বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:২৩ পি.এম
বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে খাগড়াছড়ি সফরে গেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বৃহস্পতিবার তিনি বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার শাহাদাত।
সভায় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উল্লেখ করেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িঘর মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, কৃষিতে যাদের ক্ষতি হয়েছে, তাদের পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রণোদনা প্রদান করা হবে।
তিনি আরো জানিয়েছেন, সরকার বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকবে। যেসব সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলোর সংস্কারকাজ দ্রুত শুরু করা হবে। এ ছাড়া, আগামী মাস থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করা হবে বলেও তিনি জানান।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি-সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিসহ সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিচ্ছেদ নিয়ে আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই সন্তানেরা তাকে মিস করছে এমন একটি আবেগঘন পোস্ট করেছেন বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরনো একটি ভিডিও শেয়ার করে নিজের কষ্ট, মানসিক আঘাত এবং সুস্থ হয়ে ওঠার সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, সেলিনা তার দুই ছেলের সঙ্গে সময় কাটানোর পুরনো মুহূর্ত স্মরণ করেছেন। ভিডিওটির সঙ্গে সেলিনা লেখেন, ‘ভাঙা টুকরোগুলোও যে আরো ভেঙে যেতে পারে, তা নিজের হৃদয় দেখার আগে বুঝিনি। আমি আমার তিন ছেলেকে মিস করছি। তাদের আবার জীবনে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় আছি।’
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া একটি দীর্ঘ পোস্টে সেলিনা বলেছেন, ‘মানুষ তাকে শক্ত মনে করলেও কষ্ট এবং মানসিক আঘাত তাকে শক্ত করেনি। বরং বারবার ভেঙে দিয়েছে’। তিনি উল্লেখ করেন, ‘মানুষ বলে, মানসিক আঘাত তোমাকে শক্ত করেছে। কিন্তু এটা সত্য নয়। মানসিক আঘাত আমাকে গড়ে তোলেনি, বরং ভেঙে দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যখনই মনে হয় আমি নিজেকে সামলে নিয়েছি, তখনই পুরোনো ক্ষত আবার জেগে ওঠে। স্মৃতি ফিরে আসে এবং হৃদয়ে নতুন করে কষ্ট হয়।’
এমন পরিস্থিতিতে সেলিনা কিছুটা নিজেকে গুটিয়ে নেন। তিনি বলেছেন, এটি নিজের কষ্ট থেকে পালানোর জন্য নয়, বরং তা সামলে বেঁচে থাকার জন্যই এমন করেন।
সেলিনা বলেন, ‘মানসিক আঘাত তার জীবনের কিছু অংশ ও নিজের পরিচয়ের কিছুটা কেড়ে নিয়েছে। তবে মানুষ তার মধ্যে যে শক্তি দেখে, তা কষ্ট থেকে আসেনি। বরং প্রতিবার ভেঙে পড়ার পরও সুস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত থেকেই সেই শক্তি এসেছে।’
এদিকে, তার স্বামী পিটার হাগের সঙ্গে বিচ্ছেদের আইনি লড়াই চলছে। গত বছর পিটার অস্ট্রিয়ার আদালতে বিচ্ছেদের আবেদন করেন। সম্প্রতি সেলিনার অভিযোগের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশ পিটারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। শারীরিক নির্যাতন, নিষ্ঠুরতা, হুমকি ও দীর্ঘদিনের হয়রানির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। উল্লেখ্য, ২০১০ সালে সেলিনা জেটলি পিটার হাগকে বিয়ে করেন। ২০১২ সালে তাদের যমজ ছেলে জন্মগ্রহণ করে। ২০১৭ সালে সেলিনা আবার যমজ সন্তানের জন্ম দেন। তবে তাদের একজন জন্মের কিছুদিন পরে মারা যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপন করার দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালন করা হয়েছে। ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ কর্তৃক ডাকা এই কর্মসূচিটি দাঁতমারা, বাগানবাজার এবং নারায়ণহাট ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সরেজমিনে লক্ষ্য করা যায়, ফেনী-চট্টগ্রাম-রামগড়-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং হেয়াকো-গহিরা সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। হরতাল চলাকালীন তিন ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেছেন।
সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক নুরুল আমিন আজাদ বলেন, যৌক্তিক স্থানে উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপনের জন্য মানুষের উপস্থিতি, মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ, সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপির মতো একাধিক কর্মসূচি পালন করা সত্ত্বেও দাবির বাস্তবায়ন না হওয়ায় হরতালের দিকেও পা বাড়াতে হয়েছিল।
দাঁতমারা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং ফটিকছড়ি উত্তর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন জানান, বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই হরতালে অংশগ্রহণ করেছেন।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, হরতাল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনো ঘটনা ঘটেনি। চারটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল।
বিডি-প্রতিদিন/এআইডি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘দুবাইয়ে ভিসার মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলে কাজ চলছে।’ তিনি আরও বলেন, বিশ্বে সম্ভাব্য জায়গাতেই শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবে।
মন্ত্রী জানান, ‘সপ্তাহখানেকের মধ্যে দুবাইয়ের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সিলেট নগরের ইসকন মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত রথযাত্রা মহোৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেছেন।
প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘দুবাইয়ের শ্রমবাজার নিয়ে সরকারের গুরুত্বসহকারে যাচাই করছে কি না, সেটিও সরকারের লক্ষ্য। পাশাপাশি, বিশ্বের যেসব দেশে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব দেশের শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে সরকার কাজ করছে।’
তিনি চা শ্রমিকদের মানসম্মত জীবনযাপন নিশ্চিত করার উপর জোর দেন। মন্ত্রী আরিফুল হক বলেন, ‘চা শ্রমিকদের জন্য মানসম্মত থাকার ব্যবস্থা, পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসাসেবা এবং সন্তানদের লেখাপড়ার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’ তিনি আশা করেন, শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকার সুবাদে চা শ্রমিকদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি কাজ করে যাবেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘চা শ্রমিকের বিষয়টি আমাদের মনে রাখতে হবে। তাদের অবস্থান মানসম্মত হওয়া উচিত। যাতে তাদের পরিবার চিকিৎসা পায়, তাদের বাসস্থানের সুন্দর ব্যবস্থা থাকে, তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার সুযোগ থাকে।’
আরিফুল হক চৌধুরী চা শ্রমিকদের মজুরি কাঠামো তুলে ধরে জানান, ‘শ্রমিকরা দুই ধরনের সুবিধা পেয়ে থাকেন। একদিকে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে নগদ মজুরি এবং অন্যদিকে বাগান থেকে বাসস্থান, রেশন ও চিকিৎসা সুবিধা।’
তিনি বলেন, পরিবারের কোনো সদস্য কাজ ছেড়ে দিলে বা অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের অন্য কোনো সদস্যকে একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার রীতি চালু আছে। এটি চা বাগানের একটি দীর্ঘদিনের প্রথা, যা অন্য কোনো খাতে দেখা যায় না।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, তিন বছর অন্তর মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
গত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় প্রতিটি চা শ্রমিক তাদের প্রাপ্য উৎসব ভাতা পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই শ্রমিকবান্ধব মনোভাবে কাজ করছে এবং শ্রমিকদের প্রতি দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করাই এই সরকারের অঙ্গীকার।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে গাজীপুরে পালিত হয়েছে জুলাই শহীদ দিবস। এই দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় জেলা প্রশাসনের দ্বারা।
সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের শিববাড়ী মোড়ে অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার, জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা খানম, পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তারা।
পরে, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকেও স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। গাজীপুর মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরাও পৃথকভাবে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ