সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:১৫ পি.এম
ইস্তাম্বুল, তুরস্ক, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের দিকে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক বাসস’কে জানিয়েছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং অন্যান্য সফরসঙ্গীদের নিয়ে তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর ত্যাগ করেছে।’
ঢাকা থেকে প্রায় ৮ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের ফ্লাইট শেষে বিমানটি তুরস্কের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
প্রধানমন্ত্রী ইস্তাম্বুলে দুই ঘণ্টা ৩৫ মিনিট যাত্রাবিরতি করেছেন।
বিমানটি নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।
বিমানবন্দর থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে। সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন।
ঢাকায় গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু করবেন। সকালে তিনি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশগ্রহণ করবেন। এরপর তিনি এবারের অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যোগ দেবেন। সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রী ২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন। এরপর তিনি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে এবং স্পেন কর্তৃক আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য রাখবেন। বিকেলে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভায় অংশগ্রহণ করবেন।
তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর এবারের অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন। এ সভায় তিনি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, লস অ্যান্ড ড্যামেজ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের পক্ষে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান তুলে ধরবেন।
প্রধানমন্ত্রী একইদিন বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে ভাষণ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের আয়োজনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ করবেন। তিনি ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক সাইড ইভেন্টে রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন।
তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক আরেকটি সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। এসময় তিনি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন এবং স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করবেন।
সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে তিনি ওয়াল স্ট্রিট ও মেটাসহ আরো কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ, উৎপাদন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা, দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সময় রাত ১১ টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট যোগে জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর জন্য এটি প্রথম অংশগ্রহণ। এর মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ব্রিজে অভিযোগ উঠেছে যে, রাতের অন্ধকারে রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করা হচ্ছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রিজে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে পরিদর্শন করে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া মরাগাঙ্গীতে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই দিনের পরিবর্তে রাতের অন্ধকারে কাজ করা হচ্ছিল। সন্দেহ হলে তারা গোপনে নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করেন এবং এক পর্যায়ে দেখেন যে, ব্রিজের কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের সূত্রে জানা গেছে, বাসাইল উপজেলাধীন বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ০৬ মিটার দৈর্ঘ্য গার্ডার ব্রিজ পুনর্নির্মাণের কাজ মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পেয়েছে। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ব্রিজের কাজ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হয় এবং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে এই ব্রিজের কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে এই ব্রিজের ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও ২০ শতাংশ কাজ এখনও বাকি রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব খানশূর বলেন, "আমাদের এই মাইজখাড়ার ভেতরে যে ব্রিজটি হচ্ছে, এই ব্রিজে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করা হচ্ছে। সরকার যে টাকা দিল, এই টাকাগুলো তাহলে গেল কই? আর এতো দুর্নীতি করতেছে আমাদের এই ব্রিজে। এই ঠিকাদারের সাথে আরও হয়ত স্থানীয় মানুষ জড়িত আছে। নয়তো ঠিকাদার তো এই জায়গায় এসে এভাবে সাহস পাবে না বাঁশ দিয়ে ঢালাই করার। সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক ও বিচার চাই।"
অন্য স্থানীয় বাসিন্দা আজিজ মিয়া বলেন, "ব্রিজটির কাজ করবে দিনে, তারা কাজ করছে রাতে। রাতে এলাকার ছেলেরা ব্রিজে দেখে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দিতেছে।"
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম বলেন, "এই গ্যাপগুলোর ভেতরে খোলা আপনার ভেতরের তো শাটার বের করার সুযোগ নাই। বড়গুলোর ভেতরে শাটার দিয়ে কাজ করেছি, আর ওইগুলো এই গ্যাপ দিয়ে বের করেছি। আর এইটা বাঁশ দিয়ে স্লাব বানিয়ে ওপরে সিমেন্টের একটা বস্তা দিয়ে খাঁচা দিয়ে আমরা ঢালাই করেছি।"
বাসাইল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, "ব্রিজের নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা পেয়েছি। তবে এ কাজের দায়ভার উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর নেবে না। এটি জেলা প্রকৌশল দপ্তরের কাজ। বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।"
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, "বিষয়টি জানতে পেরে সরেজমিনে ব্রিজটি পরিদর্শন করি। সেখানে রডের পরিবর্তে বাঁশের ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছি। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের ভাটি বাংলার মাটি যুগে যুগে জন্ম দিয়েছে অসংখ্য মরমী সাধক, বাউল, কবি ও গীতিকবির। তাঁদেরই অন্যতম উজ্জ্বল নাম বাউলসাধক দুর্বিন শাহ। মরমী গীতিকবি, বাউলসাধক ও লোকসাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাষ্যকার হিসেবে তিনি সুনামগঞ্জের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন। লোকসংস্কৃতি গবেষণায় তাঁকে ‘জ্ঞানের সাগর’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়।
দুর্বিন শাহ জন্মগ্রহণ করেন ২ নভেম্বর ১৯২০ সালে, তৎকালীন সিলেট জেলার সুনামগঞ্জ মহকুমার ছাতক থানার নোয়ারাই গ্রামের তারামনি টিলায়। পরবর্তীকালে এই টিলা তাঁর নামের সঙ্গে জড়িয়ে ‘দুর্বিন টিলা’ নামে পরিচিতি লাভ করে। তাঁর পিতা সাফাত আলী শাহ ছিলেন সুফি সাধক এবং মা হাসিনা বানু ছিলেন পিরানী। ফলে ছোটবেলা থেকেই তিনি আধ্যাত্মিকতা, সাধনা ও সংগীতের পরিবেশে বেড়ে ওঠেন।
দুর্বিন শাহের গানে ফুটে উঠেছে ভাটি বাংলার মানুষের জীবন, আধ্যাত্মিকতা, প্রেম, বিরহ, মানবতাবোধ ও আত্মতত্ত্ব। তাঁর রচনায় সুফিবাদ ও মরমিয়া দর্শনের পাশাপাশি দেহতত্ত্ব, ভক্তিগীতি, বিচ্ছেদ, আঞ্চলিক গান, জারি, সারি, ভাটিয়ালি, হামদ-নাতসহ নানা ধারার প্রকাশ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শরীয়তপুর, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলার জাজিরা উপজেলায় আজ মা ইলিশ রক্ষায় মতবিনিময় ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মাঝিরঘাট বাজারসংলগ্ন এলাকায় মাঝিরঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উদ্যোগে এ জনসচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়।
মাঝিরঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কংকন কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান।
সভায় জানানো হয়, আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলবে। এ সময় পদ্মা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি মাছ সংগ্রহ, মজুত, পরিবহন, বিক্রি ও বাজারজাতকরণেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে। আড়ত ও বরফকলসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদেরও নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার নির্দেশ দেয়া হয়।
এ সময় নৌ পুলিশ জেলে, মৎস্য আড়তদার, পাইকার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে। নিষিদ্ধ সময়ে পদ্মা নদীতে মাছ ধরা, ইলিশ সংরক্ষণ, বিক্রি ও বাজারজাতকরণে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ বা নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানায় নৌ পুলিশ। একই সঙ্গে জেলেদের মাছ ধরতে সহযোগিতা না করতে আড়তদার, পাইকার ও স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
মতবিনিময় সভায় মৎস্য আড়তদার, পাইকার, জেলে, মৎস্যজীবী সমিতির সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ ৩০০ থেকে ৩৫০ জন উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, সভার আগে সকালে নৌ পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান মাঝিরঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানকে সামনে রেখে নদীপথে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।
মা ইলিশের প্রজনন ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির স্বার্থে নিষেধাজ্ঞা সফল করতে জেলে, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা চেয়েছে নৌ পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা চলতে থাকে অভিনেত্রী তানজিন তিশার। সম্প্রতি তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সামনে এসে সরাসরি নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, নিজের দেশে সোনার গহনা পরে চলাফেরা করাও নিরাপদ মনে করেন না। দেশে অনেক জায়গায় নিরাপত্তার অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তানজিন তিশা মনে করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তার ঘাটতি বিদ্যমান। নানা পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারীরা এমন সমস্যার সম্মুখীন হন, যা তাদের প্রাপ্য নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অভিনেত্রী বলেন, “সত্যি বলতে বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না। দেশে অনেক জায়গায় নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে। আমরা নিজেরাই অনেক ঝামেলায় পড়ি, যেগুলো আমরা ডিজার্ভ করি না। অনেক ক্ষেত্রেই বিষয়গুলো অন্যায় মনে হয়, ন্যায়বিচারও পাই না।”
নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে আরো গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের মেয়েদের নিরাপত্তার বিষয়টি আরো গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। যে কোনো পরিস্থিতিতে নারীদের নিরাপত্তা আরো বাড়ানো দরকার।”
সোনার গহনা পরে চলাফেরার প্রসঙ্গে নিজের মতামত জানাতে গিয়ে তিশা বলেন, গহনা সঙ্গে নিয়ে ঘোরার চেয়ে তা পরে চলাফেরা করাই বা কেন নয়? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সোনার গয়না ব্যাগে রেখে ঘোরার প্রয়োজন নেই, বরং সেটি পরেই ঘোরা যায়।
এদিকে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তানজিন তিশা অভিনীত ‘সোলজার’ সিনেমা। এতে তিনি শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ