০৪:২৩ পি.এম
চট্টগ্রাম বন্দরের নিরবচ্ছিন্ন মুনাফার রেকর্ড অতিক্রমকারী নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি ইজারায় ছেড়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এই চুক্তি সম্পন্ন হবে।
ডিপি ওয়ার্ল্ড কোম্পানি এনসিটি ইজারায় বা কনসেশনে পেতে যাচ্ছে অন্তত ১৫ বছরের জন্য মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা সম্বলিত চুক্তি। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ অডিটোরিয়ামে সরকারের পক্ষ থেকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তবে, পুরো প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে গোপনীয়তার সাথে চলছে এবং চুক্তির শর্তাবলীও গোপন রাখা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই চুক্তির প্রক্রিয়া দ্রুততার সাথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বে বিষয়বস্তু জনসমক্ষে এবং জাতীয় সংসদে প্রকাশ করা হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দর ভবন এবং বন্দর বোর্ড মিটিং এড়িয়ে গত প্রায় দুই বছর ধরে চুক্তির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
পূর্বে, গত ১৫ নভেম্বর'২৫ ইং ড. ইউনূস সরকারের আমলে ঢাকায় একটি হোটেলে গোপনে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছিল এবং চট্টগ্রাম বন্দর লালদিয়ার চর টার্মিনাল ও পানগাঁও টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির কাছে দীর্ঘ মেয়াদি ইজারা দেওয়া হয়েছিল। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক স্থাপনা, যা বন্দরের মুনাফার টাকায় নির্মিত হয়েছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড এনসিটি পরিচালনা করছে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও গতিশীলতার সাথে।
যদি নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে চলে যায়, তাহলে চট্টগ্রাম বন্দরে আর কোনো আধুনিক এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ টার্মিনাল থাকবে না। ফ্যাসিস্ট পলাতক হাসিনা সরকারের আমলে চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক কন্টেইনার টার্মিনালগুলো শেখ পরিবার এবং আওয়ামী অলিগার্ক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে ২০২৩-২৪ সালে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এরপর বিগত অন্তর্বর্তীকালীন ড. ইউনূস সরকারের আমলে বাস্তবায়নের জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালানো হয়। তবে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি ড. ইউনূস সরকার তীব্র আন্দোলনের মুখে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়। হাসিনা-ড. ইউনূস সরকারের ধারাবাহিকতায় বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়টি জনগণের নির্বাচিত বিএনপি সরকারের সময়ে চাপের মতো এসে পড়েছে।
এ নিয়ে আন্দোলন কর্মসূচি, প্রতিবাদ এবং ক্ষোভ-অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনরত বন্দর রক্ষা কমিটির নেতারা ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর মেইন গেইটে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে বলেছেন, "৮ অক্টোবর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরের সাথে সাথেই চট্টগ্রাম বন্দর অচল হয়ে যাবে।" তাদের মতে, এর দায়দায়িত্ব চেয়ারম্যানকেই বহন করতে হবে।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক বন্দর সিবিএ সেক্রেটারি কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেছেন, "গায়ের জোরজবরদস্তি করে নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ছেড়ে দিয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।" তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে।
বন্দর ডক শ্রমিক কর্মচারী এবং সচেতন নাগরিক মহল এহেন বিতর্কিত চুক্তি স্বাক্ষর মেনে নেবে না। আজ ৭ অক্টোবর বুধবার বিকালে চট্টগ্রাম স্কপ এবং বন্দর রক্ষা কমিটি ও বিভিন্ন আন্দোলনরত সংগঠন ও জোটের নেতারা বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন