ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সীতাকুণ্ডে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন, প্রধান আসামি আরিফসহ ৬ জন গ্রেপ্তার; এলজি, রিভলভার ও পিস্তল উদ্ধার


সীতাকুণ্ডে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন, প্রধান আসামি আরিফসহ ৬ জন গ্রেপ্তার; এলজি, রিভলভার ও পিস্তল উদ্ধার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে প্রকাশ্যে গুলি করে তারেক হোসেন বাপ্পি হত্যাকাণ্ড এবং তাপসির আলম শাওনকে গুরুতর আহত করার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দ্রুততম সময়ে রহস্য উদ্ঘাটন করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি মো. আরিফ হোসেনসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি এলজি, একটি রিভলভার ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ড মডেল থানাধীন বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অলিনগর তিন রাস্তার মোড়সংলগ্ন পাকা রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। রাতে খাবার খেয়ে তারেক হোসেন বাপ্পি তাঁর বন্ধু ইমনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় আগে থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওত পেতে থাকা অভিযুক্তরা তাঁদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। এরপর বাপ্পি ও তাঁর বন্ধুকে মোটরসাইকেল থেকে টেনে নামিয়ে মারধর করা হয়।

একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত মো. আরিফ হোসেন বাপ্পিকে লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করেন। অন্য অভিযুক্তরাও তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় বাপ্পির সঙ্গে থাকা ইমন কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। পরে বাপ্পির বুকে গুলি করা হয়। অপর একজনও তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। এতে বাপ্পি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলের কাছে থাকা তাপসির আলম শাওন বাপ্পিকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে তিনিও হামলার শিকার হন। তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে দুজনই গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকেন। হামলাকারীরা তাঁদের ওপর আরও আঘাত করেন। পরে ঘটনাস্থলে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাঁরা পালিয়ে যান।

আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে দোকানে ঢুকে জামায়াত কর্মীকে গুলি করলো মুখোশধারীরা

তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, নিহত তারেক হোসেন বাপ্পির সঙ্গে প্রধান অভিযুক্ত মো. আরিফ হোসেন ও তাঁর সহযোগীদের এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বাপ্পি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অভিযুক্তদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য একাধিকবার সামাজিকভাবে ও মৌখিকভাবে সতর্ক করেন।

পূর্ববিরোধের জেরে বাপ্পিকে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের পথে বাধা মনে করে অভিযুক্তরা তাঁর ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁরা আগে থেকেই ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন এবং বাপ্পির মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। পরে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে হত্যা করা হয়। একই সময়ে বাপ্পিকে উদ্ধারে এগিয়ে আসা শাওনও তাঁদের সশস্ত্র হামলার শিকার হন।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পরপরই চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করে। ঘটনাস্থলের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি মো. আরিফ হোসেনসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি এলজি, একটি রিভলভার ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের নাম ও পরিচয়:
১। মো. আরিফ হোসেন (২৯), পিতা: ইসমাইল হোসেন প্রকাশ বিকষু, সাং মধ্যম মাহমুদাবাদ, দিঘীর নালা, ফকির আহম্মদের নতুন বাড়ি, বাড়বকুণ্ড।
২। ফখরুল ইসলাম (৩২), পিতা: মৃত নুর আলম, সাং অলিনগর, চৌকিদার বাড়ি, বাড়বকুণ্ড।
৩। আব্দুল মান্নান (২৮), পিতা: আবুল কাশেম, সাং নডালিয়া, বাড়বকুণ্ড।
৪। মো. ইফতেখার (৩৫), পিতা মো. মোজ্জামেল হক, সাং অলিনগর, নতুন বদু বাড়ি, বাড়বকুণ্ড।
৫। আরিফুল ইসলাম জাবেদ (২৫), পিতা মো. নজরুল ইসলাম, সাং হাসনাবাদ, জিয়াজি হুজরের বাড়ি, মুরাদপুর।
৬। রনি, নুর আহাম্মদ রনি, পিতা-মৃত জহির ইসলাম, সাং-মধ্যম মাহমুদ বাদ, দীঘির নামা, বারবকুন্ড, সীতাকুন্ড।

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬০০ পিস ইয়াবাসহ বিজিবি সদস্য আটক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুতুবদিয়ায় ভয়াবহ আগুনে ১৬ বসতঘর ও ৫ গুদাম পুড়ে গেছে, সহায়তার আশ্বাস জেলা পরিষদ প্রশাসকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৮ পি.এম


কুতুবদিয়ায় ভয়াবহ আগুনে ১৬ বসতঘর ও ৫ গুদাম পুড়ে গেছে, সহায়তার আশ্বাস জেলা পরিষদ প্রশাসকের

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ১৬টি বসতঘর এবং ৪ থেকে ৫টি মাছ ধরার জালের গুদাম সম্পূর্ণরূপে পুড়ে গেছে। এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগ ও আর্থিক সংকটে পড়েছে।

কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। তিনি পরিদর্শনের সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের দুর্ভোগের বিষয়টি মনোযোগ সহকারে শোনেন।

জেলা পরিষদ প্রশাসক পরিদর্শনকালে বলেন, "দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। তাঁদের দুর্ভোগ লাঘবে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।"

স্থানীয়দের মতে, অগ্নিকাণ্ডের ফলে বসতঘরের পাশাপাশি উপার্জনের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত মাছ ধরার জালের গুদামগুলো পুড়ে যাওয়ায় পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং জরুরি সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আরটিভির নিউজের পর পূজার জন্য সহায়তা পেল জগন্নাথপুরের নৌকাডুবি নিহতদের পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৯ পি.এম


আরটিভির নিউজের পর পূজার জন্য সহায়তা পেল জগন্নাথপুরের নৌকাডুবি নিহতদের পরিবার

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে নৌকাডুবির ঘটনায় চার পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুতে ওই পরিবারগুলো তাদের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্যদের হারিয়ে অসহায় অবস্থায় রয়েছে।

‘পূজায় নতুন জামা নয়, বাবাকে খুঁজছে এই শিশুরা’ শিরোনামে আরটিভির ডিজিটালে প্রতিবেদন প্রচারের পর ওই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করতে অনেকেই আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) জগন্নাথপুর বাজারের ব্যবসায়ী কানাডা প্রবাসী জ্যোতির্ময় গোপ এবং তার কানাডা প্রবাসী বন্ধুদের সহযোগিতায় চার পরিবারে নগদ ২০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার নাথ কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে তিন পরিবারের মধ্যে আরও ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। নিহতদের স্ত্রীর হাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিজন কুমার দেব, কমিউনিটি নেতা প্রমুদ দেবনাথ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ উপজেলা শাখার সদস্য সচিব অমিত কান্তি দেব, সাংবাদিক গোবিন্দ দেব, সমাজকর্মী আব্দুল মুকিত, তৈয়বুর রহমান সিতু, মোহন গোপ, রুবেল আহমেদ ভুইয়া, রিংকু দেবনাথ।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ উপজেলা শাখার সদস্য সচিব অমিত কান্তি দেব বলেন, আড়াই মাস আগে নৌকাডুবিতে ওই চার পরিবারের প্রধানের মৃত্যুতে ছোট ছোট শিশু সন্তান নিয়ে পরিবারগুলো অসহায় হয়ে পড়ে। সম্প্রতি আরটিভির প্রতিবেদনটি দেখে ঢাকা থেকে নাথ কল্যাণ সমিতির সভাপতি সুজন চন্দ্র দেবনাথ সমিতির পক্ষ থেকে এ অনুদান দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, কারো বাবা এবং কারো স্বামীহারা ওই পরিবারগুলো কিছুটা হলেও পূজার আনন্দে হাসি ফুটবে।

সমাজকর্মী আব্দুল মুকিত বলেন, আরটিভির প্রতিবেদনটি দেখে আমাদের কানাডা প্রবাসী বন্ধু জ্যোতির্ময় গোপ ২০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই টাকা তাদের হাতে তুলে দিয়েছি।

প্রসঙ্গত, ৩১ জুলাই রাতে কীর্তন অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে নৌকা ডুবে জগন্নাথপুর পৌরসভার ভবানীপুরের মৃত জোগিন্দ্র দেবনাথের ছেলে হেমেন্দ্র দেবনাথ, একই এলাকার মৃত সুবল দেবনাথের ছেলে সতীন্দ্র দেবনাথ, মৃত অনিল দেবনাথের ছেলে অরুণ দেবনাথ এবং তার ছোট ভাই অধির দেবনাথ নিখোঁজ হন। পরে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ওই চার জন ছিলেন তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোদাগাড়ীতে পদ্মার তীব্র ভাঙনে দুই শতাধিক বিঘা ফসলি জমি ও ডিপটিউবওয়েল ঘর নদীগর্ভে বিলীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৯ পি.এম


গোদাগাড়ীতে পদ্মার তীব্র ভাঙনে দুই শতাধিক বিঘা ফসলি জমি ও ডিপটিউবওয়েল ঘর নদীগর্ভে বিলীন

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে স্থানীয় কৃষকরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন, যদিও বন্যার পানি কমে গেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে একটি গভীর নলকূপের (ডিপটিউবওয়েল) ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পৌরসভার কুঠিপাড়া মরহুম ইয়াহিয়া মিয়ার বাড়ির পাশে অবস্থিত জামে মসজিদটি ভাঙন থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে অবস্থান করছে। গত দুই মাসে প্রায় ২০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। পদ্মাপাড়ের কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য এই ভাঙন সবচেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চলমান।

গোদাগাড়ী পৌরসভার রেলওয়ে বাজার, মাদারপুর, দেওয়ানপাড়া, বারুইপাড়া, কুঠিপাড়া, হাটপাড়া, সুলতানগঞ্জ, জামাতিরমোড় এবং উপজেলার আলিপুর, বিয়ানাবোনা, নীলবোনা এলাকায় বসতবাড়ি ও আবাদি জমি হারিয়ে শত শত মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এই পরিস্থিতির ফলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দেওয়ানপাড়ায় একটি ডিপটিউবওয়েল ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে, যা কয়েকশ বিঘা জমিতে সেচ ও ফসল ফলানোর কাজে ব্যবহৃত হত। মাদারপুর এলাকায় পদ্মা নদীর ধারে জেগে ওঠা চরে আম, শিশু ও মেহগনি বাগান নদীগর্ভে চলে গেছে। রেলবাজার ঘাটের দুই পাশে ১২টি দোকান, একটি বটগাছ এবং বেশ কয়েকটি খেলার মাঠ বর্তমানে ৩০-৩৫ হাত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। রেলবাজার এলাকায় কেফাতুল্লাহ মাস্টারের ৭৫ বিঘা আবাদি জমির মধ্যে এখন মাত্র কয়েক কাঠা অবশিষ্ট রয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মরিয়ম আহম্মেদ জানান, চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন এবং গোদাগাড়ী পৌরসভার আলিপুর ও বিয়ানাবোনা এলাকার শত শত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পদ্মার ভাঙনে চর এলাকায় টমেটো, চিনাবাদাম, কলাই, মটর, খেসারি, মূলা, বেগুনসহ বিভিন্ন মৌসুমী ফসল ও সেচ পাম্পগুলো ধ্বংস হয়েছে।

গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি সরেজমিনে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি এক মতবিনিময় সভায় বলেন, "গোদাগাড়ী পৌরসভার নদীতীরবর্তী এলাকায় পদ্মার ভাঙন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য উদ্বেগের কারণ। ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে এবং যেখানে যা করা দরকার তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" তিনি এ সময় কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না এবং দলীয় লোক জড়িত থাকলেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. রুহুল আমিন এবং গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।

এদিকে রাজশাহী-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান জানান, ৫ বছরের জন্য ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চরআষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন ও গোদাগাড়ী পৌর এলাকায় প্রায় ৩ কিলোমিটার পদ্মার তীরে বাঁধ নির্মাণের প্রক্রিয়া শেষের পথে।

স্থানীয়দের মতে, ১৯৭৫ সাল থেকে একতরফা ফারাক্কা বাঁধ চালুর পর থেকেই শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষায় তীব্র ভাঙনের শিকার হচ্ছে এই অঞ্চল। ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি অনুযায়ী ন্যায্য পানির প্রবাহ না পাওয়া এবং ভারত কর্তৃক বর্ষার সময় বাঁধের গেট খুলে দেওয়ায় প্রতিবছর গোদাগাড়ীতে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে গোদাগাড়ীর বাকি আবাদি জমি, বসতবাড়ি, দোকান ও মসজিদ পদ্মার বুকে হারিয়ে যাবে এবং এলাকার মানচিত্র বদলে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেত্রকোণায় হেমন্তের শিশিরে শীতের আগাম বার্তা প্রকাশিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:০০ পি.এম


নেত্রকোণায় হেমন্তের শিশিরে শীতের আগাম বার্তা প্রকাশিত

নেত্রকোণা, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ : মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং প্রাকৃতিক প্রভাবের কারণে বিশ্বব্যাপী জলবায়ুর পরিবর্তন অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। যদিও ইট-পাথরের যান্ত্রিক শহরের অতিরিক্ত ব্যস্ততায় ষড়ঋতুর ধারাবাহিকতা কিছুটা ম্লান হয়ে গেছে, তবুও হাওরাঞ্চলের গ্রামবাংলায় ছয়টি ঋতুর নিজস্ব ছন্দ আজও অটুট রয়েছে। কার্তিকের শুরুতে, ঋতুচক্রের চতুর্থ ঋতু হেমন্ত শান্ত, স্নিগ্ধ ও অপরূপ ক্যানভাস রচনা করেছে।

নেত্রকোণা সদর উপজেলার পশ্চিম উলুয়াটি, কয়রাটি গ্রাম এবং আশপাশের বিস্তৃত জনপদে এখন হেমন্তের ভোরের কুয়াশা ঘেরা মেঠোপথ, শিশিরস্নাত ধানের শীষ এবং সোনালি রোদে এক অসাধারণ জীবনকাব্য রচিত হচ্ছে।

হেমন্তের এই সময়ে গ্রামীণ জীবনের সূচনা ঘটে ফজর নামাজের মাধ্যমে। নামাজ শেষে প্রতিটি গৃহস্থবাড়িতে শুরু হয় চিরচেনা ব্যস্ততা। মায়েরা ভোরের প্রথম প্রহরে হাঁস-মুরগির খোঁয়াড় খুলে তাদের ছেড়ে দিয়ে নতুন দিনের গৃহস্থালি কাজের শুভসূচনা করেন।

অন্যদিকে, হেমন্তের এই সময় কৃষকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির ও অবসরের। রোপা আমন ধানের শীষ আসা শুরু হয়েছে, ফলে কৃষকরা মেহনতের ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। রোদ উঠতে শুরু করলেই তারা খেতের আগাছা পরিষ্কার করা কিংবা আইলে বসে নিজেদের মধ্যে মেঠো গল্পে সাময়িক স্বস্তির মুহূর্ত কাটান।

হেমন্তকালীন সময়ে প্রকৃতির পরিবর্তনের সাথে পাখিদের কলকাকলিও বদলাচ্ছে। যদিও গ্রামে কাকের উপস্থিতি অনেকটাই কমে এসেছে, কিন্তু তার স্থান পূরণ করে দিচ্ছে ছোট দোয়েল, ফিঙে, ময়না ও বাতালিকসহ বিভিন্ন পাখির মিষ্টি গুঞ্জন। উঁচু গাছের মগডাল থেকে ভেসে আসে ডাহুকের ডাক, আর বিল-ঝিল বা খেতের আইলে উড়ে আসে সাদা বক ও গৃহপালিত কবুতর।

গ্রামের কর্মজীবী মানুষেরা ভোরের সময়টাকে খুব সুন্দরভাবে কাজে লাগান। সারাদিন কাজের প্রয়োজনে বাইরে থাকতে হয় বলে সকালের এই শান্ত প্রহরেই তারা অনেক গৃহস্থালি কাজ সেরে নেন। ভোরের নরম কাঁচা রোদের আমেজ গায়ে মেখে ছোট ছোট শিশুরা মক্তব বা প্রাইমারি স্কুলের দিকে রওনা দেয়। একই সাথে মেঠোপথ ধরে বয়ে চলা ভ্যান ও বাইসাইকেলের টুংটাং শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে গ্রামের আঁকা বাঁকা মেঠোপথ।

হেমন্তের এই সময় আবহাওয়ার বৈচিত্র্য প্রতিটি ধাপে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দিনে হালকা রোদের আমেজ থাকলেও সূর্য ডুবলেই হিমেল নীরবতা নেমে আসে। শেষরাতে ঘরের ভেতর বৈদ্যুতিক পাখা বন্ধ রেখে গায়ে জড়াতে হয় হালকা নকশীকাঁথা। সকালে পাখার সুইচ বন্ধ রেখে সুকোমল শান্তিতে ঘুমানোর এই আবহ কেবল গ্রামবাংলার হেমন্তেরই এক অনন্য মাধুর্য।

ভোরের পূবের আকাশে যখন কুয়াশার পাতলা পর্দা ভেদ করে সূর্যের প্রথম আলো ফুটতে শুরু করে, তখন প্রকৃতির প্রতিটি কোণায় এক নতুন সম্ভাবনার শুভ উদয় ঘটে। দিগন্তজোড়া আমন খেতের সবুজ পাতার চূড়ায়, মেঠোপথের ধারে কচি দুর্বাঘাসে এবং কচু পাতায় মুক্তোর দানার মতো জমে থাকে হেমন্তের শিশিরবিন্দু। খেতের ঝোপঝাড়ে বোনা মাকড়সার জালে আটকে থাকা হাজারও শিশিরকণা ভোরের আলোয় মুক্তোর দানার মতো জ্বলজ্বল করে ওঠে, যা শীতের আলতো আগমনী বার্তা ঘোষণা করে। মাটির কাঁচা রাস্তার দুপাশে বেড়ে ওঠা ভাঁটগাছগুলোও শিশিরস্নাত হয়ে নীরব প্রস্তুতি নিচ্ছে শুভ্র ভাঁটফুলে প্রকৃতির রূপসী সংসার সাজাবে বলে। আর ভোরের সেই কচি ঘাসের বুকে জমে থাকা রাতভরের শিশির খালি পায়ে মাড়ানোর ভেতর গ্রামবাসী ও পথচারীরা খুঁজে পান এক অদ্ভুত সুখানুভূতি।

সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জমে ওঠে মেঠোপথের জীবন। মেঠোপথের দুপাশের সবুজ ধানের খেত এবং পাশের ডোবায় ফুটন্ত বেগুনি কচুরিপানার ফুলগুলো যেন একলা কোনো পথিকের অপেক্ষায় প্রহর গুনে। কৃষকেরা যেমন ছুটে যান ধানের খেত দেখতে, তেমনি গবাদিপশুর জন্য কাঁচি ও খাঁচা নিয়ে শিশিরভেজা কচি ঘাস কাটতে বের হন অনেকে। কেউবা আবার জাল ও ছুকড়া (মাছ রাখার জন্যে বাঁশের তৈরি পাত্র) নিয়ে ছোটেন বিলের জলে ভেসে থাকা কচুরিপানা ফুলের ভিড়ে মাছ শিকারের আশায়। আইল ধরে হাঁসের পাল নিয়ে হেঁটে যাওয়া এবং পাখির কলকাকলিতে ভরপুর নেত্রকোণার প্রাত্যহিক এই জীবন যেন জানান দিচ্ছে—বাঙালির প্রাণের গ্রামে ঋতুচক্র আজও একই মহিমায় জাগ্রত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%