০৯:০৮ পি.এম
বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্যে ব্যাংকিং সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য, রেনমিনবি (আরএমবি/ইউয়ান) ভিত্তিক বাণিজ্য সহজ করতে এবং বাণিজ্য-বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে বিসিসিসিআই দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে।
বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে ১১ থেকে ১৬ জুন অনুষ্ঠিত ১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপো এবং ৩০তম চায়না কুনমিং আমদানি-রপ্তানি মেলায় অংশগ্রহণ করে এসব সমঝোতা স্মারক সাইন করে।
বিসিসিসিআই এর সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল এক্সপোতে উপস্থিত ছিল। এবারের এক্সপোতে বাংলাদেশকে ‘থিম কান্ট্রি’ হিসেবে প্রসারিত করা হয়েছে। বিসিসিসিআই’র আয়োজনে আমানত শাহ গ্রুপ, টেকনো ড্রাগস লিমিটেড, আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড, আইমান এগ্রো লিমিটেড, এমএম ট্রেড এবং বিসিসিসিআইসহ মোট ছয়টি প্রতিষ্ঠান এই এক্সপোতে অংশ নেয়।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও কুনমিংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ কান্ট্রি প্যাভিলিয়নে ১০০টিরও বেশি বাংলাদেশি কোম্পানি তাদের পণ্য প্রদর্শন করে।
এক্সপোর প্রথম দিন ১১ জুন বিসিসিসিআই চীনের ব্যাংক অব হুজৌ কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে ব্যাংকটির প্রতিনিধি কার্যালয় স্থাপনে সহায়তা করবেন বিসিসিসিআই। একই সঙ্গে, দুই দেশের মধ্যে ব্যাংকিং সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, রেনমিনবি ভিত্তিক বাণিজ্যিক লেনদেন সহজ করা, বাণিজ্য নিষ্পত্তি দ্রুত করা এবং লেনদেনের ব্যয় হ্রাসের উপায় অনুসন্ধান করা হবে।
একই দিনে চায়না চেম্বার অব কমার্স ফর ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অব মেশিনারি অ্যান্ড ইলেকট্রনিক প্রোডাক্টস (সিসিসিএমই) এর সঙ্গে আরেকটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বিনিময়, তথ্যের আদান-প্রদান এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয় উভয় পক্ষ।
১২ জুন বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল কুনমিং-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ডে’ অনুষ্ঠানে বিসিসিসিআই’র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মাসুদ আলী খান সংগঠনের পক্ষে বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় বিসিসিসিআই সভাপতির উপদেষ্টা ফাইজুল আলম বিদ্যুৎ বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরে একটি উপস্থাপনা করেন।
আরও পড়ুন: সবজি কিনতে গেলে মনে হয় মাংস কিনছি, গরু-ইলিশের কথা মানুষ ভুলে যাবে: আসিফ মাহমুদ
উপস্থাপনায় তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, চামড়া ও পাদুকাশিল্প, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কারিগরি জনশক্তি ও প্রযুক্তি স্থানান্তর, স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধশিল্প, বৈদ্যুতিক যান (ইভি) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) ও ই-কমার্সসহ সাতটি অগ্রাধিকার খাত তুলে ধরা হয়। বিসিসিসিআই’র মতে, এতে চীনা ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগের এবং যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
এক্সপো চলাকালে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ কান্ট্রি প্যাভিলিয়ন এবং বিভিন্ন প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করে। এ সময় তারা বাংলাদেশের পণ্যের মান, ব্র্যান্ডিং, বাজার সম্প্রসারণ এবং চীনা বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
বিসিসিসিআই এর সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেছেন, চীনের মত বৃহৎ বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে উচ্চমানের, মূল্য সংযোজিত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে, তিনি ব্র্যান্ডিং, প্যাকেজিং এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় আরও কৌশলগতভাবে অংশগ্রহণের ওপর জোর দেন।
আরও পড়ুন: এনসিপির নতুন কমিটিতে ৩ নেতার পদাবনতি, কারণ অজানা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন