বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:১১ এম
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমলেও, দেশটি থেকে বাংলাদেশের আমদানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে পণ্য আমদানি ১১৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। নতুন বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব, জ্বালানি ও কৃষিপণ্য আমদানি এবং ভবিষ্যতে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি বাণিজ্য আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দেশভিত্তিক আমদানি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ ১৮৯ কোটি ৬২ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। এর মধ্যে জানুয়ারি-মার্চ সময়ে আমদানি হয় ৬০ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের পণ্য। এপ্রিল-জুন সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৯ কোটি ৬ লাখ ডলারে। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে আমদানি বেড়েছে ১১৩ দশমিক ১১ শতাংশ।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এখনো নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে ৫৩৯ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। তবে আগস্টে একক মাসের হিসাবে বাংলাদেশের পোশাক আমদানি আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়েছে।
ফলে, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ওই দেশ থেকে বাড়ছে জ্বালানি, তুলা, কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্যের আমদানি। এতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তিন মাসে আমদানি দ্বিগুণের বেশি
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, বিটুমিনসহ খনিজ জ্বালানি ও তেলজাত পণ্য। এই খাতে আমদানি ব্যয় হয়েছে ৭৭ কোটি ৫২ লাখ ডলার। জানুয়ারি-মার্চ সময়ে এই খাতে ব্যয় হয়েছিল মাত্র ১৩ কোটি ৫৫ লাখ ডলার।
এছাড়াও, এপ্রিল-জুন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪ কোটি ২৬ লাখ ডলারের তুলা, ১০ কোটি ৪১ লাখ ডলারের লোহা ও ইস্পাত, ৪ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের খাদ্যশস্য এবং ৭ কোটি ২৯ লাখ ডলারের সয়াবিন ও পশুখাদ্য আমদানি হয়েছে। এ সময় ২ কোটি ১৯ লাখ ডলারের পরিমাপ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি, ১ কোটি ৯১ লাখ ডলারের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং ১ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের প্লাস্টিক সামগ্রীও আমদানি করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বৃদ্ধির পেছনে নতুন বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি পণ্যের মান, সরবরাহের নিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতিও ভূমিকা রাখছে।
বাণিজ্য চুক্তির পর আমদানি বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির পর দেশটি থেকে আমদানি বাড়ার প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি, কৃষিপণ্য, তুলা এবং অন্যান্য পণ্য কেনার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, “এটা তো হওয়ারই কথা ছিল। ফেব্রুয়ারিতে চুক্তি হয়েছে। সেই চুক্তির আওতায় এখন দেশটি থেকে পণ্য আমদানি হচ্ছে। চুক্তির পর জুন মাস পর্যন্ত যে তথ্য আমরা দেখছি, তাতেই অনেক বেড়েছে। আগামীতে কী হবে, উড়োজাহাজ আমদানি শুরু হলে কী হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।” তার মতে, আমদানি বাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোও জরুরি। কারণ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি বেড়ে ৩৫৯ কোটি ২৯ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরে যা ছিল প্রায় ২৭২ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বড় আমদানি উড়োজাহাজ
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের আমদানি বাড়ার বড় কারণ হতে পারে উড়োজাহাজ। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি করেছে।
এর মধ্যে ১৪টি উড়োজাহাজের জন্য করা চুক্তির মূল্য প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার। পরে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি হয়েছে। ফলে আগামী বছরগুলোতে উড়োজাহাজ আমদানির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য লেনদেনে বড় অঙ্ক যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সেবার আমদানিও বাড়তে পারে।
পোশাক রপ্তানিতে বিপরীত চিত্র
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি যখন দ্রুত বাড়ছে, তখন দেশটির বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির চিত্র তেমন ইতিবাচক নয়। ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৯০৮ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আমদানির পরিমাণ কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। তবে গড়ে প্রতি ইউনিট পোশাকের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৭১ শতাংশ।
এই সময়ে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি মূল্য কমেছে ২৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ভারত থেকে ২৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। পাকিস্তান থেকে কমেছে ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং ভিয়েতনাম থেকে দশমিক ৭৬ শতাংশ। বিপরীতে ইন্দোনেশিয়া থেকে ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং কম্বোডিয়া থেকে ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ বেড়েছে।
বাংলাদেশ থেকে আমদানি মূল্য কমেছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। পরিমাণের হিসাবে কমেছে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশের পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য কমেছে ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে চাহিদা কমার পাশাপাশি সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। তবে আগস্টে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি ১১ শতাংশের বেশি বাড়া ইতিবাচক সংকেত।’
আমদানি বাড়ছে, কিন্তু ভারসাম্য কোথায়
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেও বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় রপ্তানি আয়ের তুলনায় দ্রুত বেড়েছে। জুলাই-আগস্ট সময়ে আমদানি ব্যয় ১২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২২০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, হয়েছে ৮৩৮ কোটি ডলার। ফলে এ সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি ২৯ শতাংশ বেড়ে ৩৮২ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর বড় কারণ জ্বালানি তেল আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি। এ সময়ে জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ২৪৯ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১২৫ কোটি ডলার। তবে রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির কারণে চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত বেড়েছে। প্রথম দুই মাসে প্রবাসী আয় প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়ে ৫৮৩ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
চীন-ভারতের বিকল্প নয়, বাড়ছে বৈচিত্র্য
বাংলাদেশের আমদানি বাজারে এখনও চীন ও ভারতের আধিপত্য রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীন থেকে বাংলাদেশ প্রায় ১৮ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। ভারত থেকে আমদানি হয়েছে প্রায় ৯ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হয়েছে ২ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার।
তাহলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়লেও অল্প সময়ের মধ্যে চীন ও ভারতকে পিছনে ফেলে দেশটি বাংলাদেশের প্রধান আমদানি উৎস হয়ে উঠবে—এমন সম্ভাবনা অর্থনীতিবিদরা দেখছেন না।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “সাধারণ শিল্পপণ্য ও কাঁচামালের ক্ষেত্রে চীন ও ভারতের অবস্থান শক্তিশালী। তবে এলএনজি, তুলা, কৃষিপণ্য, উড়োজাহাজ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও উচ্চপ্রযুক্তির পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ বাড়তে পারে।” অর্থাৎ বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যে বড় পরিবর্তন এলেও তা চীন বা ভারতের জায়গা পুরোপুরি দখলের চেয়ে আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনার দিকেই বেশি এগোতে পারে।
তবে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটির বাজারে রপ্তানিও বাড়ানো। কারণ আমদানি দ্রুত বাড়লেও রপ্তানি সে অনুপাতে না বাড়লে বাণিজ্য ঘাটতি আরও বাড়বে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখা এবং উচ্চমূল্যের পোশাকের বাজার বাড়ানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রণোদনার ঋণ পাওয়ার জন্য শর্ত শিথিল করার পাশাপাশি খেলাপিমুক্ত হওয়ার জন্য ২ শতাংশ নগদ টাকা জমা দেওয়ার নিয়ম প্রত্যাহারের দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের এক বৈঠকে তাঁরা এই দাবি জানান।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা ও নানা জটিলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁদের। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা হতে দীর্ঘসূত্রতা, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া এবং ঋণের আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হচ্ছে। এ কারণে তাঁরা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করে ঋণ ছাড়ার দাবি জানিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ), বাংলাদেশ চেম্বার অব অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ), বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ), বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ) এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদ এবং মো. সরোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা সূত্রে জানা যায়, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা নীতিমালায় কোনো ঘাটতি বা অস্পষ্টতা রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ীরা বলেন, ঋণ বা সহায়তার আবেদন নিষ্পত্তিতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পর্ষদ সভা হতে এক মাস পর্যন্ত সময় লাগছে। এ কারণে প্রতি সপ্তাহে অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ পর্ষদ সভা করে আবেদন নিষ্পত্তির দাবি জানান তাঁরা।
এছাড়া ঋণের আবেদন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা কমানোর দাবি জানান ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রণোদনা কর্মসূচির নীতিমালা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সংশ্লিষ্ট সবার যৌথ দায়িত্ব। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা যেন দ্রুত সহায়তা পান, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়ার ক্ষেত্রেও যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের তাগিদ দেওয়া হয়।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সাংবাদিকদের বলেন, ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে সুবিধা নিতে ব্যবসায়ীরা আগ্রহী হলেও বিভিন্ন ব্যাংকের অসহযোগিতার কারণে অনেকে আবেদন করতে পারছেন না। অনেক ব্যাংক আবেদন নিতে চাইছে না। আবার কেউ কেউ নানা অজুহাতে উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিপত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে। এসব জটিলতা দ্রুত দূর করে জমা পড়া আবেদনগুলো নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।
বন্ধ কলকারখানা চালুর পাশাপাশি অর্থনীতি চাঙ্গা করতে গত মে মাসে ৬২ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে এই ঋণ বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তাদের কাছে যাবে। এতে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে চার মাসের মধ্যে অর্থনীতিতে কোনো সুফল আসেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০ হাজার কোটি টাকার এই তহবিল থেকে মাত্র ৫০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। অন্য খাতেও ঋণ বিতরণে তেমন গতি নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরগুনায় মাদক সেবনের জন্য টাকা চেয়ে মা ও দুই বোনকে মারধর, ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ; ডোপ টেস্টে গাঁজা সেবনের প্রমাণ
বরগুনায় মাদক সেবনের জন্য টাকা চেয়ে নিজের মা ও দুই বোনকে মারধর, বসতঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মো. সুমন খলিফা (৩৫) নামে এক যুবককে মোট ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আদালত সূত্র ও পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৫টার দিকে বরগুনা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বরগুনা ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সুমন খলিফা তার মা মোছা. নিলুফা (৬০) এবং দুই বোন নিশিতা শিমু (২৯) ও সুমাইয়া আক্তার মিমকে (২৪) মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই সময় মাদক সেবনের জন্য তাদের কাছে টাকা দাবি এবং বসতঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করার অভিযোগও রয়েছে।
সংবাদ পেয়ে বরগুনা থানার এসআই মো. নজরুল ইসলাম বালির নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সুমন খলিফাকে হেফাজতে নেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পায় বলে জানানো হয়েছে।
পরে তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন কি না, তা যাচাই করতে ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে বরগুনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে তার ডোপ টেস্ট করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে *Canabinoids Positive (THC)* পাওয়া যায়। হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) ডা. মো. মারুফ হাসান মতামতে উল্লেখ করেন, পরীক্ষার ফল অনুযায়ী তিনি গাঁজা সেবন করেছিলেন।
পুলিশ জানায়, সুমন নিজের দোষ স্বীকার করায় তাকে আদালতে সশরীরে হাজির করা হয়। পরে বরগুনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে তাকে গাঁজা সেবনের অপরাধে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেন।
এ ছাড়া মা ও দুই বোনকে মারধরের ঘটনায় আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ফলে দুই অপরাধে সুমন খলিফার মোট ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড হয়েছে। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত ৩০ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম মন্তব্য করেছেন যে, গণ-অভ্যুত্থানের পর সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে কথা হয়েছিল। নির্বাচন সম্পন্ন হলেও, সংস্কার ও বিচার এখনও বাকি রয়ে গেছে। গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) সংলগ্ন পলাশী চত্বরে আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভের পাদদেশে শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মাহফুজ আলম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের বিচার যেমন জরুরি, তেমনি অতীতে দমন-পীড়ন, গুম ও হত্যার শিকার ব্যক্তিদের বিচারও প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আবরার ফাহাদের শাহাদাতের সঙ্গে এসব বিচারের বিষয়ও সম্পর্কিত। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার আমলে আবরার ফাহাদের শাহাদাতের ঘটনা ঘটেছে, তখন আমাদের অবস্থান ছিল যে, বাংলাদেশকে ভেতর থেকে স্বাধীন করতে হবে। আজও আমাদের সামনে একই প্রশ্ন বিদ্যমান। ভারতের দিক থেকে উপনিবেশ ও সম্প্রসারণবাদের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। তবে জনগণের রাজনৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতার মধ্যে যদি উপনিবেশের প্রতি আকাক্সক্ষা বা আত্মীয়তা থাকে, তাহলে বাইরের কেউ দেশকে উপনিবেশ বানানোর প্রয়োজন হয় না।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে মাহফুজ আলম বলেন, আমাদের লড়াই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি পর্ব অতিক্রম করেছে। সামনে আমাদের লড়াই আট স্তম্ভের বিষয়গুলো নিয়ে হচ্ছে, যা সার্বভৌমত্ব, জাতীয় সম্পদ রক্ষা এবং গণতন্ত্রের প্রশ্ন। গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে গঠিত কমিশনের তথ্য এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বহু মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে দমন-পীড়নের শিকার ব্যক্তিদের বিচারের দাবিও সামনে রাখেন। শহীদ আবরার ফাহাদ আমাদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল এই বিচারের জন্য। তিনি মনে করেন, শহীদ আবরার ফাহাদের বিচারের সঙ্গে সঙ্গে অন্য যেসব মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ মুক্ত হয়েছি এবং গণতন্ত্রের ধারায় ফিরে আসতে পারছি, তাদেরও স্মরণ করা উচিত। শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মাহফুজ বলেন, ‘শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ, লুটপাট, দুর্নীতি এবং দেশকে বিক্রি করে দেওয়ার যে রাজনীতি, সে রাজনীতির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।
স্মরণসভায় কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকতউল্লাহ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই সাক্ষাৎকালে তারা বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন। তথ্যটি ভারতীয় সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গত মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়।
গত শনিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে, শেখ হাসিনার ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সামরিক বিমানে ভারতে যাওয়ার বিষয়টি এবং সেই সময়ের পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের ভূমিকা নিয়ে দীনেশ ত্রিবেদীর মন্তব্য বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রেক্ষাপটে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে, যা কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে। তিনি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছেন যে, শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমান বাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি। বাংলাদেশের তৎকালীন পরিস্থিতির কারণে তিনি ভারতে এসেছিলেন এবং সেই সময় প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাস্তবতাকে গ্রহণ করা ছাড়া ভারতের সামনে খুব বেশি বিকল্প ছিল না।
দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় যে মন্তব্য করেছেন, তা শেখ হাসিনা ভারতে যাওয়ার পরদিন অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট ভারতের সংসদের উচ্চ-কক্ষ রাজ্যসভায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্ন কিছু নয় বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ