বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:২৯ পি.এম
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন যে, সমৃদ্ধ দেশ গড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধা বিদ্যমান, তবে সেই মেধার ব্যক্তিগত জীবনে প্রতিফলন ঘটানোর জন্য আত্মনিয়োগ ও কঠোর পরিশ্রম আবশ্যক। এজন্য শিক্ষকদের আন্তরিকভাবে পাঠদান করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের অধ্যাবসায় ও নিয়মানুবর্তিতা শিক্ষা দিতে হবে। তিনি গতকাল বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারী সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নবীন বরন ও কৃতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। কলেজের বিপুল প্রান্তরে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আরিফুর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ কলেজের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন, যেমন কলেজে আই সি টি ল্যাব, ছাত্রাবাস, একাডেমিক ভবন নির্মাণ, অডিটোরিয়াম, শিক্ষার্থীদের বিনোদনের জন্য খেলার মাঠ, শিক্ষার্থী পরিবহনের জন্য ডবল ডেকার বাস, শিক্ষক পরিবহনের বাস/হাইস, এবং কলেজ সরকারি করণের পরও কিছু শিক্ষক/কর্মচারী সরকারি করণের আওতায় না আসার বিষয়টি উল্লেখ করেন। প্রধান অতিথি অধ্যক্ষের প্রস্তাব কার্যকর করার আশ্বাস প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের প্রাক্তন ছাত্র এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী। তিনি বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কলেজ জীবনের স্মৃতি স্মরণ করে বলেন যে, বিগত ১৬/১৭ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার শিক্ষার উন্নয়ন সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমৃদ্ধ করার জন্য কাজ করছেন। শিক্ষার্থীদেরকে লেখাপড়া চাপিয়ে না দিয়ে আনন্দের মাধ্যমে পাঠদান করতে হবে। পূর্বের পরীক্ষার ফলাফলের তুলনায় বর্তমানের পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে তারতম্য রয়েছে। সরকার চিন্তা করছেন যে, শিক্ষার্থীদের শুধু পাস করিয়ে দিলেই হবে না, বরং তাদের কর্মসংস্থান ব্যবস্থা করতে হবে। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষার ফলাফলের এই তারতম্য ঘটেছে। বিশ্বায়নের যুগে নিজেকে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন এবং কলেজের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন চৌধুরী। অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ জিয়াউল হক ও অধ্যাপক সৈয়দা নার্গিস সুলতানা এর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নবীন বরন ও কৃতি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আহসান চৌধুরী। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আবু মুসা মোহাম্মদ মামুন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অন্মেষা।
প্রধান অতিথি অধ্যক্ষের প্রস্তাবিত সমস্যাগুলোর সমাধান করার আশ্বাস প্রদান করে বলেন যে, এই কলেজকে মডেল কলেজ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বর্তমান সরকারের প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।
প্রধান অতিথি আরো বলেন, বর্তমানে মাদক একটি বড় সমস্যা। অনেকে ভুলবশত মাদক সেবন করলে নিজেকে স্মার্ট মনে করেন। প্রকৃতপক্ষে, মাদক ক্রমাগত নিজেকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে মাদক নির্মূল করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিজ্ঞান বিভাগের ১ম রাধিকা বর্ণিক, ২য় উম্মে সাইদা ও ৩য় সম্মুজিৎ ভট্টাচার্য, মানবিক বিভাগে ১ম মোচ্ছাম্মৎ জান্নাতুল ফেরদৌস মিরা, ২য় মোঃ সাইফ আনোয়ার চৌধুরী, ৩য় জান্নাতুল মাওয়া, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১ম নুসরাত জাহান মিমতা, ২য় নাবিহা ফাতিমা ও ৩য় মোচ্ছাম্মৎ তামান্না উর্মি ঐশির হাতে শিক্ষা বৃত্তি তুলে দেন। মন্ত্রী কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে কলেজের বি এন সি সি সেকেন্ড ল্যাবটেনেন্ট আবু তালেবের নেতৃত্বে মন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে সম্মান জানানো হয়। পরে মন্ত্রী অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত হলে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করে নবাগত শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চাঁদপুরে আলোচনা সভা ও প্রীতি সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। অপসংস্কৃতি এবং দ্বীনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আলেম সমাজের বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টায় চাঁদপুর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে জেলা ওলামা দলের উদ্যোগে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। চাঁদপুর জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা জসিম উদ্দিন পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব হাফেজ জাকির হোসেন মৃধার সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আক্তার হোসেন মাঝি উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশে ইসলামের গোড়াপত্তন ও প্রসার ঘটেছে সুফি-সাধক এবং পীর-মাশায়েখদের হাত ধরে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে কিছু তথাকথিত রাজনৈতিক সংগঠন বিশেষ করে জামাত ইসলামের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে এবং পবিত্র মসজিদগুলোকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।"
তিনি আলেম সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "অপসংস্কৃতি ও দ্বীনবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ওলামা দলকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। জুমার খুতবাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনায় ইসলামের সঠিক ও প্রকৃত বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। একই সঙ্গে বিএনপিকে শক্তিশালী করতে তৃণমূল পর্যায়ে ওলামা দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও সুসংগঠিত করতে হবে।"
সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো. শাহজালাল মিশন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন করে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমান সংবিধানকে একটি পবিত্র রূপ দিয়েছিলেন। এছাড়া ইসলাম ও আলেম-ওলামাদের কল্যাণে এবং দ্বীনি শিক্ষাব্যবস্থার প্রসারে তাঁর ও বিএনপি সরকারের ভূমিকা অপরিসীম বলেও আলোচনা সভায় উল্লেখ করেন।
হাফেজ দ্বীন ইসলামের কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভার সূচনা হয়। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা ওলামা দলের যুগ্ম আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মাওলানা রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম খান, ফজলুল কবির, মাওলানা আনোয়ার হোসেন, চাঁদপুর পৌর ওলামা দলের আহ্বায়ক আকবর হোসেন মাতব্বর, চাঁদপুর সদর উপজেলা ওলামা দলের মাওলানা কাজী ইসমাইল সেখ, ফরিদগঞ্জ উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি অধ্যাপক বিন ইয়ামিন এবং হাইমচর উপজেলা ওলামা দলের মাওলানা আলাউদ্দিন আনসারীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে চাঁদপুর জেলা, বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন ওলামা দল এবং বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও আলেম-ওলামাগণ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, উক্ত অনুষ্ঠানে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, চাঁদপুর জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম, জাতীয়তাবাদী ওলামা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কাজী মাওলানা আবুল হোসেন এবং ওলামা দল জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ড. মোঃ সলিম উল্যাহর বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে জরুরি রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কাজের কারণে তাঁরা সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি।
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে জালা ওলামা দলের আহবায়ক মাওলানা জসিম উদ্দিন জানান যে, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও জরুরি কাজে দেশের বাইরে অবস্থান করায় তিনি অংশ নিতে পারেননি। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব ও সেলিম ভাইসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানস্থলে চাঁদপুর ব্রিজ পর্যন্ত পৌঁছালেও দলীয় জরুরি নির্দেশে পরবর্তীতে তাদের অন্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হয়। উপস্থিত হতে না পারায় উক্ত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণকে আন্তরিক সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা–২০২৬ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, নারায়ণগঞ্জের আয়োজনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ রায়হান কবির। সভায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পূজামণ্ডপসমূহের নিরাপত্তা, যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচল, বিদ্যুৎ ও অগ্নিনিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ এবং পূজা উদযাপনকালে সার্বিক সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পূজা উদযাপন সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ, নারায়ণগঞ্জ || ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি.
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সীতাকুণ্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল, যেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আবুল মুনছুরের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের স্মৃতিচারণ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন, রাজনীতি এবং সমাজসেবায় তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন স্বজন, সহকর্মী ও রাজনৈতিক নেতারা। এ সময় প্রিয়জনকে হারানোর বেদনার পাশাপাশি তাঁর কর্মময় জীবনের নানা স্মৃতিও উঠে আসে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের এল কে সিদ্দিকী স্কয়ারে উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক লায়ন মো. আসলাম চৌধুরী এফসিএ। আসলাম চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, আবুল মুনছুর মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও আবুল মুনছুর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানে সক্রিয় ছিলেন। আসলাম চৌধুরীর মতে, তাঁর ত্যাগ ও কর্মজীবন নতুন প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দলের বিভিন্ন সময়ে যারা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে কাজ করেছেন, তাঁদের অবদান স্মরণ করা প্রয়োজন। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় আবুল মুনছুরের দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তাঁর পরিবারের পাশে থাকার বিষয়টিও তুলে ধরেন। স্মরণসভায় বাবার কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ছেলে শাহীন পারভেজ ও একমাত্র মেয়ে ব্যারিস্টার সুমি আক্তার। তাঁরা বাবার রাজনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরেন এবং তাঁর জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
সীতাকুণ্ড পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মোরসালিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় মুরুব্বি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সৈয়দ আবুল মুনছুর সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার এবং জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ছিলেন। তিনি সীতাকুণ্ড পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের মেয়র প্রার্থী হিসেবেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। গত ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু ঘটে। ২৩ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ড সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ভারতের বিরোধী দলগুলো নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ব্যাপক সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা করেছে। ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ দাবিতে মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দিকে মিছিল এবং পরবর্তী দিনগুলোতে দেশজুড়ে সমাবেশের আয়োজন করে তারা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ বৃদ্ধি করেছে।
বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের অভিভাবক হিসেবে দীর্ঘকাল ধরে পরিচিত ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রধানের বিরুদ্ধে বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছেন।
নয়াদিল্লি থেকে এএফপি জানায়, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তাদের সব সিদ্ধান্ত আইনসম্মত বলে দাবি করেছে। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেন, ‘মূল বিষয় হলো ভোট চুরি।’ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যারা ভারতের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করব।’
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানান, বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে মিছিল করবেন। এরপর দেশজুড়ে ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
ভারতীয় দৈনিক ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ গত সপ্তাহে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তিন নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে দুজনের অনুমোদন ছাড়াই নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে, ওই প্রতিবেদনে ‘বিষয়টির কেবল একটি দিক তুলে ধরা হয়েছে’। কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকার সংশোধনের উদ্দেশ্য ছিল একই ব্যক্তির একাধিক নামের নিবন্ধন বাদ দেওয়া এবং ‘বিদেশি অবৈধ অভিবাসীদের’ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ঠেকানো।
মোদির দল দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে আসা নথিবিহীন অভিবাসীরা প্রতারণার মাধ্যমে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। এসব অভিবাসীর মধ্যে অনেকেই মুসলিম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ