০৭:৫৩ পি.এম
রাজধানীর বেঙ্গল শিল্পালয়ে ‘সহাবস্থানের স্থাপত্য: বঙ্গীয় বদ্বীপে জনপরিসরের স্থানিক আখ্যান’ শীর্ষক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল।
আজ রবিবার (২৮ জুন) প্রদর্শনীটি শুরু হয়েছে, যা আগামী ২৫ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
শিল্প ও স্থাপত্যের সমন্বয়ে আয়োজিত এ আন্ত বিষয়ক প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে, কীভাবে নারীবাদী নৈতিকতা, জলবায়ু-সংবেদনশীল পরিকল্পনা এবং জনসম্পৃক্ততা বঙ্গীয় বদ্বীপে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক জনপরিসর গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারে।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহ যাকে চান ক্ষমতা দেন, আবার কেড়েও নেন’ - ড. খালিদ হোসেন
প্রদর্শনীতে স্থানীয় উপকরণ, কারুশিল্পের ঐতিহ্য এবং পরিবেশ-সংবেদনশীলতাকে গুরুত্ব দিয়ে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপত্যকর্ম স্থান পেয়েছে। এর মাধ্যমে স্থাপত্যকর্মের সঙ্গে মানুষ, স্থান ও প্রকৃতির পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়গুলো নতুনভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড (ওয়াও) বাংলাদেশ গ্র্যান্টস প্রোগ্রামের সহায়তায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্থপতি সাইকা ইকবাল মেঘনা ও শুভ্র শোভন চৌধুরী।
প্রদর্শনীটির কিউরেটরিয়াল দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী এবং খ্যাতিমান শিল্পী ও কলা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ওয়াকিলুর রহমান।
প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। উদ্যোগটির প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘জনপরিসর, নগর পরিকল্পনা ও স্থাপত্যকে বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে। ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোর মাস্টার প্ল্যানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিএনপি দিল্লির মাধ্যমে আ.লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার
পর্যায়ক্রমে এ পরিকল্পনা জেলা ও উপজেলা শহরেও সম্প্রসারণ করা হবে। প্রতিটি সরকারি প্রকল্পে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এবং তাদের যথাযথ অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। শহরকে বৃষ্টি, পানি ও জলবায়ুর বাস্তবতার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে, এগুলোকে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখলে চলবে না।’
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ও ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জেমস গোল্ডম্যান বলেন, ‘সহাবস্থানের স্থাপত্য প্রদর্শনীতে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি আনন্দিত। শিল্প, স্থাপত্য ও উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয়ে আয়োজিত এই প্রদর্শনী বঙ্গীয় বদ্বীপে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল জনপরিসর গড়ে তোলার নতুন ভাবনা তুলে ধরেছে।
ব্রিটিশ কাউন্সিলের উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড (ওয়াও) কর্মসূচি এ ধরনের উদ্যোগকে সবসময় সমর্থন করে আসছে যা যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাওয়া খাতগুলোর মধ্যে একটি। পাশাপাশি, এটি বাংলাদেশে জলবায়ু-সংবেদনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার ব্রিটিশ কাউন্সিলের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ।
ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস বলেন, ‘এই প্রকল্পের অংশ হতে পেরে আমরা আনন্দিত। সৃজনশীল অর্থনীতি, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা এ উদ্যোগের লক্ষ্য। শিল্পক্ষেত্রে এই দিকগুলোকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে ব্রিটিশ কাউন্সিল। বিশেষ করে নকশা, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে সমাজকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে এবং বিভিন্ন মত ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটতে হবে।’
আরও পড়ুন: জামায়াত মানুষকে যে পথ দেখাতে চায়, সেটা দাজ্জালের জান্নাত: রাশেদ খাঁন
তিনি আরো বলেন, শিল্প ও স্থাপত্য কে কাজে লাগিয়ে কীভাবে সবার জন্য অভিন্ন জনপরিসর তৈরি করা যায় তা নিয়ে নতুনভাবে সবাইকে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করবে এ প্রদর্শনী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তব্য দেন স্থপতি, শিক্ষাবিদ এবং বেঙ্গল ইনস্টিটিউট ফর আর্কিটেকচার, ল্যান্ডস্কেপস অ্যান্ড সেটেলমেন্টসের মহাপরিচালক অধ্যাপক কাজী খালিদ আশরাফ। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এই ইনস্টলেশনটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর নির্মাণ–প্রক্রিয়া। এটি একটি সম্মিলিত প্রক্রিয়া। স্থাপত্যও মূলত সম্মিলিতভাবে গড়ে ওঠে। পোড়ামাটির টালি থেকে শুরু করে স্থানীয় উপকরণ, কারুশিল্প এবং এটি নির্মাণে যুক্ত মানুষের অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে এটি উপকরণ ও নির্মাণশৈলী নিয়ে এক ধরনের অনুসন্ধান। একই সঙ্গে এটি বর্ষা, বদ্বীপ ও জনপরিসরের মধ্যে একটি নতুন সংলাপের সূচনা করে। স্থাপনা, ভূদৃশ্য ও মানুষের মধ্যে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলারও সুযোগ তৈরি করে।’
শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে লিঙ্গসমতা এগিয়ে নেওয়া এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ব্রিটিশ কাউন্সিলের চলমান অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন এ উদ্যোগ। একই সঙ্গে এটি নারী-নেতৃত্বাধীন সৃজনশীল উদ্যোগ এবং বিভিন্ন শাখার মধ্যে সহযোগিতাকে উৎসাহিত করে। আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সমাজ গড়ে তোলা এবং সৃজনশীল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার বৃহত্তর প্রচেষ্টারও অংশ এ আয়োজন।
আরও পড়ুন: সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন