ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রংপুরে চার খুন: হত্যার আগে ১২ ঘণ্টায় আসামিদের ৩০ বার ফোনালাপ


রংপুরে চার খুন: হত্যার আগে ১২ ঘণ্টায় আসামিদের ৩০ বার ফোনালাপ

রংপুর নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনা পুলিশ দ্বারা সুপরিকল্পিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে তাদের মধ্যে ৮০ বার ফোনালাপ হয়েছে। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের আগের ১২ ঘণ্টায় ৩০ বার ফোনে কথা হয়েছে তাদের।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ডিবি কর্মকর্তা জানান, গত ২২ আগস্ট রাত ৮টা থেকে পূর্ববর্তী ৮০ ঘণ্টার সিডিআর বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের মধ্যে মোট ৮০ বার ফোনালাপ হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের আগের ১২ ঘণ্টায় সিদ্ধার্থ তার দুটি নম্বর থেকে মুগ্ধর একটি নম্বরে ৩০ বার কল করেছেন।

আরও পড়ুন: রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কায় তিনজন নিহত

পুলিশের তথ্যমতে, এসব কলের সবগুলোই সিদ্ধার্থের দিক থেকে করা হয়েছিল এবং অধিকাংশ কল ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত। কিছু কলের স্থায়িত্ব ছিল ১৩, ১৫ ও ১৭ সেকেন্ড। সর্বাধিক একটি কলের স্থায়িত্ব ছিল ৯৬ সেকেন্ড।

কলের ধরন, সময় ও পুনরাবৃত্তি বিশ্লেষণ করে পুলিশ মনে করছে যে, ঘটনাটি আকস্মিক নয় এবং এর পেছনে পূর্বপরিকল্পনা থাকতে পারে। তবে তদন্তের স্বার্থে আসামিদের সঙ্গে বাইরের অন্য কোনো ব্যক্তির ফোনালাপের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হয়নি পুলিশ। এখন পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে কেবল সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

চার খুনের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানিয়েছিল, ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে উঠেছিলেন আসামিরা। গৃহকর্তা তাদের দেখে বাধা দিলে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ আরও জানিয়েছিল, ঘটনার আগে ও পরে আসামিরা মোট নয়টি ইয়াবা সেবন করেছিলেন।

তবে আদালতের নির্দেশে রোববার (৩০ আগস্ট) রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করা পরীক্ষায় তাদের শরীরে কোনো মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানান ডিবি কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী।

আরও পড়ুন: রংপুরে ডাম্পট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় ৩ জন নিহত, ১৮ আহত

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্রাব পরীক্ষায় সাধারণত ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব। আসামিদের গ্রেপ্তারের নয় দিন পর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করায় মাদকের উপস্থিতি ধরা না পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।

এদিকে, চার খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ। তবে আসামিরা ইতোমধ্যে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় এবং নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করে আদালত তিন দিনের পরিবর্তে দুই দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে। রংপুরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

গত ২২ আগস্ট রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা, গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি, থানায় অভিযোগ

ঘটনার পর নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে নগরীর কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। পরে মামলাটি কোতোয়ালি থানা থেকে মহানগর ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী।

সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তারের পর তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে কল রেকর্ড ও মাদক পরীক্ষার নতুন তথ্য সামনে আসায় চার হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পেছনে আরও কোনো পরিকল্পনা বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পার্বত্য চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নে সাড়ে ১৭ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন এডিবির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০১ পি.এম


পার্বত্য চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নে সাড়ে ১৭ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন এডিবির

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের সহজ শর্তের ঋণ অনুমোদন করেছে, যা পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়াতে ব্যবহৃত হবে।

এই প্রকল্পের আওতায় খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের ২৬টি দুর্গম উপজেলায় বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা হবে। এতে অন্তত ৮৮ হাজার নতুন পরিবার বিদ্যুতের আওতায় আসবে, যার মধ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৩৫ হাজার পরিবার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ‘সাসটেইনেবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কমিউনিটি এমপাওয়ারমেন্ট ইন দ্য চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস’ প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, জরুরি সেবার উন্নয়ন এবং দেশের অন্যতম দুর্গম এ অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন জোরদার করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় ৮০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার সক্ষমতার ছয়টি ৩৩/১১ কিলোভোল্ট উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। কম বিদ্যুৎ অপচয়কারী কন্ডাক্টর ব্যবহার করে ৫ হাজার ৩২ কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে পুরোনো ১ হাজার ৮৭৪ কিলোমিটার বিতরণ লাইন, চারটি উপকেন্দ্র, একটি সুইচিং স্টেশন ও একটি আঞ্চলিক মেরামত কর্মশালা আধুনিকায়ন করা হবে।

এডিবি’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এসব উন্নয়নের ফলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় কারিগরি ক্ষতি ও পরিচালন ব্যয় কমবে এবং গ্রিডের দক্ষতা বাড়বে। প্রতিবছর অন্তত ১৯ হাজার ৩০০ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন এড়ানো সম্ভব হবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় বিদ্যুৎব্যবস্থার সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশে এডিবি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝ্যাং মন্তব্য করেছেন, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ কর্মসংস্থান, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কমিউনিটির দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধির জন্য একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি।

তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকার মানুষ আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে জীবিকার সুযোগ বৃদ্ধি, নারীর অংশগ্রহণ সম্প্রসারিত হবে এবং আরও দুর্যোগ সহনশীল ও কম কার্বননির্ভর ভবিষ্যতের দিকে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় ১৮ লাখ ৪০ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য। দেশে বিদ্যুতায়নের হার ৯৯ শতাংশ হলেও এ অঞ্চলে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুতের আওতা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। বর্তমানে খাগড়াছড়িতে গ্রিড বিদ্যুতের আওতায় রয়েছে ৪৯ শতাংশ মানুষ, রাঙামাটিতে ৪৩ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪১ শতাংশ।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২০৩২ সালের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুতের আওতা ৬৮ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুৎ ও ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের জন্য গ্রিডকে প্রস্তুত করা হবে। সামাজিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে প্রকল্পের আওতায় অন্তত ৩০টি সৌরবিদ্যুৎ চালিত নিরাপদ পানির ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। কমিউনিটি সংগঠনগুলোর মাধ্যমে এসব ব্যবস্থা পরিচালিত হবে এবং নেতৃত্বের পদে অন্তত ৩০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের ব্যবহৃত অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্কুল, হাসপাতাল, মন্দির ও ক্লিনিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আয়ের সুযোগ বাড়াতে প্রকল্পের আওতায় অন্তত এক হাজার মানুষকে জীবিকা উন্নয়নবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ২০০ জনের বেশি উদ্যোক্তাকে ব্যবসা বিকাশে সহায়তা করা হবে।

এ ছাড়া ৩০০ শিক্ষার্থীকে জ্বালানি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ ও দুর্যোগ সহনশীল জ্বালানি ব্যবস্থা বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।

সেবার মানোন্নয়নে তিনটি গ্রাহক অভিযোগ কেন্দ্র ও ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাসহ তিনটি শিশুযত্নকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। গ্রাহকসেবা, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, সুরক্ষাব্যবস্থা এবং দুর্যোগ সহনশীল প্রযুক্তি বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

এডিবি’র ঋণের পাশাপাশি প্রকল্পটির জন্য জাপান সরকারের অর্থায়নে এডিবি’র মাধ্যমে পরিচালিত ‘জাপান ফান্ড ফর প্রসপারাস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক’ থেকে ২৭ লাখ ২০ হাজার ডলারের অনুদান দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সরকার প্রকল্পে ৩ কোটি ৬৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার দেবে। প্রকল্পের নির্বাহী ও বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ৪ কোটি ৫৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার দেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুলিয়ারচরে বিএনপি'র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০২ পি.এম


কুলিয়ারচরে বিএনপি


কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।

সোমবার (১সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা ও পৌর বিএনপি'র উদ্যোগে এক বিশাল র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলমের নেতৃত্বে উপজেলা ও পৌর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামের সামনে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত র‍্যালিতে জেলা বিএনপি'র সাবেক সহ-সভাপতি এডভোকেট মশিউর রহমান, উপজেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান, পৌর বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. শাহাদাৎ হোসেন শাহ্ আলম, উপজেলা বিএনপি'র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মুহাম্মদ শাহ্ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারুকুল ইসলাম ফারুক, মো রফিকুল ইসলাম আলী, পৌর বিএনপি'র সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল লতিফ মিয়া, হায়দার এ আলম, উপজেলা বিএনপি'র প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম মুছা, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আজাহার উদ্দিন লিটন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্য সচিব মো. মোখলেসুর রহমান মঞ্জু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক এম.এ সালাম সুমন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শামীম রেজা সহ উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন থেকে আগত শতশত নেতাকর্মীরা দলীয় পতাকা, ব্যানার ও শ্লোগানসহ মিছিলে অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণে অ্যাশেজজয়ী দলের প্রতিচ্ছবি দেখছেন ট্রেসকোথিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৬ পি.এম


ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণে অ্যাশেজজয়ী দলের প্রতিচ্ছবি দেখছেন ট্রেসকোথিক

মার্কাস ট্রেসকোথিক ইংল্যান্ডের বর্তমান পেস আক্রমণের চার সদস্য জফ্রা আর্চার, জশ টাং, অলি রবিনসন ও গাস অ্যাটকিনসনের মধ্যে ২০০৫ সালের অ্যাশেজজয়ী দলের বোলিং ইউনিটের ছায়া দেখতে পাচ্ছেন। সাবেক ইংলিশ ওপেনার ট্রেসকোথিকের মতে, বর্তমান পেসারদের স্টিভেন হার্মিসন, অ্যান্ড্রু ফ্লিন্টফ, ম্যাথু হগার্ড ও সাইমন জোন্সদের সঙ্গে তুলনা করা অযৌক্তিক নয়।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ দুই টেস্টে বেন স্টোকসের অবসরের পর ইংল্যান্ড চারজন বিশেষজ্ঞ পেসার নিয়ে মাঠে নেমেছিল। আর্চার, রবিনসন, অ্যাটকিনসন ও টাংয়ের দুর্দান্ত বোলিংয়ে স্বাগতিকরা দুই ম্যাচেই জয়লাভ করেছে। এই জয়ের মাধ্যমে তারা তিন ম্যাচের সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে। ট্রেসকোথিক বর্তমান চার পেসারের বোলিংয়ে বৈচিত্র্য এবং সক্ষমতার সঙ্গে দুই দশক আগের সেই পেস আক্রমণের মিল খুঁজে পেয়েছেন। ২০০৫ সালে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের ২-১ ব্যবধানে অ্যাশেজ জয়লাভের পেছনে হার্মিসন, ফ্লিন্টফ, হগার্ড ও জোন্সের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।

ট্রেসকোথিক নিজেও সেই অ্যাশেজজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। বর্তমানে ইংল্যান্ডের নতুন টেস্ট কোচ স্টিভেন ফ্লেমিংয়ের অনুপস্থিতিতে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব পালন করছেন। তার অধীনে ইংল্যান্ড ২০২৪ সালের পর প্রথমবার কোনো টেস্ট সিরিজ জিতেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে হেডিংলি ও লর্ডসে দলের জয়ে পেসারদের ভূমিকার প্রশংসা করে ট্রেসকোথিক বলেন, "দলে এখন অসাধারণ প্রতিভার সমাহার রয়েছে।" তিনি আরও মন্তব্য করেন, "২০০৫ সালের হার্মিসন, ফ্লিন্টফ, জোন্স ও হগার্ডের সঙ্গে বর্তমান পেসারদের তুলনা করা সহজ।"

তিনি বলেন, "এই মুহূর্তে আমাদের চারজন পেসার ম্যাচ খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত- এটা আমি উপভোগ করছি।" এর বাইরে আরও কয়েকজন বোলার আছে, যাদের তারা প্রস্তুত করে তুলছেন।

স্টোকস এবং সাবেক কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সময়ে ইংল্যান্ড মূলত গতিময় পেসারদের ওপর বেশি নির্ভর করেছে। তবে দুই বছরেরও বেশি সময় পর রবিনসনের টেস্ট দলে ফেরায় আক্রমণে আরও ভারসাম্য এসেছে বলে মনে করেন ট্রেসকোথিক। তিনি বলেন, "বর্তমান বোলিং আক্রমণে দারুণ বৈচিত্র্য রয়েছে।" দলের তিনজন পেসার ঘণ্টায় ৯২ মাইল গতিতে বল করতে সক্ষম। দলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এমন অস্ত্রভাণ্ডার এবং আক্রমণে এই ধরনের শক্তি থাকা দারুণ ব্যাপার বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, পেসাররা যত বেশি একসঙ্গে খেলবেন এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন, ততই দলের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের মানিয়ে নিতে পারবেন।

এদিকে ২০০৫ সালের অ্যাশেজজয়ী ইংল্যান্ড দলের অধিনায়ক মাইকেল ভনও বর্তমান পেস আক্রমণ নিয়ে আশাবাদী। ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এ প্রকাশিত এক কলামে তিনি লিখেছেন, "বড় কোনো সিরিজ জিততে পারলে বর্তমান বোলারদের তার সময়ের পেসারদের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে।" ভনের ভাষায়, "এটা নিশ্চিত যে, তাদের দারুণ বিশেষ কিছু করার সামর্থ্য আছে এবং আগামী গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডের হয়ে অ্যাশেজ পুনরুদ্ধার করতে পারে।"

আগামী বুধবার এজবাস্টনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে : জেট্রো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৮ পি.এম


রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে : জেট্রো

ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা পুনরায় ফিরে আসার ফলে জাপানি কোম্পানিগুলো দেশের বাজার সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগের সুযোগ নতুনভাবে মূল্যায়ন করতে শুরু করেছে। জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজুইকি কাতাওকা জানিয়েছেন, এর ফলে বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রতি তাদের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কাতাওকা উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা ছিল জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি প্রধান উদ্বেগের বিষয়। তবে নতুন সরকার গঠনের পর কোম্পানিগুলো এখন মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি এবং বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিক সুযোগ পাচ্ছে।

জেট্রোর ২০২৫ অর্থবছরের ‘বিদেশে কার্যরত জাপানি কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক পরিস্থিতি’ শীর্ষক জরিপের তথ্য উল্লেখ করে কাতাওকা বলেন, বাংলাদেশে কার্যরত জাপানি কোম্পানির ৯৪ দশমিক ৪ শতাংশ ‘অস্থিতিশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিকে’ বিনিয়োগের ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এটি প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা জাপানি ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় ছিল।

তিনি বলেন, বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা কোম্পানিগুলোকে মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি এবং বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সহজতর করে। সম্প্রতি টোকিওতে জাপানি কোম্পানির প্রধান কার্যালয় এবং সিঙ্গাপুরের মতো আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ সফর বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও জানান তিনি।

কাতাওকা আরও বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হওয়ায় অনেক কোম্পানি বাংলাদেশের বাজার সম্ভাবনা ও ব্যবসায়িক সুযোগ নতুনভাবে মূল্যায়ন করছে। এই প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে এটি একটি কারণ। তবে তিনি সতর্ক করেন যে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশে উল্লেখযোগ্য হারে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, এমন ধারণা করা উচিত নয়।

বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দিতে দৈনন্দিন ব্যবসায়িক পরিবেশের ধারাবাহিক উন্নয়ন প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশেষ করে করব্যবস্থা ও শুল্ক ছাড়করণ, লাইসেন্স ও অনুমতি প্রদান এবং আইন ও বিধিবিধানের স্বচ্ছতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশ এবং জাপানের ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে কাতাওকা বলেন, দুই দেশের সম্পর্ককে প্রচলিত উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও শক্তিশালী বাণিজ্য ও বিনিয়োগভিত্তিক অংশীদারিত্বে উন্নীত করতে হবে। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক শুধুমাত্র জাপান থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর জাপানে বিনিয়োগকেও স্বাগত জানানো উচিত।

তিনি আরও বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে শুধু একমুখী বিনিয়োগ উৎসাহিত করাই যথেষ্ট নয়। উভয় দেশের কোম্পানির বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক লেনদেন বৃদ্ধি করতে হবে এবং এমন একটি সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, যা পারস্পরিক অর্থনৈতিক সুবিধা সৃষ্টি করবে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ভোক্তা বাজারের প্রতি, বিশেষ করে ঢাকাকে কেন্দ্র করে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও জানান কাতাওকা। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) একটি জরিপের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৪৬ শতাংশের অবদান ঢাকার। অন্যদিকে রাজধানীতে মাথাপিছু আয় ৫ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি।

বাংলাদেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের বিশাল বাজারের পাশাপাশি ঢাকায় আয় বাড়তে থাকায় রাজধানী ক্রমেই একটি আকর্ষণীয় ভোক্তা বাজারে পরিণত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কাতাওকা বলেন, ঢাকায় উন্নত মান ও সেবার ক্যাফে, রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ছে। এটি মানসম্মত পণ্য ও সেবার চাহিদা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে উচ্চ শুল্কহার থাকায় আমদানি করা পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে। কাতাওকা বলেন, এর ফলে কিছু জাপানি কোম্পানি শুধুমাত্র রপ্তানির মাধ্যমে বাজারে প্রবেশের কথা ভাবছে না, বরং স্থানীয় উৎপাদন ও স্থানীয়ভাবে পণ্য সংগ্রহের সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজারে প্রবেশের বিষয়টি বিবেচনা করছে।

দেশীয় চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য খাতে জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য সুযোগ বাড়তে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের বিশাল জনসংখ্যা, ক্রমবর্ধমান ভোক্তা চাহিদা এবং স্থানীয় উৎপাদনের সম্ভাবনার সমন্বয় আগামী বছরগুলোতে জাপানি বিনিয়োগের জন্য আরও শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন কাতাওকা।

তবে বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহকে বাস্তব বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতিতে রূপ দিতে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও পুনরায় উল্লেখ করেন তিনি।

সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%