ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাল্যবিয়ে পড়ানোর অভিযোগে কাজীকে শাস্তি


বাল্যবিয়ে পড়ানোর অভিযোগে কাজীকে শাস্তি

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ১৬ বছর বয়সী একটি কিশোরীর বাল্যবিয়ে পড়ানোর প্রস্তুতির কারণে এক নিকাহ রেজিস্ট্রারকে (কাজী) কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত এই সাজা প্রদান করে এবং একইসঙ্গে বাল্যবিবাহটি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাকী এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, মঙ্গলবার বিকেলের দিকে মোক্তারেরচর ইউনিয়নের নয়ন মাদবরকান্দী গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে পুলিশ এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: রাজশাহী নগরীতে চোরাই ল্যাপটপ ও একডজন মোবাইল ফোন সহ গ্রেফতার ২

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে ৩৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিয়ের আয়োজন চলছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাচাই-বাচাই করে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিয়ের সত্যতা পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিয়েটি বন্ধ করে দেন। এসময় উপস্থিত নিকাহ রেজিস্ট্রার মাওলানা মো. জাকির হোসেন বাল্যবিবাহ সম্পাদনের প্রস্তুতির মধ্যে ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ঘোষণার পাশাপাশি ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। সেইসঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে বাল্যবিবাহের প্রস্তুতির প্রমাণ হিসেবে একটি খসড়া রেজিস্ট্রার খাতা জব্দ করা হয়। এই ঘটনায় বর, তার বাবা-মা এবং বিয়ের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় একজন ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান মন্তব্য করেন, বাল্যবিবাহ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। এই ধরনের ঘটনাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

প্রশাসনের এই ধরনের কার্যক্রমে স্থানীয় সচেতন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাদের মনে হচ্ছে, বাল্যবিবাহ বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রাখলে এই ধরনের অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে মাদক কারবারি সহ গ্রেপ্তার ৩৩

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচকে কেন্দ্র করে টিএসসিতে ফুটবল উৎসব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৩ এম


আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচকে কেন্দ্র করে টিএসসিতে ফুটবল উৎসব

ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) ভোর থেকেই হাজারো ফুটবলপ্রেমী টিএসসি চত্বরে জড়ো হন প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করার জন্য। আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সরব উপস্থিতিতে পুরো এলাকা যেন পরিণত হয় এক টুকরো ফুটবল স্টেডিয়ামে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আকাশী-সাদা জার্সি গায়ে, হাতে আর্জেন্টিনার পতাকা ও বিভিন্ন ব্যানার নিয়ে ভোর থেকেই টিএসিতে অবস্থান নিয়েছেন সমর্থকরা। বাঁশি, ঢোল ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের শব্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সমর্থকদের স্লোগান ও উচ্ছ্বাসে ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হতে থাকে বিশ্বকাপের আবহ।

সমর্থকদের অনেকেই জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার খেলা একসঙ্গে বড় পর্দায় উপভোগ করতে তারা রাত থেকেই টিএসসিতে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা হল অধিনায়ক লিওনেল মেসির নেতৃত্বে জয় দিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে।

অন্যদিকে, টিএসসিতে উপস্থিত ছিলেন ব্রাজিলের সমর্থকরাও। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তারা আলজেরিয়ার প্রতি সমর্থন জানান। এ নিয়ে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে হাস্যরসপূর্ণ তর্ক-বিতর্ক ও খোঁচাখুঁচি দেখা গেলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

সামগ্রিকভাবে পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ। তবে সমর্থকদের উপস্থিতির দিক থেকে আর্জেন্টিনার ভক্তরাই ছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠ। টিএসসি চত্বরে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে আকাশী-সাদা জার্সির সমারোহ।

বিশ্বকাপের উন্মাদনায় ভোর থেকেই টিএসসিতে যে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে, তা আবারও প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশে ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি কোটি মানুষের আবেগ, ভালোবাসা ও উৎসবের নাম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসির গোলে উচ্ছ্বাসে ভাসলেন অভিনেত্রী কেয়া পায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৪ এম


মেসির গোলে উচ্ছ্বাসে ভাসলেন অভিনেত্রী কেয়া পায়েল

২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি। নিজের প্রথম ম্যাচে দুটো গোল করে তিনি দলের পক্ষে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর তার ভক্তরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েলও সেই তালিকায় রয়েছেন।

মেসির অসাধারণ নৈপুণ্যে মুগ্ধ হয়ে কেয়া পায়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একাধিক পোস্ট করে ফেলেছেন। প্রথমত, তিনি মেসির একটি ছবি শেয়ার করে মন্তব্য করেন, “মেসিইইইই, মেসিইইইই, লিও মেসিইইইইইইই সব সময়ই সে। আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম গোলটি করলেন মেসি, কী দারুণ গোল!”

এরপর আরও একটি উচ্ছ্বাসভরা বার্তায় কেয়া পায়েল লেখেন, “দুই গোল, একজনই সেরা। পুরো ম্যাচে একচ্ছত্র আধিপত্য। যদি এই মানুষটি নিজের সেরা ছন্দে থাকেন, তাহলে তাকে থামানোর কোনো উপায় নেই।”

বিশ্বকাপ নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও নিজেদের প্রিয় দল ও খেলোয়াড়কে সমর্থন জানাচ্ছেন। মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে কেয়া পায়েলের এমন উচ্ছ্বাস ভক্তদের কাছেও নজর কাড়ছে।

কর্মজীবনে ছোট পর্দার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটালেও ফুটবলের প্রতি কেয়া পায়েলের ভালোবাসা নতুন নয়। বিশ্বকাপের শুরুতেই মেসির ঝলমলে পারফরম্যান্সে তিনি আনন্দে ভাসছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩০০ বিলিয়ন ডলারের ফান্ড নয়, ইরানে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ দেবে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৫ এম


৩০০ বিলিয়ন ডলারের ফান্ড নয়, ইরানে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ দেবে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার সরাসরি দিচ্ছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করেছেন, এটি ভুল ব্যাখ্যা। তিনি জানিয়েছেন, এটি কোনো অনুদান, ক্ষতিপূরণ বা সরকারি সহায়তা নয়। বরং এটি শর্তের ভিত্তিতে ইরানে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে, যা দেশটির অর্থনীতিতে অর্থ প্রবাহ বাড়াতে সহায়তা করবে।

রবিবার, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, চলমান যুদ্ধ বন্ধে তারা একটি প্রাথমিক কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছেছেন। এই সমঝোতার অংশ হিসেবে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্ভাব্য বিনিয়োগ তহবিল নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এই তহবিল সম্পূর্ণ বেসরকারি বিনিয়োগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে—এতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো অর্থ বা অনুদান অন্তর্ভুক্ত থাকবে না।

জেডি ভ্যান্স এক সাক্ষাৎকারে উদাহরণ দিয়ে বলেন, যদি সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ করতে চায়, তাহলে বর্তমান নিষেধাজ্ঞার কারণে তা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, যদি ইরান চুক্তির শর্ত মেনে চলে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সেই নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করতে পারে, যার ফলে অন্যান্য দেশগুলো সেখানে বিনিয়োগ করতে সক্ষম হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, "আমরা ইরানকে টাকা দিচ্ছি না। আমরা শুধু বলছি, তারা আচরণ পরিবর্তন করলে অন্য দেশগুলোকে সেখানে বিনিয়োগ করতে দেব, যাতে দেশটি উন্নতি করতে পারে।"

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই ৩০০ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবিত তহবিল ইতোমধ্যে আংশিকভাবে প্রতিশ্রুত হয়েছে। বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল—যেমন যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় দেশগুলো, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকার কোম্পানিগুলো ইরানে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এই বিনিয়োগ মূলত জ্বালানি, পরিবহন, উৎপাদন শিল্প, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং যুদ্ধক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যবহার হবে। এর মধ্যে মোবারাকেহ স্টিল কমপ্লেক্স, তেল শোধনাগার, বিমানবন্দর সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এই তহবিলের মূল লক্ষ্য হলো উভয় পক্ষকে একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে উৎসাহিত করা। কিন্তু চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত এই তহবিল গঠন বা কার্যক্রম শুরু হবে না। একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ৬০ দিনের মধ্যে প্রকল্পগুলো চিহ্নিত ও পরিকল্পনা করা হবে।

এদিকে জানা গেছে, ইরান শুরুতে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪০০ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অর্থ দিতে রাজি হয়নি। ফলে এই বেসরকারি বিনিয়োগভিত্তিক কাঠামোকে বিকল্প সমাধান হিসেবে উত্থাপন করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য হলো, দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। কিন্তু দেশের মধ্যে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ এবং চতুর্থ বৃহৎ তেল ভান্ডার রয়েছে। এর পাশাপাশি ৯ কোটির বেশি শিক্ষিত জনগণের সঙ্গে বিপুল শিল্প সম্ভাবনা থাকার কারণে, বিদেশি বিনিয়োগ আসলে দেশটির অর্থনীতিতে বৃহৎ পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঈগল পরিবহন: আবারও কি ফিরবে দক্ষিণাঞ্চলের সড়কপথের সেই স্বর্ণালী রাজত্ব?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাছুদুর রহমান আসলাম

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৮ এম


ঈগল পরিবহন: আবারও কি ফিরবে দক্ষিণাঞ্চলের সড়কপথের সেই স্বর্ণালী রাজত্ব?

একসময় ঢাকা-বরিশাল-ঝালকাঠিসহ দক্ষিণাঞ্চলের সড়কপথে যাত্রীসেবার অন্যতম নির্ভরতার নাম ছিল ঈগল পরিবহন। আরামদায়ক যাত্রা, সময়নিষ্ঠ সেবা এবং নিয়মিত ট্রিপ পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলের পরিবহন খাতে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিল। বিশেষ করে বরিশাল অঞ্চলের যাত্রীদের কাছে ঈগল পরিবহন ছিল আস্থার আরেক নাম।

দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের আগেও এবং পরবর্তীতেও ঢাকা-বরিশাল রুটে যাত্রী পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ঈগল পরিবহনের বাস ব্যবহার করতেন। ফলে পরিবহন খাতে একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।

তবে সময়ের পরিক্রমায় ঈগল পরিবহনের সেই সুনাম ধীরে ধীরে ম্লান হতে শুরু করে। যাত্রীদের অভিযোগ ছিল, শেষদিকে সার্ভিসের মান আগের মতো থাকেনি। অনিয়মিত ট্রিপ পরিচালনা, বাসের রক্ষণাবেক্ষণে ঘাটতি, যাত্রীসেবার মান কমে যাওয়া এবং ব্যবস্থাপনার নানা দুর্বলতা প্রতিষ্ঠানটির প্রতি যাত্রীদের আস্থাকে নড়বড়ে করে তোলে।

একাধিক সূত্রের মতে, এসব সমস্যার কারণে ধীরে ধীরে যাত্রীরা বিকল্প পরিবহনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। একই সময়ে নতুন নতুন পরিবহন কোম্পানি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বাজারে প্রবেশ করায় প্রতিযোগিতাও বেড়ে যায়। ফলে একসময় দক্ষিণাঞ্চলের সড়কপথে দাপটের সঙ্গে চলা ঈগল পরিবহন ক্রমশ পিছিয়ে পড়ে।

পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে ঘটতে এক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন সড়কে ঈগল পরিবহনের বাস না দেখায় অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো এই পরিবহন আর কখনও ফিরে আসবে না।

কিন্তু দীর্ঘ কয়েক বছর বিরতির পর নতুন পরিকল্পনা, নতুন ব্যবস্থাপনা এবং নতুন উদ্যম নিয়ে আবারও যাত্রীসেবায় ফিরেছে ঈগল পরিবহন। ইতোমধ্যে তাদের কয়েকটি বাস দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে চলাচল শুরু করেছে বলে জানা গেছে। আর এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে যাত্রীদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নতুন করে আগ্রহ ও প্রত্যাশা।

অনেক যাত্রীর মতে, দক্ষিণাঞ্চলের পরিবহন খাতে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করতে ঈগল পরিবহনের ফিরে আসা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু নাম কিংবা অতীতের সুনাম নয়, বর্তমান সময়ের চাহিদা অনুযায়ী উন্নত সেবা, সময়নিষ্ঠতা, নিরাপদ যাত্রা এবং যাত্রীবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করাই হবে প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিমত, বর্তমানে যাত্রীদের প্রত্যাশা আগের তুলনায় অনেক বেশি। আধুনিক ও আরামদায়ক বাস, দক্ষ চালক, নিরাপদ যাত্রা, ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থা এবং উন্নত গ্রাহকসেবা ছাড়া বাজারে টিকে থাকা কঠিন। তাই ঈগল পরিবহনকে পুরনো সুনাম ফিরিয়ে আনতে হলে এসব বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের এখন একটাই প্রশ্ন—ঈগল পরিবহন কি আবারও আগের সেই জনপ্রিয়তা ও আস্থা ফিরে পাবে? নাকি এটি শুধুই একটি প্রত্যাবর্তনের গল্প হয়ে থাকবে?

সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে সময়ের হাত ধরেই। তবে দীর্ঘ বিরতির পর দক্ষিণাঞ্চলের সড়কপথে ঈগল পরিবহনের প্রত্যাবর্তন যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এখন নজর থাকবে তাদের সেবার মান, ধারাবাহিকতা এবং যাত্রীদের প্রত্যাশা পূরণের সক্ষমতার দিকে।

ঈগল পরিবহনের নতুন যাত্রা কতটা সফল হবে, সেটিই এখন দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের সবচেয়ে বড় কৌতূহলের বিষয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%