ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলা, ঢাকা-রিয়াদ রুটে ৫ ফ্লাইট বাতিল


কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলা, ঢাকা-রিয়াদ রুটে ৫ ফ্লাইট বাতিল

ঢাকা, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ : রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের দ্বারা সংঘটিত প্রাণঘাতী হামলার পর বিমানবন্দরটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়, যার ফলে ঢাকা-রিয়াদ রুটে পাঁচটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময় ১২ অক্টোবর রাত ৩টা পর্যন্ত বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকার কথা রয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ কর্মকর্তা কাউছার মাহমুদ নিশ্চিত করেছেন যে, ফ্লাইট বাতিলের বিষয়টি সত্যি।

আরও পড়ুন: নবনির্বাচিত সেনেটর এল-সায়েদ মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত চান

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের এসভি৮০৪/৮০৫ ও এসভি৮০৬/৮০৭, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি৩৩৯ ও বিজি৩৪০ এবং রিয়াদ এয়ারের আরএক্স ৭৬৩/৭৬৪।

সৌদিয়ার এসভি৮০৪/৮০৫ ফ্লাইটটি ১০ অক্টোবর রাত ১১ টা ৫ মিনিটে ঢাকায় অবতরণ করার কথা ছিল এবং ১১ অক্টোবর রাত ১২ টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

অন্যদিকে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-রিয়াদগামী বিজি৩৩৯ ফ্লাইটটি ১১ অক্টোবর রাত ২টা ৫ মিনিটে ঢাকা ছাড়ার কথা ছিল।

সৌদিয়ার এসভি৮০৬/৮০৭ ফ্লাইটটি সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে অবতরণ ও বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে ছাড়ার কথা ছিল এবং রিয়াদ এয়ারের আরএক্স ৭৬৩/৭৬৪ ফ্লাইটটি সকাল ৭ টায় অবতরণ ও ৮ টা ৩০ মিনিটে ঢাকা ছাড়ার সূচি ছিল (সবগুলো স্থানীয় সময় অনুযায়ী)।

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় শ্রম আন্দোলনের নামে হামলায় শ্রমিক মো. সেলিম গুরুতর আহত

এদিকে, ১০ অক্টোবর ছেড়ে যাওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস ৩৮১ ফ্লাইটটির পথ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং সেটি রাত ৩ টা ১০ মিনিটে অবতরণ করে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যাত্রীদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানায়, ফ্লাইট পুনর্নির্ধারণ ও হালনাগাদ তথ্য তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। যাত্রীরা সহায়তার জন্য তাদের কল সেন্টারে যোগাযোগ করতে বা নিকটস্থ বিক্রয় কেন্দ্রে যেতে পারেন।

এদিকে, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১০ অক্টোবরের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ হামলায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং আরও অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন: ককরোচ পার্টির নতুন বিক্ষোভের ডাক ৭ নভেম্বর কোচিতে

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ মিশন সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।

বাংলাদেশ নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে এবং আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্নকারী এবং বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো এ হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।’

সৌদি আরবের প্রতি দৃঢ় সংহতি পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশ অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ, বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর সুরক্ষা এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সে ব্লাড ব্যাংক ও ইউরোপজুড়ে কোল্ড স্টোরেজে সাইবার হামলা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় চারজন রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪১ পি.এম


রাজধানীতে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় চারজন রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ চারজনকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার করেছে। রোববার শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান এই তথ্য প্রকাশ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, আ ন ম আয়াসসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আ ন ম আয়াস (২৯), মো. সাকিবুল হাসান (১৯), মো. সুজন মিয়া (১৮) এবং মারজিয়া খন্দকার রিমি (২৭) অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

শনিবার সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দিতে যান রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ এন এম আয়াসসহ অন্যান্য সদস্যরা। তাদের আটক করে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সম্ভাবনার কারণে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের আটক করা হয়েছে। পরে তাদের ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়।

৫ অক্টোবর সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এরপর ফুটপাতের পাশের দেয়ালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলামসহ দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তির প্রতিকৃতি আঁকা হয়। পরে দেয়ালসংলগ্ন ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন ১ নভেম্বর থেকে শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪১ পি.এম


ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তন ২৬ জানুয়ারি, আবেদন ১ নভেম্বর থেকে শুরু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৫৪তম সমাবর্তন আগামী ২৬ জানুয়ারি ২০২৭ তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের (এসপিএফ) প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. আতসুশি সুনামি। তাকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ল’জ ডিগ্রি প্রদান করা হবে। পাশাপাশি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ট্রাস্ট ফান্ডের অন্যতম দাতা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হারুনুর রশিদকে সম্মানসূচক ডক্টর অব সায়েন্স ডিগ্রি দেওয়া হবে।

রোববার (১১ অক্টোবর) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত একটি সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

৫৪তম সমাবর্তন সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশের পর সিন্ডিকেটের এক সভায় দুই বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভাপতিত্ব করবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন।

সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন কার্যক্রম আগামী ১ নভেম্বর শুরু হবে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশিত বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফলে উত্তীর্ণ গ্র্যাজুয়েট ও পদকপ্রাপ্তরা এই সমাবর্তনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তুতি হিসেবে সভায় একটি নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং কয়েকটি উপকমিটি গঠন করা হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম সমাবর্তন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি উপকমিটিগুলোকে দ্রুত কাজ শুরু করার আহ্বান জানান।

সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সিনেট সদস্য ও সংসদ সদস্য মো. আমানউল্লাহ আমান, খায়রুল কবির খোকন এবং এ কে এম ফজলুল হক মিলনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রাধ্যক্ষ, বিভাগের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

উপাচার্য শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়ন, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২১০০ সালের মধ্যে মানবজাতির অস্তিত্ব বিলুপ্তির ঝুঁকি, সতর্ক দ্য ল্যানসেট কমিশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪২ পি.এম


২১০০ সালের মধ্যে মানবজাতির অস্তিত্ব বিলুপ্তির ঝুঁকি, সতর্ক দ্য ল্যানসেট কমিশন

পারমাণবিক যুদ্ধ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্ষতিকর ব্যবহার একুশ শতকের শেষ নাগাদ মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য চরম হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে দ্য ল্যানসেট কমিশন অন টোয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরি গ্লোবাল থ্রেটস টু হেলথ। কমিশনের নতুন মূল্যায়নে ২০২৫ থেকে ২১০০ সাল পর্যন্ত মানবস্বাস্থ্য ও টিকে থাকার জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক ১৭টি বৈশ্বিক হুমকি চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে পারমাণবিক সংঘাত ও এআইয়ের অপব্যবহারকে এমন দুটি ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলোর চরম পরিণতি মানবজাতির বিলুপ্তি পর্যন্ত গড়াতে পারে।

কমিশনের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পারমাণবিক সংঘাত ও এআইয়ের ক্ষতিকর ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম হলেও এর সম্ভাব্য পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। তাই বিপর্যয় ঘটে যাওয়ার পর প্রতিক্রিয়া দেখানোর পরিবর্তে আগেভাগে ঝুঁকি কমানো, প্রস্তুতি নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পারমাণবিক যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্বজুড়ে। পারমাণবিক যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি শুধু বিস্ফোরণস্থলের প্রাণহানি ও অবকাঠামো ধ্বংসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ব্যাপক পারমাণবিক সংঘাতের ফলে বায়ুমণ্ডলে বিপুল পরিমাণ ধোঁয়া ও কণিকা ছড়িয়ে সূর্যালোক বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর প্রভাবে তাপমাত্রা কমে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়া এবং ব্যাপক দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি ‘পারমাণবিক শীত’ নামে পরিচিত।

এর প্রভাব যুদ্ধরত দেশগুলোর সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। খাদ্য উৎপাদন হ্রাস, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, স্বাস্থ্যসেবার সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা একে অন্যকে আরো তীব্র করে তুলতে পারে। কমিশনের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, পারমাণবিক সংঘাত প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে ২১০০ সালের মধ্যে আনুমানিক ১৩ কোটি ৩০ লাখ মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে অসুস্থতা, প্রতিবন্ধিতা ও অকালমৃত্যুর কারণে হারিয়ে যাওয়া সুস্থ জীবনের বিপুল সময়ও রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে। এ সংখ্যাগুলো মডেলভিত্তিক অনুমান, নিশ্চিত ভবিষ্যৎ ফলাফল নয়।

এআইয়ের অপব্যবহারে নতুন ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিকিৎসা, শিক্ষা, গবেষণা ও উৎপাদনব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কিন্তু প্রযুক্তিটির ক্ষতিকর ব্যবহার মানবজাতির জন্য নতুন ধরনের বিপদ সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে কমিশন। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, এআইয়ের সহায়তায় বিপজ্জনক জীবাণু বা জৈব অস্ত্র তৈরি ও ব্যবহারের সম্ভাবনা। এ ধরনের প্রযুক্তি ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়া এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া মহামারির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় এআইনির্ভর ব্যবস্থার ব্যর্থতা, নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সংকটের সময় স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশঙ্কাও গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে এআইয়ের সব ব্যবহারকে বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। যথাযথ নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে এ প্রযুক্তি রোগ শনাক্তকরণ, ওষুধ উদ্ভাবন, দুর্যোগের পূর্বাভাস এবং জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। মূল চ্যালেঞ্জ হলো, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এর অপব্যবহার প্রতিরোধে কার্যকর নিয়মকানুন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলা। কমিশনের হিসাবে, এআইয়ের ক্ষতিকর ব্যবহার কমানোর কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে ২১০০ সালের মধ্যে আনুমানিক ১০৪০ কোটি DALYs-এর ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতে পারে। এ সংখ্যাটিও একটি মডেলভিত্তিক হিসাব, নিশ্চিতভাবে এ পরিমাণ ক্ষতি ঘটবে—এমন পূর্বাভাস নয়।

১৭টি বড় হুমকি চিহ্নিত

কমিশনের মূল্যায়নে পারমাণবিক সংঘাত ও এআইয়ের ক্ষতিকর ব্যবহারের পাশাপাশি আরও ১৫টি বড় হুমকি চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো হলো— ১. বায়ুদূষণ ২. অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি ৩. শিশুদের অপুষ্টি ৪. জলবায়ু পরিবর্তন ৫. প্রচলিত যুদ্ধ ও সংঘাত ৬. স্বাস্থ্য খাতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা হ্রাস ৭. অতিরিক্ত মদ্যপান ৮. উচ্চ রক্তচাপ ৯. আয়বৈষম্য ১০. শিক্ষাগত অর্জনের নিম্নমান ১১. প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট মহামারি ১২. স্থূলতা ১৩. মানসিক স্বাস্থ্যসংকট ১৪. ধূমপান ১৫. অস্বাস্থ্যকর বার্ধক্য। কমিশনের মতে, এসব হুমকি শুধু স্বাস্থ্যক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; এগুলো বৈশ্বিক অর্থনীতি, নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও মানুষের সামগ্রিক জীবনযাত্রার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনে বিপুল সুস্থ জীবনবর্ষ হারানোর আশঙ্কা। জলবায়ু পরিবর্তনকে কমিশন এমন একটি সংকট হিসেবে বিবেচনা করেছে, যা সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি অন্যান্য বিপদের প্রভাবও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাপপ্রবাহ, বন্যা, দাবানল, পানির সংকট ও কৃষি উৎপাদন হ্রাস খাদ্যনিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করতে পারে। কমিশনের মডেলভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি প্রায় ৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর পরিবর্তে ১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা গেলে ২১০০ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৮৯ কোটি সুস্থ জীবনবর্ষের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতে পারে। এ হিসাবের মধ্যে তীব্র তাপ ও বায়ুদূষণের মতো পরিমাপযোগ্য প্রত্যক্ষ প্রভাব গুরুত্ব পেয়েছে। বাস্তুচ্যুতি, খরা ও মানসিক স্বাস্থ্যের মতো আরো কিছু প্রভাবের পূর্ণ হিসাব এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।

এখানে ‘সুস্থ জীবনবর্ষ’ বলতে মৃত্যুর সংখ্যা বোঝায় না। অসুস্থতা, প্রতিবন্ধিতা ও অকালমৃত্যুর কারণে মানুষের যে পরিমাণ সুস্থ জীবন হারিয়ে যায়, তার সম্মিলিত পরিমাপকে DALYs বা ‘ডিজঅ্যাবিলিটি-অ্যাডজাস্টেড লাইফ ইয়ার্স’ বলা হয়।

স্বাস্থ্যসহায়তা কমলে চাপে পড়বে দরিদ্র দেশগুলো। স্বাস্থ্য খাতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়াকেও বড় বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিশন। দরিদ্র ও স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত সক্ষমতাসম্পন্ন দেশগুলো টিকাদান, মাতৃ ও শিশুসেবা, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসহায়তা ব্যাপকভাবে কমে গেলে বা ভেঙে পড়লে ২১০০ সালের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫০ কোটি DALYs-এর ক্ষতি হতে পারে বলে কমিশনের মূল্যায়নে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এর প্রায় ৭০ শতাংশ সাব-সাহারান আফ্রিকায় ঘটতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। এটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির হিসাব; নিশ্চিত ক্ষয়ক্ষতির পূর্বাভাস নয়।

স্বাস্থ্যসহায়তা হ্রাসের প্রভাব অপুষ্টি, সংক্রামক রোগ, চিকিৎসাসেবায় অসম প্রবেশাধিকার এবং দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার মাধ্যমে আরও তীব্র হতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও স্থানীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো ভবিষ্যৎ ঝুঁকি কমানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

সংকটগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত

কমিশনের মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ১৭টি হুমকিকে বিচ্ছিন্ন সমস্যা হিসেবে দেখলে কার্যকর সমাধান পাওয়া কঠিন। যুদ্ধ খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করতে পারে; জলবায়ু পরিবর্তন অপুষ্টি ও বাস্তুচ্যুতি বাড়াতে পারে; আবার মহামারি এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা হ্রাস স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এ কারণে কমিশন তিনটি প্রধান করণীয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে: সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রস্তুত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, যুগান্তকারী প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং নতুন ঝুঁকি শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা শক্তিশালী করা।

মানবজাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বর্তমান সিদ্ধান্তের ওপর। কমিশনের মূল্যায়ন মানবজাতির বিলুপ্তি সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়। বরং এটি সম্ভাব্য বিপর্যয়ের ঝুঁকি, তার প্রভাব এবং প্রতিরোধের সুযোগ সম্পর্কে একটি বৈশ্বিক মূল্যায়ন। পারমাণবিক সংঘাত ও এআইয়ের অপব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও সম্ভাব্য পরিণতির ব্যাপকতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

পারমাণবিক যুদ্ধ প্রতিরোধ, এআইয়ের নিরাপদ ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মহামারির প্রস্তুতি, পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বিনিয়োগ—এসব ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে ভবিষ্যৎ ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। মানবজাতির সামনে তাই প্রশ্নটি শুধু ২১০০ সালে কী ঘটতে পারে, তা নয়; বরং বর্তমান প্রজন্মের রাষ্ট্রনেতা, নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য বিপর্যয় ঠেকাতে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, সেটিই ভবিষ্যতের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও দ্য ল্যানসেট কমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুবশক্তির ৫ দফা দাবিতে মতিঝিলে বিক্ষোভ, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪২ পি.এম


যুবশক্তির ৫ দফা দাবিতে মতিঝিলে বিক্ষোভ, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের পদত্যাগসহ পাঁচ দফা দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ঘেরাও করেছে যুবশক্তির নেতাকর্মীরা।

রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান নিয়ে এই দাবি জানায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তি।

আন্দোলনকারীদের পাঁচটি দাবির মধ্যে রয়েছে—যুব ও ক্রীড়া উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের পদত্যাগ, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিত করা, নিয়োগে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম বন্ধ করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা, ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি এবং ভাইভার নম্বর নিয়ে কারসাজি বন্ধ করা, এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যুব উন্নয়নে সরকারের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা।

যুবশক্তির নেতাকর্মীরা তাদের দাবির সমর্থনে ‘প্রশ্নফাঁস বন্ধ করো, মেধার অধিকার নিশ্চিত করো’ স্লোগান দেন। সংগঠনটি দাবি করেছে, দাবিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরে বেলা পৌনে ১টার দিকে পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে তারা ঘেরাও কর্মসূচি শেষ করেন।

জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. তরিকুল ইসলাম মন্তব্য করেন, শনিবার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা প্রমাণ করে যে, বর্তমান সরকার কিংবা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যুবকদের নিয়ে চিন্তা করছে না। বরং তারা নিয়োগ বাণিজ্য করছে। এত বড় একটি ঘটনার পরও যুব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ব্যর্থতার জন্য তার পদত্যাগসহ নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%