ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারতে ভবনধসে মৃতের সংখ্যা ৪ জনে পৌঁছেছে


ভারতে ভবনধসে মৃতের সংখ্যা ৪ জনে পৌঁছেছে

ভারতের দিল্লির নিউ সীমাপুরি এলাকার ঈদগাহ মাছলি মান্ডির কাছে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে একটি চারতলা আবাসিক ভবন ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার হওয়ায়, এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা চারজনে পৌঁছেছে।

ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভবনধসের ফলে দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু ঘটেছিল। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো আটজন।

আহত আটজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য তাহিরপুরের রাজীব গান্ধী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে মোমিন মির্জা (৫৬), তিন বছরের একটি শিশু, আবদুল রহমান (২৮), দেবরুদ্দিন (২৮), সালমা (৫০), ছোটে (৩৪), সাকিনা (৩৫) ও সামাদ (৩০) রয়েছেন।

আরও পড়ুন: ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হলেন মেহেরদাদ আখলাঘি কেতাবচি

নিহতদের মধ্যে এক ১২ বছর বয়সী মেয়ের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। অন্যদিকে, গুলাফসা (২১) নামের একজন নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে, যিনি প্রায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তৃতীয় নিহত শিশুটির পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্যও এখনো জানা যায়নি।

উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী যন্ত্রপাতি পাঠানো হয়েছে। সেখানে অ্যাম্বুলেন্স, দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের কর্মী, দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন। শাহদারা পুলিশের উপকমিশনার রাজেন্দ্র প্রসাদ মীনা জানান, ধসে পড়া ভবনটি চারতলা ছিল এবং উদ্ধার অভিযান চলছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে খবর পাই। এটি চারতলা ভবন। ভবনটির আয়তন ২৫ বর্গগজ। এখন পর্যন্ত সাতজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারা আশঙ্কামুক্ত। উদ্ধার অভিযান চলছে। ঘটনাস্থলে সব সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত আছেন। অ্যাম্বুলেন্স ও দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের কর্মকর্তা, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ সবাই ঘটনাস্থলে আছেন।’

জ্যেষ্ঠ ফায়ার কর্মকর্তা মনীশ কুমার জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে কয়েকজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের নিয়ন্ত্রণকক্ষ বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে খবর পায়। বলা হচ্ছে, কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। উদ্ধার অভিযান চলছে।’

আরও পড়ুন: নুডুলস খেয়ে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

উত্তর-পূর্ব দিল্লির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অজয় কুমার জানান, বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে চারতলা ভবনটি ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো কয়েকজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন। অজয় কুমার বলেন, ‘বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে রাস্তার একেবারে কোণায় থাকা একটি চারতলা ভবন ধসে পড়ে। ভবনটি প্রায় ২২ থেকে ২৫ বর্গগজ জায়গাজুড়ে ছিল। ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পাশের ভবনটি ভাঙার কাজ চলছিল। সম্ভবত যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কারণে সেখানে কম্পন তৈরি হয়। সেই কম্পনের প্রভাবেই এই ভবনটি ধসে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই সময় ভবনের ভেতরে প্রায় সাত থেকে আটজন ছিলেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে উদ্ধার অভিযান চলছে। আমরা জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের যন্ত্রপাতি ও সদস্যদের মোতায়েন করেছি। অন্য সংস্থাগুলোর সদস্যরাও কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত আটজন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একজন নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। ভবনের ভেতরে আরও দুই থেকে তিনজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন।’

দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় গত ৬ সেপ্টেম্বর একটি ভবন ধসে সাতজন নিহত হওয়ার এক মাস পর এই ঘটনা ঘটল। সীমাপুরির ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। একাধিক সংস্থার সদস্যরা ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখছেন। আটকা পড়া ব্যক্তিদের নিরাপদে বের করে আনার চেষ্টা চলছে।

মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, সীমাপুরিতে মর্মান্তিক ভবন ধসের পর সেখানে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চলছে। দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, দিল্লি পুলিশ, দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন, সেন্ট্রালাইজড অ্যাক্সিডেন্ট অ্যান্ড ট্রমা সার্ভিস এবং জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর দলকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া ব্যক্তিদের নিরাপদে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: গুয়াতেমালায় ক্রীড়া কমপ্লেক্সে দুর্নীতিবিরোধী সাবেক কৌঁসুলিকে হত্যা

মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও কর্মকর্তাকে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি দ্রুত উদ্ধারকাজ শেষ করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বলেছেন। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।‘

দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসাও বলেন, সীমাপুরিতে ভবন ধসের পর ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চলছে। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিরসা বলেন, দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, দিল্লি পুলিশ, দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন, সেন্ট্রালাইজড অ্যাক্সিডেন্ট অ্যান্ড ট্রমা সার্ভিস এবং জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর দল ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে যুক্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া ব্যক্তিদের নিরাপদে উদ্ধারের জন্য ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চলছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার নির্দেশে প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সম্ভব সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

পোস্টে বলা হয়, ‘মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতী রেখা গুপ্তার নির্দেশে প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সম্ভব সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আহত সবাই যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন, আমি ওয়াহেগুরুর কাছে সেই প্রার্থনা করছি।

আরও পড়ুন: রাশিয়ার দাবি: সেন্ট পিটার্সবার্গের কাছে ইউক্রেনের ১২৬টি ড্রোন ভূপাতিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকার আর নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১০ এম


বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকার আর নেই

ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা ও নির্মাতা নানা পাটেকার আর নেই। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গোয়ায় নিজের বাসভবনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর সময় বরেণ্য এই অভিনেতার বয়স ছিল ৭৫ বছর।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা সেখানে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে সকাল ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন দায়িত্বরত চিকিৎসকরা।

নানা পাটেকার দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে নিখুঁত অভিনয়শৈলী ও দাপুটে সংলাপ পরিবেশনের জন্য দর্শকদের হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত এই কিংবদন্তি ‘নটসম্রাট’, ‘ওয়াজুদ’, ‘পরিন্দা’, ‘আব তাক ছাপ্পান’ এবং ‘যশোবন্ত’-এর মতো অসংখ্য সফল সিনেমায় অভিনয় করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন।

তিনি ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন। পরবর্তীতে ২০০০-এর দশকের সূচনালগ্নে ‘শক্তি: দ্য পাওয়ার’ (২০০২), ‘আব তাক ছাপ্পান’ (২০০৪), ‘অপহরণ’ (২০০৫) এবং ‘ট্যাক্সি নম্বর ৯২১১’ (২০০৬) সিনেমায় তার দুর্দান্ত অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। বাণিজ্যিক ধারার কমেডি ছবি ‘ওয়েলকাম’ (২০০৭) এবং এর সিক্যুয়াল ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ (২০১৫)-এ গ্যাংস্টার ‘উদয় শেট্টি’ চরিত্রে অভিনয় করে সিনেপ্রেমীদের মনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন তিনি।

এছাড়া জনপ্রিয় রাজনৈতিক থ্রিলার ‘রাজনীতি’ (২০১০) সিনেমায় দুর্দান্ত পার্শ্ব চরিত্রের জন্য পঞ্চমবারের মতো ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার মনোনয়ন পান তিনি। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে সাড়া জাগানো মারাঠি ছবি ‘নটসম্রাট’-এ অসাধারণ অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেতার পুরস্কার জয় করেন নানা পাটেকার। পরবর্তীতে কমেডি থ্রিলার ‘হাউসফুল ৫’ চলচ্চিত্রেও পার্শ্ব চরিত্রে দেখা গিয়েছিল তাকে।

অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীত জগতেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন এই বহুমুখী অভিনেতা। ‘যশোবন্ত’ (১৯৯৭), ‘ওয়াজুদ’ (১৯৯৮) এবং ‘আঁচ’ (২০০৩) সিনেমায় নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী (প্লেব্যাক) হিসেবে গান গেয়ে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে পণ্য যাচ্ছে কম, আসছে বেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১১ এম


বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যে পণ্য যাচ্ছে কম, আসছে বেশি

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমলেও, দেশটি থেকে বাংলাদেশের আমদানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে পণ্য আমদানি ১১৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। নতুন বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব, জ্বালানি ও কৃষিপণ্য আমদানি এবং ভবিষ্যতে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি বাণিজ্য আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দেশভিত্তিক আমদানি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ ১৮৯ কোটি ৬২ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। এর মধ্যে জানুয়ারি-মার্চ সময়ে আমদানি হয় ৬০ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের পণ্য। এপ্রিল-জুন সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৯ কোটি ৬ লাখ ডলারে। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে আমদানি বেড়েছে ১১৩ দশমিক ১১ শতাংশ।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এখনো নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে ৫৩৯ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। তবে আগস্টে একক মাসের হিসাবে বাংলাদেশের পোশাক আমদানি আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়েছে।

ফলে, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ওই দেশ থেকে বাড়ছে জ্বালানি, তুলা, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্যের আমদানি। এতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তিন মাসে আমদানি দ্বিগুণের বেশি

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, বিটুমিনসহ খনিজ জ্বালানি ও তেলজাত পণ্য। এই খাতে আমদানি ব্যয় হয়েছে ৭৭ কোটি ৫২ লাখ ডলার। জানুয়ারি-মার্চ সময়ে এই খাতে ব্যয় হয়েছিল মাত্র ১৩ কোটি ৫৫ লাখ ডলার।

এছাড়াও, এপ্রিল-জুন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪ কোটি ২৬ লাখ ডলারের তুলা, ১০ কোটি ৪১ লাখ ডলারের লোহা ও ইস্পাত, ৪ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের খাদ্যশস্য এবং ৭ কোটি ২৯ লাখ ডলারের সয়াবিন ও পশুখাদ্য আমদানি হয়েছে। এ সময় ২ কোটি ১৯ লাখ ডলারের পরিমাপ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি, ১ কোটি ৯১ লাখ ডলারের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং ১ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের প্লাস্টিক সামগ্রীও আমদানি করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বৃদ্ধির পেছনে নতুন বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি পণ্যের মান, সরবরাহের নিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতিও ভূমিকা রাখছে।

বাণিজ্য চুক্তির পর আমদানি বাড়ছে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির পর দেশটি থেকে আমদানি বাড়ার প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি, কৃষিপণ্য, তুলা এবং অন্যান্য পণ্য কেনার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, “এটা তো হওয়ারই কথা ছিল। ফেব্রুয়ারিতে চুক্তি হয়েছে। সেই চুক্তির আওতায় এখন দেশটি থেকে পণ্য আমদানি হচ্ছে। চুক্তির পর জুন মাস পর্যন্ত যে তথ্য আমরা দেখছি, তাতেই অনেক বেড়েছে। আগামীতে কী হবে, উড়োজাহাজ আমদানি শুরু হলে কী হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।” তার মতে, আমদানি বাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোও জরুরি। কারণ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি বেড়ে ৩৫৯ কোটি ২৯ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরে যা ছিল প্রায় ২৭২ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বড় আমদানি উড়োজাহাজ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি বাড়ার বড় কারণ হতে পারে উড়োজাহাজ। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি করেছে।

এর মধ্যে ১৪টি উড়োজাহাজের জন্য করা চুক্তির মূল্য প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার। পরে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি হয়েছে। ফলে আগামী বছরগুলোতে উড়োজাহাজ আমদানির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য লেনদেনে বড় অঙ্ক যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সেবার আমদানিও বাড়তে পারে।

পোশাক রপ্তানিতে বিপরীত চিত্র

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি যখন দ্রুত বাড়ছে, তখন দেশটির বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির চিত্র তেমন ইতিবাচক নয়। ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৯০৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আমদানির পরিমাণ কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। তবে গড়ে প্রতি ইউনিট পোশাকের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৭১ শতাংশ।

এই সময়ে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি মূল্য কমেছে ২৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ভারত থেকে ২৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। পাকিস্তান থেকে কমেছে ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং ভিয়েতনাম থেকে দশমিক ৭৬ শতাংশ। বিপরীতে ইন্দোনেশিয়া থেকে ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং কম্বোডিয়া থেকে ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আমদানি মূল্য কমেছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। পরিমাণের হিসাবে কমেছে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশের পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য কমেছে ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে চাহিদা কমার পাশাপাশি সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। তবে আগস্টে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি ১১ শতাংশের বেশি বাড়া ইতিবাচক সংকেত।’

আমদানি বাড়ছে, কিন্তু ভারসাম্য কোথায়

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেও বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় রপ্তানি আয়ের তুলনায় দ্রুত বেড়েছে। জুলাই-আগস্ট সময়ে আমদানি ব্যয় ১২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২২০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, হয়েছে ৮৩৮ কোটি ডলার। ফলে এ সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি ২৯ শতাংশ বেড়ে ৩৮২ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এর বড় কারণ জ্বালানি তেল আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি। এ সময়ে জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ২৪৯ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১২৫ কোটি ডলার। তবে রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির কারণে চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত বেড়েছে। প্রথম দুই মাসে প্রবাসী আয় প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়ে ৫৮৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

চীন-ভারতের বিকল্প নয়, বাড়ছে বৈচিত্র্য

বাংলাদেশের আমদানি বাজারে এখনও চীন ও ভারতের আধিপত্য রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীন থেকে বাংলাদেশ প্রায় ১৮ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। ভারত থেকে আমদানি হয়েছে প্রায় ৯ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হয়েছে ২ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার।

তাহলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়লেও অল্প সময়ের মধ্যে চীন ও ভারতকে পিছনে ফেলে দেশটি বাংলাদেশের প্রধান আমদানি উৎস হয়ে উঠবে—এমন সম্ভাবনা অর্থনীতিবিদরা দেখছেন না।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “সাধারণ শিল্পপণ্য ও কাঁচামালের ক্ষেত্রে চীন ও ভারতের অবস্থান শক্তিশালী। তবে এলএনজি, তুলা, কৃষিপণ্য, উড়োজাহাজ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও উচ্চপ্রযুক্তির পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ বাড়তে পারে।” অর্থাৎ বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যে বড় পরিবর্তন এলেও তা চীন বা ভারতের জায়গা পুরোপুরি দখলের চেয়ে আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনার দিকেই বেশি এগোতে পারে।

তবে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটির বাজারে রপ্তানিও বাড়ানো। কারণ আমদানি দ্রুত বাড়লেও রপ্তানি সে অনুপাতে না বাড়লে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়বে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখা এবং উচ্চমূল্যের পোশাকের বাজার বাড়ানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রণোদনার ঋণ দ্রুত ছাড়ের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১১ এম


প্রণোদনার ঋণ দ্রুত ছাড়ের দাবি

প্রণোদনার ঋণ পাওয়ার জন্য শর্ত শিথিল করার পাশাপাশি খেলাপিমুক্ত হওয়ার জন্য ২ শতাংশ নগদ টাকা জমা দেওয়ার নিয়ম প্রত্যাহারের দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের এক বৈঠকে তাঁরা এই দাবি জানান।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা ও নানা জটিলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁদের। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা হতে দীর্ঘসূত্রতা, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া এবং ঋণের আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হচ্ছে। এ কারণে তাঁরা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করে ঋণ ছাড়ার দাবি জানিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ), বাংলাদেশ চেম্বার অব অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ), বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ), বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ) এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদ এবং মো. সরোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা সূত্রে জানা যায়, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা নীতিমালায় কোনো ঘাটতি বা অস্পষ্টতা রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ব্যবসায়ীরা বলেন, ঋণ বা সহায়তার আবেদন নিষ্পত্তিতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পর্ষদ সভা হতে এক মাস পর্যন্ত সময় লাগছে। এ কারণে প্রতি সপ্তাহে অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ পর্ষদ সভা করে আবেদন নিষ্পত্তির দাবি জানান তাঁরা।

এছাড়া ঋণের আবেদন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা কমানোর দাবি জানান ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রণোদনা কর্মসূচির নীতিমালা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সংশ্লিষ্ট সবার যৌথ দায়িত্ব। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা যেন দ্রুত সহায়তা পান, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়ার ক্ষেত্রেও যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের তাগিদ দেওয়া হয়।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সাংবাদিকদের বলেন, ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে সুবিধা নিতে ব্যবসায়ীরা আগ্রহী হলেও বিভিন্ন ব্যাংকের অসহযোগিতার কারণে অনেকে আবেদন করতে পারছেন না। অনেক ব্যাংক আবেদন নিতে চাইছে না। আবার কেউ কেউ নানা অজুহাতে উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিপত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে। এসব জটিলতা দ্রুত দূর করে জমা পড়া আবেদনগুলো নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।

বন্ধ কলকারখানা চালুর পাশাপাশি অর্থনীতি চাঙ্গা করতে গত মে মাসে ৬২ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে এই ঋণ বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তাদের কাছে যাবে। এতে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে চার মাসের মধ্যে অর্থনীতিতে কোনো সুফল আসেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০ হাজার কোটি টাকার এই তহবিল থেকে মাত্র ৫০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। অন্য খাতেও ঋণ বিতরণে তেমন গতি নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক সেবনের টাকার জন্য মা-বোনকে মারধর, যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১৫ এম


মাদক সেবনের টাকার জন্য মা-বোনকে মারধর, যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড

বরগুনায় মাদক সেবনের জন্য টাকা চেয়ে মা ও দুই বোনকে মারধর, ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ; ডোপ টেস্টে গাঁজা সেবনের প্রমাণ

বরগুনায় মাদক সেবনের জন্য টাকা চেয়ে নিজের মা ও দুই বোনকে মারধর, বসতঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মো. সুমন খলিফা (৩৫) নামে এক যুবককে মোট ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আদালত সূত্র ও পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৫টার দিকে বরগুনা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বরগুনা ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সুমন খলিফা তার মা মোছা. নিলুফা (৬০) এবং দুই বোন নিশিতা শিমু (২৯) ও সুমাইয়া আক্তার মিমকে (২৪) মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই সময় মাদক সেবনের জন্য তাদের কাছে টাকা দাবি এবং বসতঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করার অভিযোগও রয়েছে।

সংবাদ পেয়ে বরগুনা থানার এসআই মো. নজরুল ইসলাম বালির নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সুমন খলিফাকে হেফাজতে নেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পায় বলে জানানো হয়েছে।

পরে তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন কি না, তা যাচাই করতে ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে বরগুনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে তার ডোপ টেস্ট করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে *Canabinoids Positive (THC)* পাওয়া যায়। হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) ডা. মো. মারুফ হাসান মতামতে উল্লেখ করেন, পরীক্ষার ফল অনুযায়ী তিনি গাঁজা সেবন করেছিলেন।

পুলিশ জানায়, সুমন নিজের দোষ স্বীকার করায় তাকে আদালতে সশরীরে হাজির করা হয়। পরে বরগুনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে তাকে গাঁজা সেবনের অপরাধে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেন।

এ ছাড়া মা ও দুই বোনকে মারধরের ঘটনায় আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ফলে দুই অপরাধে সুমন খলিফার মোট ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড হয়েছে। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত ৩০ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%