ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

শিক্ষাব্যবস্থায় অপসংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক দূষণ ঢুকেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ


শিক্ষাব্যবস্থায় অপসংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক দূষণ ঢুকেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় অপসংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক দূষণ প্রবেশ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় শিক্ষাব্যবস্থা ও সংস্কৃতিতে এমন প্রবণতা সৃষ্টি করা হয়েছে, যা জাতির ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করেছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "কোনো জাতিকে যদি ধ্বংস করে দেওয়া যায়, সেই শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করার মাধ্যমে সেটা শুরু হবে। যেটা বিগত ফ্যাসিবাদের সময় আমরা দেখেছি। এই জাতিতে কালচারাল ইন্ডাকশন হয়েছে, রিলিজিয়াস ইন্ডাকশন হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে অপসংস্কৃতির শিক্ষা ব্যবস্থা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।"

আরও পড়ুন: জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে টিআইবির প্রতিবেদনে অসত্য তথ্যের নিন্দা মিয়া গোলাম পরওয়ারের

তিনি আরও বলেন, "মোরালি এই জাতিটা ধীরে ধীরে ধ্বংসপ্রবণ হয়, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিভিন্ন রকমের ইন্টেলেকচুয়াল পলিউশন ঢুকানো হয়েছে আমাদের এই কালচারে। কিন্তু সেটা হয়েছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়। সেটা খুবই দুঃখজনক ছিল।"

শিক্ষার মান ও গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জিপিএ-৫ অর্জন করলেই একটি জাতি উন্নত হয় না। শিক্ষার ক্ষেত্রে সংখ্যাগত অর্জনের পাশাপাশি গুণগত পরিবর্তন প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত গবেষণা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা। বিশ্ববিদ্যালয় কেবল চাকরিভিত্তিক শিক্ষা প্রদানের প্রতিষ্ঠান নয়, বরং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।

তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাই হয় গবেষণার জন্য, মুক্তবুদ্ধির চিন্তার জন্য।" শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বা সনদ অর্জনের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সকলকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য উৎসাহিত করা শুভ লক্ষণ নয়। এসএসসি ও এইচএসসি পাস করা শিক্ষার্থীদের সবার বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কর্মক্ষেত্রের চাহিদা অনুযায়ী তাঁদের কারিগরি, দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

আরও পড়ুন: বেরোবি ব্লাড অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে শাহ পরান ও শাফায়েত হোসেন শুভ

তিনি আরও বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত বেকার রয়েছে। অতীতের শিক্ষাব্যবস্থায় কর্মসংস্থানের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা না করায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যারা শিক্ষকতা ও গবেষণায় যুক্ত হবেন, তাদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। অন্যদিকে, কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি একটি দেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। আর একটি জাতিকে সমৃদ্ধ করতে হলে শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। যেসব জাতির লাইব্রেরি সমৃদ্ধ এবং গবেষণার চর্চা বেশি, সেসব জাতি জ্ঞান ও শিক্ষায় এগিয়ে থাকে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার পরিবেশ ও মুক্তচিন্তার চর্চা বাড়াতে হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় আইন পাসের মাধ্যমে জগন্নাথ কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়। খালেদা জিয়া প্রতিশ্রুতি দিলে তা বাস্তবায়ন করতেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণ ও আবাসিক সুবিধা নিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেরানীগঞ্জে ২০০ একর জমির ওপর আবাসিক সুবিধাসহ স্বতন্ত্র ক্যাম্পাস নির্মাণের উদ্যোগের কথা তিনি জেনেছেন। শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া প্রাসঙ্গিক হলেও সেগুলোর নামে অপ্রাসঙ্গিক আন্দোলন হওয়া উচিত নয়। সরকারের আর্থিক সামর্থ্য ও সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় যথাসময়ে দাবিদাওয়া পূরণ করা হবে।

আরও পড়ুন: বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন মন্ত্রিসভার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ লেবাননে নতুন সড়ক নির্মাণ করছে ইসরাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৯ পি.এম


দক্ষিণ লেবাননে নতুন সড়ক নির্মাণ করছে ইসরাইল

ইসরাইলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের সামরিক অবস্থানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য পাহাড় ও উপত্যকার মধ্য দিয়ে নতুন সড়ক নির্মাণ করছে। এ তথ্য লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ প্রকাশ করেছে।

এনএনএ-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। এই অঞ্চলে লেবাননের দখলকৃত ভূখণ্ডে সামরিক অবস্থান গড়ে তুলেছে ইসরাইলি বাহিনী। সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি সেখানে বিভিন্ন স্থাপনা ও অবকাঠামো ধ্বংসের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

মধ্যাঞ্চলে সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে আইতা আল-শাব, মারুন আল-রাস, বিনত জবেইল ও আইতারুন শহর এলাকায়। উল্লেখ্য, মারুন আল-রাস শহরটি সীমান্তের ওপারে অবস্থিত ইসরাইলি বসতি আভিভিমের দিকে মুখ করে রয়েছে।

অন্যদিকে, পশ্চিমাঞ্চলের নাকুরা, ইয়ারিন, ধাইরা, মারওয়াহিন ও আলমা আল-শাব এলাকায়ও নতুন সড়ক নির্মাণের কার্যক্রম চলছে। এসব এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনীর পাশাপাশি জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী ইউনিফিল মোতায়েন রয়েছে।

গত ২০ ও ২১ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ফ্লোরিডার টাম্পায় লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে সামরিক ও কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ওই আলোচনার পরই দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর এই তৎপরতা সামনে এসেছে।

তবে বৈঠক থেকে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি। দুই পক্ষের পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতিও প্রদান করা হয়নি। আলোচনা চালিয়ে যেতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। তবে লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে মতবিরোধ এখনো বিদ্যমান রয়েছে।

জুনে হওয়া একটি কাঠামোগত চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, দখলকৃত লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহার করবে ইসরাইল। এর বিনিময়ে ওই এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার কথা রয়েছে।

তবে চুক্তি সত্ত্বেও লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে অন্তত ৪ হাজার ৩৮৬ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৪০৭ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর ও আনাদোলু এজেন্সি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কাজ করছে ভারতের ভাড়াটে বট বাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫০ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কাজ করছে ভারতের ভাড়াটে বট বাহিনী

ভারতের একটি অচেনা শহরের একটি ছোট ফ্ল্যাটে রাতের বেলা কাজ করতেন ২২ বছর বয়সী ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা রাজন কুমার। তিনি কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের জন্য পোস্টার তৈরি ও ভিডিও সম্পাদনা করতেন, যা হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে ছিল। ২০২২ সালে উইলিয়াম রুটোর নির্বাচনি প্রচারে কাজ করার সময় তার তৈরি কনটেন্ট রুটোর আনুষ্ঠানিক প্রচারমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি। বরং, পরিচয় গোপন রাখা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হতো। প্রতিদিন সাত ডলারের বিনিময়ে ৫০টি পোস্ট তৈরি করতেন রাজন।

এই কনটেন্টগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাদের বক্তব্য বা সাক্ষাৎকারের অংশ কেটে এমনভাবে উপস্থাপন করা হতো, যাতে তাদের বক্তব্যের অর্থ পরিবর্তিত হয়ে যায়। কখনো রুটোর জনপ্রিয়তা ও জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেখানোর জন্য মিথ্যা তথ্য দিয়ে পোস্টার তৈরি করা হতো।

আলজাজিরাকে রাজন কুমার বলেন, “কোনো নারী রাজনীতিক থাকলে তার সুনাম নষ্ট করতে আমরা সহজেই তাকে কারো সঙ্গে জড়িয়ে দিই। কাউকে হেয় করার সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি এটি।”

তিনি আরো বলেন, “সব বিতর্কিত কনটেন্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য পরিচয় গোপন রাখা পেজগুলোতে পাঠানো হয়।”

২০২২ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে উইলিয়াম রুটো কেনিয়ার পঞ্চম প্রেসিডেন্ট হন।

চার বছর পর, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে নজর পড়েছে ভারতের এসব রাজনৈতিক পরামর্শক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারকদের। আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, ভারতীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বট ও বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে নির্দিষ্ট কিছু নির্বাচনি প্রচারের পক্ষে ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস প্রথম এ ধরনের প্রচারের খবর প্রকাশ করে। মিশিগানে ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রার্থিতা বাছাইয়ের আগে দলটির রাজনীতিক হেইলি স্টিভেন্সের পক্ষে এসব ভিডিও ছড়ানো হয়েছিল। তবে ওই নির্বাচনে আবদুল আল-সাইয়েদের কাছে হেরে যান স্টিভেন্স। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হয়েছেন আল-সাইয়েদ।

তবে যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম দেশ নয়, যেখানে এ ধরনের ছায়া নির্বাচনি প্রচার চালানো হচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা ভারতের ভাড়াটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রচারকদের কাজে লাগিয়েছেন। এ প্রতিবেদন তৈরির জন্য আলজাজিরার সঙ্গে কথা বলেছেন ভারতের প্রায় ১২ জন রাজনৈতিক পরামর্শক। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের গোপন প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো সীমা, নিয়ন্ত্রণ বা নৈতিক বাধা নেই।

নয়াদিল্লির রাজনৈতিক পরামর্শক তুষার গিরি বলেন, “আমরা নির্বাচনকে প্রভাবিত করছি। বিষয়টি এভাবে বলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। নির্বাচনি গণতন্ত্রের ধারণাকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভোটারদের নিজেদের ইচ্ছায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। সবকিছুই প্রভাবিত করা হয়।”

গণতন্ত্রের আড়ালে ক্ষমতার গোপন উৎস

রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনীতিক ও নির্বাচনি প্রচার দলকে জনসমর্থন এবং ভোট পাওয়ার কৌশল ঠিক করে দেয়। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে সেবা হিসেবে বিক্রি করা এ ধরনের বিশেষায়িত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয় ১৯৩০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের প্রভাবিত করতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও নানা কৌশল ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মেটা ও গুগলের প্ল্যাটফর্মে নির্দিষ্ট শ্রেণির ভোটারদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে লাখ লাখ ভোটারের কাছে নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়। এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের প্রভাবিত করতে রাশিয়াও একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করেছে।

নির্বাচনি প্রচারের সময় যেসব কনটেন্ট আনুষ্ঠানিক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা বিতর্কিত বলে মনে করা হয়, সেগুলো ছড়ানোর কৌশল বিভিন্ন রকম। কোনো রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মেটা বা গুগলে আগে থেকে থাকা কোনো দলের গোপন পেজের দায়িত্ব নেয়। কখনো নতুন পেজ তৈরি করে, আবার কখনো পুরোনো পেজের নাম ও পরিচয় বদলে নির্বাচনী প্রচারের উপযোগী করে তোলে। ভাড়ায় পাওয়া পেজও ব্যবহার করা হয়।

২০২৪ সালে ভারতের জাতীয় নির্বাচনের আগে আলজাজিরার এক অনুসন্ধানে মেটা ও গুগলের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এমন অসংখ্য গোপন পেজের সন্ধান পাওয়া যায়। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে এসব পেজ বিক্রির জন্যও রাখা হয়েছিল। ভোটারদের প্রভাবিত করতে লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপনের অপব্যবহার ঠেকাতে এসব প্ল্যাটফর্মের যে নীতিমালা রয়েছে, তা এভাবে পাশ কাটানো হচ্ছিল।

রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনলাইন প্রভাব বিস্তারের অভিযান অনুসন্ধান ও প্রকাশ করে অজ্ঞাতনামা গবেষক দল অ্যান্টিবটফোরনাভালনি। দলটি আলজাজিরাকে জানিয়েছে, মিশিগানে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থিতা বাছাইয়ে হেইলি স্টিভেন্সের পক্ষে ভিডিও ছড়ানো অন্তত ২৮টি এক্স অ্যাকাউন্ট তারা শনাক্ত করেছে। এসব ভিডিও সাত মিলিয়নের বেশি বার দেখা হয়েছে।

আলজাজিরার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, শনাক্ত হওয়া অ্যাকাউন্টগুলোর অন্তত ১৫টি থেকে ভারতে বসে পোস্ট করা হচ্ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্লেমসন বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া ফরেনসিক হাবের গবেষকেরাও স্টিভেন্সের পক্ষে একই ধরনের প্রচারে ভারতীয় ভাড়াটে অ্যাকাউন্ট ও পেজ ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছেন।

ভারতের রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ে ‘ব্যাকস্টেজ অব ডেমোক্রেসি’ বই লিখেছেন অমোঘ ধর শর্মা। তার মতে, নির্বাচনের আগে রাজনীতিকেরা চান ভোটারদের মনোযোগ যেন জনসমক্ষে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর ওপর থাকে।

আলজাজিরাকে তিনি বলেন, “কিন্তু কখনো কখনো প্রকৃত ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয় সম্পূর্ণ আড়ালে থেকে।”

রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গণতন্ত্রে এ ধরনের গোপন ক্ষমতার উৎস তৈরি হওয়া বড় নৈতিক উদ্বেগের বিষয়।

পদচিহ্ন মুছে কাজ করার পরামর্শ

ভারতে এখন নির্বাচনি প্রচারের মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো। দেশটির নির্বাচনে তাদের কাজের অভিজ্ঞতাকে অন্য দেশের রাজনীতিকদের আকৃষ্ট করার প্রচার উপকরণ হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

নয়াদিল্লির পরামর্শক তুষার গিরি বলেন, “ভারতের মতো জটিল নির্বাচনি গণতন্ত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল দেওয়ার প্রমাণিত অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। এ কারণেই এখন বিদেশি নির্বাচনি প্রচারগুলোও আমাদের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে।”

ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার নীতিমালায় অ্যাকাউন্ট বিক্রি, কেনা বা বিনিময় করা নিষিদ্ধ। একইভাবে ভুয়া বা চুরি করা পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট পরিচালনারও অনুমতি নেই। মেটা ও গুগলের নীতিমালা অনুযায়ী, রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনদাতাদের সাধারণত নিজেদের পরিচয় যাচাই করতে হয় এবং নির্বাচনি বিজ্ঞাপনের অর্থ কে দিয়েছে, তা প্রকাশ করতে হয়। তবে দেশভেদে এ-সংক্রান্ত নিয়মে পার্থক্য রয়েছে।

ভারতের রাজনৈতিক পরামর্শকেরা আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, এসব নীতিমালা নিয়মিত লঙ্ঘন করা হয়।

তুষার গিরি বলেন, “প্ল্যাটফর্মগুলোর এসব নিয়মকানুনের তালিকা অনেক দীর্ঘ। কিন্তু ভালোভাবে খতিয়ে দেখলে সেগুলো পাশ কাটানোর বেশ কিছু ফাঁকফোকর পাওয়া যায়।”

কোনো নির্দিষ্ট দেশে কাজ করতে বাধার মুখে পড়লে এসব পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়াম ভার্চ্যুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহার করে। কখনো অ্যাকাউন্টের উৎপত্তির দেশ পরিবর্তন করলেই কাজ হয়ে যায়। এতে বিদেশে বসে থাকা কেউ অন্য দেশের ভোটারদের লক্ষ্য করে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন চালাতে পারেন।

তুষার গিরি জানান, গত বছর সুরিনামের একটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনা চুক্তিতে গড়ায়নি।

‘ব্যাকস্টেজ অব ডেমোক্রেসি’ বইয়ের লেখক অমোঘ ধর শর্মা জানান, গবেষণার সময় তিনি অস্ট্রেলিয়া ও জার্মানিতেও ভারতীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের সন্ধান পেয়েছেন। পরামর্শকেরা আলজাজিরাকে বলেছেন, নেপাল ও শ্রীলঙ্কাসহ ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোতেও তারা নির্বাচনি প্রচারে কাজ করেছেন।

২০২২ সালে কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রুটোর পক্ষে কাজ করা রাজন কুমার জানান, মাসিক চুক্তিতে তাকে প্রতিদিন প্রায় সাত ডলার দেওয়া হতো। কোনো কোনো দিন ১০০টি পর্যন্ত ছবি, পোস্টার ও ভিডিও তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হতো। টেলিগ্রামের বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে এসব কাজের সমন্বয় করা হতো।

রাজন বলেন, রুটোর কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে তিনি সরাসরি কাজ করেননি। তার মতো কনটেন্ট নির্মাতাদের পুরো কাজের প্রক্রিয়ায় কারা যুক্ত, এমনকি প্রচার দলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পরিচয়ও জানানো হয় না।

তিনি বলেন, “তারপরও সব সময় সতর্ক থাকতে হয় এবং নিজের কাজের কোনো চিহ্ন রাখতে নেই।” নিয়মিত কথোপকথন মুছে ফেলা হয় এবং সিম কার্ডও ঘন ঘন নষ্ট করা হয়।

তবে এ ধরনের কাজের ঝুঁকিও বাস্তব। ২০২২ সালের জুলাইয়ে কেনিয়ার নির্বাচনের আগে রুটোর নির্বাচনি প্রচারে কাজ করা দুই ভারতীয় রাজনৈতিক পরামর্শক জুলফিকার আহমেদ খান ও মোহাম্মদ জায়েদ সামি কিদওয়াই নাইরোবিতে নিখোঁজ হন। অক্টোবরে তাদের লাশ পাওয়া যায়।

অভিযোগ রয়েছে, কেনিয়ার পুলিশের একটি বিশেষ বাহিনী তাদের অপহরণ করে হত্যা করেছিল।

নির্বাচনে জয়ের পর রুটো ওই বিশেষ বাহিনী ভেঙে দেন। এ ঘটনায় ১৫ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের আগস্টে কেনিয়ার হাইকোর্ট মামলাটির অভিযোগ খারিজ করে দেন। প্রসিকিউশন পক্ষ হত্যার তদন্ত বন্ধ করার আবেদন জানানোর পর আদালত এ সিদ্ধান্ত নেন।

অর্থ লেনদেনেও গোপন কৌশল

রাজনৈতিক পরামর্শকদের গোপন কার্যক্রমের মতো তাদের অর্থ লেনদেনের পদ্ধতিও আড়ালে রাখা হয় বলে জানিয়েছেন কয়েকজন পরামর্শক।

নিরাপত্তার আশঙ্কায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পরামর্শক আলজাজিরাকে বলেন, “কালোটাকা রাজনৈতিক পরামর্শক ব্যবসার অন্যতম ভিত্তি।”

তার ভাষ্য, বিদেশে কিছু প্রতিষ্ঠান কাগজে-কলমে কাউকে সাধারণ কাজের জন্য নিয়োগ দেয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এসব প্রতিষ্ঠান অর্থের উৎস আড়াল করে তা নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

কয়েকটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হাওলা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। এটি আস্থার ভিত্তিতে পরিচালিত একটি অনানুষ্ঠানিক অর্থ স্থানান্তর পদ্ধতি। এর মাধ্যমে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা এড়িয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে অর্থ পাঠানো যায়। সাধারণত মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এ লেনদেন সম্পন্ন হয়।

অন্তত তিনজন পরামর্শক ভারতের রাজধানী দিল্লির চাঁদনি চক এলাকার রপ্তানিমুখী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ধরনের অর্থ লেনদেনের একটি কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আলজাজিরার সঙ্গে কথা বলা এক পরামর্শক দুই বছর আগের একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, নির্দিষ্ট সিরিয়াল নম্বরযুক্ত একটি ভারতীয় ব্যাংক নোট সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। ওই নম্বরটি ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, “আমি দেখেছি, ১০ রুপির নোট ব্যবহার করে লাখ লাখ রুপি নগদ সংগ্রহ করা হচ্ছে। মনে হচ্ছিল, কোনো সিনেমার দৃশ্য দেখছি।” তবে ওই লেনদেনের অর্থ কোন দেশ বা নির্বাচনি প্রচার থেকে এসেছিল, তা জানাতে রাজি হননি তিনি।

নির্বাচন প্রভাবিত করার বড় বাজার ভারত

তুষার গিরির মতে, গত কয়েক বছরে ভারত এ ধরনের গোপন রাজনৈতিক প্রচার চালানোর বড় পাইকারি বাজারে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, “চীন থেকে যেমন খেলনা কেনা যায়, তেমনি ভারতের সবচেয়ে কম খরচে বিশ্বের যেকোনো দেশের নির্বাচন প্রভাবিত করা সম্ভব।”

অমোঘ ধর শর্মাও ভারতের রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিস্তারকে বৈশ্বিক আউটসোর্সিং শিল্পের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার মতে, ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এ শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

শর্মা বলেন, “এটি সম্ভবত বৈশ্বিক আউটসোর্সিং শিল্পেরই একটি সম্প্রসারণ। ২০০০-এর দশকে ভারত যেমন ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া আউটসোর্সিংয়ের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল, এখন তেমনি রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের উত্থান ঘটছে। নির্বাচনি প্রচারগুলো তাদের কম স্বচ্ছ কার্যক্রমের দায়িত্ব এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে দিয়ে দিচ্ছে।”

তিনি আরো বলেন, এসব গোপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এবং তাদের হয়ে কাজ করা নির্বাচনি প্রচার দলের মধ্যে ভৌগোলিক দূরত্ব থাকায় কার্যক্রম ফাঁস হলেও সবাই দায় অস্বীকার করার সুযোগ পান।

তুষার গিরির মতে, একটি নির্বাচনি প্রচারকে সহায়তা করতে পরামর্শকেরা কত দূর যেতে পারেন, তার ওপরই তাদের সাফল্য নির্ভর করে।

তিনি বলেন, “সীমা কোথায়? কোনো প্রতিষ্ঠান যদি ভোটারকে প্রভাবিত করতে নোংরা কৌশল প্রয়োগ করতে পারে এবং রাজনৈতিক দলের নিজস্ব কল্পনার বাইরেও চিন্তা করতে পারে, তাহলে তারা সেই অনুযায়ী পুরস্কৃত হয়। যত বেশি নোংরা কৌশল প্রয়োগ করতে পারবেন, তত বেশি অর্থ ও কাজের সুযোগ পাবেন।”

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপি সরকারের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫১ পি.এম


বিএনপি সরকারের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিএনপি সরকার শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে এবং সনাতনী পদ্ধতির মধ্যে শিক্ষার্থীদের আটকে রেখে দেশকে বৈশ্বিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে। সরকার এখন শুধু ভালো ফলাফল ও উচ্চশিক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও মানসিক উন্নয়নে জোর দিচ্ছে।

তিনি বলেন, "শুধু জিপিএ-৫ পেয়ে জাতি উন্নত হয় না। কোয়ালিটি উন্নত হওয়া দরকার। উন্মুক্ত চিন্তাচেতনার চর্চা চলতে হবে।"

সালাহউদ্দিন আহমদ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, দাবি আদায়ের জন্য অপ্রাসঙ্গিক আন্দোলন না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের আর্থিক সমর্থ্য অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ করবে সরকার।

মন্ত্রী আরও জানান, উচ্চশিক্ষা লাভের পর যেন কেউ বেকার না থাকে, সেই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বৈপ্লবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সকলের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, "সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য উৎসাহ দেয়া শুভ লক্ষণ নয়। শুধু সিম্পল মাস্টার্স ডিগ্রি ধরিয়ে দিলে জাতি উন্নত হবে না। সবার প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে প্রশিক্ষিত করতে হবে। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা সাজাতে হবে। সনাতন পদ্ধতিতে শুধু বাংলা, ইংরেজির মতো ট্রেডিশনাল সাবজেক্টে আটকে না থাকার আহ্বান রইল।"

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক যুদ্ধের সময় আমরা বৈশ্বিক বাণিজ্যে সংকটের সুযোগ নিতে পারতাম। কিন্তু পর্যাপ্ত দক্ষতার অভাবে আমরা সেই সুযোগ গ্রহণ করতে পারিনি। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে প্রযুক্তিগত দিক থেকে তাল মেলানোর জন্য আমাদের দক্ষতা ও শিক্ষা বাড়াতে হবে। আগামী ৫ বছরের চিন্তা করলে গার্মেন্টস শিল্পে আটকে থাকতে হবে। কিন্তু আমাদের আগামী ৫০ বছর নিয়ে ভাবতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ম্যাকলমোরের ফ্রি প্যালেস্টাইন কনসার্ট সফর শেষ, অর্থ ফিলিস্তিনিদের সহায়তায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৫১ পি.এম


ম্যাকলমোরের ফ্রি প্যালেস্টাইন কনসার্ট সফর শেষ, অর্থ ফিলিস্তিনিদের সহায়তায়

সংগীতশিল্পী ম্যাকলমোর ফিলিস্তিনের পক্ষে জনমত গঠন এবং গাজায় মানবিক সহায়তার সমর্থনে আয়োজিত তিন দিনের ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ সফর সম্পন্ন করেছেন। শেষ কনসার্টটি ৩০ অক্টোবর লন্ডনের ওভিও অ্যারেনা ওয়েম্বলিতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দর্শকরা পূর্ণ ছিল। এই কনসার্টে ম্যাকলমোরের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন পালোমা ফেইথ, নেমাহসিস, জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ এবং বিভিন্ন দেশের শিল্পী ও অধিকারকর্মীরা।

ডাবলিন, প্যারিস ও লন্ডনে অনুষ্ঠিত তিনটি কনসার্টের টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার পরপরই শেষ হয়ে যায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কনসার্ট থেকে সংগৃহীত অর্থ ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় কাজ করা ১২টি সংগঠনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

কনসার্টে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ম্যাকলমোর বলেন, গাজায় চলমান বিপর্যয়ের মুখে নীরব থাকা তার কাছে কথা বলার চেয়ে বেশি অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘গাজার শিশুরা আমাদেরও সন্তান। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিচ্ছিন্নতা নেই।’

অনুষ্ঠানে ফিলিস্তিনি নেতা মারওয়ান বারঘুতির ছেলে আরব বারঘুতি তার বাবার দীর্ঘ কারাবাসের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘আপনারা স্বপ্ন ও আশাকে বন্দি করতে পারবেন না।’ গ্রেটা থুনবার্গ মন্তব্য করেন, দাতব্য সহায়তা বা স্লোগান দিয়ে দখলদারত্বের অবসান হবে না; এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক পরিবর্তন।

অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পী পালোমা ফেইথ বলেন, গাজা, ফিলিস্তিন, সুদান, ইয়েমেন ও কঙ্গোর শিশুদের তুলনায় তার নিজের সন্তানদের জীবন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, প্রতিটি শিশুরই নিরাপদে মায়ের কোলে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে।

এর আগে ২৬ অক্টোবর ডাবলিনে এবং ২৯ অক্টোবর প্যারিসে কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। ডাবলিনের আয়োজনে হোজিয়ার ও নিকনিপসহ বিভিন্ন শিল্পী অংশ নেন। প্যারিসের কনসার্টেও ছিলেন অরোরা, পম, পর্তুগাল দ্য ম্যানসহ একাধিক শিল্পী।

গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এক কনসার্টে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বলার পর এড শিরানের ‘লুপ’ ট্যুরের বাকি আয়োজনগুলো থেকে ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরই ফিলিস্তিনের সমর্থনে এই তিন শহরে বিশেষ কনসার্টের আয়োজন করেন তিনি।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%