শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:০৯ এম
বিক্ষোভের পূর্বে বিরোধী ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন ককরোচের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সিজেপির শনিবারের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ ইন্ডিয়া জোটের বেশ কিছু নেতা ও নেত্রী আটক হন। আটক করা হয় দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এবং কেরালার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকে। তবে শনিবারের ওই বিক্ষোভে কংগ্রেস কিছুটা পিছিয়ে ছিল। অনেকের মতে, দেশের যুব সমাজ সিজেপিকে সমর্থন করলে কংগ্রেসের প্রতি তাদের মনোভাব পরিবর্তিত হতে পারে কি না, তা নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সংশয় ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তারা বুঝতে পারছেন যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে হলে সিজেপির অবস্থানকে আরো দৃঢ় করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
এই পরিস্থিতিতে বুধবার রাহুলের মন্তব্যে তার ইঙ্গিত স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘ব্যানার ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু লক্ষ্য একটাই। সব প্রতিবাদই আসলে এক দাবিতে—নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।’
বুধবার বিকেলে রাহুল তার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত চা চক্রে দীপকেকে আমন্ত্রণ জানান। তবে মহারাষ্ট্রে অবস্থান করায় ককরোচের প্রধান সেখানে যোগ দিতে পারেননি। এরপর বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সব বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান দীপকে। তিনি ছাত্র ও যুবসমাজের কাছে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন।
সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি, তিনি পরিষ্কার করেছেন যে, ‘মাদার অব অল বম্বস’ নামে পরিচিত বিশাল ক্ষমতাসম্পন্ন বোমাটি আসলে পারমাণবিক অস্ত্র নয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিউজম্যাক্সকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের বিষয়টি তাঁর প্রশাসন বিবেচনা করছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘মাদার অব অল বম্বস’ আসলে পারমাণবিক অস্ত্র নয়, বরং এটি একটি অত্যন্ত বড় আকারের প্রচলিত বোমা। পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করে তিনি বলেন, “না, আমি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করব না। আমাদের তা করার প্রয়োজন নেই।”
মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে এ ধরনের হামলা চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এমন তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি।
‘মাদার অব অল বম্বস’ বা এমওএবি হলো যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারের সবচেয়ে বড় প্রচলিত বোমাগুলোর একটি, যা পারমাণবিক নয়। এর আনুষ্ঠানিক নাম জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট। এটি পারমাণবিক বিস্ফোরণের মাধ্যমে নয়, বরং প্রচলিত বিস্ফোরক ব্যবহার করে বিস্ফোরণ ঘটায়।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে বিশ্বাস করেন। জবাবে তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, আমি কাউকেই বিশ্বাস করি না।” রাজনীতির জগতে কাউকেই বিশ্বাস করেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তথ্যসূত্র: আনাদোলু, রয়টার্স, আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
॥ নাজিউর রহমান সোহেল ॥
ঢাকা, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ : দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারের জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি তাগিদ দিয়েছে। কমিটি উল্লেখ করেছে, পাসের হারের কৃত্রিম প্রতিযোগিতার বাইরে গিয়ে শিক্ষার প্রকৃত গুণগত মান নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এজন্য আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘বছরভিত্তিক’ সুনির্দিষ্ট মান পরিমাপ পদ্ধতি চালু করা উচিত।
এছাড়া, শিক্ষা খাতের বরাদ্দকৃত অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের কৌশল গ্রহণ, অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ার উদ্যোগ নেওয়া, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি, মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসারে ‘একগুচ্ছ’ প্রস্তাব ও সুপারিশ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ১ম বৈঠকে দেশের শিক্ষা খাতের জন্য নতুন এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে।
কমিটির কার্যবিবরণীর তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার মেধা বিকাশ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে ২০২৬ সালে গোল্ডেন জিপিএ অর্জনকারী প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে ল্যাপটপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে ৭০ লাখ মেয়ে শিক্ষার্থীকে ৪ হাজার কোটি টাকার বৃত্তির আওতায় আনা হচ্ছে। পাশাপাশি ইএফটি ও আইবাস++ পদ্ধতিতে প্রায় ৭০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বকেয়া পাওনা সরাসরি ব্যাংকে পাঠানোর ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
কার্যবিবরণীর সারসংক্ষেপে আরও জানানো হয়, শর্তপূরণকারী প্রতিষ্ঠান ও প্রবীণ শিক্ষকদের দ্রুত এমপিওভুক্তি, ২০৩০ সালের মধ্যে কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার ৩০ শতাংশে উন্নীত করা, মাধ্যমিক স্তরে ঝরে পড়ার কারণ জানতে গবেষণা, সংসদ সদস্যদের সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং পরবর্তী বৈঠকগুলোতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাবোর্ডের প্রধানদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার শিক্ষা খাতে শুধুমাত্র সংখ্যার দিক বা পাসের হারের কৃত্রিম প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার এই কৃত্রিম প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী নয়। তারা দেশের শিক্ষার আসল গুণগত মান নিশ্চিত করতে চায়।
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে কমিটির প্রথম সভায় একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে আমাদের শিক্ষার্থীদের মেলাতে হলে বছরভিত্তিক মূল্যায়ন ও আধুনিক শিক্ষাক্রমের বিকল্প নেই। তাই আমরা চাই শুধু বছরব্যাপী নয়, তিন মাস অথবা ছয় মাস অন্তর শিক্ষা ব্যবস্থায় শিখনফল মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু হওয়া প্রয়োজন। কমিটির আগামীর সভায় শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতে আরও দফাওয়ারী সুপারিশ করবে। পাশাপাশি শিক্ষার রোডম্যাপ নিয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। সেখানে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।’
শিক্ষার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বছরভিত্তিক মূল্যায়ন
সংসদীয় কমিটির বৈঠকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলিত মূল্যায়ন ব্যবস্থার ওপর পর্যালোচনা করা হয়। কেবল পাসের হার বৃদ্ধি শিক্ষার প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি হতে পারে না বলেও উল্লেখ করা হয়। প্রচলিত ত্রুটিপূর্ণ ধারা থেকে বেরিয়ে এসে বছরভিত্তিক শিখনফল মূল্যায়ন এবং বিশ্বমানের শিক্ষাক্রম প্রবর্তনের ওপর জোর দেন সংসদীয় কমিটির সদস্যরা। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার মডেলের ন্যায় দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী জাতীয় শিক্ষা-ভাবনা প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়, যাতে সরকার বা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি পরিবর্তন হলেও শিক্ষানীতি, পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তকের মৌলিক কাঠামো বারবার পরিবর্তন না হয়।
সভায় কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া বলেন, গণিত ও বিজ্ঞানের মতো মৌলিক বিষয়ে আন্তর্জাতিক সূচকে দেশের শিক্ষার্থীরা যেন পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্য সুনির্দিষ্ট বছরভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড প্রবর্তন জরুরি।
বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ধরা হয়েছে, যা বিগত সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৪২.৭ শতাংশ বেশি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড স্পর্শের অংশ হিসেবে মেধা বিকাশ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে ২০২৬ সালে গোল্ডেন জিপিএ অর্জনকারী প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে একটি করে ল্যাপটপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারী শিক্ষার প্রসার ও ঝরে পড়া রোধে ৭০ লাখ ছাত্রীকে ৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল বৃত্তির আওতায় আনা হচ্ছে।
কমিটির কার্যবিবরণীতে বলা হয়, শিক্ষকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও দীর্ঘদিনের বকেয়া নিরসনে ইতিহাস সৃষ্টি করে বর্তমান সরকার এবারই প্রথম ইএফটি (ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) ও আইবাস++ পদ্ধতিতে দেশের প্রায় ৭০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীর বকেয়া পাওনা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ধাপে গড়ে প্রত্যেক শিক্ষককে ৫ লাখ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধার সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়ায় সংসদীয় কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
সেখানে আরও বলা হয়, অতীতে রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা সমাধানে জোর দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদী ও মো. মুজিবুর রহমান এমপিওভুক্তির সকল শর্ত পূরণকারী নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান ও দীর্ঘদিন ধরে বিনাবেতনে সেবা দেওয়া প্রবীণ শিক্ষকদের বিষয়টি মাথায় রেখে অগ্রধিকারভিত্তিতে দ্রুত এমপিওভুক্তির জোর সুপারিশ করেন। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ফাইলের দীর্ঘসূত্রতা দূর করে শিক্ষক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়।
কার্যবিবরণী অনুযায়ী, বিগত সময়ে মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এ সকল শিক্ষার্থীরা কোথায় যাচ্ছে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমার কারণ এবং বর্তমানে তারা কি করছে- তা চিহ্নিত করতে একটি সময়োপযোগী গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর বৈঠকে জোর দেওয়া হয়।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) সামসুর রহমান খান জানান, ২০২৫ সাল পর্যন্ত কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার ১৯ দশমিক ১৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে তা ৩০ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
শিক্ষার সার্বিক মান ও নীতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে সংসদ সদস্যরা সরেজমিনে স্কুল-কলেজ পরিদর্শন করবেন এবং পরবর্তী বৈঠকগুলোতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাবোর্ড ও বিভাগীয় দপ্তর প্রধানদের সশরীরে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সুপারিশমালা
সংসদীয় কমিটি শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে ৭ দফা সুপারিশ করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- শিক্ষার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জনে বছরভিত্তিক পরিমাপ পদ্ধতি তৈরি করা। শিক্ষা খাতের বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গড়তে সংসদীয় কমিটির সদস্যগণ কর্তৃক স্কুল-কলেজ পরিদর্শন। পরবর্তী বৈঠকগুলোতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষাবোর্ড ও অধীনস্থ দপ্তর প্রধানদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ। হজ্জযাত্রী ও দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শিক্ষকদের বকেয়া দ্রুত মেটাতে আলাদা তালিকা তৈরি। বাজেট সাপেক্ষে বকেয়া ভাতা প্রদান প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করা।
সংসদীয় কমিটির এই উদ্যোগ ও সুপারিশকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী হিসেবে দেখছেন দেশের শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, পাসের হারের কৃত্রিম সূচক বাদ দিয়ে বছরভিত্তিক শিখনফল মূল্যায়ন এবং বিশ্বমানের শিক্ষাক্রম প্রবর্তনের যে তাগিদ সংসদীয় কমিটি দিয়েছে, তা শিক্ষার গুণগত রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের আড্ডা বাজার সংলগ্ন ‘সততা বিস্কুট অ্যান্ড ব্রেড ফ্যাক্টরি’তে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আনুমানিক শেষ রাত (ভোররাত) ৩টার দিকে ঘটে যাওয়া এই অগ্নিকাণ্ডে কারখানাটির আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কারখানাটি এলাকার ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুস সাত্তার (ভাদু)-এর মালিকানাধীন। অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানায় কর্মরত কর্মচারীসহ আশপাশের এলাকার সকল মানুষ গভীর ঘুমে মগ্ন ছিলেন। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, ফ্যাক্টরির চুলা (ওভেন/হাঁসিল) থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে।
আগুনের ভয়াবহতা এতটাই তীব্র ছিল যে, তার উত্তাপ ও আলোর তীব্রতা ২ থেকে ৪ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। বিকট শব্দ ও আগুনের বিকাল শিখা দেখে পুরো এলাকার লোকজনের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ভীতি ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে সময় পার করেন।
পরবর্তীতে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। সকালে স্থানীয় লোকজন ও প্রশাসন ফ্যাক্টরি এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র দেখতে পান।
মালিকপক্ষ ও স্থানীয়দের মতে, অগ্নিকাণ্ডে কারখানার প্রস্তুতকৃত মালামাল, মূল্যবান কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকার ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। তবে ভাগ্যক্রমে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের তৎপরতায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর শ্যামলীতে সড়ক দুর্ঘটনার ফলে দুই নারীর মৃত্যু ঘটেছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন শ্যামলী মোড়ের ওভারব্রিজের নিচে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে এক অজ্ঞাতনামা নারী প্রাণ হারান। এছাড়া, গুরুতর আহত অবস্থায় মুক্তা (৪০) নামের আরেক নারীকে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।
দুর্ঘটনায় নিহত দুই নারীর মরদেহ বর্তমানে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ