০৬:২০ পি.এম
আগেই ধারণা করা হয়েছিল যে, এবারের বিশ্বকাপ থেকে ফিফা রেকর্ড পরিমাণ আয় করতে যাচ্ছে। এখন তা সত্যি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানাচ্ছে, এবারের বিশ্বকাপ থেকে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ১৫ বিলিয়ন ডলার আয়ের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে, যা টুর্নামেন্ট শুরুর আগে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে অনেকটাই ছাড়িয়ে গেছে।
গত শনিবার (১৮ জুলাই) ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সদস্য দেশগুলোর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে এই বাড়তি আয়ের বিষয়ে অবহিত করেছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় রূপান্তরিত করলে এবারের বিশ্বকাপ থেকে ফিফার আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
শুরুতে ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ১১ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) ও টিকিট বিক্রি, বিশেষ করে উচ্চমূল্যের সেকেন্ডারি টিকিট মার্কেট এই আয়ের বৃদ্ধির বড় কারণ। সেকেন্ডারি মার্কেটে প্রতিটি লেনদেনে ফিফা ক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ এবং বিক্রেতার কাছ থেকেও ১৫ শতাংশ কমিশন পায়।
আরও পড়ুন: ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও ২৫৫ ইউরো জরিমানার মুখে রোনালদো
ধারণা করা হচ্ছে যে, ফিফার এই অতিরিক্ত আয়ের সুবিধা সদস্য দেশগুলোর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর কাছেও পৌঁছাবে, যদিও এ বিষয়টি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এই আর্থিক সাফল্য ইনফান্তিনোর জন্যও ইতিবাচক খবর, কারণ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ জুড়ে নানা বিতর্ক সত্বেও এটি তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন লাল কার্ড দেখার পর সেটি স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করেন যে, ফিফা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে। যদিও ফিফা দাবি করেছে, সিদ্ধান্তটি তাদের স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটিই নিয়েছে। তারপরও বিশেষ করে ইউরোপের বিভিন্ন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে অসন্তোষ রয়ে গেছে। তবে এর মধ্যেই আগামী মার্চে পুনর্নির্বাচনের জন্য ইনফান্তিনো ফিফার ২০০টিরও বেশি সদস্য দেশের সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন। বিশ্বকাপ থেকে আসা এই বিপুল অতিরিক্ত আয় অনেক অ্যাসোসিয়েশনকে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানানো থেকে বিরত রাখতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
এই বিপুল আর্থিক সাফল্য ভবিষ্যতে আবারও যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। বর্তমানে বিডের জন্য উন্মুক্ত পরবর্তী আসর হলো ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপ। শুক্রবার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেছেন, 'আপনারা আবারও যুক্তরাষ্ট্রকেই বেছে নিন। তবে এবার কানাডা ও মেক্সিকোকে বাদ রাখবেন।'
এছাড়া ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়েও ফিফার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি
শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিতব্য স্পেন বনাম আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালের ভিআইপি ও হসপিটালিটি প্যাকেজ ফিফার টিকিটিং পোর্টালে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত ছিল। এর মধ্যে ‘ট্রফি লাউঞ্জ’ প্যাকেজের মূল্য ছিল প্রতি ব্যক্তির জন্য ৩৪,৫০০ মার্কিন ডলার (৪২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা প্রায়)।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন