প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ব্রিজে অভিযোগ উঠেছে যে, রাতের অন্ধকারে রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করা হচ্ছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রিজে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে পরিদর্শন করে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া মরাগাঙ্গীতে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই দিনের পরিবর্তে রাতের অন্ধকারে কাজ করা হচ্ছিল। সন্দেহ হলে তারা গোপনে নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করেন এবং এক পর্যায়ে দেখেন যে, ব্রিজের কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের সূত্রে জানা গেছে, বাসাইল উপজেলাধীন বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ০৬ মিটার দৈর্ঘ্য গার্ডার ব্রিজ পুনর্নির্মাণের কাজ মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পেয়েছে। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ব্রিজের কাজ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হয় এবং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে এই ব্রিজের কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। বর্তমানে এই ব্রিজের ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও ২০ শতাংশ কাজ এখনও বাকি রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব খানশূর বলেন, "আমাদের এই মাইজখাড়ার ভেতরে যে ব্রিজটি হচ্ছে, এই ব্রিজে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করা হচ্ছে। সরকার যে টাকা দিল, এই টাকাগুলো তাহলে গেল কই? আর এতো দুর্নীতি করতেছে আমাদের এই ব্রিজে। এই ঠিকাদারের সাথে আরও হয়ত স্থানীয় মানুষ জড়িত আছে। নয়তো ঠিকাদার তো এই জায়গায় এসে এভাবে সাহস পাবে না বাঁশ দিয়ে ঢালাই করার। সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক ও বিচার চাই।"
অন্য স্থানীয় বাসিন্দা আজিজ মিয়া বলেন, "ব্রিজটির কাজ করবে দিনে, তারা কাজ করছে রাতে। রাতে এলাকার ছেলেরা ব্রিজে দেখে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দিতেছে।"
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম বলেন, "এই গ্যাপগুলোর ভেতরে খোলা আপনার ভেতরের তো শাটার বের করার সুযোগ নাই। বড়গুলোর ভেতরে শাটার দিয়ে কাজ করেছি, আর ওইগুলো এই গ্যাপ দিয়ে বের করেছি। আর এইটা বাঁশ দিয়ে স্লাব বানিয়ে ওপরে সিমেন্টের একটা বস্তা দিয়ে খাঁচা দিয়ে আমরা ঢালাই করেছি।"
বাসাইল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, "ব্রিজের নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা পেয়েছি। তবে এ কাজের দায়ভার উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর নেবে না। এটি জেলা প্রকৌশল দপ্তরের কাজ। বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।"
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, "বিষয়টি জানতে পেরে সরেজমিনে ব্রিজটি পরিদর্শন করি। সেখানে রডের পরিবর্তে বাঁশের ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছি। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন