মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৩৫ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন সকলের সঙ্গে। তিনি উল্লেখ করেছেন, সরকার দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে থাকবে।
আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রংপুরের পাগলাপীরে অনুষ্ঠিত এক পথসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরে বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। আমরা যেদিন থেকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছি, সেদিন থেকেই আমরা চেষ্টা করেছি এই দেশের খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। সে জন্যই আপনারা দেখেছেন যে কৃষকদের কৃষির ঋণ—আমরা দশক ধরে পর্যন্ত কৃষির ঋণ মওকুফ করেছি সঙ্গে সঙ্গে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছি, আমরা কৃষক কার্ড ইনশাআল্লাহ চালু করব। আমরা ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মের যারা ধর্মীয় গুরু আছেন, তাদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা আমরা করেছি। এভাবে সমাজের প্রতিটি শ্রেণি, খেটে খাওয়া মানুষ যারা আছে, প্রতিটি পেশার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আমরা চেষ্টা করছি।’
এর আগে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানাতে প্রধানমন্ত্রী রংপুরের পাগলাপীরে উপস্থিত হন।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখার জন্য সৈয়দপুর থেকে রংপুরের সড়কের দুই পাশে ভিড় করেন নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ। কয়েক কিলোমিটার সড়কজুড়ে দেখা যায় উৎসুক জনতার উপস্থিতি। এ সময় হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান তারা। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৪৮৬ জনকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে ৪৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
ডিএমপি জানায়, আটকদের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে ৩৩ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ৩৫ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৫০ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৩৫ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৯৬ জন, মিরপুর বিভাগ থেকে ১৬৭ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ২৪ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৪২ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
অভিযানের সময় ১টি বিদেশি পিস্তল, ১০ কেজি গাঁজা, ১৭ হাজার ২১৬ পিস ইয়াবা, ১০টি মোবাইল ফোন, ১৩ হাজার ৭৭০ টাকা এবং ২ জন ভুক্তভোগী উদ্ধার করা হয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় ডিএমপি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রেলীয় মডেল, ফ্যাশন ডিজাইনার ও ইনফ্লুয়েন্সার সাহারা রে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। গত রবিবার (১৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু ঘটে। মার্কিন বিনোদনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টিএমজেড গতকাল সোমবার তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে।
সাহারার পরিবার সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে, মৃত্যুর সময় তার পাশে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘শেষ মুহূর্তে পরিবারের সবাই তার পাশে ছিলেন। সবাই তাকে খুব ভালোবাসতেন।’
বছরের শুরুতে সাহারা মা হয়েছেন। তার কন্যার নাম রাখা হয়েছে স্নো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার সর্বশেষ পোস্টটিও ছিল ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার পুরো হৃদয়জুড়ে ছোট্ট স্নো।’ সেই পোস্টের মাত্র তিন মাস পর তিনি না ফেরার দেশে চলে গেলেন।
সাহারার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পরিবার শুরুতে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ফেন্টানিল নামের একটি শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত মাত্রা গ্রহণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে লস অ্যাঞ্জেলেসের হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। রবিবার পরিবারের সদস্যরা জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে সাহারার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পরিবার কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি। ওষুধের অতিরিক্ত মাত্রা গ্রহণের ঘটনা দুর্ঘটনাবশত ঘটেছিল কি না, তা-ও এখনো স্পষ্ট নয়।
সাহারা জানুয়ারিতে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন এবং মেয়ের নাম রাখেন স্নো। মা হওয়ার আনন্দ তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন। সন্তান জন্মের আগে ২৫ জানুয়ারি এক পোস্টে জানিয়েছিলেন, সেদিন রাতেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। মাতৃত্বের নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি নিজের উদ্বেগও প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
গত ১৯ জুলাই ইনস্টাগ্রামে মেয়ের কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে ভালোবাসার কথা জানিয়েছিলেন সাহারা। সেটিই তার ইনস্টাগ্রাম পাতায় সর্বশেষ পোস্ট। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেই ছবিগুলো ঘিরে আবেগঘন মন্তব্য করছেন অনুসারীরা। ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে তার শেষ বার্তাটি এখন ভক্তদের কাছে হয়ে উঠেছে স্মৃতিময় এক মুহূর্ত।
মৃত্যুর পূর্ববর্তী কয়েক বছর শারীরিক নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে সাহারাকে। ২০২৪ সালে তিনি জানিয়েছিলেন, গিয়াঁ-বারে সিনড্রোম নামের বিরল স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বছরের এপ্রিলে একটি গাড়ি দুর্ঘটনার পর থেকেই শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। মদ্যপ এক গাড়িচালক তাকে ধাক্কা দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।
দুর্ঘটনার পর একপর্যায়ে ঊরুর ওপরের অংশ থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত অনুভূতি ও চলাচলের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন সাহারা। চলাফেরার জন্য তাকে হুইলচেয়ার ও হাঁটার সহায়ক সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করতে হতো।
শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনের সংকট নিয়েও সাহারা খোলামেলা ছিলেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি জানিয়েছিলেন, মাদক ও অ্যালকোহলনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এজন্য ৩০ দিনের একটি পুনর্বাসন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। মানসিক স্বাস্থ্য ও আসক্তির চিকিৎসা নেওয়ার অভিজ্ঞতা অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন এই মডেল।
তবে অতীতে আসক্তির চিকিৎসা নেওয়ার সঙ্গে তার সাম্প্রতিক মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে, এমন তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।
অস্ট্রেলিয়ার পরিচিত সার্ফার টনি রের মেয়ে সাহারার শৈশবের বড় একটি সময় কেটেছে অস্ট্রেলিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া ও হাওয়াইয়ে। বাবার সূত্রে ছোটবেলা থেকেই সমুদ্র ও সার্ফিংয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তার। তবে কৈশোর পেরিয়ে মডেলিং ও ফ্যাশন ডিজাইনের জগতে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন তিনি।
২০১৪ সালে নিজের সাঁতারের পোশাকের ব্র্যান্ড ‘সাহারা রে সুইম’ চালু করেন। মডেলিংয়ের পাশাপাশি ফ্যাশন ব্যবসা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয়তার কারণে ধীরে ধীরে পরিচিতি বাড়তে থাকে তার। ২০১৬ সালে হাওয়াইয়ে জাস্টিন বিবারের সঙ্গে ছুটি কাটানোর ছবি প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজরে আসেন সাহারা। তাদের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা হলেও কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করেননি। এর আগে অস্ট্রেলীয় সংগীতশিল্পী কোডি সিম্পসনের সঙ্গেও তার সম্পর্কের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকে লক্ষ্য করে সদ্য পদত্যাগ করা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, যদি তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়, তবে তিনি নিজেই আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যাবেন। একইসঙ্গে, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সমালোচনার প্রেক্ষিতে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টে ইশরাক এসব মন্তব্য করেন। এর আগে, একই দিন দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলামকে উদ্দেশ্য করে ইশরাক লেখেন, ‘জনাব নাহিদ ইসলামকে একটু হলেও নতুন বন্দোবস্তের ধারক ভাবতাম। আমার প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে মাদকের মহামারি ও এর প্রতিকার সম্পর্কে শূন্য শতাংশ কথা বলে ১০০ শতাংশ আমার ফৌজদারি অপরাধ খুঁজে বের করার পরামর্শ দিলেন তিনি।’
মাদক সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা না করে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধ খোঁজার পরামর্শ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইশরাক। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘দুঃখিত জেন-জি, কোনো নতুন বন্দোবস্ত এদের মাধ্যমে পাচ্ছেন না।’
নাম উল্লেখ না করে আরেকজনের সমালোচনা করে ইশরাক বলেন, ওই ব্যক্তি তাঁকে ফোন করে পরবর্তী মাদকবিরোধী অভিযানে সঙ্গে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য, মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এ বিষয়ে কার্যকর পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়ে তাঁর সংশয় রয়েছে।
নাহিদ ইসলামকে উদ্দেশ্য করে ইশরাক আরও লেখেন, ‘কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে ফৌজদারি অপরাধ বের করে একটা মামলা করে দেন আমার নামে। আমি নিজে গিয়ে সারেন্ডার করে জেলে চলে যাবো। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা বলে কথা।’ তাঁর বক্তব্য, মাদক নির্মূলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে শুধু আইনি অভিযোগের বিষয়টি সামনে আনা যথাযথ নয়।
মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে ইশরাক লেখেন, ‘অন্য স্টাইলে প্রতিকার করতে হবে। যেমন কুকুর তেমন মুগুর।’ বড় মাদক ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি আরও লেখেন, ‘শীঘ্রই আসিতেছে। বড় ডিলার। বিক্রেতারা অপেক্ষা কর।’
এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি। মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও জানান ইশরাক।
এদিকে, ইশরাকের পদত্যাগের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, নৈতিক কারণে পদত্যাগ করা এবং ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগের মুখে পদত্যাগ করা এক বিষয় নয়। ইশরাক যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ