ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কমলনগরে মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বেপরোয়া বাণিজ্যের অভিযোগ


কমলনগরে মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বেপরোয়া বাণিজ্যের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ফজুমিয়ারহাট মাতাব্বরনগর দারুচ্ছুনাত ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আলী হোছাইনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও বেপরোয়া বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিন গিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ অধ্যক্ষ যখন যে দল ক্ষমতায় আসে, তখন সেই দলের লেজুড়বৃত্তিক হয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মাদরাসার আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য ও নিয়ম বহির্ভূতভাবে মাদরাসার শ্রেণিকক্ষ ভাড়া দেওয়া সহ নানান অনিয়ম করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সময়ে ওলামালীগ নেতা পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সে জামায়াতে যোগ দেয়। তার অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ ধামাচাপা দিতে উপজেলা জামায়াত নেতাদের দিয়ে বিভিন্নভাবে গণমাধ্যমকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগ রয়েছে। জামায়াত নেতারা তার অনিয়ম ও বাণিজ্যকে বৈধতা দিতে উঠে পড়ে লেগেছে।

সরেজমিন গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাদরাসার অনুপস্থিত থাকলে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ১০ টাকা করে জরিমানা দিতে হয়। এ জরিমানা আদায়ের জন্য আলাদা রসিদ চাপান অধ্যক্ষ। সপ্তম শ্রেণিতে ১৩৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৭২ জন। অনুপস্থিত ৬৩ জন। জরিমানা আসে ৬৩০ টাকা। অষ্টম শ্রেণিতে ১১৭ জনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৫৫ জন। ওই দিন ৬২ জন অনুপস্থিতির জরিমানা ৬২০ টাকা। অন্য ক্লাসগুলো অবস্থাও একই চিত্র। এভাবে প্রতিটি ক্লাসে অনুপস্থিতির সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশী থাকে। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার বেশী জরিমানা আদায় হয়। মাসে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার করে বছরে প্রায় সাড়ে ৩ লাখের বেশী জরিমানার টাকার কোন হিসেবে দেখানো হয়নি।

অষ্টম শ্রেণির ৩ জন শিক্ষার্থী জানান, পরিক্ষার ফি বাবত তাদের কাছ থেকে ৪৫০ টাকা করে নেওয়া হয়। কিন্তু হিসাবের খাতায় ৪০০ টাকা দোখান। এছাড়া প্রত্যেক শ্রেণির শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সর্বনিম্ন ২০০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা পর্যন্ত মাসিক বেতন আদায় করা হচ্ছে। এর মধ্যে-সেশন ফি বাবত ৩০০ থেকে ১ হাজার, ভর্তি ফি ৫০০ থেকে ১ হাজার, পরিক্ষা ফি ১৩০ থেকে ৫৫০ টাকা, সনদপত্র ফি ২৫০ থেকে ৮০০ টাকা, মার্কশীট ১৫০ থেকে ৬০০ টাকা, প্রসংশাপত্র ১০০ থেকে ৫০০ টাকা ও ছাড়পত্র বাবত ৫০ থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হলেও এসব খাতের কোন হিসাব নেই।

আরও পড়ুন: পোরশায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন এমপি

গেল মাসে এ অধ্যক্ষের অনিয়ম দুর্নীতি, শিক্ষকদের অনুপস্থিতি ও পাঠদানে চরম অবহেলা সহ নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে স্থানীয় এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নিলে এলাকার গন্যমান্যদের দিয়ে বিক্ষোভটি না করতে অধ্যক্ষের বিশেষ অনুরোধে সেটি স্থগিত করা হয়।

এদিকে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপারে ইউএনও ও শিক্ষা কর্মকর্তার নিরবতাকে ম্যানেজ হিসেবে আখ্যায়িত করে তারা বলেন, প্রশাসন এব্যাপারে দেখেও না দেখার ভান ধরেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরবতা প্রমাণ করে তারা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অধ্যক্ষের পক্ষে সাফাই গাইছেন।

আবার মাদরাসার আরবি প্রভাষক মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে প্রায় ৪ মাস ধরে নিয়মিত ক্লাস না করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষের সাথে আঁতাত করে ওই শিক্ষক এ অনিয়ম করে যাচ্ছে। ঘটনাটি অধ্যক্ষ নিজেই স্বীকার করেছেন এ প্রতিবেদকের কাছে।

সুত্র জানায়, ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটি মেঘনা নদীর ভাঙনের মুখে পড়ে মাতাব্বরহাট এলাকা থেকে ২০১৩ সালে ফজুমিয়ারহাটে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে ২৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী ও আট শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে মাদ্রাসাটিতে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ছয়টি শ্রেণিকক্ষসহ মোট নয়টি কক্ষ মাসিক তিন হাজার টাকা হারে ভাড়া দেন অধ্যক্ষ। তখন অফিস কক্ষের ছাদের ওপর টিনের ছাপড়ায় শিক্ষার্থীদের ঠাসাঠাসি করে বসিয়ে পাঠদানের অভিযোগ উঠে এ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। বিষয়টি দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের শিরোনাম হলেও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউএনও বিষয়টি নিয়ে তেমন ব্যবস্থা নেননি। স্থানীয়রা প্রতিকার চেয়ে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

আরও পড়ুন: নাটোরে পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসকের শুভেচ্ছা

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রাহাত উজ জামান ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ভুঁইয়া সরেজমিন পরিদর্শন করে এসব অনিয়মের সত্যতা পেয়েও সম্পুর্ন নিরবতা পালন করছেন বলে জানান অভিভাবক ও এলাকাবাসী। মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সম্রাট খীসা আছেন ঘুমিয়ে। তাকে অধ্যক্ষের এসব বিষয়ে জানালে সে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েও কোন খরব নেননি। এতে এলাকাবাসী তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করতে দেখা গেছে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ৩ জন শিক্ষক জানান, শিক্ষকদের সাথে কোন আলোচনা চাড়াই অধ্যক্ষ তার মনমতো প্রতিষ্ঠান চালান। তার অনুগত কিছু শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস না করেও বেতন নিচ্ছেন। তার খামখেয়ালিপনার কারণে মাদরাসাটি বার বার পত্রপত্রিকার শিরোনাম হয়।

এসব অভিযোগ স্বীকার করে অধ্যক্ষ আলী হোছাইন বলেন, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য আমরা এসব খাতে টাকা নিয়ে থাকি। তবে কী কী উন্নয়ন করেছেন-এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, ইতিমধ্যে অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব পেলে তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে সাংবাদিক এম এ মোতালিবের ওপর হামলার ঘটনায় আটক ১

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার সত্যতা পেয়ে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন।

মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সম্রাট খীসার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবাসিক বাসায় ভারতীয় প্রসাধনীর গুদাম, গ্রেপ্তার ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ পি.এম


আবাসিক বাসায় ভারতীয় প্রসাধনীর গুদাম, গ্রেপ্তার ১

বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ আবাসিক বাসা। তবে সেই বাসার ভেতরেই গড়ে তোলা হয়েছিল ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রসাধনীর অবৈধ গুদাম। সীমান্ত দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা এসব প্রসাধনীর বড় একটি চালান জব্দ করেছে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মোহাম্মদ কাউছার (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত সোয়া ১১টার দিকে নেত্রকোনা পৌর শহরের সাতপাই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের মূলহোতা ও কাউছারের আপন ভাই মো. আল-আমিন (৩৫) পালিয়ে যান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নেত্রকোনা শহরে অবৈধ পথে আনা ভারতীয় প্রসাধনী সরবরাহের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে শহরের সাতপাই এলাকায় বায়েজীদ আহমেদের মালিকানাধীন দোতলা বাড়ির একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ।

নেত্রকোনা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পালানোর চেষ্টা করলে মোহাম্মদ কাউছারকে আটক করা হয়। পরে ওই বাসার মেঝে ও আলমারিতে তল্লাশি চালিয়ে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ লেখা বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী জব্দ করা হয়।

পুলিশের তথ্যমতে, জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে কেও কার্পিন বডি অয়েল, পন্ডস ব্রাইট বিউটি ক্রিম, ইমামী সেভেন অয়েল ইন ওয়ান, নবরত্ন অয়েল, ডোভ সিরাম বার সাবান ও পন্ডস স্যান্ডেল পাউডারসহ বিভিন্ন প্রসাধনী।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তার কাউছার ও পলাতক আল-আমিনের বাড়ি নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার উত্তর কাজলাপোতা এলাকায়। তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পথে এসব প্রসাধনী এনে নেত্রকোনা শহরের বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করে আসছিলেন। লোকচক্ষুর আড়ালে রাখতে সাতপাই এলাকার ওই ভাড়া বাসাটিকে গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার কাউছারকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আল-আমিনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৪৫ বছর ধরে কারুশিল্পে জীবন পার, ৭৮-এও জীর্ণ ঘরে বাদ্যযন্ত্র কারিগর সাত্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:০০ পি.এম


৪৫ বছর ধরে কারুশিল্পে জীবন পার, ৭৮-এও জীর্ণ ঘরে বাদ্যযন্ত্র কারিগর সাত্তার

বয়স ৭৮ বছর। জীবনের প্রায় ৪৫ বছর কেটে গেছে বাঁশ, কাঠ, চামড়া আর দেশীয় বাদ্যযন্ত্র তৈরির কাজে। তার হাতেই তৈরি হয় একতারা, দোতারা, খমক, ঢোল, ডুগডুগি, খঞ্জনিসহ নানা ধরনের দেশীয় বাদ্যযন্ত্র। একই সঙ্গে তৈরি করেন মাছ ধরার চাঁই, পলো, ঝুপড়া, বাঁশের মই, টেবিলসহ গ্রামীণ জীবনের প্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী।
কিন্তু যে হাত অন্যের ঘর সাজিয়েছে, শিল্পীর হাতে সুর তুলে দিয়েছে, সেই কারিগরের নিজের মাথা গোঁজার ঘরটিই আজ জরাজীর্ণ। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও অভাবের কারণে থামেনি তার কাজ। তিনি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের চকসাদক কোনাপাড়া গ্রামের আ. সাত্তার।
আ. সাত্তারের ছোট্ট বাড়ির আঙিনায় গড়ে ওঠা কর্মশালায় এখনও দেখা যায় দেশীয় বাদ্যযন্ত্র তৈরির সরঞ্জাম। আধুনিক কোনো যন্ত্রপাতি নেই। লোহার ফ্রেমে নিজের হাতে তৈরি একটি খোদাইযন্ত্রই তার প্রধান ভরসা। এক পাশে বসে তিনি কাঠে নকশা করেন, অন্য পাশে কাউকে দড়ি টেনে সহযোগিতা করতে হয়।
বয়সের কারণে এখন আগের মতো দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারেন না। একজন সহকারী রাখার প্রয়োজন হলেও সেই সামর্থ্য নেই। পরিচিত কেউ বাড়িতে এলে তখনই কিছুটা সহযোগিতা পান।
বাদ্যযন্ত্র তৈরির সূক্ষ্ম কাজে তিনি ব্যবহার করেন কুইজবাটাল, রাউন্ডবাটাল, সাফবাটাল, বিলসা, মাথিম, করাত, হাতুড়ি, ফিতা ও স্কেল। দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় এসব সাধারণ সরঞ্জাম দিয়েই নিখুঁত কারুকাজ ফুটিয়ে তোলেন তিনি।
আ. সাত্তার জানান, একটি বিদ্যুৎচালিত খোদাইযন্ত্র থাকলে তার শারীরিক কষ্ট অনেকটাই কমত। পাশাপাশি দ্রুত কাজও করতে পারতেন। কিন্তু অভাবের সংসারে সেই যন্ত্র কেনার সামর্থ্য তার নেই।
তার তৈরি পণ্য বিক্রির জন্য তাকে নিয়মিত হাটে যেতে হয় না। কাজের সুনাম থাকায় ক্রেতারা বাড়িতে এসে পণ্য কিনে নিয়ে যান। তবে কাঠ, বাঁশ, চামড়া ও অন্যান্য উপকরণের দাম বাড়লেও তার তৈরি পণ্যের দাম সেভাবে বাড়েনি। ফলে দীর্ঘ শ্রমের তুলনায় ন্যায্য মূল্যও পান না তিনি।
সংসার চলে কীভাবে—এমন প্রশ্নের জবাবে দীর্ঘশ্বাস ফেলে আ. সাত্তার বলেন, “একদম চলে না।”
চকসাদক কোনাপাড়া গ্রামেই জন্ম তার। বাবা সমর আলী ওরফে লাবু মিয়া এবং মা নাইবের মা অনেক আগেই মারা গেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ হয়নি তার। প্রায় ৪০-৪৫ বছর আগে উত্তর মাসকা গ্রামের কারিগর আবদুল জব্বারের কাছে কাজ শিখেছিলেন। তাকেই নিজের ওস্তাদ মনে করেন তিনি।
মাত্র সাড়ে তিন শতাংশ জমিতে স্ত্রী, তিন ছেলে, ছেলের বউ ও নাতি-নাতনিসহ বড় পরিবারের বসবাস। তিন ছেলে মিস্ত্রির কাজ করেন। তবে তারা আলাদা থাকেন। দীর্ঘদিনের পুরোনো ঘরটি সংস্কার করার সামর্থ্যও নেই এই প্রবীণ কারিগরের।
শুধু কারিগর হিসেবেই নয়, একসময় বৈঠকি বাউল গানও করতেন আ. সাত্তার। বয়সের ভারে এখন আর গান গাইতে পারেন না। তবে তার হাতে তৈরি একতারা বা দোতারা নিয়ে যখন কোনো শিল্পী গান করেন, তখন আনন্দে ভরে ওঠে তার মন।
আ. সাত্তারের ভাষায়, “এসব দেশীয় পণ্য ও কারুশিল্প একসময় চিরতরে হারিয়ে যাবে। এগুলো এখন জাদুঘরে স্থান পাওয়ার যোগ্য।”
তার দীর্ঘ কর্মজীবনের নীরব সঙ্গী স্ত্রী মোছা. আবিয়া খাতুন। স্বামীর কষ্টের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “সারাজীবন মানুষটা কষ্টই করল। থাকার মতো একটা ঘর পর্যন্ত নাই।”
তিনি সরকারের কাছে স্বামীর জন্য একটি নিরাপদ ঘর ও বিদ্যুৎচালিত খোদাইযন্ত্রের সহযোগিতা কামনা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল হাই, আবদুর রহমান ও মনিরুল ইসলামসহ অনেকেই বলেন, আ. সাত্তার তাদের এলাকার গর্ব। তার তৈরি বাদ্যযন্ত্র ও কারুশিল্প দেখতে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তার শেষ জীবন যেমন স্বস্তিতে কাটবে, তেমনি বিলুপ্তপ্রায় এই কারুশিল্পও সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইউনুস জামান রনি বলেন, “প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে আমাদের বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে। খুব শিগগিরই আমরা আ. সাত্তারকে এসব প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসব।”
আ. সাত্তারের গল্প শুধু একজন প্রবীণ কারিগরের অভাব-অনটনের গল্প নয়। তার হাতের তৈরি বাদ্যযন্ত্রে আজও বেঁচে আছে গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্য। কিন্তু সেই ঐতিহ্যের কারিগরই যখন জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিরাপদ একটি ঘরের অভাবে থাকেন, তখন প্রশ্ন ওঠে—এই শিল্প ও শিল্পীদের টিকিয়ে রাখতে আমাদের দায়িত্ব কতটুকু?
একটি নিরাপদ ঘর, কাজের উপযোগী আধুনিক যন্ত্র এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা গেলে হয়তো স্বস্তি ফিরবে ৭৮ বছরের এই কারিগরের জীবনে। একই সঙ্গে তার হাত ধরে আরও কিছুদিন বেঁচে থাকতে পারে বাংলার হারিয়ে যেতে বসা দেশীয় কারুশিল্পের ঐতিহ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বারহাট্টায় ১০ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:০২ পি.এম


বারহাট্টায় ১০ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক

 নেত্রকোনার বারহাট্টায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১০ পিস ইয়াবাসহ শিপন (৩৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার গোপালপুর মধ্যবাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। শিপন উপজেলার বৃ-কালিকা গ্রামের শাহজাহানের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপালপুর মধ্যবাজার এলাকার রুহুল আমিনের ভাড়া বাসায় মাদক কারবার চলছে—এমন গোপন তথ্য পায় বারহাট্টা থানা পুলিশ। পরে তথ্যের ভিত্তিতে রোববার দুপুরে ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়।

অভিযানের একপর্যায়ে শিপনের থাকার ঘরের সানশেডের ওপর থেকে সাদা পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে ইয়াবাসহ শিপনকে আটক করে পুলিশ।

বারহাট্টা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবাসহ আটক শিপনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে বারহাট্টা থানা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অপরাধ দমনে কঠোর, সেবায় আন্তরিক কোতোয়ালি ছাড়ছেন ওসি আল মামুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাছুদুর রহমান আসলাম, বরিশাল

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:০৩ পি.এম


অপরাধ দমনে কঠোর, সেবায় আন্তরিক কোতোয়ালি ছাড়ছেন ওসি আল মামুন

 নয় মাসে কোতোয়ালিতে আস্থার জায়গা, নিয়মিত বদলিতে বিদায় ওসি আল মামুন-উল ইসলাম


থানার দরজায় সাধারণ মানুষ গিয়ে কী ধরনের আচরণ পান—পুলিশের প্রতি আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে সেটিই অনেক সময় সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানায় প্রায় নয় মাস দায়িত্ব পালন করে সেই পরীক্ষায় নিজের একটি আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আল মামুন-উল ইসলাম। মাদক ও অপরাধ দমনে তৎপরতা, সাধারণ মানুষের সাথে সম্মানজনক আচরণ এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ যোগাযোগ—দায়িত্বকালের এসব বিষয়ই এখন তার বিদায়ের সময়ে আলোচনায় এসেছে।

২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর এয়ারপোর্ট থানা থেকে বদলি হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোঃ আল মামুন-উল ইসলাম। এরপর থেকে প্রায় নয় মাস তিনি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এই থানার দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন ঘটনায় তার বক্তব্য ও পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত সংবাদেও তাকে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

তালাশ বিডির অনুসন্ধানে স্থানীয় বাসিন্দা, গণমাধ্যমকর্মী এবং থানার কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে তার দায়িত্ব পালনের বিষয়ে কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে। বিশেষ করে থানায় সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গে তার আচরণ, অভিযোগ শোনা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার বিষয়টি একাধিক ব্যক্তির বক্তব্যে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদকের প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণেও, ছোট-বড় নির্বিশেষে থানায় আসা মানুষের সঙ্গে তিনি সম্মান দিয়ে কথা বলতেন এবং ‘আপনি’ সম্বোধন করতেন। সংবাদ সংক্রান্ত প্রয়োজনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব দেখা গেছে।

তালাশ বিডির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাছুদুর রহমান আসলাম বলেন, “প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় গিয়ে ওসি আল মামুন-উল ইসলামের সাথে কথা বলেছে। সংবাদ সংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে তিনি আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতায়, থানায় আসা মানুষের সঙ্গে তার আচরণ ছিল মার্জিত ও সম্মানজনক।

ঘুষ গ্রহণ বা অর্থের বিনিময়ে সেবা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়েও তালাশ বিডি অনুসন্ধান করেছে। প্রতিবেদনের জন্য কথা বলা ব্যক্তিদের কাছ থেকে ওসি আল মামুন-উল ইসলামের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

অপরাধ দমনের ক্ষেত্রেও তার দায়িত্বকালে থানা পুলিশের তৎপরতা ছিল দৃশ্যমান। মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত পুলিশি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

বাসস্ট্যান্ড ও বাজার এলাকায় চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়। পাইকারি বাজারে মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার ঘটনাও তার দায়িত্বকালের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম হিসেবে স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়েছে।

গণমাধ্যমের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল সহযোগিতাপূর্ণ—এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। সংবাদ সংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তার আন্তরিকতা ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীরা।

ব্যক্তিগত জীবনযাপনের ক্ষেত্রেও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতেন বলে তাকে কাছ থেকে দেখা ব্যক্তিদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। কর্মব্যস্ততার মধ্যেও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে জনস্বার্থে কয়েকজন পুলিশ পরিদর্শককে বদলির কথা জানানো হয়েছে। ওই অফিস আদেশের স্মারক নম্বর বিএমপি/স্টেনো-১/ইন্স/বদলি/২০২৬/১০৫৮।

বিএমপির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওসি আল মামুন-উল ইসলামের বদলি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলির অংশ। অর্থাৎ তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা অফিস আদেশে উল্লেখ নেই।

প্রায় নয় মাসের দায়িত্ব শেষে কোতোয়ালি মডেল থানার দায়িত্ব ছাড়ছেন আল মামুন-উল ইসলাম। তবে তার বিদায়ের সময়ে আলোচনায় এসেছে একটি বিষয়—একজন পুলিশ কর্মকর্তার মূল্যায়ন কেবল গ্রেপ্তার, মামলা কিংবা অভিযানের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়; সাধারণ মানুষের সঙ্গে আচরণ, পেশাদারিত্ব, তথ্য প্রদানে স্বচ্ছতা এবং দায়িত্ব পালনের নৈতিক অবস্থানও সেই মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তালাশ বিডির অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা বলছে, কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়িত্ব পালনকালে মোঃ আল মামুন-উল ইসলামের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ই তার কর্মকালকে আলাদা করে আলোচনায় এনেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%