মোঃ সোহেল রানা, রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি
১১:৩৯ পি.এম
রাঙামাটির কোতয়ালী থানার বিশেষ অভিযানে ২৫ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম-এর নির্দেশনায় কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জসীম উদ্দীনের নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ জানায়, কোতয়ালী থানাধীন মানিকছড়ি পুলিশ চেকপোস্ট এলাকায় রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের চট্টগ্রামমুখী অংশে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এই সময় ২৫ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদসহ প্রদীপ পাল (২৯) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত প্রদীপ পাল চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার কেউটিয়া এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিধি মোতাবেক তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, ২০১৯ সালে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা এবং রাজ্যের মর্যাদা বাতিলের সিদ্ধান্ত না হলে পিওকের জনগণের মধ্যে জম্মু-কাশ্মীরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দাবিতে রাস্তায় নেমে আসার প্রবণতা দেখা দিত।
শনিবার (১৫ আগস্ট) শ্রীনগরে ভারতের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি তার এ মন্তব্যটি করেছেন।
ওমর আবদুল্লাহ উল্লেখ করেছেন, পিওকের পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান থেকে আসা উপজাতীয় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই করে কাশ্মীরের ভারতভুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া সঠিক ছিল।
পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের দাবিতে আন্দোলনে একাধিক ব্যক্তি নিহত এবং আহত হওয়ার ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
তার সঙ্গে তিনি জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে গ্রেফতার ও কারাবন্দি হওয়ার ঘটনাগুলির উল্লেখ করেন। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কাশ্মীরের জনতাকে সংগঠিত করে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য তার দাদা শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা জানান ওমর।
তিনি বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী কাশ্মীরে পৌঁছানোর আগেই, তার দাদা কাশ্মীরের জনগণের নেতৃত্ব দিয়ে পাকিস্তানি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন এবং মাতৃভূমি রক্ষা করেছিলেন।
সীমান্তের ওপারের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘হামলাকারী সাবধান, আমরা কাশ্মীরিরা প্রস্তুত’—এমন অবস্থান নেওয়া পূর্বপুরুষদের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।
ওমর আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘পিওকের পরিস্থিতি দেখে আমি ব্যথিত। আমি নিশ্চিত যে, ২০১৯ সালে জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা ও বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা না হলে আজ পিওকের মানুষ জম্মু-কাশ্মীরের সঙ্গে পুনঃএকত্রীকরণের দাবিতে রাস্তায় নেমে আস্তে।’
তিনি জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভায় পিওকের জন্য আসন খালি রাখার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অন্য পাশে প্রতিনিধিদের জন্য আসন খালি রাখা হয়েছে, এই আশায় যে একদিন সেগুলো পূরণ হবে।
তবে ওমর আবদুল্লাহর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও বিজেপি নেতা সুনীল শর্মা এই মন্তব্যটিকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, জাতীয় দিবসে দেশের পতাকা উদযাপন করার সময় মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিয়ে রাজনীতি করছেন। এই অনুষ্ঠানে তার সরকারের কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন সুনীল শর্মা।
এদিকে, ২০১৯ সালের আগস্টে বাতিল হওয়া জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা এবং অন্যান্য সাংবিধানিক নিশ্চয়তা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন ওমর আবদুল্লাহ।
তিনি বলেন, তার সরকার রাজ্যের মর্যাদা ও সাংবিধানিক নিশ্চয়তা পুনর্বহালের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। একই সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও তিনি স্বীকার করেন।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভবদহের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও কপোতাক্ষের অববাহিকা যশোরের মণিরামপুরের মানুষের জন্য একসময় দুর্ভোগের কারণ ছিল। তবে বর্তমানে সেই জল অনেকের জীবনে আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে।
নদী, বিল, বাওড়, পুকুর ও মাছের ঘেরকে কাজে লাগিয়ে যশোরের মণিরামপুরে স্থানীয় চাহিদার চার গুণেরও বেশি মাছ উৎপাদন করা হচ্ছে। এমনকি কিছু জেলার মোট উৎপাদনের চেয়েও বেশি মাছ এখানে উৎপন্ন হচ্ছে।
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪৪৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মণিরামপুরে তিনটি নদী, ১২টি খাল, ১৩টি বিল, পাঁচটি বাওড়, প্রায় পাঁচ হাজার পুকুর ও ১১ হাজার মৎস্য ঘের অবস্থিত। বছরে প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর জলাশয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মোট ৩৯ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়।
বিপরীতে, উপজেলার স্থানীয় চাহিদা ৯ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন। উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ মাছ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
এই উপজেলায় পাবদা, শিং, মাগুর, টেংরা, তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, রুই, কাতলা, মৃগেল, গ্রাসকার্প, কমন কার্প এবং গলদা চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে। কৃষিনির্ভর মানুষের একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য চাষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতার পথ তৈরি করেছেন।
সফল মৎস্য চাষি আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, ‘একসময় ভবদহের পানি আমাদের জন্য ছিল কষ্টের নাম। এখন সেই পানিকে কাজে লাগিয়ে মাছ চাষ করে সংসার চলছে, কর্মসংস্থান হচ্ছে। সঠিক পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ পেলে মণিরামপুরের মাছ চাষ আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেছেন, ‘মণিরামপুরে মৎস্য চাষ এখন শুধু জীবিকার মাধ্যম নয়, এটি একটি সম্ভাবনাময় শিল্প। আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা, নিরাপদ মাছ উৎপাদন ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মৎস্য দপ্তর নিয়মিত কাজ করছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন জানিয়েছেন, ‘মণিরামপুরের মৎস্য সম্পদ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। আত্মকর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতা সৃষ্টিতে মাছ চাষ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারের নানা উদ্যোগে এ খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।’
মৎস্যজীবী ও চাষিরা জানিয়েছেন, মৎস্য দপ্তরের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সহযোগিতার পাশাপাশি স্থানীয় চাষিদের অভিজ্ঞতা ও আগ্রহের কারণে উৎপাদনে ধারাবাহিক সাফল্য এসেছে। ফলে একসময় যে জলাবদ্ধতা মণিরামপুরের মানুষের কাছে অভিশাপ ছিল, সেই জলই এখন অনেকের জীবনে হয়ে উঠেছে সম্ভাবনার নতুন ঠিকানা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিসরও তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি সই হওয়া যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে পারে। এই সম্ভাবনার কথা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।
গত শুক্রবার পবিত্র মক্কা নগরীতে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ‘মক্কা চুক্তি’ নামক এই সমঝোতায় সই করেন। এরদোয়ান জানান, চুক্তিবদ্ধ যে কোনো দেশ আক্রান্ত হলে সবাই মিলে যৌথ পদক্ষেপ নেবে। বিশ্লেষকরা এই চুক্তিকে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সাথে তুলনা করেছেন। তবে পাকিস্তান এই চুক্তিকে বর্তমানে ন্যাটোর সমকক্ষ ভাবতে নারাজ।
এছাড়া সাক্ষাৎকারে আঞ্চলিক নানা প্রসঙ্গ উঠে আসে। এরদোয়ান জানান, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া আঙ্কারার অগ্রাধিকার। তুরস্কের মধ্যস্থতায় কাতারের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। সিরিয়া, গাজা ও লেবাননকে তুরস্ক কখনো একা ছাড়বে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আগামী সময়ের মধ্যে সিরিয়া সফরের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এরদোয়ান বলেন, সেখানে কুর্দিদের অধিকার ও শান্তি নিশ্চিত করা হবে। গাজা প্রসঙ্গে হামাস সদিচ্ছা দেখালেও ইসরায়েল যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুরস্ক সফরের সময় লেবাননে যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছেন এরদোয়ান। এছাড়া সুদানের আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের সাথে ভালো সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করে লিবিয়ার পাশে থাকারও আশ্বাস দেন।
অন্যদিকে তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের বিষয়টি এখন আর তুরস্কের অগ্রাধিকার নয়। এরদোয়ানের মতে, ইউরোপেরই এতে ক্ষতি হবে।
রুশ এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে ২০১৯ সালে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে তুরস্ককে বাদ দেওয়া হয়। তবে ট্রাম্পের কাছ থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে এফ-৩৫ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন বলেও জানান তিনি। যদিও মার্কিন কংগ্রেসে এটি এখনও বাধার মুখে রয়েছে এবং পেন্টাগনকে এই বিমান হস্তান্তরে নিষেধ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়েছে সিলেটে জেলা বিএনপির উদ্যোগে। এই উপলক্ষে শনিবার (১৫ আগস্ট) বাদ আছর হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসার পেছনে বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি জেলখানায় জীবন বাজি রেখে দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছেন। কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করতে গিয়ে তিনি নানা নির্যাতনের শিকার হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
জেলা বিএনপির সভাপতি আরও বলেন, দেশের ক্রান্তিলগ্নে দলের হাল ধরার মাধ্যমে একজন গৃহবধূ থেকে তিনি সরকারপ্রধানের আসনে বসেছেন। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জনগণের দাবি আদায়ে আপসহীন ভূমিকা পালন করে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ খেতাব অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি জনগণের ভোটে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে সফলভাবে সরকার পরিচালনা করেন।
দোয়া-পূর্ব আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সভাটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, এমপি।
এ সময় জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আশিক উদ্দিন আশুক, নাজিম উদ্দিন লস্কর, মামুন রশিদ চেয়ারম্যান, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন, তাজরুল ইসলাম তাজুল, মামুনুর রশিদ মামুন, আনোয়ার হোসেন মানিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে পৃথকভাবে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
দোয়া মাহফিলে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ