০৩:১৯ পি.এম
দেশে ইলিশের উৎপাদন গত দুই বছর ধরে অব্যাহতভাবে কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মা ইলিশের সুরক্ষায় সরকার কর্তৃক ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য সরকারি সংস্থাগুলির পাশাপাশি জেলে, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, এনজিও এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে একটি সমন্বয় সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় মাছঘাটে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা, স্থানীয় তথ্যদাতা নেটওয়ার্ক তৈরি এবং সরকারি সহায়তা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ প্রজননক্ষেত্রে নজরদারি জোরদার করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টরা কাজ করবে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর মেঘনা ভবনে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির কনফারেন্স রুমে ‘ব্রুড ইলিশ কনজারভেশন ইনিশিয়েটিভ’ নিয়ে অংশীজনদের পরামর্শ সভায় এই সিদ্ধান্তগুলি গৃহীত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহি।
আরও পড়ুন: বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পদ্ধতি একই, তারা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: ব্যারিস্টার আরমান
আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত এবং বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
সভায় জানানো হয়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৫ দশমিক ৭১ লাখ মেট্রিক টন। পরবর্তী অর্থবছরে তা কমে ৫ দশমিক ২৯ লাখ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫ লাখ মেট্রিক টনে নেমে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত আহরণ, নিষিদ্ধ ও সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল, মা ইলিশ ও জাটকা নিধন, তলদেশীয় ট্রলিং, নদীদূষণ, পলি জমা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।
তবে সভায় অংশগ্রহণকারী গবেষক ও মৎস্যজীবী প্রতিনিধিরা মত প্রকাশ করেন যে, শুধুমাত্র নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করলেই ইলিশ রক্ষা সম্ভব নয়। তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার সময় দুর্গম নদী ও অভয়াশ্রম এলাকায় অবৈধ মাছ শিকার বন্ধে নজরদারি আরও বাড়াতে হবে।
আরও পড়ুন: পঞ্চগড়ে সরকারি অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের ভিডিও প্রকাশ
জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতি ও সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজের প্রতিনিধিরা জানান, পদ্মার জাজিরা, সুরেশ্বর ও চরভৈরবীসহ বিভিন্ন এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় সংঘাতের ঘটনা ঘটে। কখনও কখনও অবৈধ শিকারিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।
সভায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করা হয় এবং নিষেধাজ্ঞার সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রজননক্ষেত্রে আরও সক্রিয় নজরদারির ওপর জোর দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহি বলেন, ইলিশ রক্ষায় সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক, জেলে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং এনজিওগুলোর মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। গুরুত্বপূর্ণ প্রজননক্ষেত্রে মা ইলিশ নির্বিঘ্নে পৌঁছাতে কোস্ট গার্ডের নজরদারি আরও শক্তিশালী করা যেতে পারে।
সম্প্রতি ভারতের গুজরাট থেকে বাংলাদেশে ইলিশ প্রবেশের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের চাহিদা পূরণের জন্য নিজেদের ইলিশের মজুত রক্ষা করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়বে কিনা, গণশুনানি আগামীকাল
নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে ৮ ও ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনে মাছঘাটে সচেতনতামূলক প্রচারণা, স্থানীয় তথ্যদাতা নেটওয়ার্ক পরিচালনা এবং বরিশালের একটি ইলিশ ঘাটে গণজমায়েত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি জেলেদের জন্য সরকারি খাদ্য সহায়তা সঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে কিনা, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সভায় জাতীয় পর্যায়ে সেমিনার আয়োজন, মন্ত্রী পর্যায়ে ‘হিলসা থিংক ট্যাংক’ গঠন এবং ইলিশের সংখ্যা, প্রজননক্ষেত্র ও নদীদূষণ নিয়ে যৌথ গবেষণার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন সম্ভাব্য গবেষণা অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
সভায় বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, সার্ক কৃষি কেন্দ্র, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন, সিএনআরএস, কোস্ট ফাউন্ডেশন, শুশীলন এবং জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ২৪ ঘণ্টায় ২,৪৪৬ মামলা করেছে ডিএমপি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন