ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে ইলিশের উৎপাদন কমায় সংরক্ষণে নতুন পদক্ষেপ


বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে ইলিশের উৎপাদন কমায় সংরক্ষণে নতুন পদক্ষেপ

দেশে ইলিশের উৎপাদন গত দুই বছর ধরে অব্যাহতভাবে কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মা ইলিশের সুরক্ষায় সরকার কর্তৃক ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য সরকারি সংস্থাগুলির পাশাপাশি জেলে, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, এনজিও এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে একটি সমন্বয় সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় মাছঘাটে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা, স্থানীয় তথ্যদাতা নেটওয়ার্ক তৈরি এবং সরকারি সহায়তা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ প্রজননক্ষেত্রে নজরদারি জোরদার করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টরা কাজ করবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর মেঘনা ভবনে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির কনফারেন্স রুমে ‘ব্রুড ইলিশ কনজারভেশন ইনিশিয়েটিভ’ নিয়ে অংশীজনদের পরামর্শ সভায় এই সিদ্ধান্তগুলি গৃহীত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহি।

আরও পড়ুন: বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পদ্ধতি একই, তারা যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: ব্যারিস্টার আরমান

আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত এবং বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

সভায় জানানো হয়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৫ দশমিক ৭১ লাখ মেট্রিক টন। পরবর্তী অর্থবছরে তা কমে ৫ দশমিক ২৯ লাখ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫ লাখ মেট্রিক টনে নেমে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত আহরণ, নিষিদ্ধ ও সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল, মা ইলিশ ও জাটকা নিধন, তলদেশীয় ট্রলিং, নদীদূষণ, পলি জমা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।

তবে সভায় অংশগ্রহণকারী গবেষক ও মৎস্যজীবী প্রতিনিধিরা মত প্রকাশ করেন যে, শুধুমাত্র নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করলেই ইলিশ রক্ষা সম্ভব নয়। তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার সময় দুর্গম নদী ও অভয়াশ্রম এলাকায় অবৈধ মাছ শিকার বন্ধে নজরদারি আরও বাড়াতে হবে।

আরও পড়ুন: পঞ্চগড়ে সরকারি অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের ভিডিও প্রকাশ

জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতি ও সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজের প্রতিনিধিরা জানান, পদ্মার জাজিরা, সুরেশ্বর ও চরভৈরবীসহ বিভিন্ন এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় সংঘাতের ঘটনা ঘটে। কখনও কখনও অবৈধ শিকারিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

সভায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করা হয় এবং নিষেধাজ্ঞার সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রজননক্ষেত্রে আরও সক্রিয় নজরদারির ওপর জোর দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহি বলেন, ইলিশ রক্ষায় সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক, জেলে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং এনজিওগুলোর মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। গুরুত্বপূর্ণ প্রজননক্ষেত্রে মা ইলিশ নির্বিঘ্নে পৌঁছাতে কোস্ট গার্ডের নজরদারি আরও শক্তিশালী করা যেতে পারে।

সম্প্রতি ভারতের গুজরাট থেকে বাংলাদেশে ইলিশ প্রবেশের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের চাহিদা পূরণের জন্য নিজেদের ইলিশের মজুত রক্ষা করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়বে কিনা, গণশুনানি আগামীকাল

নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে ৮ ও ৯ অক্টোবর বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনে মাছঘাটে সচেতনতামূলক প্রচারণা, স্থানীয় তথ্যদাতা নেটওয়ার্ক পরিচালনা এবং বরিশালের একটি ইলিশ ঘাটে গণজমায়েত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি জেলেদের জন্য সরকারি খাদ্য সহায়তা সঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে কিনা, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সভায় জাতীয় পর্যায়ে সেমিনার আয়োজন, মন্ত্রী পর্যায়ে ‘হিলসা থিংক ট্যাংক’ গঠন এবং ইলিশের সংখ্যা, প্রজননক্ষেত্র ও নদীদূষণ নিয়ে যৌথ গবেষণার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন সম্ভাব্য গবেষণা অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সভায় বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, সার্ক কৃষি কেন্দ্র, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন, সিএনআরএস, কোস্ট ফাউন্ডেশন, শুশীলন এবং জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ২৪ ঘণ্টায় ২,৪৪৬ মামলা করেছে ডিএমপি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিকিৎসককে মারধর গ্রহণযোগ্য নয়: ডা. জাহেদ উর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২০ পি.এম


চিকিৎসককে মারধর গ্রহণযোগ্য নয়: ডা. জাহেদ উর রহমান

সরকার চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনার প্রতি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে, যা রোগীর মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, "রোগীর মৃত্যু নিয়ে অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে, কিন্তু চিকিৎসককে মারধর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।" তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা দুর্নীতি ও অনিয়মের কাঠামো ধীরে ধীরে ভেঙে ফেলা হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, "শুধু চিকিৎসকদের দোষারোপ করলে সমস্যার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সামগ্রিকভাবেই নানা সমস্যা রয়েছে। সমাজে দুর্নীতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে তা কোনো একটি খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।"

চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনাকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "হাসপাতালে রোগী মারা যাওয়ার পর অনেক সময় চিকিৎসকদের ওপর হামলা হচ্ছে। এমনকি জরুরি বিভাগে চিকিৎসক রোগীকে মৃত ঘোষণা করার পরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। চিকিৎসকদের অন্ধভাবে সাফাই গাওয়ার বিষয় নয়, তবে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসককে মারধরও গ্রহণযোগ্য নয়।" তিনি স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, "গত ১৫ বছরে দেশের বিভিন্ন খাতে দুর্নীতির পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতও এর বাইরে নয়। দীর্ঘদিন ধরে কোনো খাতে দুর্নীতির কাঠামো চালু থাকলে তা পরিবর্তন করা সহজ নয়। বাংলাদেশে আগে থেকেই দুর্নীতি ছিল, তবে গত ১৫ বছরে পরিস্থিতি অনেক খারাপ হয়েছে এবং এর প্রভাব প্রায় সব খাতেই পড়েছে।"

স্বাস্থ্য খাতে পরিবর্তনের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরেজমিনে কাজ করছেন জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, "এ খাতে সরকারের বাজেট বরাদ্দও বাড়ানো হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে বাংলাদেশে দুর্নীতি যে মাত্রায় পৌঁছেছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে সময় লাগবে। সরকারের লক্ষ্য হলো পরিবর্তনের গতি যতটা সম্ভব বাড়ানো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাজ্যের ২৭ ইসরায়েলি কূটনীতিককে সপরিবারে বহিষ্কারের হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২০ পি.এম


যুক্তরাজ্যের ২৭ ইসরায়েলি কূটনীতিককে সপরিবারে বহিষ্কারের হুমকি

যুক্তরাজ্য সরকার পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট জেনারেল বন্ধ করে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে ২৭ ইসরায়েলি কূটনীতিককে তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ বহিষ্কারের হুমকি প্রদান করেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের এমন পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের বরাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, সোমবার (৫ অক্টোবর) ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত সাইমন ওয়াল্টার্স ইসরায়েলকে এই বার্তা দিয়েছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে ব্রিটিশ কূটনীতিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে যুক্তরাজ্যও সমসংখ্যক ইসরায়েলি কূটনীতিককে বহিষ্কার করতে পারে।

জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে ২৭ ইসরায়েলি কূটনীতিকের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও বহিষ্কারের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি।

গত মাসে যুক্তরাজ্য পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা'আর পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ জন্য ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট জেনারেল ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে, ইসরায়েলে যুক্তরাজ্যের দূতাবাস তেল আবিবে অবস্থিত। কনস্যুলেট বন্ধের উদ্যোগ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

এ পরিস্থিতিতে সমঝোতার চেষ্টা করতে যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েল সম্প্রতি ইসরায়েল সফর করেছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে। তবে তাঁর সফরে কোনো সমাধান আসেনি এবং দুই পক্ষের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, জেরুজালেম পোস্ট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলন অসম্ভব নয়: জাহেদ উর রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২১ পি.এম


আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলন অসম্ভব নয়: জাহেদ উর রহমান

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান মন্তব্য করেছেন যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলন বা রিকনসিলিয়েশন অসম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ‘দেশের অনেক মানুষ এখনো আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন। তারা বাংলাদেশেরই নাগরিক। আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুনর্মিলনের উদ্যোগ নেওয়া খারাপ কোনো ধারণা নয়, বরং এমন উদ্যোগ হলে ভালো হতো। তবে রিকনসিলিয়েশনের আগে এর মৌলিক ভিত্তি কী হবে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।’

তিনি মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সরকারের কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সমসাময়িক ইস্যুতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, ‘মাঝখান থেকে কেউ যদি রিকনসিলিয়েশন চান এবং মনে করেন এটি ভালো উদ্যোগ, তাহলে আমারও মনে হয় এটি ভালো। তাদের উচিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করা। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে রিকনসিলিয়েশন শুরুর মৌলিক জায়গাটি নিশ্চিত করতে হবে। সেটি হলে এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘শুধু আলোচনার মাধ্যমে রিকনসিলিয়েশন শুরু করলেই হবে না। এর জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক শর্ত ও পারস্পরিক অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরি। আওয়ামী লীগ সেই জায়গায় এগিয়ে এলে পুনর্মিলন নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব।’

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘পুনর্মিলনের উদ্যোগ সফল করতে আওয়ামী লীগকেই প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে। দলটিকে নিজেদের দায় স্বীকার করতে হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রতিবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২১ পি.এম


বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রতিবেদন

বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে যে, বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০২৭ অর্থবছরে ৩.৪ শতাংশ হবে, যা ২০২৬ অর্থবছরের পূর্বাভাসের সমান। তবে, ২০২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩.৯ শতাংশ হতে পারে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাসটি দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৭ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের তুলনায় ১.২ শতাংশীয় পয়েন্ট এবং ২০২৬ অর্থবছরের পূর্বাভাস ০.৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমানো হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণে ঘাটতি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিনিয়োগ কমেছে, রপ্তানি গতি হারিয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে থাকায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। একই সঙ্গে ব্যবসার খরচ বেড়েছে। আর্থিক খাতের দুর্বলতা ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব ফেলেছে। সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার কারণে সরকারি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

তবে, শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উন্নতির কারণে দেশের বহিঃখাত তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেছেন, "অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার প্রয়োজন।"

তিনি আরও বলেছেন, "দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া এবং আরও বেশি ও ভালো কর্মসংস্থান তৈরির জন্য জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করতে হবে। এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।"

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে। একই সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি থমকে গেছে এবং নারীরা চাকরি হারিয়েছেন।

ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাও আরও বেড়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণের হার ৩০.৬ শতাংশ থাকলেও ২০২৬ সালের জুনে তা বেড়ে ৩৩.২ শতাংশ হয়েছে। রাজস্ব আদায় জিডিপির মাত্র ৮.৩ শতাংশ, যা বিশ্বের সর্বনিম্ন হারগুলোর একটি। এর ফলে প্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ৩.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩.৫ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি ও কৃষি ভর্তুকি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিচ্ছে। তবে, সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেকই এখনো কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই।

সংস্থাটি জানিয়েছে, উপকারভোগী নির্বাচনে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য কমানোর প্রভাব বাড়ানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সরকারের ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচি একীভূত করা এবং বিদ্যমান নগদ সহায়তা কর্মসূচির আরও কার্যকর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড যুক্ত করা গেলে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%