ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৫৪


রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৫৪

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে ৩০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এই তথ্য প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানি

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে ৩১ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ৩২ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৮৫ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৫৭ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৫৬ জন, মিরপুর বিভাগ থেকে ১৭৪ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৪৭ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৬১ জন, গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ৪ জন এবং সিটিটিসি বিভাগ থেকে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানের সময় ৫৪৪৫ পিস ইয়াবা, ৩১ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা, ২০ বোতল ইস্কাফ সিরাপ, ২১টি মোবাইলফোন, ৮টি বিভিন্ন ব্যাংকের ভিসা/ক্রেডিট কার্ড, ১টি প্রাইভেটকার এবং ১৪৬টি বিভিন্ন কোম্পানীর সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

ডিএমপি জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বাবা-মেয়ের মৃত্যুর পর পুলিশের গাড়িতে হামলা ও বাসে আগুন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘একই ধরনের চরিত্রে আটকে থাকতে চাই না’, কেন ছবির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিচ্ছেন তাপসী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩৮ এম


‘একই ধরনের চরিত্রে আটকে থাকতে  চাই না’, কেন ছবির প্রস্তাব ফিরিয়ে  দিচ্ছেন তাপসী?

অভিনেত্রী তাপসী পন্নু একই ধরনের চরিত্রে আটকে থাকার জন্য প্রস্তুত নন। তিনি নিজেই তাঁর ভাবনা পরিষ্কার করেছেন।

বলিউডে শক্তিশালী ও স্বাধীনচেতা নারী চরিত্রে অভিনয় করে তাপসী পন্নু নিজের জন্য একটি আলাদা স্থান তৈরি করেছেন। ‘পিঙ্ক’, ‘থাপ্পড়’, ‘বদলা’, ‘মুল্ক’, ‘হাসিন দিলরুবা’-র মতো ছবিতে তাঁর চরিত্রগুলো প্রচলিত সামাজিক ধারণাকে বার বার চ্যালেঞ্জ করেছে। কিন্তু বর্তমানে সেই পরিচয় তাঁর কাছে কিছুটা ‘খাঁচা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি একই ধরনের চরিত্রে বার বার অভিনয় করতে আগ্রহী নন। বরং, পর্দায় নিজেকে আরও বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে চান।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তাপসী জানিয়েছেন, ইন্ডাস্ট্রিতে অভিনেত্রীদের একটি নির্দিষ্ট ধারার মধ্যে আটকে দেওয়ার প্রবণতা এখনো বিদ্যমান। তিনি বলেন, “গ্ল্যামারাস” চরিত্রের জন্য কিছু নির্দিষ্ট অভিনেত্রীর নাম ভাবা হয়, ঠিক তেমনি কঠিন বা সামাজিক সমস্যাভিত্তিক ছবির জন্যও একটি নির্দিষ্ট তালিকা রয়েছে। এই ‘টাইপকাস্টিং’-এর বিরুদ্ধে তাঁর আপত্তি রয়েছে।

তাপসী আবারও বলেন, ইন্ডাস্ট্রিতে অভিনেত্রীদের একটি নির্দিষ্ট ধারার মধ্যে আটকে দেওয়ার প্রবণতা এখনও রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত।

তাপসীর বক্তব্য, “সবাই নিজের সুবিধাজনক জায়গায় ফিরে যাচ্ছেন, পরীক্ষিত পদ্ধতিই অনুসরণ করছেন।” এমন পরিস্থিতিতে যখন কোনো ছবির প্রস্তাব আসে, গল্প বা চরিত্র পছন্দ না হলে তিনি শুধু ‘না’ বলেই থেমে থাকছেন না। তিনি নির্মাতাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছেন, যদি দর্শক আগেই ছবির পরিণতি আঁচ করতে পারেন, তাহলে সেই ছবিতে তাঁকে নেওয়া ছবিটির জন্য ভালো হবে না। এমনকি, কিছু ছবিতে তিনি নিজেকে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘ডি-সেল’ করেছেন, অর্থাৎ নির্মাতাদের নিরুৎসাহিত করেছেন তাঁকে নেওয়ার জন্য।

তবে এই পরিস্থিতির পেছনে তাঁর অভিনয়জীবনের শুরু দিনগুলিও রয়েছে। তাপসী দাবি করেছেন, বলিউডে পা রাখার সময় তথাকথিত ‘নায়িকাকেন্দ্রিক’ পরিচিত চরিত্রের সুযোগ তাঁর সামনে খুব একটা ছিল না। ফলে, তাঁকে অন্য ধরনের, তুলনায় কঠিন চরিত্র বেছে নিতে হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই ছবিগুলো জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় তাঁর সেই পরিচয় আরও পাকাপোক্ত হয়েছে।

একই ধরনের চরিত্রে পর পর অভিনয় করা মানসিকভাবে স্বাস্থ্যকর নয় বলে মনে করেন তাপসী। ছবি: সংগৃহীত।

তাপসীর কথায়, “এটা অনেকটা তুষারগোলকের মতো। কেরিয়ারের শুরুতে নিয়মমাফিক, চেনা ছকের চরিত্রের কোন বিকল্প আমার সামনে ছিল না। তাই আমি অন্য ধরনের চরিত্র বেছে নিয়েছিলাম। ভাগ্যক্রমে সেই ছবি ও চরিত্রগুলো পরে মূলধারায় জায়গা করে নেয়।”

একই ধরনের চরিত্রে পর পর অভিনয় করা মানসিকভাবে স্বাস্থ্যকর নয় বলেই তিনি মনে করেন। তাই এবার চরিত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আরও বেশি বৈচিত্র চান তিনি। ২০২৪-এর ‘খেল খেল মে’-র মতো হালকা মেজাজের, মজার ছবিতেও অভিনয় করতে তাঁর আপত্তি নেই।

বর্তমানে তাপসীর দৃষ্টি তাঁর নতুন ছবি ‘গান্ধারী’-তে। নেটফ্লিক্সে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাবে ছবিটি। সেখানে তাঁকে দেখা যাবে বাণীর চরিত্রে—এক মা, যার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে। মেয়েকে উদ্ধার করতে তিনি এক বিপজ্জনক, নিরলস অভিযানে নেমে পড়েন। ফের শক্তিশালী চরিত্র হলেও, তাপসীর সাম্প্রতিক বক্তব্য স্পষ্ট—একটি নির্দিষ্ট ছকে তাঁকে আর বেঁধে রাখা যাবে না। অভিনেত্রী হিসেবে তাঁর পরবর্তী চ্যালেঞ্জ, সেই ছক ভেঙে নতুন নতুন চরিত্রে নিজেকে আবিষ্কার করা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বোনের হাতে রাখি বেঁধে নিন্দকদের খোঁচা দিলেন কৃতি! কী বললেন ‘খোলামেলা পোশাক’ বিতর্ক নিয়ে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ এম


বোনের হাতে রাখি বেঁধে নিন্দকদের খোঁচা দিলেন কৃতি! কী বললেন  ‘খোলামেলা পোশাক’ বিতর্ক নিয়ে?

প্রতি বছরের মতো, এ বছরও অভিনেত্রী কৃতি সেনন তাঁর বোন নূপুর সেননকে রাখি পরিয়ে দিয়েছেন। সমাজমাধ্যমে সেই বিশেষ মুহূর্তের ছবি শেয়ার করেছেন কৃতি। সেখানে তিনি একটি খোঁচা দিয়ে মন্তব্য করেছেন।

রাখির বিজ্ঞাপনে কৃতির পোশাক নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নিন্দকদের অভিযোগ, তাঁর পোশাক রাখির উৎসবের জন্য উপযুক্ত নয়। সেইসঙ্গে, বিজ্ঞাপনে পোষ্য সারমেয়কে রাখি পরানো নিয়েও আপত্তি জানান অনেকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, গয়না সংস্থা বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করে নেয়। রাখির দিন, এই বিষয়টি নিয়ে কৃতি অভিনেত্রী খোঁচা দিয়েছেন।

এ বছরও, কৃতি তাঁর বোন নূপুরকে রাখি পরিয়েছেন। সমাজমাধ্যমে সেই ছবি শেয়ার করে, তিনি খোঁচা দিয়ে মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি, রাখিবন্ধনের শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন নিয়ে নিন্দকদের দাবি ছিল, কৃতির পোশাক রাখি উৎসবের জন্য খোলামেলা এবং ভারতীয় সংস্কৃতির বিরুদ্ধে। কৃতি এই প্রসঙ্গে লিখেছেন, “রাখি ফ্যাশন কমিটির আলোচনা এখনও চলছে। আমরা অবশ্য আসল বিষয়গুলিতেই মন দিচ্ছি। সকলকে রাখির শুভেচ্ছা।” তাঁর পোশাক নিয়ে যারা তির্যক মন্তব্য করেছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যেই এই মন্তব্য বলে মনে করা হচ্ছে।

কৃতির পোস্টে একজন অনুরাগী মন্তব্য করেছেন, “ক্যাপশনটা দুর্দান্ত। নেতিবাচকতাকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যান। আপনার জন্য আরও ভাল কিছু অপেক্ষা করছে।” অন্য একজন অনুরাগী লিখেছেন, “শক্ত থাকুন কৃতি। যাঁরা আজ আপনাকে অপমান করছেন, তাঁরাই আপনার পরের ছবি দেখার জন্য লাইনে দাঁড়াবেন।” আরেকজন অনুরাগী বলেছেন, “এগিয়ে যান। প্রত্যেকের নিজের মতো করে উৎসব পালন করার স্বাধীনতা রয়েছে। ভারতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ বিভিন্নভাবে উৎসব পালন করেন। বৈচিত্র্যের প্রতি সহনশীলতা এবং সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলাই এই দেশের ভিত্তি।”

বিতর্ক শুরু হওয়ার পর কৃতি মুখ খুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “সাবেক ফ্যাশন বছরের পর বছর ধরে বদলেছে। কিন্তু এখনও কোনও নারীর সংস্কৃতির প্রতি সম্মানকে শুধু তাঁর পোশাক দিয়ে মাপা হয়! সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য হৃদয়ে থাকে, তাঁর পোশাকের গলার কাটে নয়।” তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, “নারীদের কী পরতে হবে, সেটা বলা আমরা কবে বন্ধ করব?” তবে বিজ্ঞাপনটি সরানোর পর তিনি আর কিছু বলেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউইয়র্কে প্রবীণ ভারতীয়দের সঙ্গে রাখীবন্ধনে অংশ নিলেন মেয়র মামদানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪৩ এম


নিউইয়র্কে প্রবীণ ভারতীয়দের সঙ্গে রাখীবন্ধনে অংশ নিলেন মেয়র মামদানি

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি দক্ষিণ এশীয় প্রবীণদের সংগঠন ‘ইন্ডিয়া হোম’-এ ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে রাখীবন্ধন উৎসব উদযাপন করেছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভারতীয় পোশাকে সজ্জিত এক প্রবীণ নারী তার কব্জিতে রাখি পরিয়ে দেন।

 

মামদানি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এই বিশেষ মুহূর্তের ছবি শেয়ার করে বলেন, এই

পবিত্র সুতোটি একে অপরকে রক্ষা, সমর্থন এবং পাশে থাকার ভালোবাসার প্রতীক

অনুষ্ঠানে প্রবীণদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করার পাশাপাশি, মেয়র মামদানি এই উৎসবের মূল চেতনাকে নিউইয়র্ক শহরের সামগ্রিক নিরাপত্তার সাথে যুক্ত করেন। তিনি বলেন, একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর এই চেতনাই একটি নিরাপদ ও সাশ্রয়ী নিউইয়র্ক গড়ে তুলতে সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে।

এদিকে, সম্প্রতি ম্যানহাটনে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের একটি অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

 

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র মামদানি জানান, তিনি এই অনুষ্ঠানটি সমর্থন করেন না। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, কোনো ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান বাতিল বা বন্ধ করার আইনি এখতিয়ার নগর কর্তৃপক্ষের নেই। একই সাথে, ভারতের ঐতিহ্যবাহী ধর্মনিরপেক্ষতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের বিপরীতে আরএসএস-এর মতো বর্জনমূলক ও বিভাজনকারী মতাদর্শের উত্থান সত্যিই উদ্বেগের বিষয়।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের চাপ, ইইউর দিকে ঝুঁকছে আইসল্যান্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪৭ এম


গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের চাপ, ইইউর দিকে ঝুঁকছে আইসল্যান্ড

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আগ্রাসী অবস্থানের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দিকে আরো কাছে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ছোট্ট নর্ডিক দেশ আইসল্যান্ডের। আজ শনিবার দেশটিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা সিদ্ধান্ত নেবে ইইউতে যোগদানের আলোচনা পুনরায় শুরু হবে কি না। প্রায় চার লাখ মানুষের এই ভোটে ফলাফল নিয়ে চলছে তীব্র প্রতিযোগিতা।

আইসল্যান্ড ২০০৯ সালে ইইউতে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিল। সেই সময় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশটির অনেক পরিবার ও ব্যবসা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। তবে কয়েক বছর আলোচনা চলার পর ক্ষমতায় আসা মধ্য-ডানপন্থি সরকার উদ্যোগটি স্থগিত করে। তাদের উদ্বেগ ছিল যে, ইইউতে যোগ দিলে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং নিজেদের জলসীমায় মাছ ধরার ওপর নিয়ন্ত্রণ হ্রাস পাবে।

 

এক দশকেরও বেশি সময় পর সেই পুরোনো বিতর্ক আবার সামনে এসেছে। বর্তমান মধ্য-বাম জোট সরকার ২০২৭ সালের মধ্যে ইইউর সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে গণভোটের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি তারা ইইউ, অন্যান্য নর্ডিক দেশ ও ন্যাটোর সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার নীতির কথাও উল্লেখ করেছে।

তবে এবার বিতর্কের পটভূমি আগের চেয়ে অনেক পরিবর্তিত হয়েছে।

গ্রিনল্যান্ডের পর বদলেছে নিরাপত্তার হিসাব।

গণভোটের প্রচারে অর্থনীতি মূল বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। ইউরোজোনে যোগ দিলে কী হবে, মাছ ধরার নীতিতে কী পরিবর্তন আসবে—এসব প্রশ্নই সামনে এসেছে। কিন্তু ভোট হচ্ছে এমন সময়ে, যখন আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ইউরোপের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।

গত বছর থেকে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রাসী পদক্ষেপ আর্কটিক নিরাপত্তার প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এনেছে। আইসল্যান্ডের নিজস্ব সেনাবাহিনী বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নেই। তবে তাদের শক্তিশালী কোস্টগার্ড রয়েছে। ফলে বড় শক্তিগুলোর চাপ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই সময়ে দেশটির কৌশলগত গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আইসল্যান্ড অবশ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একা নয়। দেশটি ন্যাটোর সদস্য। ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইএ)-এরও সদস্য। এই সদস্যপদ তাদের ৩০টি দেশের মধ্যে মানুষ, পণ্য ও পুঁজির অবাধ চলাচলের সুযোগ দেয়। শেনজেন অঞ্চলেরও সদস্য আইসল্যান্ড।

রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরু করার পর আইসল্যান্ডে মার্কিন নৌবাহিনীর কার্যক্রম ও ন্যাটোর বিনিয়োগ আবার বেড়েছে। সম্প্রতি ন্যাটোর আরও চার সদস্য দেশের সঙ্গে আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারের চুক্তিও করেছে দেশটি।

ব্রাসেলসের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় আইসল্যান্ডের গুরুত্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি।

ইউরোপিয়ান পলিসি সেন্টারের ইউরোপীয় ও বৈশ্বিক বিষয়বিষয়ক পরিচালক আলমুট মোলার বলেন, "১০ বছর আগের তুলনায় এখন ইইউর নিরাপত্তা কাঠামোয় আইসল্যান্ড অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বর্তমান পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন।"

বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে ইইউ নতুন সদস্য নেওয়ার মাধ্যমে নিজেদের সক্রিয়তা ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব প্রদর্শন করতে চাইছে বলে মনে করেন তিনি। বিশেষ করে ২০১৬ সালের ব্রেক্সিটের পর নতুন সদস্য নেওয়ার বিষয়টি জোটটির জন্য বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে।

‘আগে দেখি, তারপর সিদ্ধান্ত’

আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্তুন ফ্রস্তাদোতির ইইউতে যোগদানের পক্ষে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলছেন না। তিনি বলেন, "আগে আলোচনার দরজা খুলে দেখা হোক, ইইউ কী ধরনের চুক্তি দিতে পারে।"

তাঁর ভাষায়, ইইউ নিয়ে কেউ ‘হয়তো’ অবস্থানে থেকেও আলোচনার পক্ষে ভোট দিতে পারেন। কারণ, আগে জানতে হবে সম্ভাব্য চুক্তিটি আসলে কেমন।

প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম বড় যুক্তি অর্থনীতি। বর্তমানে আইসল্যান্ডে অস্থির ক্রোনা মুদ্রা চালু আছে। ইউরোজোনে যোগ দিলে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আরও স্থিতিশীলতা পাবে বলে মনে করেন তিনি।

নিজস্ব মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতেও বিপুল অর্থ ব্যয় হয় বলে জানিয়েছেন ফ্রস্তাদোতির। ইইউতে যোগ দিলে আর্কটিক কৃষির জন্য অনুদান, অবকাঠামো ঋণ এবং একাডেমিক গবেষণায় আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগও মিলতে পারে।

তবে ব্রাসেলসের হাতে আরও ক্ষমতা তুলে দেওয়ার বিষয়ে মানুষের উদ্বেগ রয়েছে—এ কথাও স্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

ইইউবিরোধীদের ভয় মাছ ধরার জলসীমা নিয়ে

ইইউবিরোধীদের যুক্তি ভিন্ন। তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সার্বভৌমত্ব ও নিজেদের সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ।

বিদেশি জাহাজ আইসল্যান্ডের মাছ ধরার জলসীমায় প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে—এটাই তাদের বড় আশঙ্কা। নর্ডিক কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

বিরোধী দল ইনডিপেনডেন্স পার্টির নেতা গুদরুন হাফস্টেইন্সদোতিরও ইইউতে যোগদানের বিরোধিতা করছেন। তাঁর প্রশ্ন, "সিদ্ধান্তের শেষ কথা যদি আইসল্যান্ডের হাতে না থাকে, তাহলে ইইউর সিদ্ধান্ত নেওয়ার টেবিলে একটি আসনের মূল্যই বা কতটুকু?"

ইইউবিরোধীদের আরেকটি যুক্তি অর্থনৈতিক। তাদের ধারণা, নিজেদের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণই আইসল্যান্ডের সমৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি। সেই নিয়ন্ত্রণ কমে গেলে ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধিও ঝুঁকিতে পড়বে।

জরিপে সামান্য এগিয়ে ‘হ্যাঁ’

গ্যালাপের সর্বশেষ জরিপে গণভোটের ফলাফলের কোনো স্পষ্ট পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে না। যারা নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ ইইউর সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর পক্ষে। বিপক্ষে ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ। অল্পসংখ্যক ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি।

অর্থাৎ ভোটের ফল নির্ধারণে সামান্য ব্যবধানই বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে আজ ‘হ্যাঁ’ ভোট পেলেই আইসল্যান্ড ইইউর সদস্য হয়ে যাবে না। প্রথমে শুরু হবে সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা। এরপর সম্ভবত এক বছরেরও বেশি সময় পরে আরেকটি জাতীয় গণভোট হবে। সেখানে সিদ্ধান্ত হবে, আইসল্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউতে যোগ দেবে কি না।

আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, সদস্যপদের চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রায় ১৮ মাস সময় লাগতে পারে।

সমৃদ্ধির মাঝেও কেন ইইউ নিয়ে আগ্রহ?

আইসল্যান্ডের অর্থনীতি বর্তমানে খারাপ অবস্থায় নেই। মাথাপিছু জিডিপির হিসাবে দেশটি বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে। মাথাপিছু জিডিপি প্রায় ৯৮ হাজার ৩০০ ডলার—যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও সামান্য বেশি। বেকারত্বও তুলনামূলক কম।

Economics

নর্ডিক কল্যাণরাষ্ট্রের সুবিধা হিসেবে নাগরিকেরা সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, সর্বজনীন প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা এবং সমান হারে বেতনসহ পারিবারিক ছুটির সুবিধা পান।

তারপরও অর্থনৈতিক উদ্বেগ রয়েছে। ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের ক্ষত এখনো মানুষের মনে গভীর। ছোট জাতীয় মুদ্রা ক্রোনার অস্থিরতা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ায়। জীবনযাত্রার ব্যয়ও অত্যন্ত বেশি।

ইইউপন্থীদের মতে, ক্রোনা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ কঠিন করে তোলে। দেশের বড় বড় খাতেও প্রতিযোগিতা কম।

আইসল্যান্ডের থিংকট্যাংক ভার্দার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রাগনার হিয়ালমারসন বলেন, "ইইউতে যোগ দিলে অর্থনীতিতে আরও শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা আসতে পারে। অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রতিযোগিতাও বাড়তে পারে।" তাঁর মতে, তেল আমদানি ও বিতরণ তিন-চারটি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে। বড় অন্যান্য খাতেও একই চিত্র।

অন্যদিকে বিশ্লেষকদের মতে, আইসল্যান্ড ইইউর কাছে আকর্ষণীয় প্রার্থী। দেশটি ধনী হওয়ায় ইইউ বাজেটে নিট অবদানকারী হতে পারে। আবার বলকান অঞ্চলের সম্ভাব্য সদস্যদের তুলনায় দেশটির সংস্কারের প্রয়োজনও কম।

GeographicReference

তাই মৎস্য ও কৃষিনীতি নিয়ে আইসল্যান্ডকে বিশেষ কিছু ছাড় দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।

ইউরোপিয়ান পলিসি সেন্টারের মোলারের মতে, আইসল্যান্ডের বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়ার ব্যাপারে ইইউর আগ্রহ থাকতে পারে। এর মধ্যে দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদের বিষয়টিও রয়েছে।

তবে শেষ পর্যন্ত পথটি সহজ নয়। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এলেও মাসের পর মাস চলা আলোচনায় যেকোনো সময় সমঝোতা ভেস্তে যেতে পারে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আইসল্যান্ডকে নিজেদের দলে টানতে ইইউ কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত।

আর তার পরের প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ—সেই চুক্তি আইসল্যান্ডবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে কি না।

আজকের গণভোট তাই শুধু ইইউর সঙ্গে আলোচনার দরজা খুলবে না; এটি বদলে যাওয়া আর্কটিক ভূরাজনীতিতে আইসল্যান্ড কোন দিকে দাঁড়াতে চায়, সেই প্রশ্নও সামনে আনছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%