ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাহরাইনের বাংলাদেশ দূতাবাসে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উদযাপন


বাহরাইনের বাংলাদেশ দূতাবাসে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উদযাপন

বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদায় ‘লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস’ পালিত হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দূতাবাসের হলরুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার, এনডিসি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাহরাইনে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, পেশাজীবী, বাংলাদেশ স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

আরও পড়ুন: সাংবাদিক সহিদুলকে প্রাণনাশের হুমকি, আদালতে মামলা

রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার অনুষ্ঠানে বলেন, লালন ফকির ছিলেন একাধারে বাউল সাধক, দার্শনিক ও শিল্পী। তার দর্শন ও সংগীত বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। ২০০৫ সালে ইউনেস্কো বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বাউল গানকে ‘মানবতার মৌখিক ও বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মাস্টারপিস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাউল সংস্কৃতির পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা ছড়িয়ে দিতে লালন সাঁইয়ের দর্শন আজও গুরুত্বপূর্ণ। তার জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং লোকসংগীত ও লোকসংস্কৃতির চর্চা, গবেষণা ও প্রসারে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকার ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে দেশের লোকসংগীত ও লোকজ ঐতিহ্যের গুরুত্ব আরও সুপ্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে রাষ্ট্রদূত উপস্থিত অতিথিদের লালন সাঁইয়ের প্রেম, অহিংসা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার আদর্শ ধারণ করে বৈষম্যহীন, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গঠনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, নতুন ভবন ৩১ একরে নির্মিত হবে

আলোচনা পর্ব শেষে লালন সাঁইয়ের জীবন ও দর্শনের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে আয়োজিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উপস্থিত অতিথিরা আগ্রহের সঙ্গে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্তন ক্যান্সার: রোগী নারীর, তবে সিদ্ধান্ত পরিবারে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৪ পি.এম


স্তন ক্যান্সার: রোগী নারীর, তবে সিদ্ধান্ত পরিবারে?

মাস আটেক আগে ব্যথা অনুভব করেননি। তাই সম্ভবত তিনি মনে করেছিলেন, এটি এমনিই সেরে যাবে। তবে ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতালের ক্যান্সার বহির্বিভাগে পেশাগত কারণে একজন চিকিৎসকের চেম্বারে বসে থাকা অবস্থায় যে দৃশ্যটি দেখেছিলাম, তা সহজে ভুলে যাওয়ার মতো নয়। মধ্যবয়সী এক নারী তার স্বামীর সঙ্গে এসেছিলেন, হাতে পরীক্ষার রিপোর্ট। রিপোর্টে দেখা গেল, স্তন ক্যান্সার ইতিমধ্যে অনেক দূর ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রথমে চিকিৎসক নারীটিকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘চাকাটা প্রথম কবে টের পেয়েছিলেন?’ স্বামীর কাছ থেকে উত্তর এল : ‘মাস আটেক আগে। তখন তো ব্যথা ছিল না, ভাবলাম এমনিই সেরে যাবে।’ এরপর চিকিৎসক আবার নারীটির দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘এত দেরি করলেন কেন?’ এবারও জবাব দিলেন স্বামী। পুরো সময়টায় নারীটি প্রায় একটি কথাও বলেননি। প্রশ্নগুলো ছিল তার প্রতি, কিন্তু উত্তর দিচ্ছিলেন অন্য একজন। আমার মনে হয়েছে, আট মাস আগে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্তটিও সম্ভবত তিনি নিজে নিতে পারেননি।

আমরা কি ভুল মানুষের সঙ্গে কথা বলছি?

প্রতিবছর অক্টোবরে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাসে নারীদের জন্য আমরা একই পরামর্শ দিয়ে থাকি : নিজে পরীক্ষা করুন, চাকা পেলে দেরি করবেন না। এই বার্তাটি ভুল নয়। তবে প্রায় দুই দশক ধরে ওষুধশিল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং ক্যান্সার চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত আলাপ আমাকে একটি ভিন্ন ধারণা দিয়েছে। দেরির বড় কারণ প্রায়ই নারীর অজ্ঞতা নয়, বরং তার চারপাশের মানুষের সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশের বহু পরিবারে একজন নারী চাইলেই হাসপাতালে যেতে পারেন না। যাতায়াতের টাকা, সঙ্গে যাওয়ার লোক, বাড়ির কাজ সামলানোর ব্যবস্থা, সবকিছুর জন্যই অনুমতি বা সাহায্য লাগে। স্তনের সমস্যা নিয়ে স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে খোলামেলা কথা বলাও অনেকের জন্য সহজ নয়। অবিবাহিত মেয়ের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে যোগ হয় বিয়ের দুশ্চিন্তা। তাই প্রথম পরামর্শটি অনেক সময় পরিবারের কারও কাছ থেকেই আসে, আর সেটি হয় ‘অপেক্ষা করো’।

চিকিৎসকেরা বলছেন, দেশে স্তন ক্যান্সারের রোগীদের বড় অংশ চিকিৎসার জন্য আসেন রোগ অনেক এগিয়ে যাওয়ার পর। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অধিকাংশ রোগীই রোগের শেষ পর্যায়ে ডাক্তারের কাছে আসেন, বিশেষ করে তৃতীয় পর্যায় (৪২.২%) এবং চতুর্থ পর্যায় (১৮.০%), (তথ্যসূত্র : Factors Associated With Delay in Seeking Medical Care Among Breast Cancer Patients in Bangladesh by Dr. Moni Rani, Radiotherapy Department, Rangpur Medical College)। অথচ শুরুতেই ধরা পড়লে এই রোগের চিকিৎসা অনেক সহজ হয়, খরচও কমে, আর ভালো হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেশি থাকে। দেরির মূল্য শেষ পর্যন্ত পুরো পরিবারকেই দিতে হয় : দীর্ঘ চিকিৎসা, জমি বা গয়না বিক্রি, আর অনেক ক্ষেত্রে সন্তানদের মা হারানো।

সিদ্ধান্ত যারা নেন, বার্তাটি তাদের কাছে পৌঁছাতে হবে। নইলে সচেতনতার প্রভাব সীমিতই থেকে যাবে। তাই আমার প্রস্তাব, স্তন ক্যান্সার সচেতনতার একটি অংশ সরাসরি পুরুষদের লক্ষ্য করে সাজানো হোক।

মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়িতে গেলে সাধারণত নারীদের সঙ্গেই কথা বলেন। কিন্তু বাড়ির পুরুষ সদস্যদেরও এই আলোচনায় যুক্ত করা জরুরি; অন্তত এ কথা জানানোর জন্য যে, স্তনে চাকা মানেই দ্রুত ডাক্তার দেখানো, ব্যথা থাকুক বা না থাকুক। এতে সিদ্ধান্তের গতি বাড়তে পারে।

পুরুষেরা যেখানে নিয়মিত জড়ো হন, সেখানেও বার্তা পৌঁছানো সম্ভব। জুমার খুতবা, ইউনিয়ন পরিষদের সভা বা কারখানার সাপ্তাহিক মিটিংয়ে দুই মিনিটের একটি বার্তাই বড় পরিবর্তন আনতে পারে। ইমাম, জনপ্রতিনিধি ও কর্মস্থলের ব্যবস্থাপকেরা এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

গণমাধ্যমের প্রচারণাতেও একই বিষয় প্রযোজ্য। নারীর পাশাপাশি স্বামী, ছেলে বা বাবার চরিত্র আনা দরকার, যারা নিজেরাই বলছেন, ‘চলো, কালকেই ডাক্তার দেখাই।’ মানুষ যা দেখে, তা থেকেই শেখে। তাই বার্তাটি এমনভাবে দেখাতে হবে, যাতে সিদ্ধান্তের দায় যাদের হাতে, তারাই তা গুরুত্ব দিয়ে নেন।

একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। স্তনের বেশিরভাগ চাকাই ক্যান্সার নয়। সুতরাং আতঙ্ক ছড়ানো লক্ষ্য নয়। লক্ষ্য হলো, চাকা পাওয়ার পর সিদ্ধান্তটা যেন সপ্তাহের মধ্যে হয়, মাসের পর মাস পরে নয়।

শেষ কথা

সেদিন চেম্বার থেকে বের হওয়ার সময় স্বামী ভদ্রলোক চিকিৎসককে বলছিলেন, ‘আগে জানলে তো আগেই আনতাম।’ তার কথায় অনুশোচনা ছিল। হয়তো তিনি সত্যিই জানতেন না।

এই অক্টোবরে আমরা যদি সেই না জানা মানুষদের কাছে পৌঁছাতে পারি, তাহলে হয়তো আগামী বছর কোনো চিকিৎসকের চেম্বারে এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে না, ‘এত দেরি করলেন কেন?’

লেখক : ফার্মাসিস্ট ও ক্যান্সার চিকিৎসা বিষয়ে কর্মরত পেশাজীবী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে নেপালকে হারিয়ে বাংলাদেশের শুভ সূচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৫ পি.এম


আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে নেপালকে হারিয়ে বাংলাদেশের শুভ সূচনা

ঘরের মাঠে ‘বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফি'র উদ্বোধনী ম্যাচে নেপালকে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মেয়েরা নেপালের বিরুদ্ধে ৩৩–২০ গোলের বিশাল জয় অর্জন করেছে।

রবিবার পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে খেলেছে স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসোর শিষ্যরা। প্রথম অর্ধে নেপাল সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের কৌশলের সামনে তারা টিকতে পারেনি।

বিরতির আগে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা ১৩–৯ গোলে এগিয়ে যায়। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি আরও তীব্র করে তারা ব্যবধান বাড়িয়ে বড় জয় নিশ্চিত করে।

দলের এই দাপুটে জয়ে মূল কাণ্ডারি হিসেবে আলপনা আক্তার ছিলেন। ৭টি দুর্দান্ত গোল করে তিনি ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। তাঁর সঙ্গে আক্রমণে দারুণ নৈপুণ্য দেখান মিষ্টি খাতুন ও শ্যামলী মিং, যাদের ব্যাট—বা বলা যায় হাত—থেকে আসে ৬টি করে গোল। দলের অধিনায়ক ইসমেতারা নিশি ৫টি ও সায়মা জান্নাত সীমা করেছেন ৪টি গোল।

এছাড়া মাসুদা আক্তার ২ গোল এবং পূর্ণিমা রানী, অনুরাধা পাহান ও তাসনিয়া রহমান আরশা ১টি করে গোল করেন।

সিঙ্গেল লিগ পদ্ধতির চার দলের এই টুর্নামেন্টে এত বড় ব্যবধানের জয় বাংলাদেশকে ফাইনালের পথে মানসিকভাবে অনেকটা এগিয়ে রাখবে।

২০১৯ এসএ গেমসে নেপালের কাছে হারের যে ক্ষত ছিল, এই বড় জয় তাতে প্রলেপ দেওয়ার পাশাপাশি বাড়তি তৃপ্তি এনে দিয়েছে। আগামীকাল নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চানখারপুলে পুলিশ পরিচয়ে বাসে তল্লাশি, ফজলে রাব্বী ফয়সাল আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৫ পি.এম


চানখারপুলে পুলিশ পরিচয়ে বাসে তল্লাশি, ফজলে রাব্বী ফয়সাল আটক

রাজধানীর চানখারপুলে পুলিশ পরিচয়ে যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি ও অশোভন আচরণের অভিযোগে ফজলে রাব্বী ফয়সাল, যিনি সোহাগ নামেও পরিচিত, বয়স ৩০, তাকে আটক করা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ পরে তাকে চকবাজার থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ভোর চারটার দিকে চানখারপুল ক্রসিং এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

ট্রাফিক পুলিশের লালবাগ বিভাগের ফুলবাড়িয়া জোনের সার্জেন্ট তুহিন উদ্দিন এবং সার্জেন্ট মো. সরোয়ার উদ্দিন ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তারা দায়িত্ব পালনকালে মৌমিতা পরিবহনের একটি বাস থেকে হট্টগোলের শব্দ শুনতে পান। পরে সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান যে, একজন ব্যক্তি পুলিশ পরিচয়ে বাসে উঠে যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি করছেন এবং অশোভন কথাবার্তা বলছেন।

যখন ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাওয়া হয়, তখন তিনি পুলিশের পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। তার কথাবার্তায় অসংগতি দেখা দিলে তাকে বাস থেকে নামিয়ে পুলিশ বক্সে নেওয়া হয়।

ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা জানিয়েছেন, পুলিশ বক্সে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করার পরও ওই ব্যক্তি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি। এরপর বিষয়টি চকবাজার থানাকে জানানো হয় এবং একপর্যায়ে চকবাজার থানার মোবাইল টিমের এসআই জামালের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্ষমতার জন্য বিএনপির সঙ্গে থাকলেও জামায়াতের মনে আ. লীগের প্রভাব: রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৬ পি.এম


ক্ষমতার জন্য বিএনপির সঙ্গে থাকলেও জামায়াতের মনে আ. লীগের প্রভাব: রিজভী

ক্ষমতার জন্য বিএনপির সঙ্গেও থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর মনের মধ্যে আওয়ামী লীগ রয়েছে, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রেসক্লাবে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আফসার আহমদ সিদ্দিকীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এই কথা বলেন।

জামায়াতের আমিরের বক্তব্যের সমালোচনা করতে গিয়ে রিজভী বলেন, জামায়াতের আমির আজকের দিনে একটি মন্তব্য করেছেন, যে বিএনপি ফ্যাসিস্টদের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আমি তাকে বলতে চাই, ফ্যাসিস্টদের পথ কী? কোনটা পথ? একটি দৃষ্টান্ত দেখান।

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের সবকিছু মাফ করে দেওয়া কিংবা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বিএনপির কোনো নেতা বলেননি। বিএনপির প্রধান নেতা তারেক রহমানও এমন কোনো কথা বলেননি। অথচ এখন বিএনপির বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্টদের পথে হাঁটার অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

রিজভী উল্লেখ করেন, বিএনপিকে জনগণ চেনে, বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয়, সেই প্রতিশ্রুতি থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হয় না। কিন্তু আপনারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেই প্রতিশ্রুতি আপনারা ইসলামের নামে দিয়েছেন, আল্লাহর নামে দিয়েছেন। অনেক কথা বলছেন মানুষের মনকে জয় করার জন্য। কিন্তু পরক্ষণেই উল্টো কাজ করেছেন।

তিনি বলেন, অতীতের যত কাজ, সেগুলো কিন্তু আপনারা করেছেন শেখ হাসিনার পথ ধরেই।

রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এরশাদ সরকারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তার অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ ও জামায়াতও এরশাদের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু পরে আওয়ামী লীগ সে অবস্থান থেকে সরে আসে এবং জামাতও সে অবস্থান থেকে সরে আসে। আপনারা (জামায়াত) তো প্রমাণ রেখেছেন ইতিহাসে। আপনারা হাসিনার পথে হাঁটতে সবচেয়ে ভালোবাসেন। ক্ষমতার জন্য কখনো কখনো বিএনপির সঙ্গে জোট করার চেষ্টা করেন। কিন্তু মনের ভেতরে হাসিনার প্রদর্শিত পথেই আপনারা হাঁটেন।

তিনি বলেন, ১৯৯৪-৯৫ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার আন্দোলনেও জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে একই পথে হেঁটেছে। ইতিহাসের এসব উদাহরণ উপেক্ষা করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত অসংখ্য নেতাকর্মীদের গুপ্তহত্যার আত্মদান, স্যাক্রিফাইস এবং ত্যাগের মধ্যে দিয়ে এই দল তৈরি হয়েছে। গণতন্ত্র হচ্ছে তার অভীষ্ট লক্ষ্য। গণতন্ত্র হচ্ছে তার আদর্শিক চেতনা।

জামায়াতের উদ্দেশে রিজভী বলেন, গণতন্ত্র ও দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে দলটির আদর্শিক অবস্থান কী, তা নিয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনগুলোতে জামায়াতের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আফসার আহমেদ সিদ্দিকীর সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, আফসার আহমেদকে বড় ভাই বলে ডাকলেও তাদের সম্পর্ক ছিল অনেকটা পিতা-পুত্রের মতো। তার সান্নিধ্য থেকে রাজনীতি বোঝার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও অনেক কিছু শিখেছেন তিনি।

সভায় বিএনপির নার্সেস ও স্বাস্থ্য সহকারী সহসম্পাদক জাহানারা সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক-বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, স্বাস্থ্য-বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম, যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মামুনসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%