ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গাছের সঙ্গে বেঁধে তরুণ-তরুণীকে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল


গাছের সঙ্গে বেঁধে তরুণ-তরুণীকে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

রাজবাড়ী সদর উপজেলার চর খানখানাপুর গ্রামে এক তরুণের সঙ্গে গৃহবধুকে পরকীয়া প্রেমের অভিযোগে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, গৃহবধুর স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর ওই তরুণের সঙ্গে তার বিয়ে হওয়ার মাধ্যমে তাদের মুক্তি মিলেছে।

শনিবার (৪ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে গৃহবধুর স্বামীর বাড়িতে। রবিবার বিকেলে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে মেহগনি গাছের সঙ্গে গৃহবধু ও ওই তরুণকে একই রশিতে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ সময় বহু নারী ও পুরুষের উপস্থিতি দেখা যায়।

আরও পড়ুন: জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কে নিম্নমানের কাজ বন্ধ করায় স্হানীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের ভিত্তিহীন অভিযোগ।

ভিডিওতে শোনা যায়, ‘তোরা এমন কাজ কী করে করতে পারলি।’ আবার কখনও তরুণকে উদ্দেশ্যে করে শোনা যায়, ‘তোর বাপকে ফোন করে এখানে আসতে বল, তিনি আসলেই ঝামেলা মিটবে।’ এ সময় একজনের কাছ থেকে মুঠোফোন নিয়ে বেঁধে রাখা তরুণকে কথা বলার চেষ্টা করতে দেখা যায়। গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে নির্যাতনের দৃশ্য অনেক লোকজন মুঠোফোনে ধারণ করছিল।

ভিডিওতে দেখা যায়, বেঁধে রাখা তরুণ স্থানীয়দের বারবার রশি খুলে দিতে অনুরোধ করছেন। তিনি বলেন, কোথাও পালিয়ে যাবে না, ঘোষণা করে রশি খুলে দিতে অনুরোধ করেন। শরীর গামছা দিয়ে ঢেকে রাখা এক যুবকের হাত ধরে তিনি বারবার রশির বাঁধন খুলতে বলেন। তখন ওই যুবক বিপন্ন হয়ে জানায়, রশির বাঁধন খুলে দিলে সেখানে উপস্থিত সবাই তাকে মারধর করবেন। ফলে, তিনি বাঁধন খুলে দিতে পারবেন না।

এ সময় কয়েকজন ঘটনাস্থলে এসে বেঁধে রাখা তরুণের ওপর হামলা করেন। তাদের বলতে শোনা যায়, কেউ রশি খোলার চেষ্টা করলে তাকে মারধর করা হবে। স্থানীয় কয়েকজন জানান, নবুওছিমদ্দিন এলাকার ওই যুবকের (২৪) সঙ্গে তাদের বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর ইউনিয়নের চর খানখানাপুর এলাকার বাসিন্দা তার ফুফাতো ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে গৃহবধুর সঙ্গে দেখা করতে গেলে ওই তরুণকে হাতেনাতে ধরে ফেলে গৃহবধুর স্বামী। এ সময়, তিনি তাঁর পরিবারের লোকজনের সহায়তায় ছেলেটিকে মারধর করেন ও বাড়ির উঠানের একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। এরপর ওই গৃহবধুকেও তার সঙ্গে বেঁধে রেখে আশপাশের সবাইকে খবর দেন।

গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের নবুওছিমদ্দিন পাড়ার হাসেম শেখ ঘটনাটি উল্লেখ করে বলেন, খবর পেয়ে আমরা রাতেই ওই বাড়িতে গিয়ে দেখি, গাছের সঙ্গে গৃহবধূ ও তরুণকে বেঁধে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় তথ্য চাওয়ায় সাংবাদিককে মামলার হুমকির অভিযোগ

তিনি জানান, গৃহবধূর স্বামী ওই সময় সবাইকে সাফ জানিয়ে দেন, তিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করবেন না এবং খালাতো ভাইয়ের সঙ্গেই তার স্ত্রীকে বিয়ে দেবেন। পরে রাত আড়াইটার দিকে স্থানীয়ভাবে মৌলভি ডেকে তাদের মধ্যে তালাক করানোর পর রাত সাড়ে ৩টার দিকে গৃহবধুর সঙ্গে ওই তরুণের বিয়ে হয়।

নবুওছিমদ্দিন পাড়ার হাসেম শেখ আরও বলেন, রবিবার ভোরের দিকে ছেলেটি মেয়েটিকে নিয়ে তাদের বাড়ি ফিরে গেছে। গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে তার স্বামী নির্যাতন করেছেন। আমরা সুষ্ঠুভাবে বিষয়টি মীমাংসা করেছি মাত্র।

রাজবাড়ী সদর থানার কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, এমন একটি ভিডিও ফেসবুকে দেখেছি। ভিডিও দেখে স্থানীয় হাসেম শেখের কাছে ফোন করে ঘটনা জানার চেষ্টা করেছি। এ বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকে আমাদের কাছে লিখিত বা মৌখিকভাবে অভিযোগ হয়নি। নির্যাতনের কোনো অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: প্রকৌশলী নূর আজিজুল রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ,দুদকের তদন্ত জরুরি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিটি ক্লাসরুমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৫ পি.এম


শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিটি ক্লাসরুমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

আজ রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে।

তিনি এ বিষয়ে উল্লেখ করেন, ‘শ্রেণিকক্ষে সঠিকভাবে পাঠদান করা হচ্ছে কিনা তা নজরে রাখার জন্য প্রতিটি ক্লাসরুমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

আজ সোমবার অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেন সঠিকভাবে মনিটরিং করা যায়, সেজন্য একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে যেকোনো সময় যেকোনো ক্লাসরুম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।’

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টয়লেট অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন। এর ফলে সেগুলো ব্যবহারে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আগ্রহ হারায়। তাই দেশের শতভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টয়লেট পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না।

শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়ে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার প্রকৃত মানোন্নয়ন করতে হলে শিক্ষকদের সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা বৃদ্ধি করতে হবে। দেশের শিক্ষা কাঠামোকে এমনভাবে সংস্কার ও পরিবর্তন করতে হবে, যেন মেধাবীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে শিক্ষকতা পেশায় আসতে আগ্রহী হন।

অনুষ্ঠানে নায়েমের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হকের সভাপতিত্বের মধ্যে লাইভ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহজাহান মিয়া এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

অনুষ্ঠানে নায়েমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেওয়া প্রশিক্ষণার্থী কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাসায়নিক অস্ত্র উন্নয়নে জড়িত রুশ বিজ্ঞানী ও গবেষণাগারের ওপর ব্রিটেনের নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৬ পি.এম


রাসায়নিক অস্ত্র উন্নয়নে জড়িত রুশ বিজ্ঞানী ও গবেষণাগারের ওপর ব্রিটেনের নিষেধাজ্ঞা

ব্রিটেন সোমবার সাতজন রুশ বিজ্ঞানীর এবং দুটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে রাসায়নিক হামলায় ব্যবহৃত রাসায়নিক অস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করার।

লন্ডন থেকে প্রকাশিত এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা ২০১৮ সালে ইংল্যান্ডে আত্মগোপনে থাকা সাবেক রুশ গুপ্তচরের ওপর হামলায় ব্যবহৃত 'নোভিচক' (ঘড়ারপযড়শ) স্নায়ুবিষ এবং ২০২৪ সালে সাইবেরিয়ায় রুশ বিরোধীদলীয় নেতা আলেক্সেই নাভালনিকে প্রাণঘাতীভাবে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত করতে ব্যবহৃত বলে ধারণা করা একটি রাসায়নিক পদার্থের উন্নয়নে জড়িত ছিলেন।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'নতুন এ পদক্ষেপের মাধ্যমে বিষাক্ত রাসায়নিকের উন্নয়ন ও উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত দুটি শীর্ষস্থানীয় বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।'

২০১৮ সালের মার্চে, ইংল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর স্যালিসবারিতে সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল এবং তার মেয়েকে 'নোভিচক' স্নায়ুবিষ প্রয়োগ করে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত করার অভিযোগ রুশ গোয়েন্দা এজেন্টদের বিরুদ্ধে আনা হয়।

এই হামলাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে রাসায়নিক অস্ত্রের প্রথম আক্রমণাত্মক ব্যবহার হিসেবে দেখা হয়, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এর ফলস্বরূপ পশ্চিমা দেশগুলো সম্মিলিতভাবে বিপুলসংখ্যক রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে।

স্ক্রিপাল এবং তার মেয়ে প্রাণে বেঁচে গেলেও এরপর এক ব্রিটিশ নারী মারা যান। ধারণা করা হয়, ওই নারী নোভিচক বহনে ব্যবহৃত একটি ফেলে দেওয়া সুগন্ধির বোতল কুড়িয়ে পাওয়ার পর বিষের সংস্পর্শে এসেছিলেন।

আলেক্সেই নাভালনি, দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের নেতা, রুশ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে লাখো মানুষকে রাজপথে নামতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সবচেয়ে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে দীর্ঘদিন পরিচিত ছিলেন।

১৯ বছরের কারাদণ্ড ভোগরত অবস্থায়, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্কটিক অঞ্চলের একটি কারা উপনিবেশে তার মৃত্যু ঘটে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেন, 'বারবার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার আন্তর্জাতিক আইনের জঘন্য লঙ্ঘন এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার প্রতি সরাসরি হুমকি।'

নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি হলো রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসসি সিগন্যাল এবং অন্যটি দেশটির সায়েন্টিফিক রিসার্চ অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট ফর মিলিটারি মেডিসিন (জিএনআইআইআই ভিএম)।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ওই দুই গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং কারিগরি বিশেষজ্ঞরাও রয়েছেন।

মঙ্গলবার তুরস্কের আঙ্কারায় শুরু হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়া হলো। সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধ অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে যাচ্ছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে মস্কোর যুদ্ধকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত তিন হাজার ৪০০-এর বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশের ছদ্মবেশে বাংলাদেশি প্রবাসীকে অপহরণ ও ডাকাতি, মালয়েশিয়ায় গ্রেফতার ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৮ পি.এম


পুলিশের ছদ্মবেশে বাংলাদেশি প্রবাসীকে অপহরণ ও ডাকাতি, মালয়েশিয়ায় গ্রেফতার ৩

মালয়েশিয়ায় একটি পুলিশি ছদ্মবেশে এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে অপহরণ ও ডাকাতির অভিযোগে ৩ জন স্থানীয় নাগরিককে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। সোমবার (৬ জুলাই) পেরাক রাজ্যের পুলিশ প্রধান দাতুক মোহদ আলউই জয়নাল আবিদিন এক সংবাদ বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজ্যের মানজুং জেলার পান্তাই রেমিস এলাকায় ৪৫ বছর বয়সি ওই বাংলাদেশি ডাকাতির শিকার হন।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার দিন দুই ব্যক্তি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ওই প্রবাসীকে জোরপূর্বক একটি নিসান এক্স-টেইল এসইউভিতে তুলে হাতকড়া পরিয়ে দেয় এবং তার কাছে থাকা ৮ হাজার রিঙ্গিত ছিনিয়ে নেয়। পরে, গাড়িটি পান্তাই রেমিস থানার দিকে না গিয়ে অন্য রাস্তায় যেতে শুরু করলে ভুক্তভোগীর মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। একপর্যায়ে, জীবন বাঁচাতে চলন্ত গাড়ির স্টিয়ারিং হুইল ঘুরিয়ে দেন ওই প্রবাসী, যার ফলস্বরূপ গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লুমুতের সেগারি এলাকার ১২ নম্বর মাইলে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে।

এরপর, দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি থেকে নামার পর ডাকাতরা একটি মোটরসাইকেল থামিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

এই ঘটনাটি পর ভুক্তভোগী প্রবাসী রাতে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে মানজুং জেলা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগসহ পান্তাই রেমিস ও সেগারি থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান শুরু করে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চাংকাট ক্রুইং এলাকা থেকে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে অপরাধের জন্য ব্যবহৃত গাড়ি, মোবাইল ফোন, এটিএম কার্ড, নগদ টাকা, হাতকড়া এবং একটি 'সহকারী পুলিশ' পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন ডাকাতিতে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। আদালত আসামিদের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে এবং পুলিশ পরবর্তী তদন্তের মাধ্যমে তারা অন্য কোনো এলাকায় একই ধরনের অপরাধ করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আফগানিস্তানের উন্নয়নে নারী-পুরুষ সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন: জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৯ পি.এম


আফগানিস্তানের উন্নয়নে নারী-পুরুষ সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন: জাতিসংঘ

ভয়াবহ মানবিক সংকট মোকাবিলা করতে এবং বিপুলসংখ্যক প্রত্যাবাসিত মানুষের পুনর্বাসনে আফগানিস্তানের নারী ও পুরুষ উভয়ের মেধা ও সক্ষমতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের দুই জ্যেষ্ণ কর্মকর্তা।

আফগানিস্তানের নাহর-ই-শাহি থেকে এএফপি জানায়, তারা সোমবার বলেন, দেশে এখনকার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমাজের সব সক্ষমতাকে কাজে লাগানো ছাড়া বিকল্প আর নেই।

২০২১ সালে তালেবান কাবুলে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে নারীদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা এবং অবসর-সংক্রান্ত নানা কর্মকাণ্ডের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে, ফলে তাদের জনজীবনের বহু ক্ষেত্র থেকে কার্যত বাদ দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রধান আলেকজান্ডার ডি ক্রো বলেন, ‘সব মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। আমাদের হাতে থাকা সব ধরনের প্রতিভাকে কাজে লাগাতে হবে। এর মধ্যে যেমন পুরুষদের মেধা রয়েছে, তেমনি নারীদের মেধাও রয়েছে।’

উত্তর আফগানিস্তানের নাহর-ই-শাহিতে সম্প্রতি দেশে ফেরা নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া একটি কার্পেট বয়নকেন্দ্র পরিদর্শনের সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পাকিস্তান ও ইরান অভিবাসননীতি কঠোর করার পর এ পর্যন্ত ৬০ লাখেরও বেশি আফগান নিজ দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

দীর্ঘ কয়েক দশকের যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রত্যাবর্তনের কারণে আবাসন, কর্মসংস্থান এবং স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

ডি ক্রো আফগান কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মেয়ে ও নারীদের জন্য শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

তালেবান সরকার নারীদের ওপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষার পর পড়াশোনার সুযোগ বন্ধ করা, বিভিন্ন পেশায় কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং পার্কে প্রবেশের ওপর বাধা।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তালেবান সরকার জাতিসংঘের দপ্তরগুলোতেও নারীদের কাজ করা নিষিদ্ধ করেছে। জাতিসংঘ এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে আসছে।

আফগানিস্তান সফররত জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ এএফপিকে বলেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি আফগানিস্তানের মানুষের জন্য আমাদের সেবা পৌঁছানোর সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে।’

তিনি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কাবুলে তালেবান কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন, যেখানে জাতিসংঘের নারী কর্মীদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানাবেন।

সালিহ বলেন, ‘আফগানিস্তান আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্য। তবে আমাদের কার্যকরভাবে সহায়তা করতে হলে সহযোগিতা ও সমন্বয় প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ সমাজের সম্ভাবনাকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। আর এর জন্য নারী-পুরুষ, ছেলে-মেয়ে সবারই দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অবদান রাখার সুযোগ থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, নারী ও মেয়েদের অংশগ্রহণ ছাড়া আফগানিস্তানের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

এদিকে, গত এপ্রিল মাসে প্রকাশিত জাতিসংঘের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর বিধিনিষেধের কারণে আফগানিস্তানের প্রতি বছর অন্তত ৮ কোটি ৪০ লাখ (৮৪ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%