ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

পুঁজিবাজারে আইপিও খরা কাটানোর লক্ষ্যে ছয় কোম্পানির আবেদন


পুঁজিবাজারে আইপিও খরা কাটানোর লক্ষ্যে ছয় কোম্পানির আবেদন

দেশের পুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) বড় ধরনের খরা চলছে। দেশের পুঁজিবাজারে আইপিও আবেদন ও অনুমোদনের ঘটনা দীর্ঘ আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে ঘটেনি। অবশেষে ছয়টি কোম্পানি ৬১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা সংগ্রহের জন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) আইপিও আবেদন জমা দিয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি কোম্পানি ফিক্সড প্রাইস মেথডে এবং একটি কোম্পানি বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে অর্থ সংগ্রহ করতে চায়।

ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে আবেদনকারী কোম্পানিগুলো হলো অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স, ডিজিকন টেকনোলজিস, প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পার্কওয়ে প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং এবং স্ক্যানডেক্স (বিডি) লিমিটেড। অন্যদিকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহের আবেদন করেছে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি।

যাচাই-বাছাই শেষে বিএসইসির অনুমোদন পাওয়া গেলে কোম্পানিগুলো আইপিওর মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে। এর ফলে দীর্ঘ আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে চলা আইপিও খরার অবসান ঘটবে।

আরও পড়ুন: নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা, ভরি কত?

ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী "আমার দেশ"কে জানালে, পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির অভাব দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাজারে গতি ফিরিয়ে আনতে এবং নতুন বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট করতে অত্যন্ত জরুরি। অতীতে অনেক নামসর্বস্ব কোম্পানিকে বাজারে নিয়ে আসা হয়েছে, যার ফলে বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনা করে নতুন কমিশন আইপিও অনুমোদন দেবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে বিএসইসি সর্বশেষ টেকনো ড্রাগস নামে একটি কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেয়। এরপর আর কোনো কোম্পানির আইপিও অনুমোদন হয়নি। মার্চ মাসে আইপিও অনুমোদনের পর জুলাই মাসে পুঁজিবাজারে টেকনো ড্রাগসের লেনদেন শুরু হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে খন্দকার রাশেদ মাকসুদ কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি আইপিও বিধিমালাসহ বেশকিছু বিধিমালা নতুন করে প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। শেখ হাসিনার শাসনামলে দুর্বল, লোকসানি ও নামসর্বস্ব অনেক কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়, যার অধিকাংশ এখন বড় ধরনের লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। মাকসুদ কমিশন বাজারে এ ধরনের কোম্পানির তালিকাভুক্তির বিষয়ে খুবই সতর্ক ছিল। এ কারণে বেশকিছু কোম্পানির আবেদন থাকলেও কোনো আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়নি। নতুন বিধিমালা কার্যকর না হওয়ার কারণে আইপিও আবেদনে কোনো সাড়া মেলেনি।

গত জুন মাসে রাশেদ মাকসুদসহ কমিশনের সদস্যরা পদত্যাগ করার পর সরকার করপোরেট ব্যক্তিত্ব মাসুদ খানকে কমিশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়। চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাওয়ার পর মাসুদ খান আইপিও বিধিমালা সংশোধনের কথা জানান। ইতোমধ্যে বিধিমালার খসড়া জনমত যাচাইয়ের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। এর মধ্যে ছয়টি কোম্পানির আইপিও আবেদন বিএসইসিতে জমা পড়েছে। বিদ্যমান বিধিমালা, অর্থাৎ আইপিও বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী এসব আবেদন জমা পড়েছে বিএসইসিতে।

আরও পড়ুন: বাইন্যান্সে ৬৩০ কোটি ডলার ক্রিপ্টো চুরি, বীমা কোম্পানির নজরদারি বৃদ্ধি

সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স ২৫ কোটি, ডিজিকন টেকনোলজিস ৩০ কোটি এবং প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায়। তিনটি প্রতিষ্ঠানই অভিহিত মূল্য ১০ টাকা দরে শেয়ার ছাড়ার প্রস্তাব করেছে।

অন্যদিকে পার্কওয়ে প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের সঙ্গে পাঁচ টাকা প্রিমিয়াম যুক্ত করে ১৫ টাকা দরে মোট ৪৫ কোটি টাকা সংগ্রহের আবেদন করেছে। স্ক্যানডেক্স (বিডি) লিমিটেড শেয়ারপ্রতি ২০ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৩০ টাকা দরে শেয়ার ছাড়তে চায়। কোম্পানিটি প্রায় ৯৮ কোটি টাকা সংগ্রহের প্রস্তাব দিয়েছে। অর্থাৎ দুটি কোম্পানির প্রস্তাবিত ইস্যু মূল্যের মধ্যে যথাক্রমে পাঁচ ও ২০ টাকা প্রিমিয়াম রয়েছে।

অন্যদিকে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহের আবেদন করেছে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি।

কোম্পানিটির প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, উত্তোলিত ৪০০ কোটি টাকার মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিডসংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে। এছাড়া ৯০ কোটি টাকা ব্যাংকঋণ পরিশোধে এবং বাকি ১০ কোটি টাকা আইপিও-সংক্রান্ত ব্যয়ে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির উদ্যোক্তা বাছাই শুরু হচ্ছে কাল

এছাড়া স্ক্যানডেক্স তাদের সংগৃহীত অর্থ দিয়ে টেক্সটাইল ও রিসাইকেল্ড ফাইবার স্পিনিং প্রকল্প স্থাপন এবং ব্যাংকঋণ পরিশোধ করতে চায়। পার্কওয়ে প্যাকেজিং কারখানার যন্ত্রপাতি ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ঋণ পরিশোধে অর্থ ব্যয় করবে। ডিজিকন টেকনোলজিস বিপিও ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো সম্প্রসারণে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।

অন্যদিকে অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স ও প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স আইপিওর অর্থের বড় অংশ সরকারি ট্রেজারি বন্ড ও অনুমোদিত আর্থিক খাতে বিনিয়োগ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিয়ত যেভাবে বদলে দেয় নেক আমলের প্রতিদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৪ এম


নিয়ত যেভাবে বদলে দেয় নেক আমলের প্রতিদান

মানুষ প্রতিদিন অসংখ্য কাজ সম্পন্ন করে। ঘুম থেকে ওঠা, জীবিকা উপার্জন, পরিবারের ভরণপোষণ, মানুষের সঙ্গে সদাচরণ, অসুস্থদের সেবা অথবা কাউকে সামান্য সহযোগিতা করা—এসবই আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তবে, একই কাজের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অগণিত সওয়াব অর্জন করতে সক্ষম হন, আবার অন্য একজন সেই কাজ করেও আল্লাহর কাছে কোনো প্রতিদান নাও পেতে পারেন। পার্থক্যটি কোথায়? পার্থক্য হলো নিয়ত, উদ্দেশ্য এবং কাজটি করার পেছনে থাকা আন্তরিকতা।

১. নিয়তই আমলের প্রাণ ও প্রতিদানের ভিত্তি : ইসলামে কোনো কাজের বাহ্যিক রূপের পাশাপাশি তার অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একটি কাজের আকার, সৌন্দর্য কিংবা কত মানুষের উপকারে এসেছে, এসবের পাশাপাশি কেন কাজটি করা হয়েছে, সেটিও আল্লাহর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, "নিশ্চয়ই সব কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে, যা সে নিয়ত করেছে।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১)

২. একটি আমলেই মিলতে পারে বহুগুণ প্রতিদান : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা নেকি ও পাপের বিষয়টি লিখে দিয়েছেন। অতঃপর তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, কেউ কোনো নেক কাজের ইচ্ছা করলেও তা করতে না পারলে আল্লাহ তার জন্য একটি পূর্ণ নেকি লিখে দেন। আর কাজটি করার পর তার জন্য দশ থেকে সাত শ গুণ, এমনকি আরো বেশি নেকি লিখে দেন। পক্ষান্তরে, কেউ পাপের ইচ্ছা করলেও তা না করলে তার জন্য একটি পূর্ণ নেকি লেখা হয়। আর পাপটি করে ফেললে একটি পাপই লেখা হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৯১)

৩. অসুস্থতা ও সফরেও আমলের প্রতিদান অব্যাহত থাকে : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, "যখন কোনো বান্দা অসুস্থ হয় অথবা সফরে থাকে, তখন তার জন্য সেই পরিমাণ আমল লেখা হয়, যতটুকু সে সুস্থ ও নিজ আবাসে অবস্থানকালে করত।" (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৯৯৬)

৪. জীবনের প্রতিটি কাজ ইবাদতে পরিণত হতে পারে : মানুষের সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর ইবাদত করা। তবে ইবাদত বলতে শুধু নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতের মতো আনুষ্ঠানিক ইবাদতকে বোঝায় না। বরং একজন মুমিনের পুরো জীবনই ইবাদতে পরিণত হতে পারে, যদি তার কথা, কাজ ও আচরণের উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা হয় এবং তা শরিয়তের সীমার মধ্যে থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন, "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।" (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ৫৬)

৫. ঘুম ও বিশ্রামও হতে পারে সওয়াবের মাধ্যম : অনেকেই মনে করেন, সওয়াব অর্জন করতে হলে সারাক্ষণ নামাজ, তিলাওয়াত, জিকির কিংবা অন্যান্য আনুষ্ঠানিক ইবাদতে ব্যস্ত থাকতে হবে। অথচ ইসলামের শিক্ষা আরো ব্যাপক। একজন মুমিন তার দৈনন্দিন অভ্যাস ও বৈধ কাজগুলোকেও সওয়াবের মাধ্যম বানাতে পারেন। একইভাবে শরীরের ক্লান্তি দূর করার জন্য বিশ্রাম নেওয়া, সুস্থ থাকার জন্য খাবার গ্রহণ করা কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো—সবকিছুই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে হলে ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমাদের প্রত্যেকের প্রতিটি তাসবিহ সদকা, প্রতিটি তাকবির সদকা, প্রতিটি তাহমিদ সদকা এবং প্রতিটি তাহলিল সদকা।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০০৬)

৬. নিজের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া : আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায় হলো মানুষের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, আত্মত্যাগ ও সহযোগিতার মনোভাব পোষণ করা। বিশেষ করে নিজের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অন্যের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া অনেক বড় মহৎ গুণ। পবিত্র কোরআনে আনসার সাহাবিদের প্রশংসা করে আল্লাহ তাআলা বলেন, "তারা নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও নিজেদের ওপর অন্যদের অগ্রাধিকার দেয়।" (সুরা : হাশর, আয়াত : ৯)

৭. পরিবারের জন্য ব্যয় করাও সদকা : অনেকে মনে করেন, দান-সদকা বলতে শুধু মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা কিংবা অসহায় মানুষকে অর্থ প্রদান করাকেই বোঝায়। অথচ ইসলামে পরিবারের জন্য ব্যয় করাকেও সওয়াবের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, "কোনো ব্যক্তি সওয়াবের আশায় তার পরিবারের জন্য ব্যয় করলে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০০২)

৮. মানুষের প্রশংসা নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টিই হোক লক্ষ্য : সৎকাজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিপদগুলোর একটি হলো লোকদেখানো মনোভাব বা রিয়া। মানুষ যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির পরিবর্তে মানুষের প্রশংসা, বাহবা, সম্মান কিংবা খ্যাতি অর্জনের উদ্দেশ্যে ভালো কাজ করে, তখন সেই আমলের প্রকৃত উদ্দেশ্য নষ্ট হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, "হে মুমিনগণ! তোমরা দানের কথা প্রচার করে এবং কষ্ট দিয়ে তোমাদের দানকে সেই ব্যক্তির মতো নিষ্ফল করে দিয়ো না, যে লোকদেখানোর জন্য নিজের সম্পদ ব্যয় করে।" (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৬৪)

৯. সাহাবিদের জীবনেও ছিল প্রতিদান লাভের প্রত্যাশা : একজন মুমিনের উচিত, প্রতিদিনের কাজের মধ্যে সওয়াব অর্জনের সুযোগ খুঁজে নেওয়া। কাউকে সাহায্য করা, অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজ নেওয়া, পরিবারের দায়িত্ব পালন করা, মানুষের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করা কিংবা কাউকে ভালো কথা বলাও সওয়াবের মাধ্যম হতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, "কোনো ভালো কাজকে তুচ্ছ মনে করো না, যদিও তা তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা হয়।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬২৬)

১০. আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান কখনো নষ্ট করেন না : মানুষের জীবনে অনেক সময় এমন পরিস্থিতি আসে, যখন ভালো কাজ করার পরও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। কিন্তু একজন মুমিনের বিশ্বাস থাকা উচিত, মানুষের কাছে প্রতিদান না পেলেও আল্লাহর কাছে তার কোনো ভালো কাজ হারিয়ে যাবে না। কারণ, আল্লাহ কখনো সৎকর্মশীলদের প্রতিদান নষ্ট করেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন, "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কোনো কর্মশীলের কর্ম নষ্ট করি না, সে পুরুষ হোক কিংবা নারী।" (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯৫)

আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রতিটি কথা, কাজ ও আচরণকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করার এবং ইখলাসের সঙ্গে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাটিয়ানে পানি ধরে রাখতে নান্দিয়া খালে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৫ এম


মাটিয়ানে পানি ধরে রাখতে নান্দিয়া খালে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ

তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরের পানি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। এর ফলে এ বছর হাওরে আগাম ধান রোপণের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কৃষকদের উদ্বেগ, যদি মৌসুমের আগেই বোরো ধান রোপণ করা হয়, তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসলহানির ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং ধান উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। এই উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সদস্যরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গিয়েছিলেন।

কৃষকরা জানান, পূর্ববর্তী বছরগুলোতে ১৫ নভেম্বরের পর হাওরে বীজ ধান বপন করা হতো। কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। হাওরের পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় ১৫ নভেম্বরের মধ্যে উপজেলার সবকটি হাওরে বীজ ধান বপন সম্পন্ন হয়ে যাবে। রোপণ কাজও আগেই শুরু হবে। সময়ের আগে রোপণ করলে শীতের কুয়াশা, শিলাবৃষ্টি, আগাম পাহাড়ি ঢলসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

এই অবস্থায় মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটি উদ্যোগ গ্রহণ করে। কমিটির সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমস্যার কথা তুলে ধরেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সদস্যদের নিয়ে মাটিয়ান হাওরের নান্দিয়া খালটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর খালের মুখে বাঁধ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়।

পরিদর্শনের পর বাঁধ নির্মাণের জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে প্রয়োজনীয় জিও ব্যাগ বা বস্তা দিয়ে সহায়তা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তে হাওরের কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও মাটিয়ান হাওরের পাশের বড়দল গ্রামের বাসিন্দা সামায়ুন কবির বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তিনিসহ ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জুয়েল মিয়া, বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আশরাফুল ইসলামসহ তিনজনকে দায়িত্ব দিয়ে দেড় লাখ টাকা ও প্রয়োজনীয় জিও ব্যাগ নিয়ে শুক্রবার থেকে কাজ শুরু করেছেন। ৩৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের খালটিতে তারা দুই দিনে ৩০০টি বাঁশের খুঁটি গেড়েছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তারা কাজটি সম্পন্ন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, পুরো কাজটি সম্পন্ন করতে তাদের আরও অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা অর্থাৎ মোট দুই লাখ টাকা খরচ হবে। এই অতিরিক্ত অর্থের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। বাঁধটি সম্পন্ন হলে হাওরের পানি ধরে রাখা সম্ভব হবে এবং কৃষকরা সঠিক সময়ে ধান রোপণ করতে পারবেন।

মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাটিয়ান হাওরের নান্দিয়া বাঁধটি গত বছর জ্যৈষ্ঠ মাসে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ভেঙে ৩৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের খাল হয়ে যায়। এর ফলে হাওরের পানি দ্রুত কমে যাচ্ছে। যদি হাওরে আগাম ধান রোপণ করা হয়, তাহলে কৃষকরা ফসলহানির বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হতে পারেন।

কমিটির ওই নেতা জানান, হাওর উন্নয়ন কমিটির সদস্যরা তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরলে ইউএনও নান্দিয়া খালের মুখটি বেঁধে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ জন্য তিনি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ধন্যবাদ জানান।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বাঁধটি দ্রুত সম্পন্ন হলে এ বছর তারা নিরাপদে ও সঠিক সময়ে বোরো ধান চাষ করতে পারবেন। এতে ফসলহানির ঝুঁকি কমবে এবং উৎপাদন বাড়বে। হাওরের হাজারো কৃষক পরিবার এখন এই বাঁধের দিকে তাকিয়ে আছে।

এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপামনি দেবী বলেন, মাটিয়ান হাওরের পানি দ্রুত কমে যাচ্ছে। এ মৌসুমে হাওরের পানি ধরে রাখতে উপজেলা পরিষদ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে খালটি বেঁধে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইউএনও আরও বলেন, কৃষকদের স্বার্থে হাওরের পানি ধরে রাখা জরুরি। সঠিক সময়ে ধান রোপণ করা গেলে উৎপাদন ভালো হবে। প্রশাসন কৃষকদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও হাওর রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত ছাত্রী কমনরুম নেই, পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসন্তোষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৬ এম


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত ছাত্রী কমনরুম নেই, পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসন্তোষ

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) নারী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় কমনরুমের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ক্যাম্পাসে মোট তিনটি ছাত্রী কমনরুম রয়েছে, যা নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় একেবারেই অপ্রতুল। জায়গার অভাবের পাশাপাশি, কমনরুমগুলোর ভগ্নদশা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে শহীদ সাজিদ ভবন, বিজ্ঞান অনুষদ এবং সমাজকর্ম বিভাগে একটি করে মোট তিনটি ছাত্রী কমনরুম চালু রয়েছে। সমাজকর্ম বিভাগের কমনরুমটি এত ছোট যে, সেখানে একসঙ্গে ৫ থেকে ৬ জনের বেশি শিক্ষার্থী বসতে পারেন না। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর চাপ সামলানো এই ক্ষুদ্র কক্ষটির পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে উক্ত বিভাগের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সংকীর্ণ জায়গায় গাদাগাদি করে বসতে হয়। ওয়াশরুমের অবস্থা অপরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নয়। এমনকি কোনো শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসারও কোনো ব্যবস্থা এখানে নেই।"

অন্যদিকে, নতুন ভবনের নিচতলায় মাত্র একটি কমনরুম রয়েছে, যেখানে প্রায় চার হাজার নারী শিক্ষার্থী উপস্থিত। ওপরের তলাগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন নিচতলায় এসে কমনরুম ব্যবহার করা বেশ কষ্টসাধ্য। মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া জানান, "কমনরুমটি নিচতলায় অবস্থিত হওয়ায় অনেকেই সেখানে যাওয়ার সুযোগ পান না।" শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বিবেচনায় ঘরের আয়তন খুবই ছোট এবং নাগরিক সুবিধারও তীব্র অভাব রয়েছে।

বিজ্ঞান অনুষদের কমনরুমেও প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভেতরের লাইটগুলো ভাঙা, টয়লেটের পরিবেশ অত্যন্ত নাজুক এবং চারপাশে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজা বলেন, "শিক্ষার্থীর তুলনায় বসার জায়গা অপ্রতুল হওয়ায় গাদাগাদি করে বসতে হয়। সেই সঙ্গে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট রয়েছে এবং ওয়াশরুম ব্যবহারের উপযোগী নয়।"

এছাড়া, কলা অনুষদ ও ভাষা শহীদ রফিক ভবনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনে ছাত্রীদের জন্য কোনো কমনরুমের ব্যবস্থা নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. কে এ এম রিফাত হাসান বলেন, "আমাদের দপ্তরের অধীনে পর্যাপ্ত ক্লিনার বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় সরাসরি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ তদারকি করা কঠিন হয়ে পড়ে।" তিনি আরও বলেন, "পর্যাপ্ত অফিসিয়াল কর্মী না থাকায় অনুরোধের ভিত্তিতে অন্য কাজ শেষে সাময়িকভাবে পরিষ্কার করানোর চেষ্টা করা হয়।"

এ ছাড়া, ওয়াশরুমের ফিটিংস মেরামত বা মেইনটেন্যান্সের কাজগুলো ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরের ওপর নির্ভরশীল। এসব কাজের জন্য আমাদের দপ্তরের কোনো পৃথক জরুরি বাজেট নেই। তবে আমরা একটি জরুরি ‘রিভলভিং বা ক্যাশ বাজেট’ ব্যবস্থার প্রস্তাব জানিয়েছি, যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ছোটখাটো সংকটগুলোর সমাধান করা সম্ভব হয়।

কমনরুমের সংখ্যা বাড়ানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ক্যাম্পাসে সার্বিকভাবেই তীব্র জায়গার সংকট রয়েছে। অনেক জায়গায় নতুন ক্লাসরুমেরও স্থান সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে আপাতত নতুন কোনো ভবন বা স্থানে আলাদা কমনরুম বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পোল্যান্ডে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৬, হামলাকারীর বাড়িতে মিলল ৩ মৃতদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:০৬ এম


পোল্যান্ডে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৬, হামলাকারীর বাড়িতে মিলল ৩ মৃতদেহ

পোল্যান্ডের ক্রাকোভ শহরের প্রধান চত্বরে ২৪ বছর বয়সী এক পোলিশ বন্দুকধারীর এলোপাথাড়ি গুলিতে ছয়জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার ফলে পোল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) পোলিশ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার পর হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলাকারীর বাড়ি থেকে পরবর্তীতে আরো তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। কর্মকর্তাদের মতে, হামলাকারী উগ্র ডানপন্থী মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন।

এনডিটিভি জানায়, শনিবার বিকেল ৩টার দিকে সামরিক পোশাক পরা বন্দুকধারী একটি কালো গাড়ি থেকে নেমে ক্যাফে-রেস্তোরাঁয় ঘেরা চত্বরে উপস্থিত পর্যটক ও পথচারীদের লক্ষ্য করে এআর-১৫ সামরিক রাইফেল দিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো শুরু করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলির শব্দ ও পুলিশের সাইরেন শোনার সাথে সাথে চত্বরে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। অনেকেই নিরাপত্তার জন্য কাছের দোকান ও স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে আশ্রয় নেন। সংবাদ পাওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বন্দুকধারীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং তাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আরো বড় গণহত্যা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পোল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সিন কিয়েরউইনস্কি।

পুলিশ জানিয়েছে, ২৪ বছর বয়সী ওই অভিযুক্ত যুবকের বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ছিল। তার গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। তার বাড়িতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র থাকতে পারে এমন শঙ্কায় ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালানো হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে আশেপাশের অধিবাসীদের সরিয়ে সন্ত্রাস দমন সংস্থা অভিযান শুরু করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে হামলাকারী উগ্র ডানপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত ছিলেন। পোল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত করছে।

ঘটনার পর পোল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি ৮ ও ৯ নভেম্বর দুই দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছেন।

ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কাল্লাসসহ বিশ্বনেতারা এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%