মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:০৭ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে প্রাইভেটকারে করে মাদক বহনের সময় ৪৬০ বোতল স্কাফ সিরাপসহ মো. মাসুম মিয়া (মাসুম) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সাড়ে ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশুগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা এলাকায় একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিতে গাড়ি থেকে ৪৬০ বোতল স্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মাদক বহনের অভিযোগে মো. মাসুম মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটক প্রাইভেটকারটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো গ-২৩-১৬১৪।
গ্রেপ্তার মাসুম মিয়া নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার ছোটাবন্দ এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম ফয়েজ উদ্দিন মিয়া।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা মাদক ও অন্যান্য মালামাল বিধি অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আশুগঞ্জ থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় আশুগঞ্জে বিপুল পরিমাণ স্কাফ সিরাপ উদ্ধারের ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিদেশে অবস্থানরত রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করে বরিশাল নগরীতে গোপন রাজনৈতিক তৎপরতা, ঝটিকা মিছিল ও নাশকতার নীল নকশা বাস্তবায়নের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিলন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরও তার সন্ত্রাসী বাহিনী, চাঁদাবাজি ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চক্রান্তের খবরে তীব্র ক্ষোভ ও চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বরিশাল নগরবাসী।
সম্প্রতি (গত ৩১ আগস্ট) জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল তালাশ বিডি-তে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মিলন ভূঁইয়ার এসব দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড ও আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতির বিস্তারিত চিত্র সামনে আসে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বরিশাল জুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
রাজনীতিতে উত্থান ও ক্ষমতার অপব্যবহার
স্থানীয় নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক আশীর্বাদ ও স্নেহে মিলন ভূঁইয়ার দ্রুত উত্থান ঘটে। শুরুতেই তিনি বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নেন। পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত করে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো মেয়াদে এই রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল বানিয়ে বরিশাল নগরীর আইন কলেজ, হাসপাতাল রোডসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় মিলন ভূঁইয়া ও তার ক্যাডার বাহিনী একক আধিপত্য কায়েম করে। জমি দখল, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে পুরো এলাকাকে জিম্মি করে রেখেছিলেন তারা।
বিদেশের অর্থায়ন ও তরুণদের প্রলোভন
সরকার পতনের পর মিলন ভূঁইয়া প্রকাশ্যে না থাকলেও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে পেছন থেকে সুতা টানছেন বলে একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতাদের সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। সেখান থেকেই হুন্ডির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ আসছে মিলন ভূঁইয়ার হাতে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, এই অর্থ ব্যবহার করে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বেকার তরুণ ও উদীয়মান যুবকদের বড় অঙ্কের টাকার লোভ দেখানো হচ্ছে। রাতের আঁধারে নগরীতে ঝটিকা মিছিল বের করা, নাশকতামূলক গোপন মিটিং পরিচালনা এবং বরিশালকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিশাল একটি বাহিনী সুসংগঠিত করা হচ্ছে।
আইনজীবী পরিচয়ের আড়ালে গা ঢাকা
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সবচেয়ে বড় ক্ষোভের জায়গা হলো—এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে মিলন ভূঁইয়া কীভাবে প্রকাশ্য ও গোপনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। জানা গেছে, তিনি বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির একজন তালিকাভুক্ত সদস্য। এই পেশাগত ও আইনি পরিচয়কে তিনি নিজের নিরাপত্তার জন্য 'সুরক্ষাকবচ' হিসেবে ব্যবহার করছেন। ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) ও থানা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি সহজেই রাজনৈতিক কার্যক্রম সমন্বয় করছেন বলে নগরবাসীর অভিযোগ।
সুজন-মিলন দুই ভাইয়ের আতঙ্কের রাজত্ব
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, মিলন ভূঁইয়ার সাথে তার ভাই সুজন ভূঁইয়াও বিগত বছরগুলোতে সমান্তরালভাবে অপরাধের সাম্রাজ্য পরিচালনা করেছেন। অতীতের তেতো অভিজ্ঞতার কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ এখনও এই দুই ভাইয়ের নাম শুনলে শিউরে ওঠেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতাল রোড এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা জানান, "অতীতে তারা যেভাবে নির্যাতন ও হয়রানি চালিয়েছে, তাতে এখনও আমাদের মনে ভয় কাজ করে। এখন যদি তাদের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলি, তবে যেকোনো সময় আমাদের ওপর বা আমাদের পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।"
তারা আরও বলেন, "কোনো ব্যক্তি যদি একটি নিষিদ্ধ বা বিতর্কিত দলীয় পরিচয়ের আড়ালে অবৈধ অর্থ এনে দেশে রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করে, তবে আইনের স্বার্থেই দল-মত নির্বিশেষে তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা উচিত।"
অভিযুক্তের বক্তব্য ও পুলিশের অবস্থান
সংবাদে উঠে আসা এসব আশঙ্কাজনক অভিযোগের সত্যতা ও নিজ বক্তব্যের বিষয়ে জানতে মিলন ভূঁইয়ার ব্যবহৃত একাধিক মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে আত্মগোপনে রয়েছেন।
তবে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। এ বিষয়ে বিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার (পিপিএম) স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, "অভিযোগটি আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। আসামি মিলন ভূঁইয়াকে আটক করার জন্য আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক বিশেষ টিম ইতোমধ্যেই মাঠে কাজ শুরু করেছে। সে যত কৌশলেই আত্মগোপনে থাকুক না কেন, যেকোনো মুহূর্তে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং নগরীর শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিট পুলিশিং জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার [স্থান]-এ আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধ্যনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম শাহাবুদ্দিন শাহীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মধ্যনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিছবাহ ও বিট অফিসার এসআই নবী হোসেন।
মুসাব্বির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আবুল কাশেম সভাপতিত্ব করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। এসব অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি এ কে এম শাহাবুদ্দিন শাহীন বলেন, মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মধ্যনগর থানা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এলাকার কোথাও মাদক ব্যবসা, জুয়া কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিছবাহ বলেন, মাদক ও জুয়া একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম আরও জোরদার করা, জনগণের সঙ্গে পুলিশের সুসম্পর্ক বৃদ্ধি এবং এলাকায় অপরাধ প্রতিরোধে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি হঠাৎ করেই প্রবল বর্ষণের কবলে পড়েছে। ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বজ্রপাতও হচ্ছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি) আগামী কয়েকদিনে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এ পরিস্থিতিতে দিল্লি জুড়ে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জন্মাষ্টমীর উৎসবে বের হওয়া দর্শনার্থীরা হঠাৎ করে এই বাঁধভাঙা বৃষ্টির মুখোমুখি হন। বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে সাধারণ মানুষ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের (আইএমডি) তিন ঘণ্টার বৃষ্টিপাতের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সকাল ১১টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে পালাম এলাকায় প্রায় সাড়ে ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে, সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে নাজাফগড়ে ০ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে প্রকাশিত স্বল্পমেয়াদি পূর্বাভাসে আইএমডি জানায়, দুপুর ২টা ১৫ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটের মধ্যে একাধিক স্থানে বজ্রবিদ্যুৎ ও বিজলি চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি দু-এক স্থানে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
আইএমডি আরও জানায়, বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে ভারতের অধিকাংশ স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ এবং কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বিজলি চমকানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
পরবর্তী তিন ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে দপ্তরটি জানিয়েছে, অধিকাংশ এলাকায় মাঝারি বর্ষণ ছাড়াও দু-এক জায়গায় ৫০ থেকে ১০০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সেইসাথে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে, যার গতিবেগ সাময়িকভাবে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ