ আকবর বলেন, ‘কোন নিউজ বিশ্বাস করব, কোনটি সত্য- বলা যায় না। আমাকে রিউমার স্ক্যান করে ফোন দিয়ে বলতে হয়, ভাই, আমি তো এটা বলিনি।’

এরপর সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি যাচাই করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করতে হয়। আসিফের ভাষ্যে, এ ধরনের ঘটনা শুধুমাত্র ব্যক্তিগতভাবে বিব্রতকর নয়, বরং এর সঙ্গে দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও জড়িত।

এই শিল্পীর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রকাশের আগে অবশ্যই সেটির সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে তারকাদের নিয়ে কোনো বক্তব্য, মন্তব্য কিংবা খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে সামান্য ভুলও মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

আসিফ মনে করেন, তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না হলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভুল তথ্যের মধ্যে পড়বেন। আর সেই বিভ্রান্তির দায় শেষ পর্যন্ত অনেক সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপরই এসে পড়ে।

ফেসবুকের এমন পরিবেশে নিজেকে আর মানিয়ে নিতে না পেরে আসিফ আকবর শেষ পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মটি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরই মধ্যে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাক্টিভ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মক্কা চুক্তির বিষয়ে সবকিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার : আইনমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০৪ পি.এম


মক্কা চুক্তির বিষয়ে সবকিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার : আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, মক্কা চুক্তির বিষয়ে সব কিছু বিবেচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত তাদের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী কাজ করবে এবং বাংলাদেশও তাদের নীতি অনুযায়ী কাজ করবে।

 

আইনমন্ত্রী বলেন, "ভারত চলবে ভারতের মতো, বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের মতো।"

শনিবার সকালে ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট কিনা, সেটি বিষয় নয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

তিনি আরও জানান, সরকার ও আইন মন্ত্রণালয় ই-জুডিশিয়ারি (বিচকর বিভাগের ডিজিটালাইজেশন) নিয়ে কাজ করছে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহ সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুম-খুন ও শহীদ পরিবারের ৭৪ জনকে নিয়োগপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:০৫ পি.এম


গুম-খুন ও শহীদ পরিবারের ৭৪ জনকে নিয়োগপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৭৪ জন গুম-খুনের শিকার ও জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান করেছেন।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই নিয়োগপত্র তুলে দেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, আজকের দিনে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই অভ্যুত্থানের ৭৪ জনকে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনের হাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে নিয়োগপত্র তুলে দেন।

নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন, ‘গুমের শিকার ইফতেখার আহমেদ দিনারের ভাই ইশফাক আহমেদ, নুরুজ্জামান জনির ভাই মনিরুজ্জামান হীরা, আনোয়ার হোসেন মাহবুবের ভাই আনান হোসেন নূর, সেলিম রেজা পিন্টুর ভাই হাসনাইন রেজা এবং খালেদ হোসেন সোহেলের স্ত্রী শাম্মী সুলতানা।

জুলাই অভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা দৃষ্টিশক্তি হীন আলাল আহমেদ, শহীদ আলভীর বাবা মো. আবুল হোসাইন, শহীদ আহনাফের মা জারতাজ পারভীন, আহত যোদ্ধা কাজী সাইমুম সিরাজ এবং ইসরাফিল ইসলামের ভাই মাহবুব আলম প্রমুখের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

 

নিয়োগ পাওয়া জুলাই অভ্যুত্থান ও গুম-খুনের শিকার পরিবারের সদস্যরা, যেমন ইশফাক আহমেদ, শাম্মী সুলতানা, আলাল আহমেদ, শহীদ আনভীর বাবা মমতাজ হোসেন, শহীদ আহনাফের মা জারতাজ পারভীন, এবং জুলাই যোদ্ধা কাজী সাইমুম সিরাজ, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা একই সঙ্গে গুম-খুনের সাথে জড়িতদের দোষীদের বিচার দাবি করেন।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারি প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির, এবং বিএনপি আমার পরিবারের সদস্য মোকছেদুল মোমিন মিথুন প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%