প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নয় মাসে কোতোয়ালিতে আস্থার জায়গা, নিয়মিত বদলিতে বিদায় ওসি আল মামুন-উল ইসলাম
থানার দরজায় সাধারণ মানুষ গিয়ে কী ধরনের আচরণ পান—পুলিশের প্রতি আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে সেটিই অনেক সময় সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানায় প্রায় নয় মাস দায়িত্ব পালন করে সেই পরীক্ষায় নিজের একটি আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আল মামুন-উল ইসলাম। মাদক ও অপরাধ দমনে তৎপরতা, সাধারণ মানুষের সাথে সম্মানজনক আচরণ এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ যোগাযোগ—দায়িত্বকালের এসব বিষয়ই এখন তার বিদায়ের সময়ে আলোচনায় এসেছে।
২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর এয়ারপোর্ট থানা থেকে বদলি হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোঃ আল মামুন-উল ইসলাম। এরপর থেকে প্রায় নয় মাস তিনি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এই থানার দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন ঘটনায় তার বক্তব্য ও পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত সংবাদেও তাকে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
তালাশ বিডির অনুসন্ধানে স্থানীয় বাসিন্দা, গণমাধ্যমকর্মী এবং থানার কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে তার দায়িত্ব পালনের বিষয়ে কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে। বিশেষ করে থানায় সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গে তার আচরণ, অভিযোগ শোনা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার বিষয়টি একাধিক ব্যক্তির বক্তব্যে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদকের প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণেও, ছোট-বড় নির্বিশেষে থানায় আসা মানুষের সঙ্গে তিনি সম্মান দিয়ে কথা বলতেন এবং ‘আপনি’ সম্বোধন করতেন। সংবাদ সংক্রান্ত প্রয়োজনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব দেখা গেছে।
তালাশ বিডির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাছুদুর রহমান আসলাম বলেন, “প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় গিয়ে ওসি আল মামুন-উল ইসলামের সাথে কথা বলেছে। সংবাদ সংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে তিনি আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতায়, থানায় আসা মানুষের সঙ্গে তার আচরণ ছিল মার্জিত ও সম্মানজনক।
ঘুষ গ্রহণ বা অর্থের বিনিময়ে সেবা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়েও তালাশ বিডি অনুসন্ধান করেছে। প্রতিবেদনের জন্য কথা বলা ব্যক্তিদের কাছ থেকে ওসি আল মামুন-উল ইসলামের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
অপরাধ দমনের ক্ষেত্রেও তার দায়িত্বকালে থানা পুলিশের তৎপরতা ছিল দৃশ্যমান। মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত পুলিশি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
বাসস্ট্যান্ড ও বাজার এলাকায় চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়। পাইকারি বাজারে মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার ঘটনাও তার দায়িত্বকালের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম হিসেবে স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়েছে।
গণমাধ্যমের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল সহযোগিতাপূর্ণ—এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। সংবাদ সংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তার আন্তরিকতা ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীরা।
ব্যক্তিগত জীবনযাপনের ক্ষেত্রেও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতেন বলে তাকে কাছ থেকে দেখা ব্যক্তিদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। কর্মব্যস্ততার মধ্যেও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে জনস্বার্থে কয়েকজন পুলিশ পরিদর্শককে বদলির কথা জানানো হয়েছে। ওই অফিস আদেশের স্মারক নম্বর বিএমপি/স্টেনো-১/ইন্স/বদলি/২০২৬/১০৫৮।
বিএমপির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওসি আল মামুন-উল ইসলামের বদলি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলির অংশ। অর্থাৎ তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা অফিস আদেশে উল্লেখ নেই।
প্রায় নয় মাসের দায়িত্ব শেষে কোতোয়ালি মডেল থানার দায়িত্ব ছাড়ছেন আল মামুন-উল ইসলাম। তবে তার বিদায়ের সময়ে আলোচনায় এসেছে একটি বিষয়—একজন পুলিশ কর্মকর্তার মূল্যায়ন কেবল গ্রেপ্তার, মামলা কিংবা অভিযানের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়; সাধারণ মানুষের সঙ্গে আচরণ, পেশাদারিত্ব, তথ্য প্রদানে স্বচ্ছতা এবং দায়িত্ব পালনের নৈতিক অবস্থানও সেই মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তালাশ বিডির অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা বলছে, কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়িত্ব পালনকালে মোঃ আল মামুন-উল ইসলামের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ই তার কর্মকালকে আলাদা করে আলোচনায় এনেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন