মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:০৬ পি.এম
রাজশাহী বিভাগের কমিশনার ইউসুফ আলী জানিয়েছেন, রাজশাহীতে সারের সংকট নেই। কৃষকদের চাহিদা পূরণের জন্য সরকারি গুদামে যথেষ্ট পরিমাণে ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে। তিনি সারের সংকট নিয়ে ছড়িয়ে পড়া খবরকে বিভ্রান্তিকর বলে অভিহিত করেছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে আসন্ন আমন ও বোরো মৌসুমের জন্য সারের মজুত পরিস্থিতি পরিদর্শন করতে নগরের নওদাপাড়া এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সার গুদামে গিয়েছিলেন বিভাগীয় কমিশনার।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে গুদামে মজুত সারের পরিমাণ জেলার মাসিক চাহিদার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। কৃষকদের তিনি আতঙ্কিত না হয়ে গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেন।
বিভাগীয় কমিশনার আরও জানান, বিসিআইসির বাফার গুদামে বর্তমানে ৯ হাজার ৮০৪ টন ইউরিয়া, ৪৩০ টন টিএসপি ও ৮৫ দশমিক ৫ টন ডিএপি সার মজুত রয়েছে। অন্যদিকে, বিএডিসির গুদামে ৬ হাজার ৩১২ টন টিএসপি, ৮০১ টন এমওপি ও ৪ হাজার ৩৪৮ টন ডিএপি সার মজুত রয়েছে।
তিনি বলেন, চলতি মাসে টিএসপি সারের বরাদ্দ ১ হাজার ৪৫ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে গুদামে প্রায় ৬ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন মজুত রয়েছে। একইভাবে, চলতি মাসে জেলার জন্য ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ৫ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন হলেও একটি গুদামে প্রায় ১০ হাজার টন ইউরিয়া মজুত রয়েছে।
ইউসুফ আলী জানান, সারের কোনো সংকট নেই। গুদামে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ অনুযায়ী নিয়মিতভাবে ডিলারদের কাছে সার সরবরাহ করা হচ্ছে এবং তাঁরা দোকানে বিক্রি করছেন।
সারসংকট নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। গুদামে সারের মজুত সবার সামনে দৃশ্যমান, এখানে লুকানোর কিছু নেই।
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, কৃষকদের জন্য ফসল উৎপাদনের জন্য যতটুকু সার প্রয়োজন, সরকারের কাছে তার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তাই কৃষকদের তিনি গুজবে কান না দিতে এবং আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
এ সময় রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পুরো বেঞ্চ, সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে উচ্চবাচ্যের পর এজলাস ছেড়ে চলে গেছেন বলে জানা গেছে।
এই ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগে।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, আপিল বিভাগে একটি মামলার শুনানি চলাকালে হঠাৎ করেই মাহবুব উদ্দিন খোকন মন্তব্য করেন, "জুবায়ের রহমান চৌধুরী প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর আইনজীবীদের আয়-রোজগার কমে গেছে।" এই মন্তব্য শুনে প্রধান বিচারপতি পাল্টা প্রশ্ন করেন। এ সময় পাল্টাপাল্টি কথোপকথনের ফলে পুরো আপিল বিভাগ এজলাস ছেড়ে চলে যায়।
পরে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের জানান, "সকালে আপিল বিভাগের এক নম্বর আইটেমে একটি মামলায় মহিলা আইনজীবীর ওপর কস্ট (খরচা) দেওয়া হয়েছে। পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা।" ১৩ নম্বর মামলা (আইটেম) শেষ হওয়ার পর তিনি প্রধান বিচারপতিকে বিনয়ের সঙ্গে বলেন, "আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর আপিল বিভাগে মামলা খুব একটা হচ্ছে না। আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।"
তিনি আরও বলেন, "একজন জুনিয়র আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা কষ্ট দেওয়া অনেক বেশি হয়ে গেছে। তাকে মাফ করে দেন।" তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, "আমি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে?" তিনি তখন বলেন, "ইনকাম ওই সেন্সে কমে গেছে... আমি বোঝাতে চেয়েছি, আগে আপিল বিভাগে ১১ জন বিচারপতি ছিলেন। তিনটি বেঞ্চ ছিল। এখন একটি বেঞ্চ।"
"একটি মামলা স্টে হলে সেখানে শুনানি করতে পারছি না। এমনকি চেম্বার জজে স্টে করছে, এটা হিয়ারিং করতে এক বছর লাগে।" মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, "সেখানে কেন কোনো মেনশন করা যায় না? কেন এই মামলাটা উপরে ছিল (কজলিস্টে), নিচে গেলে কেন মেনশন করা যায় না? যেহেতু একটি বেঞ্চ, মানুষ দীর্ঘদিন থেকে ন্যায়বিচার পাচ্ছে না, মামলা শুনানি করতে পারছে না। মামলা হলে আইনজীবীদের ইনকাম হবে। কম হোক, বেশি হোক। আমি খুব বিনয়ের সঙ্গে বললাম। আমি চিন্তা করিনি যে উনি এত রিঅ্যাক্ট করবেন। ওনারা তো রাগ-অভিমানের ঊর্ধ্বে বিচার করার কথা। আর আইনজীবীদের প্রতিনিধি হিসেবে আমার অবলিগেশন আছে। ওনার কাছে আইনজীবীদের পক্ষে আবেদন করার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী বিশেষ অভিযান উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হবে ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য এই তিন মাসের বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি।
ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলার জন্য আগামী তিন মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীকে এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একটি সভায় প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য শুধুমাত্র মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এজন্য স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। কর্মসূচির আওতায় মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকরা কার্যক্রমের সমন্বয় করবেন। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রমের সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবেন।
উপ-প্রেস সচিব জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক এই অভিযানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা হবে।
প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় গিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে— এমন স্থান চিহ্নিত করা এবং মানুষকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
হাসান শিপলু জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাঠপর্যায়ের পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে টেলিভিশনে জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা নিয়মিতভাবে তুলে ধরার জন্য সংশ্লিষ্টদের বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই সময়ে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনি তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পৃথক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এই ঘটনার বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ জানান।
আজমেরী হক বাঁধন ইতালির ভেনিসে অবস্থানকালে এক ভিডিওবার্তায় তার ওপর হামলার অভিযোগ করেছেন। বাঁধন জানান, সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন, শারীরিকভাবে আঘাত করেন এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ভাইয়ের স্ত্রীকেও ধাক্কা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনা ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর থেকে ব্যাপক চর্চা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।
একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত খবরটি শেয়ার করে পরীমনি কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। স্ট্যাটাসে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘বেশি কিছু না। কতগুলা কুত্তার বাচ্চা রাস্তায় ঘেউ ঘেউ করছে।’ পরবর্তীতে আরেকটি পোস্টে পরীমনি মন্তব্য করেন, ‘এদের কাছে মানুষের বাচ্চার কান্না কিছুই ম্যাটার করে না।
করেও নাই।’ এ নিয়ে শোবিজ অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের মধুপুরে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকালে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলা চত্বর প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদের চতুর্থ তলায় কনফারেন্স রুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মফিজুল হক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজিব আল রানা, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মনি, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ পান্না, আইসিটি কর্মকর্তা আব্রারুল হক শিমুল প্রমুখ।
এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সাক্ষরতা শুধু পড়তে ও লিখতে পারার সক্ষমতা নয়; এটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির অন্যতম ভিত্তি। একটি উন্নত, দক্ষ ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে শতভাগ সাক্ষরতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের সব মানুষকে সাক্ষরতার আওতায় আনার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় জীবনদক্ষতায় দক্ষ করে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ