১১:৩৯ এম
ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২৫ বছর মেয়াদি জ্বালানি চুক্তি সম্পন্ন করেছে, যা দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর পূর্ণ সার্বভৌমত্ব ও মালিকানা অক্ষুণ্ন রেখেই হয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছেন দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি দেলসি রদ্রিগেজ। তিনি উল্লেখ করেন, এই চুক্তি দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি এবং জ্বালানি খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) মধ্যরাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ বিষয়টি তুলে ধরেন।
রদ্রিগেজ বলেন, অর্থনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে থেকে ঘুরে দাঁড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চুক্তির আওতায় দেশের সম্পদ দেশের হাতে রেখে মার্কিন প্রযুক্তি ও মূলধন ব্যবহারের মাধ্যমে দৈনিক তেল উৎপাদন অন্তত ১৫ লাখ ব্যারেলে করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি এই চুক্তিকে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক মোড়’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
আরও পড়ুন: টাইফুন চাম্পির প্রভাবে তাইওয়ানে শত শত ফ্লাইট বাতিল
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ভিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই দ্বিপক্ষীয় প্রকল্পের আওতায় ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। দৈনিক ১৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদনের লক্ষ্যটি প্রাথমিক পরিকল্পনার অংশ। বৃহত্তর কর্মসূচির আওতায় আরও আটটি নতুন বা অনুন্নত তেল ব্লক উন্নয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এর আগে শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ নিয়ে একটি নতুন পরিকল্পনার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, মার্কিন কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণে দেশটির দীর্ঘদিন ধরে সংকটে থাকা জ্বালানি শিল্প পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে ট্রাম্প চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। তিনি শুধু জানান, বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি তেলের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এসেছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত ভেনেজুয়েলায় রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ সংকট, অব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি তার সক্ষমতা অনুযায়ী তেল উৎপাদন করতে পারেনি। বর্তমানে সেখানে দৈনিক প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের হুমকির মধ্যে ইউরোপের সাখারভ পুরস্কার পেল আইসিসি
রদ্রিগেজের হিসাব অনুযায়ী, ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ৬৫ ডলার ধরে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে কারাকাসের প্রায় ২০৯ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আসতে পারে। যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ওঠানামা করায় প্রকৃত আয়ের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।
তিনি বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদিত ও বিক্রি হওয়া প্রতিব্যারেল তেল থেকে প্রায় ১৯ ডলার সরাসরি ভেনেজুয়েলা পাবে। এটি সরকারের রাজস্বে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।
রদ্রিগেজ দাবি করেন, চুক্তি হলেও দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা ও সার্বভৌমত্ব ভেনেজুয়েলার হাতেই থাকবে। একই সঙ্গে বিদেশি মূলধন, প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতা ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি শিল্পকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।
আরও পড়ুন: ইতালি নাগরিকদের সৌদি আরব ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন